![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমাকে দেখেই মেয়েটি ঠোটের
ফাঁকে হাসি টানল।চোখ দুটো নিচু
করে কিছু বলতে গেল কিন্তু কিছুই
বলতে পারলো না লজ্জায় মুখ তার লাল
হয়ে গেল।অপরুপ সুন্দর শুভ্র এই মেয়ের মুখ।
তারুণ্যের চাঞ্চল্যকর দৃষ্টি তার।তবুও
সে এখন এক সরলতার প্রতিমা।
,
সবাই নীরব। বৃদ্ধ লোকটি তাকিয়ে ছিল
আমার দিকে। আমিও চোখ নামাতে
পারছিলাম না। নীরবতা ভাঙ্গল বৃদ্ধই।
বললঃ কেমন লাগছে জনাব?
-জ্বী মোটামুটি ভাল লাগছে। কিন্তু
মাথার বাম পাশটা ব্যাথা করছে।
-ব্যথা তো লাগবেই আঘাত তো আর
ছোটখাট নয়।মোটামুটি মারাত্মকই
হয়েছে বলে একটা বড় নিশ্বাস নিল বৃদ্ধ
লোকটি।
_আচ্ছা আমি এখানে আসলাম
কিভাবে? জিজ্ঞেস করলাম
লোকটিকে।
-বলতে লাগল লোকটি,আপনি রাস্তার
পাশে পড়েছিলেন অজ্ঞান হয়ে। তখন
আমরা (বৃদ্ধ,বৃদ্ধের নাতিনও ড্রাইবার)
আমাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে
অনুষ্ঠান সেরে আসছিলাম। হঠাৎ
গাড়ির হেড লাইটের আলোতে
তামান্না আপনাকে দেখতে পান।
তারপর ধরাধরি করে আপনাকে এখনে
নিয়ে আসা হয়।
-তামান্না কে? জিজ্ঞেস করলাম।
তখন আমাদের কথার ফাঁকে বেরিয়ে
গিয়ে এক গ্লাস দুধ নিয়ে ঘরে প্রবেশ
করে টেবিলের উপর গ্লাসটি রাখল
মেয়েটি ।
-বৃদ্ধ মুখে একটি স্লান হাসি দিয়ে
মেয়েটির দিকে ইঙ্গিত করে বলল ওই
তামান্না। আমার নাতিন। মা-বাবা
হারা মেয়ে।আমার ঘরের লক্ষ্মী।
-আপনার ছেলে এবং তার স্ত্রী বেঁচে
নেই?একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
-না জনাব তারা দুজনেই রোড
এক্সিডেন্টে মারা গেছে পাঁচ বছর
হবে।
,
হঠাৎ পাশের ঘর থেকে টেলিফোনের
ক্রিং ক্রিং শব্দ আসল।পিছু ফিরে
তামান্না চলতে শুরু করল
টেলিফোনের উদ্দেশ্যে। বাধা
দিয়ে বৃদ্ধ বললঃ তুই উনার সাথে গল্প
কর আমি দেখছি বলে বেরিয়ে গেল
বৃদ্ধ লোকটি। তামান্না তখনও দাড়িয়ে
টেবিলের পাশে।
-কেমন আছ তামান্না? আমি জিজ্ঞেস
করলাম।
-ভাল। চোখ দুটো না উঠিয়েই বলল
তামান্না।
-বড্ড বিপদে ফেলে দিলাম,, , , না
তোমাদের?
-না না অন্যের বিপদে এগিয়ে আসা
এটা তো মানুষের দায়িত্ব।তাছাড়া
মানুষ তো মানুষের জন্য। প্রতিবাদী
কন্ঠে বলল মেয়েটি।
-হুম ঠিক বলেছ। কিন্তু এটা কয়জনে
মানে?
-কারো মানা না মানা নিয়ে আমার
কিছু যায় আসে না। আমার উপর দায়িত্ব
ছিল আমি পালন করেছি। কেন আপনি
হলে বুঝি করতেন না? বলেই মুচকি
হাসি দিল মেয়েটি।
অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম তার
দিকে কি অপরুপ এ মেয়ে কি অপরুপ তার
হাসি!!!
৪,
গত তিন দিন হয়ে গেলে এ বাড়ীতে।
সারাদিন শুয়ে বসে ও বৃদ্ধ লোকটির
সাথে গল্প করে কাটিয়েছি দিন
গুলো। এর ফাঁকে বৃদ্ধের সম্পর্কেও
জেনেছি। তিনি একসময়
সেনাবাহিনীর ক্যপ্টেন ছিলেন।বেশ
কয়েক ববছর আগে আবসর নিয়েছেন।
খেয়েছিও অনেক, বিশেষ করে
তামান্নার রান্নার হাত খুবই ভাল।
প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন
স্বাদের রেসিপি বানিয়েছে
তামান্না ।
,
পড়ন্ত বিকেল,দুতলার বারান্দার ইজি
চেয়ারটাতে বসে ছিলাম।এ বাড়ীর
বারান্দাটা বেশ সুন্দর। কিছুদূর বাড়ির
গেইট। সেখানে পাথরের কারুকাজে
লিখা "আমির ভিলা" তামান্নার
দাদুর কাছে শুনেছি আমির তামান্নার
বাবা। তার নামেই এ বাড়ী।
হঠাৎ চায়ের কাপ হাতে নিয়ে
তামান্না এসে দাড়াল। চোখ নিচু
করে কোমল কন্ঠে বললম আপনার চা।
,
চায়ের কাপ নিয়ে পাশের চেয়ারটা
দেখিয়ে বললাম বস তামান্না কথা
আছে তোমার সাথে কথা আছে।
চেয়ারটা টেনে বসল সে। আমার
চোখে চোখ পড়তেই মাথার ওড়নাটা
টেনে চোখ নামিয়ে নিল।
-আমি সন্ধ্যায় বেরিয়ে যাব। (বললাম
আমি)
- কেন! মেহমানদারিতে কি আমার
কোন ভুল হয়েছে? (কন্ঠ ভারি শুনাল
তার)
-না তামান্না বরং তোমার এসবে
আমি খুব সন্তুষ্ট। তোমার এ ঋন আমি
কখনো শোধ করতে পারবো না।
তাছাড়া কর্মব্যস্থতা তো সবার আছে
বুঝোই তো,,,,,।
-কিছু বলল না মেয়েটি। বেদনায় নীল
হয়ে আসছিল তার পুরো মুখ। উঠে দাড়ল
সে চলে গেল তার বেডরুমের দিকে।
,
সন্ধ্যা সাতটা পনের মিনিট। গেটের
দাড়িয়ে আছে তামান্নাদের সাদা
গাড়িটি আমাকে নেওয়ার জন্য।
তামান্না ও তার দাদু দাড়িয়ে ছিল
বারান্দাই। তার দাদুর কাছ থেকে
বিদায় নিয়ে তার দিকে তাকালাম
তখনও চোখ দুটো তার নিচু।
বললামঃআসি তামান্না। দোয়া
করো,,,,,
-চোখ দুটো উচু করল সে।কিছুই বলল না।
হা করে তাকিয়ে ছিল।
তখন আমি তাকিয়ে ছিলাম তার
চোখের দিকেই, প্রতিদিনের মত আজ
আর তার চোখে সেই আনন্দ নেই আছে
একরাশ বেদনার মেঘ।
আমি বারান্দার থেকে নামতেই সে
দৌড়ে তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে
দিয়েছে। দরজার ঠক শব্দের সাথে
পিছনে তাকালাম।
আর মনে মনে হাসলাম।
আরও কিছুদূর আসতে কয়েকটি ডায়রির
ছেড়া পাতা পেলাম।সেখানে
হাতের লিখা বুঝতে আর অসুবিধা হল
না এগুলো তামান্নার হাতের লিখা।
কারন আমি তাদের বাড়ির
লাইব্রেরী থেকে একটা বই নিয়ে
খুলতেই তামান্নার লিখা পেলাম।
ডায়রির পাতা গুলো কুড়িয়ে নিয়ে
পড়তে পড়তে গেটের দিকে এগিয়ে
যাচ্ছিলাম। যতই পড়ছিলাম আমার
হৃদয়টা কেমন যেন করে উঠছে। শিহরন
খেলে যাচ্ছে আমার গোটা দেহ। এক
অজানা অনুভূতি এসে গ্রাস করল আমার
পুরো হৃদয়কে।
,
বারান্দার কাছাকাছি আসতেই একটা
লাইটের তীব্র আলো এসে আমার
চোখে পড়ল।যেন বিস্ফোরিত হয়ে
যাচ্ছিল আমার দু-চোখ। চোখ বন্ধ করে
ফেললাম। তারপর আবার খুলতেই অবাক
হয়ে গেলাম। একি!!! আমি যে পার্কের
বেঞ্চটির উপর শোয়া।
,
[বিদ্রঃএরপর সেই মেয়েটিকে আমি বাস্তবে খুজেছি]
অনেক খুজার পর তার দেখাও পেলাম কিন্তু ৬মাস পর সেটা।একদিন আমি সিলেট বেরাতে গিয়েছিলাম।আগেই বলি আমার আবার একটু অভ্যাস ছিলো সুন্দরি মেয়ে দেখলে পরিচয় হতে চাইতাম।ঠিক তেমনি মেয়েটা দুপুর বেলা প্রায় ১ ঘন্টা হল একটা কলেজের সামনে দারিয়ে আছে।এই খানে পরীহ্মা দিতে এসেছি।আমি তো দেখেই চিনে ফেলেছি,আরে এইটাইতো আমার সপ্নের পরী।তো আমিও গেলাম মেয়েটির কাছে ,গিয়ে নাম পরিচয় জানতে চাইলাম ও সব বলো কিন্তু মনটা অনেক খারাপ ছিলো।তাই অকে বল্লাম কোন প্রবলেম হয়েছে কিনা,ও বলো নমেয়েটা অনেক লাজুক।তার পর আমি ওই খান থেকে চলে এসে দুর থেকে দেখছি যে মেয়েটা কি করে ।তার পর সন্ধা হতে চল্লো মেয়েটি এখনও অইখানেই দারিয়ে আছে ।কিন্তু এ কি! কিছুহ্মন পর দেখি মেয়েটা কাদঁছে।তো আমি ভাবছি এখন যদি আবার যাই মেয়েটির কাছে তাহলে নিশ্চিত চর খেতে হবে মেয়েটির হাতের।আমি কিছুহ্মন পর ঠিক করলাম আবার যাব মেয়েটির কাছে।চর খেলে না হয় খেলাম।তবু আমাকে জানতেই হবে মেয়েটি কেন কাদঁছে।মেয়েটির কাছে আবার গিয়ে বল্লাম তুমার কি হয়েছে আমাকে বলো,কোন প্রবলেম হয়েছে।আর আমাকে আবার দেখে মেয়েটি বল্লো আপনি এখনও এইখানে কি করছেন?আমি বল্লাম তুমি যা করছো আমিও তাই করছি।এটা বলার পর চটাস করে আমাকে একটা চর বসিয়ে দিলো।আর সবার সামনে মেয়েদের হাতের চর খাওয়া ভালো কথা নয়।এর পরো অকে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কি হয়েছে বলার জন্য।অবসেশে বল্লো তার নাকি পার্সটা হারিয়ে গেছে ফোন সহ।তার কাছে কোন টাকা নেই তাই বাসায় যেতে পারছেনা।তো এটা শুনে আমি বল্লাম তাহলে এখন কি করবা।মেয়েটি বল্লো জানিনা।আমার বাসা ময়মনসিংহ আর মেয়েটির বাসাও ময়মনসিংহ।তাই আমি তাকে আমার সাথে যাওয়ার জন্য বল্লাম।মেয়েটি যেতে চাই ছেনা।তারপর অনেকহ্মন বোঝানোর পর রাজি হইলো।সারাটা রাস্তা গাড়ীতে বসেও শুধু কেদেই চল্লো মেয়েটি।মেয়েরা অলপতেই অনেক কষ্ট পায় তাই হয়তো কাদছে।যাইহোক শেষ পর্যন্ত মেয়েটির বাসায় আসলাম মেয়েটিকে নিয়ে। তার পর মেয়েটির বাবাকে সব বল্লাম।সব শুনে তার বাবা আমাকে জরিয়ে ধরে কেদে ফেল্লো।কিন্তু তার বাসায় এসে যা দেখলাম আমি অবাক।আমার সপ্নের সাথে তার বাসার বা লোকজনের কোনই মিল নেই।ওর ফেমিলির সবাই আছে এমনকি সেই বৃদ্ধ লোকটিও যে মেয়েটির নানা।বৃদ্ধ লোকটিও দেখতে আমার সপ্নের মত। একদম মিল মেয়েটি আর নামও তামান্না যেমনটি সপ্নে দেখেছিলাম।আমাকে তারা অনেক যত্ন করলো।আর মেয়েটিও ঠিক আমার সপ্নের মত সত্যি সত্যি দুধ,চা এসব নিয়ে এসেছিল।আর ও নিজেই রান্না করেছিল।ওর রান্না সত্যিই খুব ভাল।কিন্তু আমি যখন চলে আসব তখন মেয়েটি কেনো যানি আবার কাদছিলো।ওর ওপর আমার অনেক মায়া হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু বাস্তব অনেক কঠিন।মেয়েটি আমার থেকে ২ বছরের বড় ছিল।আমরা এখন অনেক ভালবন্ধু।আমি ওকে অনেক ভালবাসি ।অর মনের কথা জানার চেষ্টায় আছি।
আমার জন্য দুআ করবেন পাঠকরা যেন আমি আমার সপ্নের পরীকে আমার বাস্তবের পরী বানাতে পারি।
{সপ্ন সত্যি হয়না আবার কিছু সপ্ন সত্যি হযে যায়।আর সপ্নইতো জীবন}
--------------------------------------------সপ্নের পরী-------------------------------------------------
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:২৩
রেজওয়ানা আলী তনিমা বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম।