| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কি করছো?
বসে আছি।
খুব বাতাস বইছে তাইনা?
হুম, অনেক বাতাস।
কি ইচ্ছে করছে জানো?
কি?
ইচ্ছে করছে ভালোবাসার মানুষের কাঁধে মাথা রেখে " ভালোবাসি ভালোবাসি " গানটি গাইতে।
ছেলেটির ফোনে আবারো ম্যাসেজের শব্দ।
ম্যাসেজটি ছিলঃ miss you.
আমাকে মিস করার কি হল??
তুমি বুঝনা কেন মিস করছি??
না বুঝতেছিনা।
কেন মিস করি জাননা??
না জানিনা। খুলে বল।
ভালোবাসি।
শুরুটা এভাবেই ছিল তোর আর আমার। সেই কবেকার কথা, হৃদয়ে আজো অনুরনন তোলে।
ম্যাসেজের প্রতিটা বর্ণ আজো স্পষ্ট ভেসে উঠে।
বিজ্ঞান বলে কোন কিছু দেখার পরে নাকি সেটা ০.১ সেকেন্ড মস্তিষ্কে থাকে, কিন্তু তোর সেই ক্ষুদে বার্তা যে এমন শত লক্ষ্য কোটি সেকেন্ড পার হওয়ার পরেও আমার মস্তিষ্কে স্পষ্ট।
কেন বলতে পারিস? পারবিনা তো??
তোকে অনেক বেশি ভালোবাসি তাই।
এই ভালোবাসার পরিমান নির্ণয় করার কোন যন্ত্র যে আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি পাগলি, আর তাই তুই ও বুঝলিনা আমার ভালোবাসার গভীরতা।
শেষে চলেই গেলি আমাকে ছেড়ে।
খুব ভালো আছিস তাইনা??
মনে আছে তোর?
শীতের সকালে কুয়াশা ঘেরা খোলা আকাশের নিচে ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে পাশাপাশি বসে চুমুক দিতাম?
মনে আছে?
সেই কাপ গুলো হয়তো আজো আছে, কাপের মাঝে আজো সময় পেলে তোর ঠোটের উষ্ণতা খুঁজে বেড়াই।
ক্লোরিন মিশ্রিত ডিশ ওয়াশের ক্রিয়ায় হয়তো হারিয়ে গেছে সেই উষ্ণতা, কিন্তু আমি আজো খুঁজে ফিরি।
ভাবি হয়তো পাবো তোর সেই উষ্ণতা।
জামদানি শাড়ীর রঙটা আজো সেই টুকটুকে লাল।
বর্ষ বরনের দিনে, সকালের মিষ্টি রোদে কিংবা দুপুরের কাঠ ফাটা রোদের মাঝে সেই জামদানি আজো একি ভাবে রঙ ছড়ায়।
আজো রমনিরা সেই শাড়ি পরে পিচ ঢালা পথে হেটে যায়।
সবি আগের মতই আছে।
কিন্তু তুই আর সেই জামদানি পরে আমাকে দেখাস না, সেই লাল রঙ আজ আমার কাছে বর্ণহীন মনে হয়।
তোকে ছাড়া যে আমার কাছে সব কিছুই রঙ হীন লাগেরে পাগলী।
আজো বর্ষ বরনের দিনে রমণীরা ভুভুজেলা বাজিয়ে হেটে যায়,
ভুভুজেলা আজো সেই একি শব্দে বাজে।
কিন্তু তোর মুখে আজ আর সেই ভুভুজেলা বাজেনা।
তাই আমার কাছে এই বিকট শব্দের জিনিসটা শব্দহীন মনে হয়।
মনে আছে তোর সেই রেল লাইনে হাত ধরে হাটা?
দুজন দু পাশে, মাঝখানে সামান্য পাতের দূরত্ব।
তোর হাত ছিল আমার হাতে।
দুটি পাতের দূরত্ব আজো ঠিক আগের মতই আছে।
আজো কেওনা কেও হাটে সেখানে
কতো ট্রেন আসে আর যায়।
কিন্তু তুই আর আসিস না সেই পথে,
পাত দুটির দূরত্ব বাড়েনি, কিন্তু বেড়ে গেছে তোর আর আমার দূরত্ব।
আজ আমরা যোজন যোজন দুরত্তে অবস্থান করছি।
জানিস মাঝে মাঝে একা একা হাটি, কিন্তু পারিনা, পড়ে যাই, কেন বলতে পারবি?
কারন তোর হাতটা আজ আর আমাকে ধরে নেই, তুই ছাড়া যে আমি বন্ধনহীন।
সুতো ছাড়া ঘুড়ি।
জানিস , তোর কথা মাঝে মাঝে ভীষণ মনে হয়।
বুকটা ভারি হয়ে উঠে।
মনটা সিক্ত হয়ে উঠে আদ্রতায়, সেই আদ্রতা আস্তে আস্তে জমাট বাঁধতে থাকে, তারপর কষ্টের মেঘ জমে, সেই মেঘ মাঝে মাঝে ধরে রাখা সম্ভব হয়না, তাই কষ্টের মেঘ মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়ে দুচোখ বেয়ে নেমে আসে।
আর কখনো ভাব্বনা তোর কথা,
আর কখনো লিখবনা তোকে নিয়ে।
আর কখনো লিখতে গিয়ে কষ্টের মেঘ থেকে নেমে আসা বৃষ্টি কিবোর্ড এর যান্ত্রিক বাটন গুলোকে ভিজিয়ে দিবেনা।
কিংবা কয়েক ফোটা স্ক্রিনে লেগে চিকচিক করবেনা।
লিখবনা আর তোকে নিয়ে।
কোনদিন না, কেন লিখবো?
আমার ভালোবাসা আর কেও জানবেনা, কারন এ ভালোবাসা যে শুধুই তোর জন্য জতন করে রেখে দিয়েছি, জানার অধিকার শুধুই তোর।
আচ্ছা তুই কি বলতে পারবি? এমন কোন মেশিন কি আবিস্কার হয়েছে যা দিয়ে মনের কথা প্রিন্ট করা যায়?
প্রতি মুহূর্তে কতো হাজার শব্দ তোকে নিয়ে আমার মনের ভেতর টাইপ হয় তাকি তুই জানিস?
সেগুলো যদি কখনো কোন প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করে তোকে দেখাতে পারতাম, আমি নিশ্চিত তুই যেখানেই থাকিস যতদূরেই থাকিস, আমার কাছে না এসে পারবিনা।
ভালো থাকিস তুই।
তোর হাসিটা যেন কখনো মলিন না হয়।
আমার হাসিটা না হয় তোকে উৎসর্গ করলাম?
আর তোর সকল কান্না আমি নিয়ে নিলাম।
কি খুশিত??
তুই থাকবি আমার অনুভবে।
আমার চিন্তায়, আমার সাতকাহনে।
আমি তোকে ভুলতে চাইনা। তুই বেঁচে থাক আমার মাঝে চিরকাল।
আমি তোকে একটু একটু করে লালন করবো, তোকে নিয়ে ঘর বাঁধবো, সংসার করবো।
হোক নাহয় সেটা কাল্পনিক?
তাতে কি??
এ বেলায় আমাকে বিদায় দে, তোকে নিয়ে সংসার করবো, তাই সংসারের জন্য কিছু কেনা লাগবেনা?
যেতে দে আমাকে, আর মায়ায় জড়াস না, তাহলে যে হাঁট বন্ধ হয়ে যাবে।
মুক্তো কর তোর বাধন.......................
( কোন এক বালকের জীবন থেকে নেয়া )
©somewhere in net ltd.