| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শরিয়া আইন হলো সেই আইন যেই আইন মধ্যযুগের বিগত সময়ের আরব দুনিয়ার এক আধিভৌতিক ছায়ার মত টিকে আছে অজ্ঞতা আর মোহের উপর ভর করে। বাঙালি মুসলমানের জীবনে এই আইনের তেমন কোন প্রভাব নাই, এই আইন সন্বন্ধে বাঙালি মুসলমানের খুব একটা ধারণাও নাই। কিন্তু অজ্ঞতাপ্রসূত মধ্যবিত্ত্ব বাঙালি মুসলমানের মনে এই আইনের প্রতি একধরণের শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় বরাবরি কাজ করে চলে। আর এই অজ্ঞতা, শ্রদ্ধা আর ভয়এর উপর ভর করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের গণতন্ত্রিক সার্বভৌমত্ত্বের প্রতি, সংবিধানের উপর প্রশ্ন ছুড়ে দেয় স্বার্থান্বেসী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। দুর্বল এবং সংখ্যালঘিষ্ঠের ওপর অত্যাচার আর শোষনের ধর্মনিষ্ঠ হাতিয়ার এই শরিয়া আইন, নির্বাচনী জনমত গড়ে তোলা অথবা পরিবর্তিত করার স্বস্তা হাতিয়ার এই শরিয়া আইন, বাংলাদেশের মানুষকে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিতে বিভক্ত করার অন্যতম অস্ত্র এই শরিয়া আইন।
আগেই উল্লেখ করেছি যে শরিয়া আইন এখনো টিকে আছে অথবা এই নিয়া এখনো মুসলমানের সাথে মুসলমানের, কিংবা মুসলমানের সাথে নাস্তিকের যেই বিতর্ক হয়, তার পেছনে কারন শরিয়া আইন সম্পর্কে আধুনিক মুসলমানের অজ্ঞতা মাত্র। বেশীরভাগ বাঙালি মুসলমান বিশ্বাস করে যে শরিয়া আইন হলো আল্লাহর দেয়া সর্বকালের সর্বস্থানের জন্য প্রযোজ্য সর্বশ্রেষ্ঠ আইন। মজার ব্যাপার হলো এই আইনগসমূহ, আইনএর ইতিহাস এবং প্রয়োগপদ্ধতি নিয়া কোনরকম ধারণা ছাড়াই এইসব ধারণা পোষন করে বেশিরভাগ আধুনিক বাঙালি মুসলমান। আমার সর্বশেষ পোস্টে এবং রিপেনডিলএর করা এই পোস্টে শরিয়া আইন বিষয়ে সাধারণ মুসলমানের অজ্ঞতা বেশ পরিস্কার ভাবেই চোখে পরেছে। শারীরিক অসুস্থ্যতা এবং ব্যক্তিগত ব্যস্ততা হেতু রিপেনডিলএর পোস্টে আমি আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি নাই, আমার আলোচনা যেইখানে শেষ করেছিলাম, সেইখান থেকে আবার শুরু করতে গিয়ে দেখলাম যে অনেক মন্তব্য পরে গেছে, সেই সাথে আলোচনাও বেশ বিক্ষিপ্ত। তাই নতুন পোস্ট দেয়াই মনসস্থির করলাম।
রিপেনডিল, সার্জন এবং আরো কেউ কেউ ব্লগে, এবং এরা ছারাও ব্লগে অনেককেই বলতে শুনেছি যে যুগের প্রয়োজনে ইজমা কিয়াসের প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক আইন হয়ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা নতুন আইনের সৃষ্ঠি করা যেতে পারে, তবে তা কখনোই কোরআন সুন্নাহর পরিপন্থী হতে পারবেনা। আদতে, এইটা একটা স্ববিরোধী কথা। কারণ, আগের আইন এখন কার্যকর মনে না করলেই সেইটা পরিবর্তনের প্রশঙ্গ আসে, এবং নতুন আইন সেইক্ষেত্রে আগের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি বিক্ষিপ্ত আলোচনা না করে বরং শরিয়া আইনএর নানাদিক এবং বর্তমান সময়ের এর অনুপযোগিতার কিছু উদাহরণ তুলে ধরবো মাত্র। তবে আমার আলচনার মূল জায়গা হবে শরিয়া আইনএর ইতিহাস। কারণ সাম্প্রতিক বিতর্কে ইজমা কিয়াসএর প্রয়োগ এবং কোরআন সুন্নাহর সাথে তার সহাবস্থান নিয়া যেই প্রশ্ন আমি উত্থাপন করতে চেয়েছিলাম তা শরিয়া আইনএর ইতিহাস বিশ্লেষন ছাড়া উত্থাপন করা সম্ভব হবে না। শরিয়া আইনের ইতিহাস না বুঝলে শরিয়া আইন সম্বন্ধে প্রচলিত অজ্ঞতাও দুর হওয়া সম্ভব হবে না।
শরিয়া আইন বিশ্লেষনের আলোচনায় হাদিস শাস্ত্রই আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু, কোরআন না। কোরআন মানে শরিয়া না। কোরআন মুসলমানদের প্রধান ধর্মপুস্তক, এই পুস্তক মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী খোদ ইশ্বরের বাণী। কিন্তু ইসলামী শরিয়ত বলে যা পরিচিত তাতে কোরআনের চেয়ে হাদিসের প্রাধান্য অনেক বেশি। এর কারন, কোরআন আলাদাভাবে কোন আইন পুস্তক না, এতে আদেশ, নির্দেশ, উপদেশ, ঘটনা প্রবাহ, আগের আমলের কাহিনী, সৃষ্ঠিতত্ত্ব ইত্যাদি বহুকিছুর সন্যিবেশ আছে, আইন বিষয়ে পরিস্কার নির্দেশ এই পুস্তকে কম। দ্বিতীয়ত, কোরআন আইনের মূখ্য উৎস হিসেবে কিভাবে ব্যাবহৃত হবে সেইটাও হাদিস শাস্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত। কোরআনের কোন আয়াতের কি অর্থ, এতে কি কি শরিয়তী সুস্পষ্ট আইন আছে, এর প্রয়োগ কিভাবে করা যায় এইসবই হাদিস শাস্ত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত।
শরিয়া আইনের বড় অংশই যেখানে হাদিসএর সংকলন থেকে প্রাপ্ত, সেইখানে এই হাদিসগুলো বিস্তারিত পাঠ না করলে এই আইন সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া সম্ভব না। আমাদের সময়ে আমরা এই হাদিসের পাঠ করি মূলত আধুনিকতার সাথে খাপ খাওয়ানোর মানসে লিখিত রচনা পাঠ করার মধ্য দিয়া। আধুনিক পূজিবাদী দুনিয়া একধরণের গণতান্ত্রিক মানবতাবাদের প্রচার করে। জাতীয়তাবাদ, বর্ণভেদ, অসাম্প্রদায়িকতা, দাসপ্রথা বিরোধীতা, নারী স্বাধীনতা ইত্যাদি আধুনিক নৈতিকতা আমাদের সময়ে প্রভাবশালী। আর ইসলামী শরিয়ার আধুনিকতাবাদী বিশ্লেষকরা এইসব মতের সাথে মিল খায় এমন হাদিস নির্বাচন করে যেইসব রচনা তৈরি করেন তার উপর নির্ভর করেই তৈরি হয় আমাদের শরিয়া বিষয়ক অজ্ঞতাপ্রসূত মোহ অথবা ভ্রম। অন্যদিকে আধুনিকতার সাথে একেবারেই খাপ খায়না এইরকম হাদিসগুলা যখন কেউ খুড়ে বের করে আনে তখনই এইসব হাদিস নিয়া একধরণের এপোলেজস্টিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন মোহাক্রান্ত মুসলমানেরা।
হাদিস শাস্ত্রের দুর্বলতাঃ
হাদিস শাস্ত্রের পেছনে দিন কয়েক সময় দিলেই হাদিস শাস্ত্রের অন্তর্নিহীত নানান দুর্বলতা চোখে পরতে বাধ্য। নৈতিকতা ও আইন বিষয়ক বহু হাদিসই বর্তমান সময়ে অপ্রাসঙ্গিক অথবা বর্বর হিসাবে স্বিকৃত হবে, খুজে পাওয়া যাবে প্রচুর পরিমান পুরাপুরি বিপরীত বক্তব্য সমৃদ্ধ পরস্পর বিরোধী হাদিস, কিছু আবার কোরআনের সাথেই খাপ খায়না, আবার অযৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে অসামাঞ্জস্যপূর্ণ হাদিসের সংখ্যাও নেহায়েত কম না। আমি নিচে এর ছোটখাটো একটা তালিকা দিলাম, হাদিস কপি পেস্ট করে পোস্টটা বেশি বড় করারও ইচ্ছা নাই। কারো প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যের ঘরে লিংক অথবা হাদিস উল্লেখ করা যাবে।
১। স্ববিরোধীঃ পরস্পরবিরোধী দাবি সর্বস্ব হাদিসএর অভাব নাই। বুখারি শরীফে যা আছে মুসলিমে আছে তার পুরা উলটা, আবার এমনকি এক সংকলনেই পুরাপুরি বিপরীতমুখী হাদিসও কম না। মুসলমান মাত্রই বেহেশতে যাবে কি না, কবিরা গুনাহ মাফ হবে কি না, ইমান থাকলেই বেহেশত পাওয়া যাবে কি না, রোজার মাসে স্ত্রীকে চুম্বন করা যাবে কি না, পশ্চিম দিকে ফিরে মল মূত্র ত্যাগ করা, দাঁড়িয়ে পানি পান করা, টাকনুর উপর কাপর পরা, মৃত পশুর চামড়ার ব্যবহার ইত্যাদি বহু বিষয়ে সম্পুর্ন ভিন্ন ধরণের হাদিস আছে। এমন হাদিস আছে যাতে বলা হয়েছে বিন্দুমাত্র গুনাহ থাকলে বেহেশতে যাওয়া যাবেনা, আবার কোন হাদিস বলে যে কলেমা পড়া মুমিন মাত্রই বেহেশতে যাবে। এক হাদিস বলে যে রোজার মাসে স্ত্রীকে চুম্বন করলে রোজ়া শেষ, আবার আরেক হাদিসে আছে যে মোহাম্মদ নিজেই রোজা রেখে স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন। এক হাদিসে আছে দাঁড়িয়ে মুত্র ত্যাগ করা নিষেধ তো আরেক হাদিসে আছে যে মোহাম্মদ নিজেই দাঁড়িয়ে মুত্র ত্যাগ করেছেন। একি সংকলনের এক হাদিসে আছে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে মোহাম্মদ নিষেধ করেছেন আবার আরেক হাদিসে আছে মোহাম্মদ দাঁড়িয়ে পানি পান করছেন। এইরকম বহুবিধ স্ববিরোধীতার আখড়া হলো হাদিস শাস্ত্র। এহেন সবিরোধী গ্রন্থ এবং আইনশাস্ত্রের উপর ভরসা রাখা কঠিন বটে। বিদায় হজ্জএর ভাষন বিষয়ক হাদিসে যেখানে বলা আছে যে কোরআনের সাথে সাথে মুসলমানদের নবির সুন্নাহও আকড়ে ধরে রাখতে হবে সেইখানে এক হাদিসে আছে যে মোহাম্মদ উপদেশ দিচ্ছেন, ধর্ম বিষয়ে তাকে অনুসরণ করলেও বস্তুগত বিষয়ে মুসলমানদের নিজ বিচার বুদ্ধি কাজে লাগাতে।
২। অবৈজ্ঞানিকঃ এমন হাদিস আছে যা পরলে মনে হয় যে দুনিয়া সমতল, আর চন্দ্র সূর্য এর চারদিকে ঘুড়ছে। কিছু হাদিস দাবি করে যে মধু নাকি সর্ব রোগের মহা ঔষধ। এক হাদিসে আছে যে যৌন মিলনের সময় পিতা বা মাতা যার অর্গাজম আগে হবে সন্তান দেখতে না কি তার মতো হবে। কিছু হাদিস দাবি করে যে মেয়েরা জন্মগত ভাবেই পুরুষের চেয় কম জ্ঞানের অধিকারী। এক হাদিসে আছে যে যৌন মিলনের সময় নারীর যৌনাঙ্গ দেখলে নাকি অন্ধত্ব হয়। জ্বীন, দাজ্জাল এবং আগের আমলের নবি রাসুল বিষয়ক আজগুবি কেচ্ছা কাহিনীর অভাব নাই হাদিস শাস্ত্রে। অবৈজ্ঞানিক তথ্যসমৃদ্ধ হাদিসের অভাব নাই হাদিস সংকলনগুলোতে। এইসব হাদিস কিভাবে আধুনিক নৈতিক অথবা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উৎস হতে পারে তা সুস্থ্য মস্তিস্কে অনুধাবন করা সম্ভব না।
৩। সমসাময়ীক বাস্তবতায় অনুপযুক্তঃ হাদিস শাস্ত্রে নারীকে পুরুষের তুলনায় স্বভাবগতভাবে জ্ঞান ও ধর্মে অর্ধেক বলে গণ্য করা হয়েছে। নারী অন্যকোন ধর্মের মানুষের নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। হাদিসে যুদ্ধবন্দির সাথে যৌনতা জায়েজ করা হয়েছে। হাদিস বর্ণিত শাস্তির বিধান অনেক ক্ষেত্রেই বর্তমান যুগ বিচারে নিষ্ঠুর এবং বর্বর। চুরির অপরাধে হাত কাটা, বিবাহ বহির্ভুত যৌন মিলনের অপরাধে দোররা মারা অথবা মাটিতে পুতে পাথর ছুড়ে হত্যা করা, বেশকিছু অপরাধের শাস্তি হিসাবে হাত পা কেটে ফেলে রাখা যেনো রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়, ইত্যাদি চিন্তা ভাবনা এবং আইন বর্তমান সময়ের নৈতিক বাস্তবতার সাথে যেমন খাপ খায়না, তেমনি অনুপযুক্তও বটে।
এহেন বহু বিষয়ে হাদিসের নানাবিধ খুৎ খুজে বের করা যাবে। সাধারণত এইসব খুৎ আমাদের সামনে তখনি আসে যখন ফতোয়া আইন প্রয়োগ করে গ্রাম গঞ্জের কোন ক্ষমথাধর ফায়দা লোটে, যখন সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করা হয় ধর্মের নামে, যখন শরিয়াপন্থীরা বাউলদের চুল দাড়ি কেটে দেয়, যখন আমিনীর মতো ধর্ম ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সাংবিধানীক আইন এবং এদেশীয় জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং মূল্যবোধকে প্রশ্ন করে। অজ্ঞতা এবং মোহ বশত এই খুতগুলা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা এরিয়ে যাই।
হাদিস সংকলন ও শরিয়া আইনএর ইতিহাসঃ
মধ্যযুগে লিখিত হওয়ায় অবৈজ্ঞানিক হাদিসএর অস্তিত্ব যেমন খুবি স্বাভাবিক তেমনি মধ্যযুগীয় বহু নৈতিক ধারণাই যে আমাদের সময়ের চিন্তা ভাবনার সাথে খাপ না খাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে হাদিস শাস্ত্রের এইরকম বহুবিধ স্ববিরোধীতা এবং লজ্জাজনক বৈচিত্র কিভাবে গড়ে উঠলো তা বোঝার জন্য হাদিস সংকলনের ইতিহাস বোঝাটা এবং এর সাথে সাথে ইসলামী শরিয়া কিভাবে পরিবর্তিত হলো তা বোঝাটা বেশ জরুরি। হাদিস বলতে বোঝায় ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদের আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, আচরণ, অন্য কারো কোন কাজ বা স্বিদ্ধান্তে সমর্থন ইত্যাদি। হাদিস সংকলন কোন জীবনী না হলেও এর আলোচ্য বিষয় মোহাম্মদের জীবন। মোহাম্মদএর সবচেয়ে পুরনো যেই জীবনীগ্রন্থের কথা জানা যায় তাও লিখিত হয়েছিল তার মৃত্যুর প্রায় দেড়শ বছর পর, বাকি গ্রন্থগুলা দুইশ/আড়াইশ বছর পর। হাদিস সংকলনগুলাও লিখিত হয়েছিল মোহাম্মদএর মৃত্যুর আড়াইশ/তিনশ বছর পর। এই গ্রন্থগুলায় কতটুকু সত্য কাহিনী লেখা আছে তা নিশ্চিত করা সম্ভব না। তবে এতটুকু পরিস্কার যে, শরিয়াহ বলতে এখন আমরা যেই সুসংবদ্ধ কোরআন এবং হাদিসএর ধারণা পাই তা চিরকাল এমন ছিলনা, মোহাম্মদের জীবনী এবং তার কর্মেরও বহু বিভিন্ন আলাদা আলাদা বিবরণ ছিল।
হাদিস সংকলনের কাহিনী বোঝার আগে যা বোঝা দরকার তা হলো যে হাদিস সংকলনগুলো লেখার আগে লক্ষ লক্ষ হাদিসএর অস্তিত্ব ছিল। অন্তত ৪০টা হাদিসএর ব্যাক্তিগত সংকলন ছিল বেশিরভাগ মুসলমানেরই। এর পেছনে কারণ খুব সম্ভবত ৪০টা হাদিস জানা থাকলে আলেম হওয়া যাবে এবং বেহেশতে যাওয়া যাবে এই ধরণের বিশ্বাস, এই বিষয়ে একটা হাদিস আছে। ইহুদিরা জ্বাল হাদিস তৈরি করেছে এইরকম কন্সপাইরেসি থিওরী হাদিস সংকলনের সমকালে বেশ প্রচলিত ছিল। আদতে, নানান রকম হাদিস তৈরি হওয়ার বাস্তব কারণ বুঝতে গেলে কিছু ঘটনা ঘাটলেই খানিকটা আচ করা সম্ভব হবে। যেমন নারী নেতৃত্ব হারাম এই হাদিসটা যিনি প্রথম বর্ণনা করেছিলেন তিনি আয়েশার বাহিনী থেকে পলায়নের বিচারের সময় নিজের জীবন বাঁচাতে এই হাদিস বর্ণনা করেন। আর তাছারা মুখে মুখে ছড়ানো কাহিনী বা আইনএর কোন গাছ পাথর নাই, মোহাম্মদের জীবন এবং কর্মের তাই লক্ষ লক্ষ নানামুখি কাহিনী তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছুনা। প্রথম সবচেয়ে বিখ্যাত হাদিস সংকলক ইমাম বুখারি তার বুখারি শরীফ রচনার সময় প্রায় কয়েক লক্ষ হাদিস মিথ্যা গণ্য করে পুড়িয়ে দেন। এত সতর্কতা সত্ত্বেও খোদ মুসলমান আলেমরাই বুখারি শরীফএর অনেক হাদিসকে জান্নি হাদিস বা দুর্বল হাদিস বলে গণ্য করেন, অর্থাৎ এই হাদিসগুলা ভুল বা মিথ্যা হওয়ার সুযোগ আছে। আর আধুনিক জ্ঞান বুদ্ধি ও চোখ দিয়া বিচার করলে এইসব জান্নি হাদিসের বাইরেও আরো বহু বৈজ্ঞানিক বিবেচনায় ভুলভাল অথবা বর্তমান যুগে অচল হদিসএর খোজ পাওয়া যাবে। সিয়া এবং সুন্নি হাদিস সংকলন আবার এক না। সুন্নিরা যেখানে ছিহাহ সিত্তাকে সবচেয়ে শুদ্ধ হাদিস সংকলন বলে গণ্য করে সিয়ারা সেইখানে একেবারেই ভিন্ন এক কিছু সংকলনের অনুসরণ করে। এই ছয়টা গ্রন্থও হুট করে ইসলামী শরিয়ায় গুরত্বপুর্ন হয়ে ওঠে নাই, এর দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এমনকি ইসলামী শরিয়াহ শুরুর দিকে খুব একটা হাদিস নির্ভরও ছিলনা। সবচেয়ে পুরনো সুন্নি মাজহাব হানাফি মাজহাবে ইজতিহাদ তথা ইজমা কিয়াসএর গুরুত্ব অনেক, এই মাজহাব শুরুর দিকে একেবারেই কট্টোর হাদিস পন্থী ছিলনা। উল্লেখ্য, হানাফি মাজহাব যখন সৃষ্ঠি হয়েছে তখন পর্যন্ত কোন ছিহাহ সিত্তার কোন হাদিস সংকলন লিখিতই হয় নাই। অন্যদিকে সর্বশেষ সুন্নি মাজহাব হাম্বল্লি মাজহাবের আবির্ভাব ছিহাহ সিত্তার সবগুলো সংকলন লিখিত হওয়ার পর। হাম্বলি সুন্নি মত প্রবলভাবে হাদিসপন্থী এবং ইজতিহাদ তথা ইজমা কিয়াসএর ব্যবহারকে পুরাপুরি অস্বিকার করে। হানাফি থেকে হাম্বলি মাজহাব আবির্ভাব পর্যন্ত ইসলামী শরিয়তের বিকাশ, হাদিস নির্ভরতা এবং তারপরে এর অপরিবর্তনীয় অলঙ্ঘনিয় রূপে আত্মপ্রকাশের ইতিহাস খুবি বৈচিত্রময়। এই লেখার পরবর্তি পর্বে হাদিস সংকলন এবং ইসলামী শরিয়তের বিকাশ নিয়া বিস্তারিত আলোচনা করার আশা রাখি।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৪
পারভেজ আলম বলেছেন: আলোচনায় অংশ নিলে খুশি হবো। আপনি খুব সম্ভবত এই জাতীয় বিতর্ক এরিয়ে চলেন। আর আমার বন্ধুবান্ধব বিষয়ে যেইটা বললেন সেটা মানতে পারলাম না। আপনার মন্তব্য মেনে নিলে যা হয় তা হলো যে ব্লগে শুধু নাস্তিকরাই আমার বন্ধু এবং এরা সবাই ধর্ম এবং মুহাম্মদকে গালাগালি করে। এইটা বোধহয় অনেক জেনারালাইজ করা হয়ে গেলো। এমনিতে আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে অনেকেরই আক্রমনাত্বক মনোভাব এবং খোলামন নিয়া আলোচনার মনমানসিকতার অভাবহেতু অনেক আলোচনারই ডিরেকশন নষ্ঠ হয় বটে।
এর আগে আমার ব্লগে কিছু আলোচনা পোস্ট হয়েছে যেইখানে গালাগালির বদলে আলোচনা হয়েছে বেশী। আশা করি এইখানেও তা হবে। আপনারা আলোচনায় অংশ নিলেই আজাইরা ঝগড়া কমে যাবে। ভালো ডিসকাশন হলে ক্যাচাল করে কেউ সুবিধা পায়না।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
২|
২৩ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৫২
সবাক বলেছেন: শরীয়াহ আইন নিয়ে কথা বলতে আগ্রহ পাই না। কারণ এটা হচ্ছে ব্লগের মুসলমানদের পিঠের ছালার মতো। যখন তার মনে পড়ে অনেকদিন নামাজ রোজা করা হয় না, আল্লাহতো মনে হয় ক্ষেপে গেছে, তখনই আমিনী কিংবা সাঈদীদের বগলের তলে হাত দিয়ে বগল বাজায়। এর আগ পর্যন্ত কোথাও তার শরীয়াহ আইনের কথা মনে থাকে না।
এরা একদিন বলবে শিয়ারা মুসলমান নয়। আরেকদিন ইরানের কোন শিয়া নেতা আম্রিকা ইসরাঈলরে নিয়া কি কইছে, সেটা নিয়া বাহাদুরি দেখায়। সুযোগে কইবো আমিনী একটা বদহারামি, আবার পীঠে ছালার দরকার পড়লে কইবো আমিনীর মতো আলেমকে সরকার পোংগা মারা দিয়ে ঠিক করছেনা। আল্লার আরশ কেঁপে উঠবো।
প্রতিদিন সকালে যত্ন করে ক্লীন শেভ করতে পারে, আর যখন প্রক্টর এন্ড গ্যাম্বল ৫০০০ জনকে এক করে শেভ করাতে চায়, তখন নিত্য সকালে কাঁচি চালানো অচ্ছুত বাল হয়ে যায় দাঁড়ি। ধর্মানুভূতি তখন আমিনীর রানের চিপা মারফত খাড়া হয়ে যায়।
সিরিজ কতো পর্বের হতে পারে?
আপাতত গ্যালারিতে একটা যায়গা নিলাম।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৭
পারভেজ আলম বলেছেন: হা হা। ভালো বলেছেন। বিষয়টা এইরকমই। আর এই স্ববিরোধী এবং সুবিধাবাদী অবস্থানের সুযোগটা কাজে লাগায় বিশেষ কিছু গোষ্ঠী। সিরিজ বেশী বড় হবে না, ৩/৪ পর্ব হবে আর কি। এতদিনে ব্লগ থেইকা যা শিখছি তা হলো যে সিরিজ বেশী পর্বের হলে মাঝপথেই মারা যায়।
৩|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৫
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: শুরুটা ভালো লাগল। পরবর্তী পর্বগুলো আরও বিস্তারিত হলে ভালো লাগবে। একেবারে ধরে ধরে আলোচনা চাই।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৯
পারভেজ আলম বলেছেন: হুম। স্বল্প পরিসরে যতটা বিস্তারিত করা যায় ততটুকু করার চেষ্টা করবো। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ শামীম ভাই।
৪|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৯
নাঈম১২৩৪ বলেছেন: কোন অপদার্থ , বোধাই না জেনে না বুঝে এসব লিখেছে ? কে মুসলমানদের পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করছে ? একজন মুসলমান হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। যেই লিখে থাকুক তার জানা থাকা দরকার যে, যে ব্যক্তি কুরআনের বিধান বা হাদস সম্পর্কে কটুক্তি করবে সে আর মুসলমান থাকে না ; মুরতাদ হয়ে যায়। ইসলামিক শরীয়া অনুযায়ী সে ব্যক্তি কে তার দেয়া মতবাদের অন্যায় সম্পর্কে বিবেচনা করার জন্য তিন দিন সময় পাবে। মতামত না পাল্টালে শরীয়া অনুযায়ী তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হবে। তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে এটা কত বড় পাপ।
সুতরাং লেখক কে তার লেখা পুণঃ বিবেচনা করে দেখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।
মহান প্রভু আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:২২
পারভেজ আলম বলেছেন: হুম। আমি তাইলে মুরতাদ হয়ে গেলাম। এখন আমার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন দেখি।
মধ্যযুগের ভোদাই আরব আইছে একবিংশ শতকের বাংলাদেশে আমারে শরিয়া আইনে মৃত্যুদন্ড দিতে। এই আলোচনায় আমার বক্তব্যের পক্ষে একটা খাটি প্রমান হইল এই মন্তব্য।
৫|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩০
প্রবাসী১২ বলেছেন: আপনি অযথাই সময় নষ্ট করছেন। শরিয়া সম্পর্কে আপনি সর্বোচ্চ ক খ শ্রেনীর জ্ঞান রাখেন।এটুকু জ্ঞান নিয়ে শরিয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে আসা নেতিবাচক উদ্দ্যেশ্যে হতে পারে। ইসলামী শরিয়ার যখন একজন মাত্র ধারক ছিলেন' তখন হতে একে ধ্বংশ করার সর্বগ্রাসী সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। পরবর্তি ইতিহাস আপনার জানা থাকার কথা।
আপনি একটি একটি আইন, একটি একটি নিয়ম-নীতি, একটি একটি সংস্কার নিয়ে যদি তুলণামূলক আলোচনা করেন; তাহলে ইসলামের অনুসাশনের চাইতে অন্য একটি আইনকেও শ্রেয়তর প্রমান করতে পারবেন না।
বিশেষ করে ইসলামের বিধান যিনি দিয়েছেন' তিনি বলছেন " আমি সৃষ্টি করেছি আমি আইন দিচ্ছি " সেখানে আপনার আমার অবস্থান কোথায়? আপনার কথা আমি শুনবো কী কারনে? আমার উপর আপনি আপনার শ্রেষ্ঠত্য প্রমান করবেন কিভাবে?
কথা আছে অনেক, অনিশেষ। একটু নিরোপেক্ষ মন নিয়ে চিন্তা করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। সত্যটি আপনার সামনে ফুটে উঠুক।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৮
পারভেজ আলম বলেছেন: ধরে নিলাম যে ইসলামী শরিয়া সম্বন্ধে আমি ক খ শ্রেনীর জ্ঞান রাখি। এইটা যেহেতু আপনি নিজে বলছেন সুতরাং আশা করা যায় যে আপনি অন্তত আমার চেয়ে বেশী জ্ঞান রাখেন। এইবার আমার লেখায় যদি কোন ভুল বা অসংগতি থাকে তো ধরায়া দেন। টপিকে থাকেন, বিচ্ছিন্ন বিতর্ক করার সময় বা ধৈর্য্য কোনটাই আমার নাই।
৬|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৫
প্রবাসী১২ বলেছেন: মাননীয় লেখক এত কম ধৈর্য নিয়ে এত বিশাল বিষয়ের অবতারনা করা কি ঠিক হয়েছে?
হাদীস সংকলণ নিয়ে কথা বলেছেন। হাদীস সংকলের ইতিহাস ৫%ও অনূদিত হয়নি। আপনি কিভাবে এ ধরনের একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার অবতারনা করেছেন; যার প্রমানগুলো প্রায় সবই আরবীতে। সব মিলিয়ে অনুবাদের পরিমান ৫% এর বেশী নয়। আপনি নিজেই আপনার অবস্থানটা আবিষ্কার করুন' তারপর পর ব্লগে এসে আলোচনা করুন। আর ভাষা লেখক/বক্তার পরিচয় বহন করে, পাঠকের নয়।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৬
পারভেজ আলম বলেছেন: আমার ধৈর্য কম কোথায় দেখলেন? আপনি যেহেতু বললেন যে আমার জ্ঞান হাদিস বিষয়ে নিতান্তই সামান্য, তাই ধরেই নিলাম যে আপনি আমার চেয়ে বেশী জানান এবং আপনাকে আমার লেখার ভুল ধরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করলাম। এতে দোষের কি পেলেন?
হাদিস সংকলনের ইতিহাস ৫ শতাংশের বেশী অনুদিত হয় নাই আপনার এই দাবির সপক্ষে একটু রেফারেন্স দেবেন কি?
মাঝে মাঝে কারো কার কথায় এমন মনে হওয়া অস্বাভাবিক না যে মুসলমান হওয়ার জন্য বোধহয় আরবই হইতে হবে।
৭|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৮
সত্যান্বেষী বলেছেন: পুরোটা পড়লাম এবং মন্তব্যের জন্য লগ-ইন করলাম। আমার কাছে পোস্টটিকে যথেষ্ট নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন চিন্তাশক্তিপ্রসূত মনে হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতামতে আমাদের দেশের অধিকাংশ মুসলমানের ইসলামী জ্ঞান ঐ নাইন-টেনে পরীক্ষা পাশ কেন্দ্রিক ইসলামিয়াত পাঠ পর্যন্ত। সেই ইসলামিয়াত বইটিও আবার কিছু ফিল্টার্ড হাদিস আর কোরানের আয়াতের একপেশে (ইসলামের গুণকীর্তন) সংকলন ছাড়া আর কিছুই না।
শরিয়ার জন্মঘর হাদিসগ্রন্থগুলোকে অভ্রান্ত মনে করা লোকের অভাব নাই এদেশে। লেখকের এই পরিশ্রমী সিরিজটা তাদের জ্ঞানচোখ খুলে দিক, অন্তত: কিছুক্ষণের জন্য হলেও।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১২
পারভেজ আলম বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ সত্যান্বেষী ভাই। ঘটনাটা আসলে তাই, ঐ ইসলামিয়াত বইটাই বাংলাদেশের আধুনিক মুসলমানের ইসলাম শিক্ষার যাবতিয় উৎস। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি যে বেশীরভাগ মানুষ নিজের নৈতিক এবং আদর্শিক অবস্থানকেই ইসলাম মনে করে। প্রায়ই দেখি, এমনকি ব্লগেও বিতর্কিত শরীয়া আইনগুলোকে লোকজন প্রায়ই সরাসরি ইসলামএর অংশ না বলে দাবি করে বসে, ইসলামী শরীয়া নিয়া তাগো পুরা ধারণাটাই এক ধরণের মোহ, যার সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নাই।
৮|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৩৪
প্রবাসী১২ বলেছেন: ঘটনাটা আসলে তাই, ঐ ইসলামিয়াত বইটাই বাংলাদেশের আধুনিক মুসলমানের ইসলাম শিক্ষার যাবতিয় উৎস
লেখক সমস্যাটা এখানেই। আপনি যেটুকু পড়েছেন, সে হিসেবেই মন্তব্য করছেন। আপনি যেখানে দাড়িয়ে আছেন বাস্তবতা সেখান হতে বহুদূর। আর আপনি যে মানষিকতা পোষণ করছেন, সে মানষীকতা নিয়ে ঐ গন্তব্যে পর্যন্ত যেতে পারবেন বলে মনে হয়না। মনকে মুক্ত করে সন্ধান করুন, সত্যটা খুঁজে পাবেন।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:৩৪
পারভেজ আলম বলেছেন: সেই প্রথম থেকেই কোন রকম যুক্তি এবং তথ্য বহির্ভুত ভাবেই একের পর এক অভিযোগ ছুড়ে যাচ্ছেন, এবং এখন পর্যন্ত আমার প্রশ্নগুলা এড়িয়ে যাচ্ছেন। আপনাকে বলেছি আমার লেখায় কোন ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে ধরিয়ে দিতে। আর সেই সাথে ৫ শতাংশ অনুবাদ হওয়ার যে তথ্যটা দিলেন তার রেফারেন্স চাইছি।
৯|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৩৯
জাতিষ্মর বলেছেন: ব্যাপারটা এইভাবে দেখলে কেমন হয়: কোনো একটা আইন যখন পরিবর্তন,পরিবর্ধন, সংযোজন করা হবে ইজমা কিয়াসের মাধ্যমে, তখন হাদিস বা কোরাণের রেফেরেন্স খুজবে সবাই এবং যথারীতি সে কনফিউজড হবে কারন আপনিই বললেন সেগুলা স্ববিরোধী কিংবা অস্পষ্ট। সুতরাং সমসাময়িক চিন্তাই শেষ পর্যন্ত উইন হবে। এছারা অবৈজ্ঞানিক যেগুলো বললেন সেগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নাহ। একমাত্র নারী ইস্যু ছারা অন্য সবগুলাই সল্ভড,সমসাময়ীক বাস্তবতায় অনুপযুক্ত ক্যাটাগরিতে।
শরিয়তের আইনে থেকে সেটাকে যুপোযুগী করে আগানোর কোনো পথ থাকলে সেই পথেই যাওয়া ভালো, তাতে মুসলিম সমাজের ম্যাচুউরিটি বাড়বে। একদম ফেলে দিয়ে কিছু করতে যাওয়া আত্নঘাতী।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২২
পারভেজ আলম বলেছেন: সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আসলে যুগের প্রয়োজনেই আইন এবং নৈতিকতার পরিবর্তন ঘটে। আপনার কনসার্নএর জায়গাটা বুঝতে পেরেছি, আপনি চাচ্ছেন যে শরিয়া আইনকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে যৌক্তিক ভাবে এটার ভেতরে পরিবর্তন পরিমার্জনের মধ্য দিয়া আগালে মুসলিম সমাজএ গ্রহণযোগ্যতা বেশী হবে। কিন্তু সমস্যাটা হলো যে শরীয়া আইন আধুনিকায়নের দায়িত্বটা কে নেবে বলেন? ধরেন আপনে বা আমি কি এই কাজের অথরিটি পাবো? আমাদের কাজ কি সবাই মানবে? মাদ্রাসা পড়ুয়া কি এই কাজ করতে পারবে বা করবে? আসলে এমন কোন অথরিটিই নেই যার সব মতামত অন্য মুসলমানরা মেনে নেবে। এইটাতো প্রতিনিয়তই দেখা যায়। একি বিষয়ে বিভিন্ন আলেম, বিভিন্ন গোষ্ঠী সম্পুর্ণ আলাদা ফতোয়া দেয়। এর চেয়ে বরং আমাদের আধুনিক আইনএর উন্নয়ন নিয়া মাথা ঘামানোটাই বেশী দরকারি আর বাস্তবসম্মত নয় কি? শরিয়া আইন হতে পারে গবেষনার বস্তু, সেখান থেকে নেয়ার মতো কিছু আছে কিনা সেইটা নিয়া গবেষনা হতে পারে।
১০|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৩:৫৩
সূর্য বলেছেন: যাক্, সারাদিন এটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এখন একটি সুসংবদ্ধ আলোচনা পড়ার আশা করছি। আর সবচাইতে আকর্ষণীয় হবে পাঠকদের মন্তব্য। আশা করি আপনি ধৈর্য্যহীন হবেন না।
@জাতিষ্মর, আপনি বলছেন যে, স্ববিরোধী কিংবা অস্পষ্ট হাদিস, কোরানের রেফারেন্সের কারণে সমসাময়িক চিন্তাই শেষপর্যন্ত উইন করবে। তাই যদি হবে তাহলে এখন যারা শরিয়ার দাবী তুলছেন বা কোরান-হাদিস বিরোধী আইনের অভিযোগ তুলছেন তারা কী কোরান-হাদিসের স্ববিরোধিতা সম্পর্কে অসচেতন, নাকি সচেতন থেকেও তারা শরিয়ার দাবী করছেন? যদি তার অসচেতন হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের কাছে কী আমরা নিয়মনিষ্ঠ বিবেচনার আশা করতে পারি কোরান-হাদিস প্রসংগে? আর যদি তার জেনেও শরিয়ার দাবী করে থাকেন তাহলে তাদের কী বলবেন আপনি?
এছাড়া আপনি বলছেন যে অন্যথায় সমসাময়িক চিন্তাই উইন করবে। সেটা কিভাবে হবে যেখানে সমসাময়িক চিন্তা (আমি ধরে নিচ্ছি যে সমসাময়িক চিন্তা বলতে আপনি একটি বিজ্ঞানমনষ্ক, গণতান্ত্রিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন সমাজের কাঠামো ধারণ করে এমন চিন্তাকে বোঝাচ্ছেন) ধারায় আস্থাহীন একটি ধর্মীয় পেশাজীবি সমাজ শরিয়ার দাবী করছেন এবং যারা সাধারন নাগরিক তারাও সমর্থন করছেন তা তাদের বিশ্ববীক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে।
এই সাধারন নাগরিকরা কিন্তু নিজেরাই ইসলামী জীবনযাত্রার অনুসারী নন। যদি কিছু মনে না করেন তাহলে প্রশ্ন করি আপনি নিজে কতটুকু ইসলামের বিধি মেনে চলেন আর শরিয়া আইন আপনি সমর্থন করেন কি না?
যেমন আপনি বলছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ না যা কিছু আছে তা বাতিল হবে। এখানে ধরুন শরিয়া বিবেচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হলো, সেখানে আপনি লেখক পারভেজ আলমের মত মানুষের অংশগ্রহণ সমর্থন করবেন কি না?
১১|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৮:১৮
সত্যান্বেষী বলেছেন: প্রবাসী১২ লেখককে বলেছেন: "আপনি যেটুকু পড়েছেন, সে হিসেবেই মন্তব্য করছেন। আপনি যেখানে দাড়িয়ে আছেন বাস্তবতা সেখান হতে বহুদূর।"
ঠিক আছে আপনার কথাই মানলাম। কিন্তু একবার বলবেন কি পোস্টে হাদিস সম্পর্কে যে সমস্ত কথাবার্তা বলা হয়েছে সেখানে কি ধরণের ভুল বা অসঙ্গতি পেয়েছেন?
১২|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৮:৪৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: @নাঈম১২৩৪, আপনি কিন্তু পোস্টটা পড়েনই নাই। এই পোস্টে কুরআন বিরোধী কোন কথা বলা হয় নাই। বরং বলা হয়েছে যে শরীয়ার সাথে কুরআনের যোগাযোগ তেমন নাই। এমনকি শরীয়া বিরোধী কোন কথাও সরাসরি বলা হয় নাই। এই পোস্টের মূল আলোচনা শরীয়ার ইতিহাস এবং হাদিসের অথেনটিসিটি নিয়ে। আপনার মন্তব্যের সাথে এই পোস্টের কোন সম্পর্ক দেখি না।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:২৩
পারভেজ আলম বলেছেন: রাইসুল জুহালা@ নাইম১২৩৪ এর মন্তব্যগুলা এই পোস্টের আলোচনার জন্য সুবিধাজনক হয়েছে। আল্লাহর আইনকে প্রশ্ন করা যাবে না, সেই হিসাবে কোন হাদিস নিয়াও প্রশ্ন করা যাবেনা এই ধরণের মনোভাব কিভাবে তৈরি হলো এবং নাইম১২৩৪এর মতো লোকজন কিভাবে ইসলামের জায়গিরদারে পরিণত হলো সেই নিয়াই আমার দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা হবে। তার মতন একটা জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ পেয়ে ভালো লাগছে। ঠিক তার মতো হুমকি ধামকি দিয়েই হাদিস শাস্ত্রের প্রভুত্ব এককালে মুসলিম দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেছিল হাদিসপন্থীরা।
১৩|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:০৬
নাঈম১২৩৪ বলেছেন: আমি একজন মুসলমান।আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত আইন ও জীবন বিধান মেনে চলি। এ বিশ্বজগতের একমাত্র প্রভূ , মহান স্রষ্টা আল্লাহ যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠিয়েছেন যেন মানুষ আল্লাহর বিধি বিধান সঠিকভাবে মেনে জীবন যাপন করে চলতে পারে। লেখকের এ লেখায় আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা) কে কটাক্ষ করা হয়েছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি চরম মর্মাহত।লেখক,আমার যদি সুযোগ হত তবে আমি এর চরম প্রতিশোধ নিতাম।
লেখককে এ লেখার জন্য ক্ষমা চাইতে বলছি।
আমি আমার পূর্বের লেখায় যা লিখেছি তা অবশ্যই ইসলামিক বিধান। যে ব্যক্তি মুসলমান সে বিনা যুক্তিতে ইসলামিক বিধিবিধান মেনে চলবে। এটা ঈমানের অংশ। ইসলামিক আইনের কোন ধরণের সামালোচনা করা চলবে না।কারণ, এটি মহান প্রভূ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:২৮
পারভেজ আলম বলেছেন: ১। ক্ষমা না চাইলে কি করবেন? কোন অপরাধ করেছি বলে মনে করছিনা যে ক্ষমা চাইবো। সুতরাং, কি করবেন?
২। চরম প্রতিশোধটা কি? মানে সুযোগ থাকলে কি করতেন?
৩। সুযোগ নাই কেন?
বাংলাদেশ শরিয়া আইনে শাসিত হয়না। আমি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে বরং আপনিই অপরাধ করেছেন। তারাতারি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।
১৪|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:২৪
সূর্য বলেছেন: @আলবার্ট_আইনস্টাইন, ইসলামের সমস্যার মূল কোথায় তা তো নাঈম১২৩৪ এর লেখায় পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। আমি বরং এক ধরণের স্বস্তি বোধ করছি এজন্য যে তাদের পক্ষ থেকেই একজন নিজেদের হিংস্র প্রকৃতি প্রকাশ্য ফোরামে ঘোষণা করে দিল। এই ফোরামেই এর আগেও দেখেছি আসিফ মহিউদ্দীনকে হত্যার হুমকি দিতে।
আমি এপোলজিস্টদের কাছ থেকে কিছুই আশা করি না কারণ এর উত্তর আমাদের জানা আছে। "একজনের আচরণ দিয়ে পুরো ধর্মকে বিচার করতে যাবেন না। ইসলাম শান্তির ধর্ম।"
আমরা যারা এরকম হুমকির মুখোমুখি হই প্রতিনিয়ত তাদের বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় সতর্কতা নেয়া উচিৎ বলেই মনে করি। এসব উড়িয়ে দেয়া যায় না। হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা স্মর্তব্য।
১৫|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:৩১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: @নাঈম১২৩৪, ভাই যত কষ্ট করে আপনি এত বড় বড় কমেন্ট লিখেন, তার চেয়ে অনেক কম কষ্টে তো আপনি পোস্টটা পুরো পড়তে পারেন। পোস্ট না পড়ে কমেন্ট দেয়া আসলে ব্লগজগতে একটা নির্বুদ্ধিতা হিসেবে গন্য হয়।
@লেখক, আপনার দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আলবার্ট_আইনস্টাইন বলেছেন: কারণ মুসলিমরা পৃথিবীর মেজর ধর্মগুলোর মধ্যযে সবচে হিংস্র ধর্মের চর্চা করে।
হুমমম.....আপনারাই সুস্থ আলাপ-আলোচনার পথ এই জাতীয় মন্তব্য করে নষ্ট করে ফেলেন। নাঈম১২৩৪ এর সাথে আপনার মানসিকতা বা ম্যাচিউরিটির তেমন তফাৎ নাই। @লেখক, আমি এদের কথাই প্রথম কমেন্টে উল্লেখ করেছিলাম।
১৬|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:৩৬
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: "একটা আইনের সমালোচনা করলে হত্যা করা হবে" এমন নিয়মের সমালোচনাকারী আর সমর্থনকারীর মানসিকতা কিভাবে সেইম হয় বুঝলাম না।
নাকি নাস্তিকদের যেভাবে হোক সন্ত্রাসবাদী বানিয়ে দিলেই হল?
১৭|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:৪১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: হুমমম....বড় পান্ডা! থাক, আর নিচে নামার আগে এই অঞ্চল আমার জন্য ত্যাগ করাই ভাল। দুঃখিত পারভেজ আলম, আপনার টপিক এবং লেখাটা ভাল লেগেছিল। ইচ্ছা ছিল আলোচনায় অংশ নেয়ার। কিন্তু দুই দল কুকুরের কামড়া-কামড়ির মধ্যে আমি নিজের প্রান হারাতে ইচ্ছুক না, ধর্মীয় আলোচনা আমার এত গুরুত্বপূর্ন না। বাকি পর্বগুলি পড়তে আসব অবশ্য। আপনার সাথে কখনও ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ হলে আলাপ হবে এই বিষয়ে। চলুক আপনাদের কামড়ালোচনা। ভাল থাকবেন।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৯
পারভেজ আলম বলেছেন: আমার মনে হয়, এইভাবে আলোচনা ত্যাগ করা উচিত হচ্ছেনা। আলোচনার উদ্দেশ্যটা সবার আগে মাথায় রাখতে হবে, দ্বিতীয়ত কার সাথে আলোচনা হচ্ছে সেইটাও মাথায় রাখার বিষয়। আলোচনার উদ্দেশ্য ইতিবাচক সমাধানে পৌছানো, এইটা মাথায় থাকলে আক্রমনাত্বক মন্তব্য কম হয় যা আমরা খুব কম সময়ই মাথায় রাখতে পারি। ওপরে আইনস্টাইনএর মন্তব্য আপনার কাছে আক্রমনাত্বক মনে হয়েছে, আবার আপনার মন্তব্যে আইনস্টাইন নিজের পুরো বিপরীত মতাদর্শী নাইম১২৩৪এর সাথে নিজের তুলনা মোটেই সহজ ভাবে নিতে পারেন নাই, তার কাছে অপমানজনক মনে হয়েছে। আপনি নিজে যা চান তা সবার কাছে সেইভাবেই পাবেন এমন ধারণা করা ঠিক না। এই ভুলটাই আমরা করি। ধরেন, আপনার চাওয়া হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে কোন জেনারালাইজ সমালোচনা না করে বিভিন্ন ইস্যু ধরে আলোচনা হোক, আপনার এই এক্সপেক্টেশনটা হয়তো সবাই রক্ষা করতে পারবেনা। একিভাবে ধরেন গিয়া আসিফ মহিউদ্দিন বা এলবার্ট আইনস্টাইন হয়তো এক্সপেক্ট করে যে আপনি আরো প্রবলভাবে নাইম১২৩৪ জাতীয় ব্লগারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। এখন আমার কথা ভিন্ন, আমার এক্সপেক্টেশন কম। আমি জানি, আমাদের সময়টা খারাপ, ইতিবাচক আলোচনা আমাদের কম হয়, ক্যাচাল বেশী হয়। এই কারণে আমি ধৈর্য্য নিয়া আলোচনা করি। অনেক আক্রমনের ভেতরও মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করি। এইটা যদি করতে পারেন, সবাইকে যদি তার নিজের জায়গায় বিবেচনা করে তার মন্তব্য বিবেচনা করেন, আর ঠিক নিজের মতো এক্সপেক্টেশন কম করেন, তাইলে আশা করি আলোচনা করা আরো সহজ হবে।
আপনাকে বলবো, যৌক্তিক ভাবে আলোচনায় থাকুন। আসিফ বা আইনস্টাইনের কোন অবস্থান ভুল মনে হলে ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করুন। কুকুরে কুকুরে লড়াই বা এই জাতীয় কিছু বললে তাদের সাথে আপনার দুরত্ব বারবে বই কমবেনা।
১৮|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:৫৯
ঠোঁট কাটা বন্ধু বলেছেন: যে বলদরা লেখককে বার বার বলছেন, যে লেখক শরীয়া আইন সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারা নিজেরাই শরীয়া আইন সম্পর্কে কতটুকু জানেন? শুধু আল্লা বলসে, নবীরে আমি পাঠাইসি, নবী বলসে, আমার হাদিস মাইনা চল, আলেম বলসে, নবীর কথামতো শরীয়া আইন কর্যকর কর.............এটুকু জ্ঞান নিয়ে মোমিন মুসলমানেরা তর্ক করতে আইসা পড়সে। আস্তিক হইলে মানুষের বোধ বুদ্ধি যে চক্রবৃদ্ধি হারে হ্রাস পায়, এটাতো অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি।
১৯|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:২৬
ধূসরমেঘ বলেছেন: @আলবার্ট_আইনস্টাইন চমৎকার । জোকসের আড়ালে কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
২০|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৫১
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: নাস্তিকেরা আছে বলেই যে মডারেটরা টিকে থাকতে পারে এইটা ওরা কবে বুঝবে? মৌলবাদী রাজত্ব এলে যদি ওদের বাড়ি থেকে দশ বছরের পোলাপান তুলে নিয়ে গিয়ে জেহাদী ক্যাম্পে ট্রেনিং দিয়ে বুকে বোমা বেঁধে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয় সেইদিন তারা কি করবে জানতে ইচ্ছা আছে।
২১|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১২
পি পি বলেছেন: @আলবার্ট_আইনস্টাইন: মনের কথাডাই কইছ মনু।
তুমারে আর পারভেজ ভাইরে ধইন্যা।
২২|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২১
কেলেভুষো বলেছেন: পারোভেজ ও আসিফ@
মানুশের তৈরী আইনের ভুল থাকা সম্ভব বলেই তার সমালোচনা করা জায়েজ। আল্লাহ যেসব নিয়ম বানিয়েছেন তাতে ভুল থাকতে পারে না বলেই তার সমালোচনা করার কোনো মানে নাই। যাদের ইসলামের নাম শুনলে চুলকায় তারাই এইসব ফাসাদ তৈরী করে। আর যারা সমাজে ফাসাদ তৈরী করে তাদের কি কোলে তুলে চুম্মা দিতে হবে নাকি?
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪৬
পারভেজ আলম বলেছেন: পোস্ট রিলেটেড মন্তব্য করুন। আপনার কাছে যদি হাদিস শাস্ত্র নির্ভুল এবং সমালোচনার উর্ধে মনে হয় তাহলে এই হাদিস শাস্ত্রে এত স্ববিরোধী এবং বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল তথ্যসর্বস্ব হাদিস কেনো আছে তা ব্যাখ্যা করুন।
২৩|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২৩
কেলেভুষো বলেছেন: দুনিয়ার কোন আইনে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের শাস্তির বদলে চুম্মা দেওয়া হয় জানতে চাই।
২৪|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৪৯
সন্যাসী বলেছেন: মডারেট মুসলিমরা শরীয়াহ মোতাবেক চলতেও পারে না আবার শরীয়াহকে অস্বীকারও করতে পারে না। তাদের এই দ্বৈত অবস্থানই কট্টরপন্থীদের সুযোগ করে দেয়। আইনস্টাইন ভাইয়ের জোকটা অসাধারণ হইছে।
২৫|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৫৩
নূরুল্লাহ তারীফ বলেছেন: আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আপনি আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসূলের রিসালতে বিশ্বাসী কেউ নন। তবে অমুসলিম হলেও বস্তুনিষ্ঠ কোন সমালোচনা গ্রহণ করতে আমাদের মুসলমানদের কোন আপত্তি নেই। তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে সর্বজন স্বীকৃত নীতি হল যে বা যাদের সমালোচনা করা হবে তাদের গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতি দেয়া- যাতে করে সমালোচনা একপেশে না হয়। আপনার পুরা প্রবন্ধের কোথাও তার আলামত নাই। হাদীছ সংকলনের ইতিহাস, শরীয়ার ইতিহাস সম্পর্কে আপনি ওরিয়ালিস্টদের একপেশে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। কুরআন-হাদীছ এর বিরোধী ইসলাম বিজ্ঞানকে সমসময় স্বতসিদ্ধ বিশ্বাস করে না কিন্তু আপনি বিজ্ঞান দিয়ে, কখনো প্রচলিত আধুনিক প্রথা দিয়ে মুসলমানদের উপর আরোপিত চিন্তাচেতনা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আপনি অমুসলিম হলে আপনার চিন্তাচেতনা নিয়ে শান্তিতে থাকুন। আর বস্তুনিষ্ট সমালোচনা করতে চাইলে নিরপেক্ষভাবে আরবী ভাষায় লিখিত মুসলমানদের গ্রন্থ পড়ে সমালোচনা করতে হবে। যে গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই অনুদিত হয়নি।
- স্ববিরোধিতার ক্ষেত্রে সর্বজন স্বীকৃত নীতি হচ্ছে: একই কথা একই স্থান একই কাল ও একই প্রেক্ষাপটে বলা। স্থানকালপাত্র এক না হলে সেটাকে স্ববিরোধিতা বলা যায় না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিম্নের বইগুলো পড়ুন। নিম্নে আমি কিছু বইয়ের লিঙ্ক দিচ্ছি-
১. http://www.waqfeya.com/book.php?bid=707
২.
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৬
পারভেজ আলম বলেছেন: একত্ত্ববাদ অথবা রিসালাতএ বিশ্বাস করা বা না করার সাথে এই পোস্টের কোন সম্পর্ক নাই। বিষয়বস্তুই এই পোস্টের মূখ্য বিষয়। পোস্ট যাতে বেশী বড় না হয় এই কারণে কোন হাদিস ওপরে উল্লেখ করি নাই, এইটা আমার লেখাতে উল্লেখ করেছি। সেইসাথে এইটাও উল্লেখ করেছি যে কোথাও সন্দেহ থাকলে সেই বিষয়ক হাদিস মন্তব্যে উল্লেখ করা হবে অথবা লিংক দেয়া হবে অথবা রেফারেন্স দেয়া হবে। আমার পোস্টের কোন বক্তব্য যদি আপনার কাছে ভুল অথবা মিথ্যা মনে হয় তাইলে উল্লেখ করুন, আমি সেইটার রেফারেন্স দেবো।
ওরিয়ালিস্ট বলতে বোধহয় ওরিয়েন্টালিস্ট লিখতে চেয়েছিলেন। ওরিয়েন্টালিস্ট কি কি বক্তব্য উপরে পেয়েছেন জানাবেন। হাদিস সংকলন বিষয়ে উপরে খুব বেশী আলোচনা করি নাই, পরের পর্বে করবো। এই পর্বে যতটুকু আছে তা পশ্চিমাদের উদ্ভাবন করা কিছু না, বরং মুসলিমদের লেখা ইতিহাসএই আছে। পশ্চিমারা প্রাচ্যের ইতিহাস নিজেদের মতো করে বিবেচনা করে বটে তবে ইসলামের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে তাদের মুসলিম ইতিহাসবীদদের রচনার ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে।
আপনি এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য মনে হয় বোঝেন নাই। এইখানে মুসলমানদের উপর কিছু চাপানো হচ্ছেনা। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ শরিয়া আইনে চলে না, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সাংবিধানীক আইন আছে। শরিয়া আইনই বরং আমাদের উপর চাপানোর চেষ্টা করা হয় বিভিন্ন সময়। তো যেই আইন আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার জন্য দুইদিন পর পর নানান ফ্যাসাদ হয় সেই আইনএর সমালোচনা করার অধিকার আমাদের আছে বটে। আমাদের সময়কার নৈতিকতা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ইত্যাদি দিয়া এই আইন বিবেচনা করবো এইটাই স্বাভাবিক। আর আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে যে ইসলামী আইন বুঝতে হলে আরবি ভাষা না জানলে উপায় নাই। আরবি ভাষার বই ইংরেজিতে বা বাংলায় অনুবাদ হইছে কি হয় নাই, এইটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। যেই আইন বিষয়ক জ্ঞান আপনারা বাঙালিদের জন্য সহজলোভ্য করতে পারেন নাই, যেই আইন বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হলে আরব হইতে হবে সেই আইন আমাদের উপরে চাপায়া দেয়ার অথবা আমাদের দেশে সেই আইন প্রণোয়ন করার আন্দোলন করার কোন মানে হয় না। আগে সবার পাঠের উপযোগী করেন, তারপরে সমালোচনার দোষ ধরেন। আর আগেই একজনরে বললাম, হাদিস সংকলন বিষয়ে সিংহভাগ রচনা এখনো আরবি থেইকা অনুদিত হয় নাই এই তথ্যটার রেফারেন্স চাইছিলাম ওপরে একজনের কাছে, সে দেয় নাই। আপনে দেবেন কি?
স্থানকালপাত্র এক না হলে সেটাকে স্ববিরোধিতা বলা যায় না এই বক্তব্যের মাধ্যমে একি আইনশাস্ত্রে একি বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন আইনএর অস্তিত্ব কিভাবে গ্রহণযোগ্য হয় সেইটা উদাহরণ সহকারে বোঝানোর অনুরোধ থাকলো।
২৬|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৩৭
জাতিষ্মর বলেছেন: @সূর্য অস্পস্ট কিংবা স্ববিরোধি হাদিস বলতে কোনো হাদিস নাই, সবগুলার কোনো না কোনো মিনিং আছে তার নিজস্ব স্থান কাল পাত্রে। কিন্তু এইটা তখনই অস্পষ্ট যখন আপনি কোনো সমস্যার সমাধান করতে যাবেন কিন্তু ঐ বিশেষ সমস্যার স্পষ্ট কোনো সমাধান পাবেন নাহ। এইটাই স্বাভাবিক। আর মোল্লারা কেউ বিপ্লবী নাহ, তারা আমাদের মত খায়-দায়-ঘুমায় ব্যবসাবানিজ্য করে, সুতরাং তারা এমন কোনো আইন তৈরি হবে নাহ যেইটা তাদের ব্যবসা-বানিজ্য কে আঘাত করবে। এই হিসাবে সমসাময়িক চিন্তার সাথে যেই হাদিস খাপ খাবে সেটা উইন হওয়াই স্বাভাবিক। কাউকেও অসচেতন ভাবার কোনো কারন নাই। সবাইকেই খাইয়া পইরা বাইচা থাকতে হয়। গার্মেন্টসে মেয়েরে কাজ করতে পারবে নাহ এমন ফতওয়া নিশ্চয়ই শোনেন নাই,শোনলেও তারে কেউ পাত্তা দেয় নাই। আবার সুদী ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া হওক এরকম ফতোয়াও শুনেন নাই, বরংচ ইসলামী বাংকিং নামে নয়া(?) বাংকিং চালু হইছে। মোল্লারা বিপ্লবী হলে সেইটা অন্য ব্যাপার। NGO বিরোধিতা কিন্তু মোল্লাদের কাছ থেকেই প্রথম আসছিলো, এখন NGO নিয়া আমরা হা-হুতাশ করি।
শরিয়া কোনো সেট অফ রুলস না বরংচ আইন তৈরী করার একটা ফিলসোফি হিসাবে ধরা যায়। আমার মনে হয় লেখকও সেটা বলবেন। ইসলামী সমাজ নিজেই "তথাকথিত শরিয়া" থেকেই দুরে সরে গেছে বা বাধ্য হইছে, এর মানে মোল্লারা বিবর্তিত হয় আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে, এইটা জাস্টিফাইড।
২৭|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৫২
জাতিষ্মর বলেছেন: এর চেয়ে বরং আমাদের আধুনিক আইনএর উন্নয়ন নিয়া মাথা ঘামানোটাই বেশী দরকারি আর বাস্তবসম্মত নয় কি?
না খুব একটা বাস্তবসম্মত নাহ, কারন আমিনীরা সেইটা হইতে দিচ্ছে নাহ, আপনি চাইলেও সেইটা পারতেছেন নাহ। তাহলে এইটা বাস্তবসম্মত হয় কি করে?
শরীয়া আইন ম্যানেজম্যান্টের যে সমস্যা বললেন, সেটা তো থাকবেই, সেটা সমাধানের পথ আমরা আলোচনা কইরা বের করতে পারি। এভাবে মুসলিম সমাজের ম্যাচুরিটি বাড়বে এবং তারা নিজেরাই নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারতেছে এইটা বুঝতে পারলে তাদের আত্নবিশ্বাস বাড়াবে, যেইটা খুব জরুরী এই সময়ে।
২৮|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:১৯
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: যে আইন আরবি ভাষা না জানলে বুঝাই যায় না তা কিভাবে আধুনিক যুগে চলবে বুঝলাম না। পাব্লিক যদি সেগুলা পড়ে বুঝতেই না পারে তবে কেমনে আইন মেনে চলবে তারা? পুলিশেই বা কিভাবে আইন প্রয়োগ করবে? যাঁরা এই আইনের প্রশংসা করছেন তাঁদের কি উচিত নয়, আগে একটা গ্রহণযোগ্য অনুবাদ তৈরী করা? নাকি সেটা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার?
২৯|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪৬
জাতিষ্মর বলেছেন: @দু-পেয়ে গাধ: গ্রহণযোগ্য অনুবাদ তৈরী(কোরান হাদিস এর ইন্টারপ্রেটেশন) করার জন্যই তো ইজমা-কিয়াসের(আলোচনার মাধ্যমে) কথা বলা হচ্ছে যেইটা পরবর্তিতে আইন হবে। যদি সমসাময়িক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে গ্রহনযোগ্য অনুবাদ থাকতই তাহলে তো আর এই বিষয়ে আলোচনারই দরকার পরত নাহ।
৩০|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৪৩
নূরুল্লাহ তারীফ বলেছেন: দুঃখিত- ব্যস্ততার কারণে পূর্বের মন্তব্য অস্পূর্ণ ও সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশ করতে হয়েছিল। শব্দটি ওরিয়েন্টালিস্ট (অমুসলিম ইসলাম গবেষক) হবে। আপনার পাল্টা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে চাই-
আপনি আপনার ধর্মী বা আদর্শিক পরিচয় দিতে এত হীনমন্যতায় ভুগছেন কেন? পাঠকের এ অধিকার রয়েছে আপনার আদর্শিক পরিচয় জানার। আপনি একস্থানে বলেছেন আমাদের সময়কার নৈতিকতা"। তাতো একটা অনির্দিষ্ট বিষয়। আপনি সুনির্দিষ্ট করুন আপনার আদর্শ বা নৈতিক বিশ্বাস কোন টি? আপনার নৈতিকতা সময়ে সময়ে পরিবর্তনশীল!! প্রচ্ছন্নতার আড়াল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্ট বস্তুনিষ্টর বিরোধী।
আপনি জেনে রাখুন, আমি একজন মুসলিম এবং বাংলাদেশী। আমি যে আদর্শের পক্ষে কথা বলব সেটি ইসলাম। আমাদের ইসলামী নৈতিকতা স্থিতিশীল। মিথ্যা- সমসময় ঘৃণিত, পাপের কাজ। সত্য- সমসময় প্রশংসিত। কপটতা- সবসময় ঘৃণিত। এভাবে প্রতিটি বিষয়ে ইসলামের আদর্শ সুস্পষ্ট।
-আপনি মুসলমানদের উপর কিছু চাপাতে না চাইলে আপনার আদর্শ নিয়ে সুখে থাকুন। গায়ে পড়ে মুসলমানদের আদর্শের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন কেন!!
- পশ্চিমারা প্রাচ্যের ইতিহাস নিজেদের মতো করে বিবেচনা করে এখানেই তো সমস্যা। নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি যেসব পশ্চিমা লোক ইসলাম গবেষণা করেছেন তারা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে স্বীকৃতি দিয়েছেন। জর্জ বার্নাডশ, মুহাম্মদ আসাদ এর মত অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠার প্রয়োজন হবে।
- স্থানকালপাত্র এক না হলে সেটাকে স্ববিরোধিতা বলা যায় না উদাহরণ হলো- গতরাত্রে চ্যাটিং ম্যাসেঞ্জারে ৬:৩০টার দিকে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম আমার এখানে আমার ছোট ভাইকে অনলাইন দেখছি না। দেখতো তোমার সেখানে তাকে অনলাইন দেখায় কিনা? মোবাইলে তাকে অনলাইনে আসতে বলেছিলাম। ৭:৩০- থেকে আমি আমার ভাইকে অনলাইনে পেয়ে আধাঘন্টা কথা বলে শেষ করলাম। আমি আমার ভাই এর সাথে কথা শেষ করার পর আমার স্ত্রী আমার ভাইকে জানাল আমি তাকে অনলাইনে আসতে বলেছি। অথচ আমি ইতিমধ্যে আমি তার সাথে কথা বলে সমাপ্ত করেছি। বাহ্যত এ ক্ষেত্রে সময়ের পার্থক্যটা বিবেচনায় নিলে স্ববিরোধিতা ধরা পড়বে না। ইসলামী বিধিবিধানগুলো ক্রমধারা অবলম্বন করে, সময় ও প্রেক্ষাপটের আলোকে আরোপ করা হয়েছে। যেমন- তিনধাপে মদ হারাম করা হয়েছে। প্রথম ধাপে- মদ খেয়ে নামাযে আসতে নিষেধ করা হয়নি। [সূরা নিসা: ৪৩] দ্বিতীয় ধাপে- বলা হয়েছে মদ পানের গুনাহ অনেক বড়, তবে এর মধ্যে কিছু উপকারিতা রয়েছে। কিন্তু উপকারের চেয়ে অপকার বেশী। [সূরা বাকারা: ২১৯] তৃতীয় ধাপে- সর্বাবস্থায় মদ খাওয়া হারাম করা হয়েছে।[সূরা মায়েদা: ৯০] (মরানাপন্নের প্রাণ বাঁচানো বা এরকম কোন ব্যতিক্রম অবস্থা ছাড়া।) সুতরাং সময়ের পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য করলে জানা যাবে যে, কুরআনের এই আয়াতগুলো পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়। কারণ সর্বশেষ ধাপে চূড়ান্তভাবে মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ আপনাকে সুমতি দিন। তাঁর অনুগত বান্দাহ বানিয়ে দিন। প্রতিনিয়ত যারা ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। ভাল থাকুন।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০২
পারভেজ আলম বলেছেন: ওরিয়েন্টালিস্ট শব্দের অর্থ অমুসলিম ইসলাম গবেষক, এইটা জীবনে প্রথম শুনলাম। ওরিয়েন্টালিস্ট শব্দের এহেন বাঙলা কোন বিদ্বান ব্যাক্তি করেছেন বলবেন কি? না কি আপনি নিজেই বানিয়েছেন? যাই হোক, আমি বলেছিলাম আমার লেখায় ওরিয়েন্টালিস্ট মনোভাব কোথায় পেয়েছেন দেখান, আপনি দেখাতে পারেন নাই। আমি একজন পোস্ট কলোনিয়ালিস্ট হিসাবে ওরিয়ান্টালিস্টদের ভুল মনোভাব পরিহার করার ক্ষেত্রে সবসময়ই বারতি সতর্কতা অবলম্বন করি।
আমার আদর্শিক অথবা ধর্মীয় অবস্থান নিয়া আমি কোন হিন্যমনতায় ভুগিনা। ব্লগে আপনি নিয়মিত কিনা জানিনা। আমার ব্লগের নিয়মিত পাঠকরা আমার আদর্শিক এবং ধর্মীয় অবস্থান বিষয়ে বেশ ভালই সচেতন আছেন। আমার সুনির্ধিষ্ট আদর্শিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক অবস্থান আছে। আমার অবস্থান আপনার সাথে মিলবেনা, তাই বলে আপনি যদি কোন বিষয়বস্তু যুক্তির নিরিখে আলোচনা করেন সেইটা আমি আপনার যুক্তি এবং তথ্যের খাতিরেই আলোচনা করবো, সেইখানে আপনার আদর্শিক অবস্থান আমাদের আলোচনায় কোন জরুরি বিষয় হবেনা। আমরা যেহেতু তথ্য এবং যুক্তি বিচার করে আলোচনা করছি সেইখানে আপনার বা আমার আদর্শিক অবস্থান আলোচ্য বিষয় হবেনা, এইটাই ছিল আমার বক্তব্য। আমার নৈতিক অবস্থানও সদা পরিবর্তনশীল এমন কিছুনা, সমসাময়িকতার বিচারে, জগত বিষয়ক দার্শনিক অবস্থানের কারনে এবং স্বজাতির স্বার্থ বিচারে আমার কিছু সুনির্দিষ্ট নৈতিক অবস্থান আছে। তবে তাই বলে এই না যে, আমার নৈতিক অবস্থান কখনো পরিবর্তন হবে না, বা তা পরিবর্তনযোগ্য না। যৌক্তিক এবং বাস্তব প্রয়োজনে তা অবশ্য পরিবর্তনযোগ্য।
আমার আগের মন্তব্যটা আবার পড়েন। মুসলমানদের উপর আমি কিছু চাপিয়ে দিতে যাই নাই। শরিয়াপন্থীরা বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেই শরিয়া আইন চাপিয়ে দিতে চায় তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি।
স্ববিরোধীতা নিয়া যেই উদাহরণ দিয়েছেন তা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। আপনি আলোচনা করেছেন ধারাবাহিকতা নিয়া। অন্যদিকে একি বিষয়ে দুইটা ভিন্ন আইন থাকলে সেই স্ববিরোধীতা আপনি কিভাবে মেটাবেন সেইটা ছিল আমার প্রশ্ন। আমি উদাহরণ চেয়েছিলাম হাদিস শাস্ত্রে উল্লেখিত স্ববিরোধী আইনের ক্ষেত্রে। আপনার ভাইয়ের সাথে চ্যাট করা আমাদের সমাজের আইনের সাথে রিলেটেড কোন বিষয় না।
আপনিও ভাল থাকুন।
৩১|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৭
সূর্য বলেছেন: @জাতিষ্মর, স্ববিরোধিতা বা অস্পষ্টতার কথা আপনিই বলেছিলেন তাই এর ব্যাখ্যা জানা দরকার ছিল।
তাহলে আপনার কথায় বোঝা যাচ্ছে যে, হাদিস এবং শারিয়া আইন কালোত্তীর্ণ নয়? স্থান-কাল-পাত্র ভেদে এর পরিবর্তন হতে পারে, ঠিক কি? না কি আমি ভুল বুঝছি?
মোল্লারা অবশ্যই তাদের মত করে জীবিকা নির্বাহ করছে আবার সময় সুযোগমত ইসলামী বাতাবরণের আড়ালে নিজেদের ক্লাস এজেন্ডা অর্জনের জন্য যা করার তাও করছে। কাজেই গাছের খাওয়া আর তলার কুড়োনোর মত মোনাফেকি তারা কেন করছে?
মেয়েদের গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করা নিয়ে তারা যে একেবারে নিশ্চুপ ছিল তা মনে হয় না তবে আমার স্মৃতি এই মুহুর্তে দুর্বল বলে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।
এন জি ও নিয়ে তাদের অবস্থান অবশ্য জানি। তাদের বিরোধিতা আর সরকারী মহলের বিরোধিতা একই স্বার্থবোধ থেকে উৎসারিত হয়েছিল বলে আমার মনে হয়না কিন্তু এক পর্যায়ে এসে তারা সমস্বার্থের গাঁটছড়া বেঁধেছে।
এখন আপনার কাছে আবার আমার প্রশ্ন তাহলে, এই যে আপনি বলছেন শারিয়া কোন সেট অব রুলস না বরং আইন তৈরি করার একটি গাইডলাইন জাতীয় কিছু, সেটি কী ঠিক নাকি শারিয়া শুধুই গাইডলাইন নয় বরং একটি মেথডোলজি যার মাধ্যমে ইসলামি জীবনপদ্ধতি নির্ধারন করা হয়ে থাকে? তাই যদি হয় তাহলে যে নৈতিক কাঠামোর ওপরে শারিয়া দাঁড়ায় তা তো আর স্থান-কাল-পাত্রভেদে বদলাতে পারে না কারণ কোরান আর হাদিস অপরিবর্তনীয় মুসলমানদের কাছে।
বাংলাদেশে মোল্লারা বিপ্লবী হয়ে ওঠে নাই এখনো কিন্তু ভবিষ্যতে হবে বলে বোঝা যায় তাদের কর্মপন্থা দেখে। তারা ব্যাংকিং নিয়ে সরাসরি সংঘর্ষে যায় নাই কারণ এখনো দেশে শারিয়া আইন হয়নি। ইরানের দিকে তাকালে বোঝা যায় মোল্লাদের কর্মপদ্ধতি কী হতে পারে।
আমাদের উদ্বেগের কারণ এখানে যে শারিয়া আইন হলে আমাদের মত চিন্তাধারার লোকেরা কি এদেশে নিজেদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করতে পারবো নাকি ধর্মচালিত রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাসের প্রবলতার কারণে তাতে বিপুল পরিবর্তন আসতে বাধ্য হবে?
৩২|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২১
মেহেদী পরাগ বলেছেন: আপনার পোস্টটি এবং উদ্যোগটি আমার ভাল লেগেছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে একজন মুসলিম এবং ইসলামকে আমি অন্তর থেকেই ভালবাসি। পোস্ট সহ আপনার মন্তব্যের কিছু অংশ সত্যিই আমার মনে দাগ কেটেছে। আমি মনে করি সেগুলো শেয়ার করা উচিৎ।
আপনি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারছেন এবং অন্য অনেক নাস্তিকদের মত আপনি গালিবাজ নন সেজন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
১৬ নং মন্তব্য এবং আপনার জবাব থেকে আমি কিছু জিনিস বুঝেছি, তা একটু ব্যাখ্যা করা যাক। আইনিস্টাইনের প্রতিটা বাক্যের সাথে আমি ভিন্নমত পোষণ করি, তবে আপনার জবাবটা আমার কাছে অসাধারণই লেগেছে। আপনার জবাবের কথাগুলো মনে হয় আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে অনেকেই বুঝতে পারবেনা। আপনি বলেছেনঃ নাইম১২৩৪রা আসলে মুসলিম দুনিয়ার একটা অংশমাত্র, এবং আসলে বড় অংশ না। শরিয়া আইন নিয়া মডারেট বা প্রগতিশীল মুসলমানদের সুদৃঢ় কোন অবস্থান নাই বলেই নাইম১২৩৪দের মতো কট্টর শরিয়াপন্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামএর প্রতিনিধিত্ব করছেন, ইসলামী আইনের যাইগিরদার হয়ে বসে আছেন। আমি পুরোপুরি সহমত। কিছুদিন আগে হলেও এতটা সহমত হতাম কিনা জানিনা। শরীয়া আইন নিয়ে প্রগতিশীল মুসলিমদের আসলেই সুদৃঢ় কোন অবস্থান নেই, আমি স্বীকার করি আমার নিজেরও ছিলনা। আপনার পোস্ট পড়ার পর এ বিষয়ে কিছুটা পড়াশুনা করেছি, ইনশাল্লাহ আরো করব। অল্প পড়াশুনাতেই একটা বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে শরীয়া আইন আসলে ইসলামের অংশ হবার যোগ্যতা রাখেনা। হ্যাঁ, এককালে হয়তো তৎকালীন সমাজের জন্য এই আইন ভালই ছিল তবে তা আজকের সমাজের সাথে যায়না। আপনার সাথে এ ব্যাপারেও এখন আমি একমত যে কিছু অসাধু লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই শরীয়া আইন প্রণয়ন করেছিল।
নাইম১২৩৪ কে আমি সজ্ঞানে কখনোই সমর্থন করতে পারিনা। আমি তার আচরণের প্রতিবাদ করছি, সামনা সামনি হলেও করতাম। এই পোস্ট পড়ার আগের ঘটনা হলেও আমি নাইম এর বিপক্ষেই অবস্থান নিতাম। নাইমকে আমি পরামর্শ দেব শরীয়া আইন আপাতত সাইডে রেখে কোরান অনুযায়ী দেখুন পারভেজ আলমকে আপনি যা বলেছেন তা বলার অধিকার কোরান আপনাকে দেয় কিনা। আশা করি আপনি বুঝবেন যে আমাদের মুসলিমদের কাছে কোরান যে কোন আইন, হাদীস বা শরীয়ার চেয়ে উর্ধে। খেয়াল করে দেখবেন শরীয়ার ভিত্তি কোরান নয় হাদীস। আপনার কি মনে হয় আল্লাহ কোরানকে অসম্পূর্ণ করে পাঠিয়েছেন? কোরান কেন হাদীসের উপর নির্ভরশীল হবে? আপনার কি মনে হয় নবী (সঃ ) সহ ইসলামের প্রথম চারজন খলিফা ইসলাম সম্পর্কে আপনার আমার চেয়ে কম জানতেন? তবে কেন তারা হাদীসের সংকলন করেনি? কেন তারা সমস্ত হাদীস পুড়িয়ে ফেলেছেন? মনে রাখবেন শরীয়া আইনের সৃষ্টি ইসলামের শুরুতে নয় বরং অনেক পরে হয়েছে, যার মূল ভিত্তি হাদীস। এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার, কিছু অসাধু লোকের নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার, এবং অবশ্যই যারা ইসলামের শত্রু তারা ইসলামের ক্ষতির জন্যই এটা করেছিল।
কোরানের বিপক্ষে কেই কিছু বললে আমি অবশ্যই তার প্রতিবাদ করি, এবং সেটা অন্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়, যৌক্তিক ভাবেই। কেউ যখন কোরানের খুঁত বের করে আমি তার বক্তব্য ভালভাবে পড়ি, তারপর আমি কোরান পড়ি, তারপর আমি আমার বিবেক ও যুক্তি খাটাই, এখন পর্যন্ত আমি কোরানের বিপক্ষে দৃঢ় কোন যুক্তি পাইনি, সব খোঁড়া যুক্তিই পেয়েছি। আমার বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে কোরান আল্লাহ প্রদত্ত।
হাদীসের ব্যাপারেও আমার অনুরূপ ধারণা ছিল। তবে এই পোস্টে হাদীসের বিপক্ষে কিছু জিনিস পড়ার পর আমি নিজে কিছু পড়াশুনা করলাম, বিবেক আর যুক্তি খাটিয়ে চিন্তা করলাম, আর এই সিদ্ধান্তে আসলাম যে হাদীসকে অন্ধ অনুকরনের কোন কারণ নেই। তবে আমি মনে করি হাদীসকে একদম বয়কট করাও ঠিকনা, আপনি অবশ্যি হাদীস পড়বেন ব্যক্তি আপনাকে আরও উন্নত করতে, সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় যে হাদীস আপনার বিবেকে ভাল মনে হবে তা অনুসরন করবেন, ভাল না মনে হলে মিথ্যা হাদীস ভেবে বর্জন করবেন। তবে কখনোই হাদীস বা শরীয়া আইনের ভিত্তিতে কারও উপর কিছু চাপিয়া দিবেননা। কারণ হাদীস যে নির্ভুল তার কোন নিশ্চয়তা নেই, নবী (সঃ ) এর ওফাতের শত শত বছর পরেই হাদীস সংকলিত হয়েছিল, এবং অনেক হাদীসে আমরা ইহুদী আর খ্রীস্টান আইডিয়ার ইসলামাইজড বক্তব্য পাই যার অস্তিত্ব কোরানে পাইনা। খলিফাদের আমলে যদি হাদীস সংকলিত হত তাবে তা বুখারী বা মুসলিমের চেয়ে আরও অনেক অথেন্টিক হত। কিন্তু যেখানে প্রধান চার সাহাবী হাদীসের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন সেখানে কিভাবে আমরা তারও পরে সংকলিত হাদীসকে অন্ধ অনুকরণ করতে পারি?
একজনকে দেখলাম পান্ডা বিষয়ে কি যেন বললেন। আমি দ্বিমত পোষণ করি। মডারেট মুসলিমরা বড় পান্ডাদের মত কখনই কলকাঠি নাড়েনা। তবে এটা ঠিক যে অজ্ঞতার কারনে বা ভয়ের কারনে কেউ প্রতিবাদী হয়ে উঠেনা। কলকাঠি নাড়ে কিন্তু উগ্র শরীয়া পন্থিরাই। আপনি কিভাবে সাধারণ একজন মুসলিম কে আমিনীর মত লোকের (বড় পান্ডা টাইপ) নিয়ন্ত্রক ভাবতে পাড়েন? আমার মতে যারা জ্ঞানী তাদের উচিৎ ধীরে ধীরে হলেও শরীয়া ব্যাপারে সাধারণ মুসলিমদের অজ্ঞতা দূর করার প্রচেষ্টা নেয়া, সেটা মোটেও সহজ কাজ নয়, কারন আমিনীরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। পারভেজ আলমের চেষ্টাতে আমার মত ক্ষুদ্র একজনের শরীয়া বিষয়ক অজ্ঞতা যদি দূর হয় তবে কেন অন্য অনেকের অজ্ঞতা দূর হবেনা?
রাইসুল জুহালা আইনস্টাইনকে যে দৃষ্টিকোন থেকে নাইমের সাথে তুলনা করেছেন তা অনেকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছে। তিনি হত্যার হুমকি বিষয়ক তুলনা করেননি। নাইম যেমন অন্ধভাবে শরীয়া বিশ্বাসী, আইনস্টাইন তেমনি অন্ধভাবে ইসলাম বিদ্বেষী। এরকম মনোভাব থাকলে আস্তিক নাস্তিক নির্বিষেশে কারও কাছ থেকেই গঠনমূলক কিছু পাওয়া যাবেনা। আমি ধারণা করি পারভেজ আলম শরীয়া আর ইসলামের পার্থক্যটা বুঝতে পেরেছেন যা অধিকাংশ নাস্তিক এবং আস্তিক বুঝতে ব্যর্থ। সে জন্যই সেই নাস্তিক আর আস্তিকদের মাঝে পার্থক্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম। সত্যকে (ইসলাম) দোষারোপ করে আপনারা মিথ্যাকে (শরীয়া) বিলুপ্ত করতে পারবেননা। মিথ্যাকেই টার্গেট করুন।
আমি নিজে এই পোস্টে হাউকাউ শুরু হবার আগে গতকাল রাতে আপনার পোস্টটি পড়েছিলাম। এই হাউকাউ দেখলে হয়তো এই পোস্ট পড়ার পর আমি যে পড়াশুনাটা করেছিলাম তার আগ্রহ পেতামনা। লেখককে অনুরোধ পোস্টের স্বার্থে নাস্তিকদের আজেবাজে মন্তব্য গুলো মুছে দিন। আর নাইমের মন্তব্যটা রেখে দিন। ইনশাল্লাহ অনেকেই সঠিক পথের সন্ধান পাবে। ধন্যবাদ।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:১৭
পারভেজ আলম বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার এই মন্তব্যের জন্য। অন্তত আপনার এই মন্তব্যের জন্য হলেও আমার এই পোস্ট দেয়াটা সফল মনে করবো।
ইশ্বর বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গী মানুষের দার্শনিক বিশ্ববিখ্যার সাথে সম্পর্কৃত। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে যে এইটা মানব অস্তিত্বের অর্থ সন্ধান বিষয়ক প্রতিটা মানুষের দার্শনিক অবস্থানের সাথে সম্পর্কৃত। নিজ বিশ্ববিখ্যা বিষয়ে যৌক্তিক মানুষ আস্তিক হোক অথবা নাস্তিক, ক্ষতিকর কোন সত্ত্বা না। এই কারনে আপনি ইশ্বরে বিশ্বাস করলে অথবা আমি ইশ্বরে অবিশ্বাস করলেই আমরা পরস্পর শত্রু হয়ে যাবোনা, যদি আমাদের জাতীয় এবং মানবিক স্বার্থের কমন গ্রাউন্ড থাকে। বিরোধিতা হবে সাম্প্রদায়িকের সাথে, বিরোধিতা হবে সুবিধাবাদী শোষক শ্রেণীর সাথে, বিরোধিতা হবে প্রগতি বিরোধিতের সাথে। ইশ্বরে বিশ্বাস করা আর শরিয়া আইনে আস্থা রাখার মাঝে যে দিন রাত দুরত্ব আছে এইটা যেমন বোঝা দরকার তেমনি আস্তিক মানেই যে প্রগতিবিরোধী না সেইটাও বোঝা দরকার। আপনি অবশ্যই এই সিরিজের দ্বিতীয় পর্বটা পড়বেন, আশা করি আপনার ভাল লাগবে। হাদিস কিভাবে ইসলামী শরিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান লাভ করলো সেইটাই দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
আমি ভাই কারো মন্তব্য মুছিনা। এখন পর্যন্ত বোধহয় দুইবার মুছে ছিলাম। মন্তব্য রেখে দেয়াই বরং সঠিক মনে করি, এতে পরবর্তিতে মন্তব্যকারী এবং মন্তব্য পাঠক সবারি বিবেচনা করতে সুবিধা হয়।
ব্লগের আস্তিক নাস্তিকদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা খুব কম হওয়ায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বদলে ঘৃণার সম্পর্কটা গড়ে ওঠে বেশী। আমার মনে হয় গঠনমুলক আলোচনার পরিবেশ গড়ে উঠলে মেহদী পরাগ এবং আসিফ মহিউদ্দিনদের মাঝে জমে থাকা অনেক ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।
৩৩|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৪
মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন বলেছেন: আমি যতটুকু মনে করি- শরীয়াহ আইনে ত্রুটি আছে , আর এই আইনের অপব্যাখ্যা এবং অপব্যাবহার ও হয়েছে অতীতে। অনগ্রসর মুসলিম রাস্ট্রগুলোতেও এর সমস্যা প্রকট।
পোস্ট ভালো লেগেছে, কিছু বিষয়ে আপনার সাথে প্রচন্ড দ্বি-মত আছে।
তবে কমেন্টে কিছু উগ্রপন্থি না বুঝেই অযাচিত আচরন করেছে। আর এই নির্বোধদের জন্যই প্রব্লেম। আসিফ মহিউদ্দিনের স্বভাবসুলভ বাজে কমেন্ট গুলোও অনাকাঙ্খিত।
পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। একজন যা জানে অপরকেও তা জানতে দেয়া উচিত। আর সবার জানা আর বোঝার চেস্টা করা উচিত, সেটা সকলের মঙ্গলের জন্য।
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৫৫
পারভেজ আলম বলেছেন: দ্বিমতের জায়গাগুলো উল্লেখ করলে ভালো হতো। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৩৪|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:০৬
মেহেদী পরাগ বলেছেন: আরেকটা মান্তব্য না করে পারছিনা।
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেনঃ আমি বলি কি, ধাক্কাটা আগে মডারেট গুলারে মারা দরকার। এরাই যত নষ্টের গোড়া। তারা কখনই শরীয়া আইনের বিরুদ্ধে যাবে না, তাদের ধর্মভীতি আছে, আল্লাভীতি আছে, সর্বপরি বিশ্বাস আছে। নারীর সমান অধিকারের প্রশ্নে তারা কোন স্পষ্ট বক্তব্য রাখতে পারে না কুরআন অবমাননার ভয়ে। কিন্তু অপর দিক দিয়া এরাই ধর্ম রক্ষা করে, ধর্মের সুবিধা ভোগ করে।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয়না মডারেট মুসলিমদের সাথে আমাদের খুব বেশী লড়াইয়ের কিছু আছে। ধাক্কা মারার চেয়ে বরং নিজেদের কমন গ্রাউন্ডগুলা সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার বেশী। আলোচনার মাধ্যমে কট্টরপন্থী এবং শরিয়তীদের বিরুদ্ধে নিজেদের ঐক্যটা গড়ে তোলা জরুরি। কট্টরপন্থী শরিয়তীরা যেমন নাস্তিকদের শত্রু, ঠিক তেমনি লিবারাল, প্রগতিশীল এবং আধ্যাত্ববাদী মুসলমানের শত্রু। এই জায়গায় ঝগড়ার চেয়ে বরং আলোচনাই বেশী প্রাশঙ্গিক হবে বলে মনে করি।
-----------------------------------------------------------------------------
পারভেজ ভাই, আপনার রিসপন্সটা আসলেই প্রশংসার দাবী রাখে। আপনার কথাগুলোই প্রমাণ করে আপনি আসলেই প্রগতিশীল এবং সত্যি সত্যি ভাল কিছুর জন্যই আপনি কাজ করছেন। বিপরীতে আসিফের মন্তব্য দেখুন, মডারেট মুসলিমদের ধাক্কা মেরে কি লাভ হবে? আর মডারেটরা কিভাবে সব নষ্টের গোড়া হয়? সব নষ্টের গোড়াতো শরীয়ত পন্থীরা। মডারেটরা কখনোই শরীয়া আইনের বিপক্ষে যাবেনা আসিফের এই কথাটা যে কতটা ভুল তা আমি নিজেই শরীয়া আইনের বিপক্ষে গিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছি। আর ধর্মের সুবিধা মডারেটরা ভোগ করে নাকি শরীয়তপন্থী আমিনীরা ভোগ করে এই সহজ কথাটা তার মাথায় আসেনা। আমি আপনাকে অনুরোধ করব আপনি প্রগতিশীলদের নিয়ে কাজ করুন। কোন কট্টর ধার্মিক বা কোন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিককে সাথে নিয়ে আপনি বেশীদূর এগুতে পারবেননা। আমি আস্তিক হয়েও আপনার পাশে আছি। আমি সজ্ঞানে আমার মন্তব্যটা করেছিলাম। আমি জানি এই মন্তব্য দেখে আমাকেও অনেকে মুরতাদ ঘোষনা করে থ্রেট দিতে পারে। তবে আমি তাদের ভয়ে আমার মতামত গোপন রাখবনা। আমি জানি একজন মুসলিম হতে হলে সাতটি বিষয়ে ঈমান আনতে হয়। সেগুলোর উপর আমার ঈমান যঠেষ্টই ভাল। তাই আমি নিজেকে মুসলিমই দাবী করি। কে আমাকে মুরতাদ বলল তাতে আমি ভয় পাইনা।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:০৪
পারভেজ আলম বলেছেন: আমার ইমান আছে। আল্লায় ইমান না থাকলেও মানুষে ইমান আছে। এই কারনে আমি জানি যে মডারেট হন বা নাস্তিক, সত্যিকারের মানুষ শেষ পর্যন্ত মানব কল্যানের পথেই যাবে। আসিফ মহিউদ্দিন হয়তো সব মুসলমানদের ওপর বিশ্বাস এবং ভরষা হারাইছেন, আমি হারাইনাই। আপনে হয়তো নাস্তিকের ওপর বিশ্বাস এবং ভরষা হারাইছেন, আমি হারাইনাই। আপনি বা আসিফ মহিউদ্দিন হইতে পারেন একেবারেই ভিন্ন রাস্তার লোক, কিন্তু এতটুকু বিশ্বাস করি যে মানব কল্যানের প্রশ্নে এক রাস্তাতেই আসবেন।
৩৫|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:২৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: লেখক বলেছেন: একিভাবে ধরেন গিয়া আসিফ মহিউদ্দিন বা এলবার্ট আইনস্টাইন হয়তো এক্সপেক্ট করে যে আপনি আরো প্রবলভাবে নাইম১২৩৪ জাতীয় ব্লগারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। এখন আমার কথা ভিন্ন, আমার এক্সপেক্টেশন কম। আমি জানি, আমাদের সময়টা খারাপ, ইতিবাচক আলোচনা আমাদের কম হয়, ক্যাচাল বেশী হয়। এই কারণে আমি ধৈর্য্য নিয়া আলোচনা করি। অনেক আক্রমনের ভেতরও মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করি।
অফটপিক একটা কথা বলতে ফিরে এলাম। যদিও আপনি বলেছেন, আপনার কোন এক্সপেক্টেশন নাই। তারপরও যদি আপনার মনের ভিতরে কোনভাবে এই ভাবনার উদয় হয় যে নাইম১২৩৪ এর বক্তব্যের আরো তীব্র বিরোধীতা (তথা গালাগালি) করে আপনার পাশে দাঁড়ানো আমার উচিৎ ছিল, তাহলে স্বপক্ষ সমর্থনের জন্য কিছু কথা বলতে চাই। আমি জানি না, আপনি আমার পোস্টগুলির প্যাটার্ন কখনো লক্ষ্য করেছেন কিনা! আমি সাধারনত ২০-২৫ বছর আগের ঘটনার স্মৃতিচারন করি। এগুলি করতে গিয়ে আমি লক্ষ্য করলাম যে সামহোয়ারের অল্প দুয়েকজন বাদ দিলে প্রায় সবার বয়স আমার চেয়ে দশ থেকে পনের বছর কম। বয়সের সাথে লোকের ম্যাচিউরিটি আসে, ধৈর্য্যক্ষমতা বাড়ে, পরিস্থিতিকে অন্য দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করার বোধ তৈরী হয়। ২৫ বছরের আসিফ মহিউদ্দিন বা এলবার্ট আইনস্টাইনের (আমি তাঁদের বয়স জানি না, লেখার ভাষা-ভঙ্গী দেখে আন্দাজ করলাম) প্রতিবাদের ভাষা আর চল্লিশোর্ধ আমার প্রতিবাদের ভাষা তো এক হওয়ার কথাই না। আর আপনার মত ব্লগ আমার কাছেও আলাপ-আলোচনা, নিজেদের মতবিনিময়ের জায়গা। কেউ একজন আপনার বা আমার কল্লা কাটার হুমকি দিল আর আমিও সাথে সাথে দা-বটি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম, তাহলে আর আলাপ-আলোচনার জায়গা কই থাকল? এত কথা বলার কারন এই যে আপনি আমার একজন প্রিয় ব্লগার, তাই চাই না আপনি আমাকে ভুল বোঝেন।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল থাকবেন।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:০৯
পারভেজ আলম বলেছেন: আসলে কৈফিয়তের দরকার ছিলনা। আমি আপনার ব্লগ ফলো করেছি। আপনি যখন নতুন আসলেন তখনি ফলো করেছিলাম এবং আপনাকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্যও করেছিলাম। আপনি আপনার মতো করে নাইমকে মোকাবেলা করেছেন, আসিফ মহিউদ্দিন আসিফ মহিউদ্দিনএর মতো, আইনস্টাইন আইনস্টাইনএর মতো। আপনার জায়গায় আমি থাকলে নাইমকে অন্যভাবে উত্তর দিতাম, তাই বলে এই না যে আমি আপনার প্রতি কোন অভিযোগের আঙুল তুলছি।
৩৬|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৪৯
জাতিষ্মর বলেছেন: @সূর্য কোরান আর হাদিস অপরিবর্তনীয় তো অবশ্যই। কিন্তু সময়ের সাথে তার ইন্টারপ্রিটেশন পরিবর্তন হচ্ছে বলেই তো শরিয়া বোর্ডের কথা বলা হচ্ছে, যারা পরিবর্তিত সময়ে ও নতুন সমস্যার সমাধানে কোরানিক ইন্টারপ্রিটেশন দিবে।
ইন্টারপ্রিটেশন কেন পরিবর্তন হচ্ছে? কারণ আমাদের নলেজ পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা নতুন ভাবে কোরান-হাদিস কে জানতেছি-শিখতেছি।
শরিয়া আইনে আপনার উদ্বেগের কারন আমি ধরতে পারলাম নাহ। বাংলাদেশে শরিয়া আইন হলে আপনার সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করেই হবে, আর এটার জন্যেই তো আলোচনা করতেছি আমরা। নাকি?
৩৭|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩৬
সূর্য বলেছেন: @জাতিষ্মর, শরিয়া আইনে আমার উদ্বেগের কারণটি ধরতে না পারার কারণটিও আমি ধরতে পারলাম না। আমার মন্তব্যের শেষ লাইনটিতে তো কারণটি প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করেছিলাম মনে হয়।
৩৮|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৩৬
রিপেনডিল বলেছেন: ভাল লাগল পোষ্টটি দেখে তবে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করার মত বেশ কিছু কমেন্ট চোখে পড়ল। মন্তব্যের উদ্দেশ্য বিবেচনায় উগ্রবাদী অথবা মৌলবাদী নাইম এবং কট্টরপন্থী ইসলাম বিদ্বেষী আসিফ মহিউদ্দিন এর মন্তব্য প্রায় একই রকম ইঙ্গিত দেয়। এরা নিজেরদের মতবাদ অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া এবং ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের কটাক্ষ করার পক্ষপাতী। লেখক যেহেতু বলছেন আপনি কমেন্ট মুছে দেবেন না তবু আলোচনার সুস্থ পরিবেশ রক্ষার খাতিরে এ ধরনের মন্তব্যকারীদের বিপক্ষে আপনার অবস্থান নেয়া উচিৎ এবং তাদেরকে এধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা উচিৎ (নাইম এবং আসিফ দুজনের ক্ষেত্রেই না হলে দলীয়করনের অপবাদে ফেসে যাবেন)
প্রাসঙ্গিক আলোচনায় আসি, আসলে আমার কথাগুলো মেহেদী পরাগ ৪২ নং কমেন্টে করে ফেলেছেন। স্বীকার করছি আমার জানা কম থাকায় আমার পোষ্টে কিছু বিষয়ে আমি কনফিঊজড মন্তব্য করেছি তাই আপনার কাছ থেকে নিরপেক্ষ কিছু ইতিহাস শুনতে চাই।
আমার নিজের পোষ্টের ব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই, পোষ্টটি আসলে শরীয়া আইন প্রবর্তন করতে হবে এই বিষয়ক ছিল না, পোষ্টটি তে আমার একটি অনুরোধ ছিল যার যা বিশ্বাস তাকে সেটা নিয়ে থাকতে দিন, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কে অপমানিত করার অধিকার কারো নেই এবং ইসলামের কোন কোন বিষয় নাস্তিকরা পছন্দ করেন না সে বিষয়ে আলোচনা। আলোচনার একটি অংশে আসিফ মহিউদ্দিন মুহাম্মাদ (সঃ) এর যৌনতা বিষয়ক কিছু নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছিলেন সে ব্যাপারে লেখকের মন্তব্য শুনতে চেয়েছিলাম। এখন আবার জানতে চাই।
শরীয়া আইনের ব্যাপারে গবেষনা হওয়া প্রয়োজন এবং সেখান থেকে যদি ভাল কিছু পাওয়া যায় তবে সেটা এই মুসলিম প্রধান সমাজে গ্রহন করাটাই শ্রেয়।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪৬
পারভেজ আলম বলেছেন: গত দুইদিন ব্লগে সময় দিতে পারি নাই। তাই সময় করে কারো মন্তব্যের জবাব দিতে পারি নাই। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। নিজের অনুভুতি এবং বুঝের জায়গাগুলা পরিস্কার ভাবে উপস্থাপন করলে সবার সাথেই আলোচনা করতে সুবিধা হয়, এই জায়গায় আপনাকে এবং মেহেদি পরাগকে ধন্যবাদ।
আসিফ মহিউদ্দীনএর সাথে আমার দ্বিমত এর যে জায়গা আছে সেইটা আমি তার মন্তব্যেই জবাব দিয়েছি। আমার ওপরের বেশকিছু মন্তব্য পড়লেই আমার অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার কথা। ব্লগে যেমন আপনাদের সাথে আমার তর্ক হয়েছে, আসিফ মহিউদ্দিন বা আরো অনেক নাস্তিকের সাথেই হয়েছে। আমার নিজ আদর্শগত অবস্থানের কারনে হয়তো স্রষ্ঠার অস্তিত্ব, শরিয়া, প্রগতি ইত্যাদি অনেক প্রশ্নে নাস্তিকদের সাথে আমার মিল খায় বেশী, আবার দেখা যায় যে আধুনিকতা, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, নীতিবিদ্যা ইত্যাদি বহু বিষয়েই ব্লগের নাস্তিকদের সাথে আমার বিরোধিতা আছে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে আমি আপনার পোস্টে গিয়ে অন্যকিছু না, শুধু শরিয়া বিষয়ে সমালোচনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, এবং তারপরে আলোচনা শুরু করেছি। আমি কিন্তু আপনার বিপক্ষে অবস্থান নেই নাই, আমার অবস্থান ছিল শরিয়ার বিপক্ষে। আসিফ মহিউদ্দিন মডারেট মুসলমানদের সম্পর্কে যে নৈরাশ্যবাদী ধারণা পোশন করেন আমি তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি, কিন্তু মানুষ আসিফ মহিউদ্দিনএর বিপক্ষে আমার অবস্থান নেয়ার কোন কারণ নাই।
হজরত মোহাম্মদএর যৌন জীবন নিয়া আসিফ মহিউদ্দিন এর কোন বক্তব্য বিষয়ে আমার মতামত চেয়েছিলেন কি না এই মুহুর্তে মনে করতে পারছিনা। তবে না মনে করতে পারলেও হজরত মোহাম্মদএর যৌন জীবন বিষয়ে আমার অবস্থানটুকু জানাতে পারি। অনেক নাস্তিক যেমন মোহাম্মদকে লম্পট, পেডোফিলিক ইত্যাদি নেতীবাচক অভিধায় ভুষিত করেন আমি তার পক্ষে না। তেমনি বেশীরভাগ মুসলমান তাকে যেমন দোষহীন, ক্ষুতহীন নিপাট ভাল মানুষ মনে করেন, আমি তার পক্ষেও না। এমনও মুসলমান দেখেছি যাদের কথা শুনলে মনে হয় যে মোহাম্মদএর বুঝি যৌন কামনা বলতেই কিছু ছিলনা। যৌনতা জিনিসটা নিয়া আমাদের সমাজে মানুষের মধ্যে বড় বেশী নেতীবাচক ধ্যান ধারণা প্রচলিত, এবং একজন নবীর যৌন কামনা বা তাড়না ছিল এইটা সত্য হলেও অনেকের পক্ষে মানা কষ্ট।
আমি মনে করি, মোহাম্মদ একজন মানুষ ছিলেন, দোষে গুনে ভরপুর একজন মানুষ। তবে তিনি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন। তাই বলে এই না যে তার কোন দোষ বা ক্ষুত খুজে পাওয়া যাবেনা। তিনি যেই সময়ে বহুবিবাহ করেছেন সেই সময়ে আরব দুনিয়ার নৈতিকতায় বহু বিবাহ কোণ অপরাধ ছিলনা, বাল্যবিবাহও না। আমাদের সময়ের নৈতিকতায় এতগুলা বিবাহ, দাসী আর বাল্যবিবাহ বেশ অনৈতিক মনে হয়, তার সময়ে তা ছিলনা। নারী এবং দাস বিষয়ে দার্শনিক প্লেটোর চেয়ে উন্নত ছিল তার নৈতিক অবস্থান, তাই বলে এই না যে তা সর্বকালের সবচেয়ে উন্নত দৃষ্টিভঙ্গী, নারী এবং দাস বিষয়ে কার্ল মার্ক্স অথবা বার্টান্ড রাসেলএর দৃষ্টিভঙ্গী মোহাম্মদএর চেয়ে উন্নত। তিনি ক্ষমতাবান ছিলেন। এক ডর্জন কেনো, চাইলে একশত বিয়ে করতে পারতেন। ওনার জায়গায় অন্যকোন আরব হলে হয়তো তাই করতেন। নাস্তিকরা যেমন আমাদের সময়ের নৈতিকতার বিচারে তাকে লম্পট বলে দোষারোপ করে, মুসলমানরাও তেমনি আমাদের সময়ের নৈতিকতা বিচারেই ওনার এতগুলা বিয়ের পক্ষে উদ্ভট যুক্তি তৈরি করে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করে। উনি বুদ্ধ ছিলেন না যে নারী বিবর্জিত জীবন যাপন করবেন, উনি যেই ধর্মের প্রচার করেছেন সেই ধর্মটা মুলত সংসারী ধর্ম। মোহাম্মদকে যতদিন পর্যন্ত দোষহীন ক্ষুৎহীন সর্বকালের জন্য অনুকরনীয় শ্রেষ্ঠ মানব হিসাবে বর্ণনা করা হবে, ততদিন তিনি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতে পারবেন না, তার ভক্তরা তাকে ভুল ভাবে বর্ণনা করবে, আর অন্যরা তাকে ভুলভাবে দোষারোপ করবে।
শরীয়া আইন থেকে ভাল কিছু পাওয়া গেলে তা শুধু মুসলিম প্রধান সমাজে কেনো যেকোন সমাজের জন্যই গ্রহণ করা শ্রেয় হবে।
৩৯|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৫৭
নূরুল্লাহ তারীফ বলেছেন: - ওরিয়েন্টালিস্ট শব্দের অর্থ অমুসলিম ইসলাম গবেষক, এইটা জীবনে প্রথম শুনলাম।
আপনি প্রথম শুনলেও মুসলিম স্কলারদের অনুসরণে আমি একথাই বুঝাতে চেয়েছি। আমি আশংকা করেছিলাম আপনি শব্দটির অর্থ বুঝে থাকবেন- প্রাচ্য, প্রাচ্যের ধর্ম, কৃষ্টিকালচার, ভৌগলিক অবস্থান ইত্যাদি নিয়ে গবেষণাকারী পশ্চিমের গবেষক। কিন্তু আমরা বুঝাতে চেয়েছি- এদের মধ্যে যারা অমুসলিম তাদেরকে ও তাদের অনুসারী প্রাচ্যের গবেষকদেরকে। যেন- পশ্চিমের মুসলিম গবেষকগণ ওরিয়েন্টালিস্ট এর সংজ্ঞার আওতার বাইরে থাকে। যেমন- বিলাল ফিলিপস, মুহাম্মদ আসাদ, ইয়াইয়া প্রমুখ গবেষকগণ।
- প্রথম ধাপে- মদ খেয়ে নামাযে আসতে নিষেধ করা হয়নি। [সূরা নিসা: ৪৩] দুঃখিত- এখানে ... নিষেধ করা হয়েছে পড়তে হবে।
৪০|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:১৭
অনিকেত বলেছেন: গ্যালারী তে বসলাম ।
৪১|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৫৮
নাজনীন১ বলেছেন: @মেহেদী পরাগ,
"আপনার পোস্ট পড়ার পর এ বিষয়ে কিছুটা পড়াশুনা করেছি, ইনশাল্লাহ আরো করব। অল্প পড়াশুনাতেই একটা বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে শরীয়া আইন আসলে ইসলামের অংশ হবার যোগ্যতা রাখেনা। হ্যাঁ, এককালে হয়তো তৎকালীন সমাজের জন্য এই আইন ভালই ছিল তবে তা আজকের সমাজের সাথে যায়না। আপনার সাথে এ ব্যাপারেও এখন আমি একমত যে কিছু অসাধু লোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই শরীয়া আইন প্রণয়ন করেছিল।"
"খেয়াল করে দেখবেন শরীয়ার ভিত্তি কোরান নয় হাদীস। আপনার কি মনে হয় আল্লাহ কোরানকে অসম্পূর্ণ করে পাঠিয়েছেন? কোরান কেন হাদীসের উপর নির্ভরশীল হবে? আপনার কি মনে হয় নবী (সঃ ) সহ ইসলামের প্রথম চারজন খলিফা ইসলাম সম্পর্কে আপনার আমার চেয়ে কম জানতেন? তবে কেন তারা হাদীসের সংকলন করেনি? কেন তারা সমস্ত হাদীস পুড়িয়ে ফেলেছেন? মনে রাখবেন শরীয়া আইনের সৃষ্টি ইসলামের শুরুতে নয় বরং অনেক পরে হয়েছে, যার মূল ভিত্তি হাদীস। এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার, কিছু অসাধু লোকের নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার, এবং অবশ্যই যারা ইসলামের শত্রু তারা ইসলামের ক্ষতির জন্যই এটা করেছিল।"
"সত্যকে (ইসলাম) দোষারোপ করে আপনারা মিথ্যাকে (শরীয়া) বিলুপ্ত করতে পারবেননা। মিথ্যাকেই টার্গেট করুন। "
"আমি নিজে এই পোস্টে হাউকাউ শুরু হবার আগে গতকাল রাতে আপনার পোস্টটি পড়েছিলাম। এই হাউকাউ দেখলে হয়তো এই পোস্ট পড়ার পর আমি যে পড়াশুনাটা করেছিলাম তার আগ্রহ পেতামনা। "
২৩ তারিখে দেয়া একটা পোস্ট পড়ে 24 তারিখেই আপনি ইসলামের শরিয়া সম্বন্ধে সিদ্ধান্তে চলে আসলেন?!!! এই পোস্টে কোন রেফারেন্স দেয়া নেই. আপনি ঠিক ঠিক কি কি পড়লেন এই দুইদিনে যা দিয়ে আপনি এই পোস্টকে এক রাতেই জাস্টিফাই করে ফেললেন? আমাকে কিছু অনলাইন রেফারেন্স বলুন তো, যা পড়ে আপনার এই তড়িত উপলব্ধির মর্ম বোঝার চেষ্টা করি. আপনার ব্লগে দেখলাম আপনি দেশের বাইরে আছেন, হাতের কাছে কত করে হার্ডকপি রেফারেন্স নিশ্চয়ই পেয়ে যাননি.
আবার ভেবে বসবেন না যেন আপনি পারভেজের প্রশংসা করেছেন বলে আমি হিংসিত. পারভেজ আমারও প্রিয় ব্লগার, কিন্তু কেউ কিছু বলা মাত্রই সেটার উপর বিশ্বাস করে নিজের বিশ্বাস এতো দ্রুত বিসর্জন দেয়ার পক্ষেও নই. আর অনেকদিন এই ব্লগে থাকার ফলে রিভার্স গেম, নিক সম্বন্ধে কিছু আইডিয়া আছে. আশা করি পারভেজও এ ধরনের কমেন্টে চট করে আবেগে ভেসে যাবেন না.
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫২
পারভেজ আলম বলেছেন: আবেগে ভাসি নাই, রিভার্স গেম সম্বন্ধেও আইডিয়া আছে বটে। আর ওনার মন্তব্যে অবিশ্বাসও করি নাই। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জানি যে যারা হাদিস খুব বেশী পড়ে নাই এবং পরে যৌক্তিক এবং খোলামন নিয়া হাদিস পড়েছে তারা হাদিস শাস্ত্রের উপর ভরশা হারাতে খুব বেশী সময় নেয়না। হাদিস শাস্ত্র যে খুব উন্নত কোন আইন শাস্ত্র না এইটা কিন্তু আপনিও বুকে হাত দিয়া বলতে পারবেন না, বিশ্বাসের জোরে হয়তো মানতে পারেন না।
৪২|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:২৬
নাজনীন১ বলেছেন: @ লেখক,
"কোরআন মানে শরিয়া না। কোরআন মুসলমানদের প্রধান ধর্মপুস্তক, এই পুস্তক মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী খোদ ইশ্বরের বাণী। কিন্তু ইসলামী শরিয়ত বলে যা পরিচিত তাতে কোরআনের চেয়ে হাদিসের প্রাধান্য অনেক বেশি। এর কারন, কোরআন আলাদাভাবে কোন আইন পুস্তক না, এতে আদেশ, নির্দেশ, উপদেশ, ঘটনা প্রবাহ, আগের আমলের কাহিনী, সৃষ্ঠিতত্ত্ব ইত্যাদি বহুকিছুর সন্যিবেশ আছে, আইন বিষয়ে পরিস্কার নির্দেশ এই পুস্তকে কম। "
প্রথমে আপনার কাছ থেকে এটা বুঝতে চাই শরিয়া বলতে আপনি কি বুঝতে চাচ্ছেন? আর উপরের এই কথাটা কি আপনার নিজের মতামত নাকি কোন ইসলামিক স্কলারের মতামত?
আমি আমার বুঝটুকু বলি, কোরআন হচ্ছে "সংবিধান". একটা দেশে যেমন প্রয়োজনীয় আইন তৈরী হবে সংবিধান অনুযায়ী. সেক্ষেত্রে আইনের বই সংবিধান থেকে আলাদা বই, তার মানে কিন্তু এই না যে সেটা সংবিধানের বাইরের কিছু হতে পারবে. কোরআনের ক্ষেত্রেও তাই. ইসলামি আইন বা শরিয়ার মূল উত্স কোরআন. এখন এই দাবি যদি সত্যি হয় যে শরিয়ার সবকিছুই কোরআনের বাইরে, তাহলে তো এ নিয়ে আর কোন আলোচনারই সুযোগ থাকে না, সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হয়. কিন্তু আসলেই কি তাই? সবই কোরআনের বাইরের? তাহলে তো সব হাদীসই কোরআনের বাইরে চলে যায়!
হ্যা, এটা ঠিক যে হাদিস আর সুন্নাহ এক কথা নয়. সময়ের ব্যবধানে অনেক জাল হাদিস ইসলামে ঢুকে পড়েছে. এজন্য ইমাম আবু হানিফাসহ সেসময়কার সকল ফিকহবিদ বারবার মুসলিমদের সতর্ক করেছেন এই বলে যে, উনাদের কোন বিবেচনা বা বিচারে যদি কুরআনের সাথে বা সহিহ হাদিসের সাথে বিরোধ দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই যেন সেগুলো বাদ দেয়া হয়. আপনি নিজেও পোস্টে বলেছেন তখনও পর্যন্ত হাদিস যাচাই বাছাই চলছিল. আর আপনি এও বলেছেন ইমাম হাম্বলী নাকি "ইজতিহাদ" নিষেধ করেছেন? আসলেই কি তাই? এ ব্যাপারে কোন রেফারেন্স দেখাতে পারেন? এটা আমার কাছে খুবই অবাক করা তথ্য. উনাদের অনুসারীদের মাঝে কেউ কেউ এরকম মুর্খের মত কথা বলতে পারেন, কিন্তু ইমাম হাম্বলী বলেছেন??!!!!
আর হাদিসবিশারদের এখনো হাদিস যাচাই বাছাই করেন, কারণ অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকেরা নিজেদের স্বার্থ মোতাবেক অনেক কিছু ঢুকিয়েছে ইসলামের ভিতরে, যার ফলে প্রতিনিয়তই সেগুলো বাদবিচার করতে হয়. আর দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এসব পড়াশোনা, গবেষণা আরবিতেই হয়, যেহেতু কুরআনের ভাষা আরবি. তাই আমি আপনি যদি কোন হাদিসের মূল খুঁজতে যাই, আমাদের জন্য এর মূল খুঁজে পাওয়া আসলেই দুষ্কর. কারণ, ইংরেজি বলেন, বাংলায় বলেন আর ফারসিতেই বলেন, আসলেই এসবের অনুবাদ হয়েছে কম, যার কথা উপরে কয়েকজন বলে গেছে. আমাদের এ অঞ্চলে যেকোন ডিসিপ্লিনেই অনুবাদের ঘাটতি আছে. বিজ্ঞানের কয়টা বইই বা বাংলায় অনুবাদ হয়েছে? যেহেতু বিশ্বব্যাপী গবেষণা হয় ইংরেজিতে আর আমাদের দেশেও আন্তর্জাতিক ভাষা ব্যবহৃত হয় ইংরেজি, সেজন্য কিছু বই আপনি আমি পড়তে পারি, যদি এ অঞ্চলে আরবি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হত, তাহলে আপনি ধর্মীয় এসব বই ভালই পড়তে পারতেন, কিন্তু তখন বিজ্ঞান বেশি পড়তে পারতেন না. এটাই বাস্তবতা! তাই বলে ভবিষ্যতেও কোনদিন এসব বই সবার নাগালে আসবে না, এটা তো কেউ বলতে পারে না. বর্তমান এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে সবাই ধীরে ধীরে জ্ঞান অর্জনে সচেতন হচ্ছে, তাই আমরা আশা করতে পারি ভবিষ্যতে এসব বই আমাদের নাগালেও আসবে.
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:০৬
পারভেজ আলম বলেছেন: আপনার প্রথম আলোচনাটা বিশেষ বুঝিনাই। হাদিস কোরআনের বাইরে চলে যায় মানে কি? হাদিস তো কোরআনের বাইরেরই। আর হাদিসএর উৎস কোরআন হয় কি করে? কোরআনের অনেক আয়াতের ব্যাখ্যা হাদিসএ আছে বটে, কিন্তু কোরআনে নাই অথচ হাদিসএ আছে এমন জিনিসের সংখ্যাই তো বেশী। হাটা চলা, খাওয়া দাওয়া, ব্যাবসা বানিজ্য, মল মুত্র ত্যাগ, যৌনতা এই সবকিছু নিয়াই হাদিস আছে। কোরআনে তো এইসব বহু কিছু নিয়াই কোন আলোচনা নাই।
জাল হাদিস যে বহু আছে এইটা আপনিও মানেন। এখন কোনটা জাল কোনটা জাল না এইটা কিভাবে বলবেন? আধুনিক আইন পূর্বের বহু আইন ব্যবস্থা থেইকাই কিছু না কিছু নিয়া গইড়া উঠছে, ভবিষ্যতে তা আরো পরিবর্তিত হবে। শরীয়া আইন নিয়া গবেষনায় আমার কোন আপত্তি নাই, যুগোপযোগী ভাল কিছু থাকলে গ্রহণ করতেও আপত্তি নাই। কিন্তু একটা আইন ব্যবস্থা হিসাবে একে গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত না হওয়ার কারণ আপনে ভাল মতোই বুঝবেন। আমার পোস্টে দেখেন নারী বিষয়ক কিছু হাদিসএর উল্লেখ করেছি। আপনি চাইলে এই হাদিসগুলার রেফারেন্স দিতে পারি। যেই শাস্ত্র নারীকে পুরুষের অর্ধেক গণ্য করে, সেই হাদিসএর উপরে এই জমানার শিক্ষিত নারী নাজনিন কিভাবে ভরশা রাখবেন?
ইমাম হাম্বল বিষয়ক আমার বক্তব্যটায় আপনে অবাক হইছেন জাইনা আমি নিজেই অবাক হইলাম। এইটা খুব সহজেই জানা যায়। আমার কাছে এই বিষয়ে একাধিক বই পুস্তক আছে। অনলাইনেও এই বিষয়ে অনেক ইনফো পাবেন। আমি এখন ঘুমাবো। সকালে উঠে আপনারে কোন রেফারেন্সএর লিঙ্ক দেবোনে।
৪৩|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩০
নাজনীন১ বলেছেন: * তাহলে তো প্রায় সব হাদীসই কোরআনের বাইরে চলে যায়! --- আপনি যেহেতু বলেছেন শরিয়া গড়ে উঠেছে মূলত হাদিসের উপর ভিত্তি করে.
৪৪|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:২৬
রােসল আহেমদ বলেছেন: রিপেনডিল, মেহেদীপরাগ বনাম নাজনীন১, নাইম১২৩৪ ----- আপনারা আগে ডিসাইড করেন কোনটা ঠিক। তারপর লেখককে বলব সেইটা নিয়ে আলোচনা চালাইতে। একসাথে দুইপক্ষের সাথেই আলোচনা চালানো কোন সুফল বয়ে আনবে বলে মনে হয়না। সময় এবং শ্রম দুটোই নস্ট হবে।
৪৫|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ৯:০৯
রিপেনডিল বলেছেন: @রাসেল আপনি আগে ঠিক করুন আপনি কোন পক্ষের সাথে কোন বিষয়ে আলোচনা করবেন। আমি আমার বক্তব্য ও অবস্থান পরিষ্কার ভাবেই প্রকাশ করেছি।
৪৬|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৫১
জাতিষ্মর বলেছেন: @সুর্য শরিয়া আইন কেন,কিভাবে আপনার প্রতি অবিচার করবে সেটার পক্ষে আপনি কোনো যুক্তি দেখান নাই। আর যদি সুবিচারই করে তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কি আছে?
৪৭|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৩২
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: জাতিষ্মর@
আপনি বলুন যে শরিয়া আইন চালু হবার পর কোনো মুসলিম যদি কোনো অমুসলিম হত্যা করে তবে কোন আইনে বিচার হবে?
যদি সব খুনের বিচার শরিয়া আইনেই হয় তবে সেই নিহত ব্যক্তির ধর্মের উপর ভিত্তি করে বা নারী পুরুষ ভিত্তিতে বিচার সমান হবে কিনা?
৪৮|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২১
অবাঞ্চিত বলেছেন: ইস্লাম যে কি সেটা মনে হয় কেউই জানে না। যে যার মত বুঝে ইস্লাম নিয়া লাফায়। কেউ জাকির নায়েকের লেকচার শুনে কোরানে বিজ্ঞান খুজে পায়, কেউ আম গাছ জাম গাছে আল্লাহের নাম খজে পায়, কেউ আবার শরীয়া মানে, কেউ মানে না, কেউ কিছু হাদিস মানে, কিছু মানে না। কেউ কোরান পড়ে আত্মঘাতী বোমা হাম্লা করতে যায়, কেউ আবার শান্তি খুজে পায়। এই ইস্লামে যে কি আছে আল্লাহ জানে
৪৯|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৫
জাতিষ্মর বলেছেন: @দু-পেয়ে গাধ: বাংলাদেশে এখনও শরিয়া আইন চালু হয় নাই, সুতরাং ধরে নেয়া যায়, বাংলাদেশের আইন আধুনিক ধর্ম থেকে আসছে। এখন অনাধুনিক কিংবা ইসলাম ধর্মের লোক যদি বলে আমি আধুনিক আইন দ্বারা শাষিত হইতে চাই না, তখন সেই সমস্যার সমাধাণ কিভাবে করা হয় বা হচ্ছে?
৫০|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৩৮
মেহেদী পরাগ বলেছেন: @নাজনীন১, ৫১ নং কমেন্ট প্রসঙ্গেঃ
বোন, একজন মুসলিম হিসেবে আমার এই আচরণ আপনি সহ অনেকের কাছেই হয়তো ভাল লাগেনি আমি বুঝতে পারছি। আপনাদের মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
ঠিক ১ দিনের ব্যবধানেই যে হুট করে আমার মতের পরিবর্তন হয়েছে তা আসলে পুরোপুরি সঠিক নয়। হাদীস সংকলনের ইতিহাস নিয়ে আমার আসলে বিস্তারিত কোন জ্ঞান ছিলনা, ভাসা ভাসা জানতাম। মাঝে মাঝেই এমন কিছু হাদীস চোখে পড়ত যা ঠিক মনের মত ছিলনা, মনে হত নবীজী (সঃ ) কেন একথা বলেছিলেন? আমি মনে করি নবীকে (সঃ ) সম্ভবত আমি নিজের প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসি। এই লিঙ্ক এর লিখাগুলো আমার চিন্তায় বেশ প্রভাব ফেলেছে। এটা ঠিক যে এখানকার সব কথাই আমার কাছে পুরোপুরি ঠিক মনে হয়নি, তবে বেশ কিছু কথা বেশ যৌক্তিক মনে হয়েছে বৈকি।
এটা সত্যি যে আমার চিন্তায় কোন পরিবর্তন এসে থাকলেও এমন হুট করে সাবাইকে ঢোল পিটিয়ে জানানোটা অদ্ভুত হয়েছে, আমার বরং ধৈর্য্য ধরে আরও জানার চেষ্টা করে যাওয়া উচিৎ ছিল। স্বীকার করি হুজুগে পড়ে প্রথম কাজটা ভুল করে ফেলেছি, তবে দ্বিতীয় কাজটা অর্থাৎ জানার কাজটা ঠিকভাবে করে যাচ্ছি।
আমার কাছে সবচেয়ে বড় পশ্ন দেখা দিয়েছে এটাই যে, কেন নবী (সঃ ) এর আমল সহ পরবর্তী চার খলিফার আমলে হাদীস সংকলন নিষিদ্ধ ছিল। কারও কারও এমন ব্যাখ্যা পেয়েছি যে, তখন কোরান সংরক্ষণই বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল আর তখন হাদীস সংকলন করলে তা কোরান সংরক্ষনের কাজে অন্তরায় সৃষ্টি করত। তবে আমার কাছে এই ব্যাখ্যা তেমন গ্রহনযোগ্য মনে হয়নি কেননা, কোরান অনুযায়ী কোরানের সংরক্ষক আল্লাহ নিজেই। কেন উনারা আল্লাহর কথার উপর ভরসা রাখেননি? আর এ বিষয়ে নবী (সঃ ) যা বলেছিলেন তা এই ব্যাখ্যার মত নয়, তিনি বলেছিলেন যে আল্লাহর দেয়া কিতাবের পাশে কি তোমরা আরও কিতাব বানাতে চাও? দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটা হচ্ছে কোরানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমরা যেন আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ মেনে চলি। আমার দেয়া লিঙ্কে এই ব্যাখ্যার বিপরীতে যে যুক্তিগুলো দেয়া হয়েছে তা আমার কাছে বেশ গ্রহনযোগ্য মনে হয়েছে। কোরান যদি হাদীসের উপরই নির্ভরশীল হয় তাহলে তো ইসলাম নির্ভরশীল হয়ে যায় বুখারী সাহেবের হাদীস যাচাই বাছাই করার প্রজ্ঞার উপর। ইসলাম কি এতই ঠুনকো? যাই হোক, এত প্রশ্নের পরেও আমি হাদীসকে পুরোপুরি বর্জন করতে পারবনা, ভাল কিছুকে অবশ্যি ফলো করব যেখানে প্রশ্ন আসবে সেটা এড়িয়ে যাব, অন্ধ অনুসরন করবনা।
এসব কিছু বাদ দিলেও আমরা জানি যে ''করিম বিড়াল দেখে ভড়কে গিয়েছিল'' এই কথাটা দশ কান ছড়াতে ছড়াতে ''করিম সুন্দরবনে বাঘ শীকার করে এসেছে'' কথাতে রুপান্তরিত হয়ে যায়। জার্নালিজমের একটা ক্লাসে আমার শিক্ষক এটা প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন। ক্লাসরুমের প্রথম বেঞ্চের ছেলেটা একটা কাগজের লিখা কানে কানে পাশের জনকে বলল, এভাবে শেষ ছেলেটা কানে কানে যা শুনেছে জোড়ে তা সবাইকে বলেছিল। কাগজ মিলিয়ে দেখা গিয়েছিল যে দুটো বাক্যের মাঝে আকাশ পাতাল ব্যবধান। নবী (সঃ ) এর ওফাতের শত বছর পর তার দেয়া বানীর কতটুকি পরিবর্তন হয়েছে তা চিন্তার বিষয়।
হ্যাঁ, এবার প্রশ্ন করতে পারেন যে আমরা তাহলে নামাজ কিভাবে পড়ব? এই চিন্তা আমাকেও বেশ ঘায়েল করে ফেলেছিল। বছর পাঁচেক আগে এক লোকের কথা শুনেছিলাম যে তিনি হাদীস মানতেননা, কোরানে শুধু রুকু সেজদার কথা বলা আছে বলে তিনি রুকু সেজদা করেই নামাজ পড়তেন। তার ওযু করাও কোরান অনুযায়ী ছিল। আমি ভেবেছিলাম ওই ব্যক্তি একটা ভন্ড ছিল। আজ এমন একটা পরিস্থিতিতে এসে আমি তাই চিন্তায় পড়ে গেলাম। আজ আমরা দেখি চার মাযহাবে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে নামাজ পড়ানো হয়। এ থেকেও বুঝা যায় ১০০% সঠিক নিয়ম যেভাবে নবী নামাজ পড়তেন তা বোধয় আজ আর নেই। তবু আমার মতে স্বাভাবিক ভাবেই ধর্মীয় আচার যেমন নামাজ পালন সম্পর্কিত হাদীসের চেয়ে অন্যান্ন ক্যাটাগোরীর হাদীসেই বেশী ভুলের সম্ভাবনা। তাই আমার মতে যেকোন একটা মাযহাব অনুসারে নামাজ পড়ে যাওয়াই ভাল।
দেশ যদি ইসলামিক আইনে চলে আমি এখনও তার পক্ষে তবে পার্থক্য শুধু এটাই যে সেখানে কোরানের বিপরীতে কিছু থাকা যাবেনা এইটুকু আমি মানি, তবে হাদীসের ভিত্তিতে এমন কোন আইন সেখানে থাকা যাবেনা যা বর্তমান যুগে অমানবিক বা ভুল মনে হয়। ভাল মনে হলে হাদীস থেকে আইন নেয়াকে এখনও প্রাথমিক পছন্দ হিসেবে রাখব, তবে প্রয়োজন অনুসারে সেটা পরিবর্তনযোগ্য হতে হবে।
আর রিভার্স নিকের ব্যাপারে যা বললেন সে ব্যাপারে কিছু বলি। ব্লগে আমি আমার সত্য নাম ব্যাবহার করছি। এখনো যদি ব্যক্তিগত ভাবে আপনার মনে হয় যে আমি রিভার্স করছি তাহলে আমার ইমেইলে যোগাযোগ করার অনুরোধ করলাম, প্রয়োজনীয় প্রমাণ আমি দিতে পারব যে আমি সুন্নি মুসলমান। আমার এমেইল আমার কোন একটা পোষ্টের কমেন্টে পাবেন।
৫১|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:১৬
রােসল আহেমদ বলেছেন: @ রিপেনডিল, আমি ঠিক করলে কি হবে? আপনারা দুপক্ষই বলছেন আপনারা ঠিক। আমি কনফিউজড, আসলে কোনটা ঠিক? আপনি যে ঠিক সে দাবীতো অন্যরা মেনে নিচ্ছে না।
৫২|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৩৪
নাজনীন১ বলেছেন: @লেখক, অনলাইন থেকেই পাওয়া দুটো লাইন দিলাম,
The grand mufti of Saudi Arabia Sheikh Abdul Aziz bin Baaz said:
my all fatawas are base on Quran n Hadith .... not on the basis of Hamblis or other taqleed.
Imam ibn Taimmiyah :
Bukhari, muslim , abu dawood, tirmizi, nisaee, ibn maja, ahmad bin hamble , shaafi , did not perform "taqleed " and were on the religion of Ahle hadith....
সৌদিরা সাধারনত: হাম্বলী মতাদর্শি, কই তাদের গ্র্যান্ড মুফতিকেই বলতে দেখা যাচ্ছে যে কুরআন আর সুন্নাহ ফলো করে তিনি ফতোয়া দেন. আর একালের একজন গ্র্যান্ড মুফতির চেয়ে কি হাম্বলী কম প্রজ্ঞাসম্পন্ন ছিলেন, যিনি নিজে ইজতিহাদ করেও অন্যকে ইজতিহাদ করতে নিষেধ করবেন?
সাধারনত যাদের ধর্মীয় বিষয়ে ভাল জ্ঞান নেই, তাদেরকে কোন একটা মাজহাব তাকলিদ বা অনুসরন করতে বলা হয় সুবিধার জন্য, কিন্তু এটা ফরজ কিছু নয়, কারণ কোরআনে কোন মাজহাব নিয়ে কিছু বলা নেই. আপনি এটাকেই গুলিয়ে ফেলছেন নাতো! সম্ভব হলে আপনি রেফারেন্স দিয়েন কষ্ট করে.
আর প্রথম লাইনগুলোতে যা বলতে চেয়েছি তার মূল কথা হলো, কোরআনের আদর্শ বা শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছুই শরিয়ার অন্তর্গত থাকতে পারবে না, সেটা যতই হাদিস থেকে নেয়া হোক. আর সহিহ হাদিস বা সুন্নাহ অবশ্যই কোরআনের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু নয়. রাসুল(স
কোরআনের শিক্ষার বাইরে বা আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোন কিছু করেননি বা বলেননি.
হাদিসের প্রকারভেদ আছে. হাদিসে কুদসী হলো রাসুল(স
-এর মুখ দিয়ে আল্লাহর কথাই মূলত, জিব্রাইল(অ
এসে নবীজিকে বলেছেন, নবীজি বাকি সবাইকে সেটা শুনিয়েছেন, এগুলো কোরআনের আয়াত নয়. আবার রাসুল(স
জীবন-যাপন, কর্ম, কথা এগুলো কোরআনের আয়াত নয়, কিন্তু কোরআনের শিক্ষার বাইরের কোন কিছু নয়, আল্লাহর ইচ্ছের বাইরের কোন কিছু রাসুল(স
করেননি. বোঝাতে পারলাম কিনা জানি না.
আর শরিয়াতে পরিবরর্তন ব্যাপারে কি কি পরিবর্তন করা যাবে, আর কি কি করা যাবে না, সেটার খুব সংক্ষিপ্ত একটা আলোচনা অনলাইনে পেলাম, মেহেদী পরাগ, লেখকসহ অন্যান্যরাও পড়ে দেখতে পারেন.
Click This Link
৫৩|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৪২
নাজনীন১ বলেছেন: আর জাল হাদিস , সহিহ হাদিস যাচাই করার মত জ্ঞান আমার নেই, এগুলো হাদিস স্পেশালিস্টদের কাজ. উনারা এগুলো করেও থাকেন প্রতিনিয়ত. এগুলো একটু খোজ খবর নিয়ে পড়তে হয়. শেখ আলবানী এরকম একজন হাদিস বিশারদ, শুনেছি প্রায় ৬০০ হাদিস তিনি যাচাই বাছাই করেছেন.
স্যরি, রাসুল(স: ), জিব্রাইল(অ: ). স্মাইলিং ইমোর কারণে টাইপো সমস্যা হয় বারবার.
৫৪|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৪৮
রােসল আহেমদ বলেছেন: @ নাজনীন, এগুলো হাদিস স্পেশালিস্টদের কাজ. উনারা এগুলো করেও থাকেন প্রতিনিয়ত.
জাল হাদীসগুলার লিস্ট আছে কোন? এগুলো হাদীস বই থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে না কেন?
৫৫|
২৭ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৫৮
মেহেদী পরাগ বলেছেন: @ নাজনীন, আপনার দেয়া লিঙ্কটা খুব ভালভাবে পড়লাম, নতুন কিছুইতো পেলামনা এখানে, মূল যা লিখা হয়েছে তা হলঃ কোরান সুন্নাহর পর ইজমা, কিয়াস ব্যবহার করা যাবে। এটাতো সবাই জানে। আপনার একটা মন্তব্যে দেখলাম আপনি বলেছেন হাদীস আর সুন্নাহ যে এক নয় তা আপনি জানেন। কিন্তু আপনার আলোচনা থেকে মনে হয়না যে আপনি আসলেই হাদীস আর সুন্নাহর পার্থক্য জানেন। আপনি হয়তো ভাবছেন জাল হাদীস বাদ দিয়ে শুধু সহিহ হাদীসই সুন্নাহ। আমার মনে হয় এই লিঙ্ক থেকে আপনি আরও ভাল কিছু ধারণা পাবেন। আপনাকে অনুরোধ দয়া করে অন্ততঃ দুবার পড়বেন, বিষেষ করে The Sunnah is not Based on the Ahadith হেডিং এর নিচের লিখাগুলো। ভাববেননা যে এটা হাদীস বিরোধী কোন লিঙ্ক, বরং এখানে সুন্নাহর পক্ষেই বলা হয়েছে।সমস্যা হল, শরীয়তপন্থীরা হাদীস আর সুন্নাহকে গুলিয়ে ফেলছেন। এখন যদি হাদীসকেই সুন্নাহ ভেবে ভুল করি তাহলে তো ইজমা/কিয়াসের অবস্থান হাদীসের পরে চলে যায়, হাদীসের বাইরে গিয়েতো তাহলে আর ইজমা ব্যবহার করা যাবেনা।
আপনি বলেছেনঃ সহিহ হাদিস বা সুন্নাহ অবশ্যই কোরআনের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু নয়. রাসুল(সঃ ) কোরআনের শিক্ষার বাইরে বা আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোন কিছু করেননি বা বলেননি।
এখানেই আপনার ভুলটা হয়েছে। এখানে পরিষ্কার বুঝা গেল আপনি সহিস হাদীসকেই সুন্নাহ ভাবছেন। আসলে হাদীস যত সহিহ ই হোকনা কেন তা এখন আর সুন্নাহ হতে পারবেনা, কারণটা আমার দেয়া লিঙ্ক এ ভালভাবে বুঝানো হয়েছে।
আপনি আরও আশা করছেন যে হাদীস বিজ্ঞানের সহায়তায় আমরা আরও নিশ্চিত ভাবে ডিফাইন করতে পারব যে কোন হাদীস সহিস, আর কোন হাদীস জাল। এ ব্যাপারে আমিও আপনার মত আশাবাদী। তবে কথা হচ্ছে, হাদীস যত সহিহই হোকনা কেন গায়েবী সাহায্য ছাড়া আজ আর এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভবনা যে সেই সহিহ হাদীস ১০০% সত্য। নিশ্চিৎ ভাবে তখনই বলা যেত যদি আমরা তাওয়াতুর হাদীসের সন্ধান পেতাম। দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত কোন হাদীসই তাওয়াতুর হাদীস হবার শর্ত পূরণ করতে পারেনি। প্রসঙ্গত সহিস আর তাওয়াতুর হাদীসের সংগা কপি পেস্ট করে দিলামঃ
Sahih: It is that Hadith the narrators of which are righteous, trustworthy and God-fearing persons of sound and dependable memory; it should be free from any apparent or latent blemishes; and should not be inclined to harbour opposition to those equally or more trustworthy persons compared to themselves.
Tawatur: It is that Hadith which is quoted by such a large number of persons that in normal circumstances it is impossible that on a manifest subject so many people would, at one and the same time, agree on a false matter, when there is no evidence of any pressure on them too.
বিদায় হজ্বের ভাষণে নবী (সঃ ) বলেছিলেন যে তিনি আমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছেন, কোরান আর সুন্নাহ। তিনি এটাও বলেছিলেন যে এই ভাষণ যেন তার প্রতিটি উম্মতের কানে পৌছে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনদিন তাঁর হাদীস পৌছে দেবার কথা বলেননি, বরং তিনি হাদীস লিখতে নিষেধ করেছিলেন।
অ.ট. এভাবে লিখবেন (সঃ space) তাহলে আর ইমো সমস্যা হবেনা।
৫৬|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:০৩
নাজনীন১ বলেছেন: @ মেহেদী পরাগ , এই দেখুন হাদিসের নানান ক্যাটাগরি, "সহিহ" আর "মুতাওয়াতির" হাদিসের সংজ্ঞাও দেখুন. আমি মূলত আলোচনার সুবিধার্থে সকল গ্রহণযোগ্য হাদিসকে সংক্ষেপে সহিহ হাদিস বলেছিলাম উপরে.
Mustalah al-Hadith (Classification of Hadith)
Mustalah books speak of a number of classes of hadith in accordance with their status. The following broad classifications can be made, each of which is explained in the later sections:
According to the reference to a particular authority, e.g. the Prophet (may Allah bless him and grant him peace), a Companion, or a Successor; such ahadith are called marfu' (elevated), mauquf (stopped) and maqtu' (severed) respectively.
According to the links in the isnad, i.e. whether the chain of reporters is interrupted or uninterrupted, e.g. musnad (supported), muttasil (continuous), munqati' (broken), mu'allaq (hanging), mu'dal (perplexing) and mursal (hurried).
According to the number of reporters involved in each stage of the isnad, e.g. mutawatir (consecutive) and ahad (isolated), the latter being divided into gharib (scarce, strange), 'aziz (rare, strong), and mashhur (famous).
According to the manner in which the hadith has been reported, such as using the (Arabic) words 'an ("on the authority of"), haddathana ("he narrated to us"), akhbarana (- "he informed us") or sami'tu ("I heard"). In this category falls the discussion about mudallas (concealed) and musalsal (uniformly-linked) ahadith. [Note: In the quotation of isnads in the remainder of this book, the first mode of narration mentioned above will be represented with a single broken line thus: ---. The three remaining modes of narration mentioned above, which all strongly indicate a clear, direct transmission of the hadith, are represented by a double line thus: ===.]
According to the nature of the matn and isnad, e.g. an addition by a reliable reporter, known as ziyadatu thiqah, or opposition by a lesser authority to a more reliable one, known as shadhdh (irregular). In some cases, a text containing a vulgar expression, unreasonable remark or obviously-erroneous statement is rejected by the traditionists outright without consideration of the isnad: such a hadith is known as munkar (denounced). If an expression or statement is proved to be an addition by a reporter to the text, it is declared as mudraj (interpolated).
According to a hidden defect found in the isnad or text of a hadith. Although this could be included in some of the previous categories, a hadith mu'allal (defective hadith) is worthy to be explained separately. The defect can be caused in many ways; e.g. two types of hadith mu'allal are known as maqlub (overturned) and mudtarib (shaky).
According to the reliability and memory of the reporters; the final judgment on a hadith depends crucially on this factor: verdicts such as sahih (sound), hasan (good), da'if (weak) and maudu' (fabricated, forged) rest mainly upon the nature of the reporters in the isnad.
Click This Link
আর এই পোস্টের বিষয়বস্তু শরিয়া, আমরা সেই টপিকেই থাকি. ধন্যবাদ.
@ রাসেল, আমি তো মূলত বাংলা বা ইংরেজি বই খুজেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে অনলাইনে, পাইনি তখন. বাজারে হয়তো কিছু পাওয়া যায়, আমার ঠিক জানা নেই. তবে যতদুর জানি সব অনুবাদ হয়নি. আপনি বই-এর দোকানগুলোতে বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরিতে খুঁজে দেখতে পারেন. আর আরবিতে তো নিশ্চয়ই থাকার কথা, সেক্ষেত্রে মাদ্রাসায় পড়ে বা পড়ায় এমন কারো সাহায্য নিতে পারেন. তবে মোটের উপর ছয়টি সিহাহ সিত্তাহর হাদীসগুলো অথেন্টিক.
৫৭|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৫৬
মেহেদী পরাগ বলেছেন: @নাজনীনঃ আপনি নতুন করে বিভিন্ন হাদীসের ক্যাটাগোরী আর সংগা কেন দিলেন তা বুঝলাম না। এমন যদি হত যে আমার প্রদর্শন করা সঙ্গার সাথে আপনার দেখানো সঙ্গার অমিল আছে তাহলেও বুঝতাম যে আপনি আমাকে ধরিয়ে দিয়েছেন যে আমি ভুল সঙ্গা দিয়েছি। সহিহ হাদীসের ব্যাপারে আমার আর আপনার দেয়া সঙ্গায়তো কোন পার্থক্য নাই। আর আমি বলেছিলাম তাওয়াতুর হাদীসের কথা, সেখানে আপনি বললেন মুতাওয়াতির হাদীসের কথা, সেটা আবার বোল্ড করে দেখালেন। মুতাওয়াতির হাদীস কি সেটা আমি জানি। দুবার তো দূরের কথা আপনি আমার দেয়া লিঙ্কটা একবারও পড়ে দেখেননি সেটা নিশ্চিৎ হওয়া গেল। ওখানে তাওয়াতুর আর মুতাওয়াতির এর পার্থক্যটা দেয়া আছে, আশা করি এবার পড়ে দেখবেন। তাওয়াতুর হাদীস এখনো পাওয়া যায়নি বলেই আপনার দেয়া সঙ্গাগুলোতে সে ব্যাপারে উল্লেখ নেই, আর আপনি ভাবলেন মুতাওয়াতিরকেই আমি বানান ভুল করে তাওয়াতুর লিখেছি।
আর আমি এই পোস্টের বিষয়বস্তুর সাথেই আছি। শরীয়া মানে তো কোরান এবং সুন্নাহর আলোকে আইন। আপনি সুন্নাহ আর হাদীসকে এক করে দেখছেন বলেই হাদীস এর সঙ্গা নিয়ে আলোচনা আসছে। সুন্নাহ আর হাদীস নিয়ে আলোচনাকে যদি আপনি এই পোস্টের বাইরের বিষয়বস্তু সাব্যস্ত করেন তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই।
কিছু সঙ্গা কপি পেস্ট না করে আপনি বরং দেখান আমার কথাগুলো কোন জায়গায় ভুল, আমি যদি কোথাও ভুল করেই থাকি তবে সেটা কোথায় তা ধরিয়ে দিলেই বরং আমি উপকৃত হব। ধন্যবাদ।
৫৮|
২৯ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:২০
নাজনীন১ বলেছেন: আমার এর আগের কমেন্ট দিয়ে আসলে এটাই বলতে চাচ্ছিলাম, সকল গ্রহণযোগ্য হাদিসই, সেটা তাওয়াতুরই হোক বা মুতাওয়াতিরই হোক সহিহ হাদিসের আওতায় পড়ে. তাওয়াতুর হাদিসের ব্যাপারে আপনার দেয়া তথ্যটি ঠিকই আছে. আপনার দেয়া লিঙ্কটা সত্যিই আগে পড়িনি, উইকেন্ডে পড়ব ভেবেছিলাম. যাই হোক, আপনি অনুযোগ করলেন বলে এখনই পড়লাম. তো, সেখানে সুন্নাহর ব্যাপারে যে কথাটি বলা আছে যে উম্মতগণ রাসুলের দেখাদেখি যা চর্চা করে আসছেন জেনারেশন টু জেনারেশন সেটাই সুন্নাহ. আর তাওয়াতুর হাদিসের ক্ষেত্রে যে কথাটা সেটা হলো অনেকজন বর্ননাকারী পেতে হবে মূলত সাহাবীদের মাঝে বা তাবেইদের মাঝে. মুতাওয়াতির হাদিসের ক্ষেত্রে ৩য় , ৪র্থ জেনারেশনে এসে অনেক বর্ণনাকারী পাওয়া যায়, সাহাবীদের বা তাবেইদের মাঝে একটা দুইটা করে লিঙ্ক পাওয়া যায়. অনেকটা কাছাকাছি এ দুটো ক্যাটাগরি. এখন কথা হলো যেসব সুন্নাহ সেসময়কার সাহাবিগণ, তাবেই, তাবেইগন বা তাদের অনুসারীগণ চর্চা করে আসছিলেন সেগুলোই অনেক যাচাই বাছাই করে সহিহ হাদিসের আওতায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে. এমনকি ইমাম আবু হানিফা দুই একজন সাহাবীর সাক্ষাতও পেয়েছেন বলে জানা যায়. ইমাম মালিকি মদিনাতে গিয়ে হাদিস সংগ্রহ করেছেন মানে মদিনাবাসীরা রাসুলের যেসব শিক্ষা চর্চা করতেন সেগুলোই নোট করেছেন. তাই উনারা যেসব হাদিস কোট করেছেন সেগুলোকে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে বাদ দিয়ে ফেলা যায় না. বা সুন্নাহর কোন কিছুই আজ আর পাওয়া যায় না সেটাও ঠিক বলা যায় না. মানে শরীয়তপ্রণেতারা খুব মেজর ভুল করেছেন এমনটা আমি বলতে চাচ্ছি না. আপনি যেমনটা বলেছেন লিঙ্ক অনুসারে, " আসলে হাদীস যত সহিহ ই হোকনা কেন তা এখন আর সুন্নাহ হতে পারবেনা."
আপনার দেয়া লিন্কটা একজনের মতামত. সবার মতামত একই হবে, তা কিন্তু না. তাই আপনার অবস্থানের সাথে আমি কিছুটা দ্বিমত করছি. ভুল বা সঠিক বলে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না. বিশেষত আমার নিজের ইসনাদ সংক্রান্ত প্রত্যক্ষ লেখাপড়া নেই. কেবল অন্যান্যদের লেখা পড়ি, তাও সেখানে আলচনা থাকে অনেক সংক্ষিপ্ত. তাই এ নিয়ে বেশিদূর আলোচনায় যাওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব না. ধন্যবাদ.
৫৯|
২৯ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৫৮
নাজনীন১ বলেছেন: আর রাসুল(স: ) উনার সময়ে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছিলেন যাতে মানুষ কুরআনের আয়াতের সাথে গুলিয়ে না ফেলে তাই. পরে যখন কুরআন সংকলন হয়ে গেল এরপর আর এরূপ আশংকার সম্ভাবনা আর থাকল না. তবুও এরপর অনেকদিন মুখে মুখেই গুরু থেকে শিষ্যরা সুন্নাহ চর্চা করছিলেন. একসময়ে দেখা গেল কাছাকাছি টেক্সটের হাদিস নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাবার দশা! সেই বাস্তবতা থেকেই হাদিস সংগ্রহ শুরু হয়. ইসলাম তো কখনো বাস্তবতা অস্বীকার করে না.
৬০|
৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৫০
করবো জয় বলেছেন: লেখার বিবরণ পড়ে মনে হলো আপনার অনুসন্ধিতসা আছে। কিন্তু যে কোনো বিষয়ে গবেষণার জন্য Research Methodology আপনার ভালভাবেই জানা আছে বলে মনে করি। গবেষণার ক্ষেত্রে কারো মতের সমালোচনা করতে হলে তার বক্তব্যকে হুবহু (অরিজিন ল্যাংগুয়েজ) পেশ করতে হয়। পুরো পোস্ট জুড়ে আপনি শুধু দাবিই করে গেছেন। একটি প্রমাণও উপস্থাপন করেন নি। যেহেতু আপনি একটি প্রতিষ্টিত বিষয়কে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন তাই প্রমাণটা অতীব জরুরী। এক্ষেত্রে পোষ্ট বড় হতেই পারে। আর প্রমাণ যখন দিবেন তখন তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে। শুধু শুধু বক্তব্য দিয়ে লাভ নেই। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
০৫ ই মে, ২০১১ রাত ৮:৪৮
পারভেজ আলম বলেছেন: পোস্টে উল্লেখ করেছি, আগেও কয়েকজনকে বলেছি, এবং আবারো বলছি যে কোথাও দ্বিমত বা আপত্তি থাকলে উল্লেখ করেন। আমি রেফারেন্স দিচ্ছি।
৬১|
০৯ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:৪৩
প্রমিথিউস22 বলেছেন: @লেখক: পোস্টের আকার ছোট করার জন্য রেফারেন্স না দেওয়াকে কোনমতেই সমর্থন করতে পারছি না, এটি কোন আদর্শ পোস্টের বৈশিষ্ট্যও হতে পারে না। বলেছেন, অনুরোধ করা মাত্র রেফারেন্স দেবেন কিন্তু নাজনীন১ রেফারেন্স চাওয়ার পরও দেননি (৫২ নং কমেন্ট) বা এড়িয়ে গেছেন যা মেনে নিতে পারছি না। কোরআনকে বাদ দিয়ে হাদীসের আলোচনা কখনও সম্ভব না, হাদীসের অনুসরণে শরীয়াহ আইন তৈরিও সম্ভব না। কারণ যে বিষয়ে হাদীসে পরিষ্কারভাবে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে কোরআনকে অনুসরণ করতে হবে। কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কোন হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে না। "কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কিন্তু হাদীসের আলোকে প্রণীত" এমন শরীয়াহ আইনের অস্তিত্ব যদি থেকে থাকে এবং আপনার পোস্ট যদি সেই শরীয়াহ আইন বাতিল করার জন্য হয় তবে আমি আপনাকে সমর্থন করছি। আমার ধারণা তাতে সমস্ত মুসলমানেরা সমর্থন দেবেন।
আপনি "মুসলমানদের উপর কোন কিছু চাপাচ্ছেন না" (৩৫নং কমেন্টের উত্তরে বলেছেন) অথচ হাদীসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শরীয়াহ আইনকে সমালোচনা করছেন; হাদীসের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন (আপনার পোস্টের ১, ২ ও ৩ নং দ্রষ্টব্য)। এটা কেমন কথা হল? শরীয়াহ আইন কারা তৈরি করেছে? আর হাদীসের বিশ্বাসীরা কি মুসলমান নয়? তাহলে কী মুসলিমদের বিশ্বাস নিয়ে কথা বলা হল না? চাপাচ্ছেন না বলেও শুধু "একটি হাদীসে আছে"র কাঁধে ভর করে (১৩ বার লিখেছেন 'হাদীসে আছে' এই কথাটি কিন্তু একবারও হাদীস নম্বর বা হাদীসের বিবৃতি দেননি)" বহু কথা ইতোমধ্যে চাপিয়ে দিয়েছেন? হাদীসকে অসঙ্গতির আখড়া হিসেবে আবিষ্কার করে ফেলেছেন? আপনার মতে, হাদীসের পেছনে দিন কয়েক সময় দিলেই হাদীসের দুর্বলতা/অসঙ্গতি বোঝা যাবে। এই কথাটি বলে ভাল করেছেন। এতে আপনার জ্ঞানের বহর বোঝা গেল। আপনি বাংলাদেশী এবং আপনার ভাষা বাংলা। কিন্তু হাদীস সংকলনে সংকলকদের প্রজ্ঞা, জ্ঞান, ইসলামের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি বিষয় যদি জেনে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝেছেন, সে রকম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হাদীস গবেষণার ইচ্ছা, সময়, সুযোগ অনেকেরই নেই। আরবী ভাষাভাষী না হয়েও দিন কয়েকের চেষ্টায় আপনি হাদীস সম্পর্কে যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাতে অনেকেই অবাক হবে আশা করি।
কিন্তু আপনার পোস্টে মনে হল, শরীয়াহ আইনের অপ্রাসঙ্গিকতা প্রমাণের অন্তরালে আপনি হাদীসের অপ্রাসঙ্গিকতা, দুর্বলতা প্রমাণে নেমেছেন। আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার করুন। শরীয়াহ আইন বলতে আপনি কোন আইনকে বোঝাচ্ছেন? সেই আইনের পুরোটাই কি অপ্রাসঙ্গিক? আংশিকও যদি প্রাসঙ্গিক হয় তবে আমরা বাকী আইনগুলোকে প্রাসঙ্গিক হাদীসের আলোকে প্রনয়ণ করার জন্য অবশ্যই আলোচনা করতে পারি। কিন্তু উদ্দেশ্য যদি হয় শরীয়াহ আইনের ভিত্তি হিসেবে হাদীসের ভুল বের করা তাহলে সে প্রসঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। আপনি আপনার অবস্থান ক্লিয়ার করুন।
প্রথমেই বলেছি, পোস্টের আকার বড় হলেও প্রয়োজনীয় রেফারেন্স দিন। শরীয়াহ আইনের সংজ্ঞা দিন। শরীয়াহ আইন কোথা থেকে পড়ব তা রেফার করুন। কারণ শরীয়াহ আইনে কী কী আছে তা না পড়ে আপনার আলোচনায় অংশ নেওয়াটা ফলপ্রসু হবে বলে মনে করছি না। ভাল থাকবেন।
৬২|
১২ ই মে, ২০১১ ভোর ৫:৩৯
রাজসোহান বলেছেন:
আমি খুব শান্তিতে আছি...আমি ইচ্ছে কর্লেই যে কোন ভালো কাজ করি এবং তা নিঃস্বার্থ ভাবে...কোন ভালো কাজ করার পর আমার একবারও মনে হয় না এটা আমি পরকাল নামক কোন জায়গায় সুখে থাকার জন্য কর্সি...এটা যে কি পরিমান একটা ভালো লাগা কাজ করে বোঝানো যায় না...আমি একটা কাজ কর্লাম যেটার বিনিময়ে আমি কোন প্রতিদান কোনকালেই আশা করি না...আমার কোন বাধা নাই যেটা অনেকের আছে...অনেকে যে সময়টা নামাজে বা পরকালে কি হবে না হবে সেই চিন্তা নিয়ে ব্যয় করে আমি সেটা দেশ নিয়ে ভাবি...নিজের সৃষ্টি নিয়ে ভাবি বা অন্য কোন কাজে ব্যয় করি...আমি হঠাত করে খুব ভালো মানুষ হয়ে গেসি...কারণ এখন আমার কাছে সবাই এখন নিরাপদ...
৬৩|
১৫ ই মে, ২০১১ দুপুর ১২:৩৬
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: একটা ভাল লেখা এবং আলোচনা পড়ে যে আনন্দ পাওয়া যায়..তার আসলে তুলনা নাই......ব্লগে আপনার লিখা আমি আগে কখনো পড়িনাই কেন সেটাই হল গিয়া আজিব ব্যাপার!!!!!!!!
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম.....
তবে সবচেয়ে মজার একটা জিনিস খেয়াল করলাম....
আপনার পোস্ট কিন্তু পরোক্ষভাবে কুরআনের বিশুদ্বতাই প্রমান করে......তাই নয় কি???
হাজার হলেও রাসুল তো মানুষই.......তার উপর ছিলেন নিরক্ষর....
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:৪৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: দারুন একটা সিরিজ হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বাকি পর্বগুলির অপেক্ষায়। আলোচনায় অংশও নিতে চাই, কিন্তু সমস্যা হল একটু পরেই তো আপনার বন্ধুবান্ধবরা এসে ধর্ম আর মুহাম্মদকে অশালীন গালাগালি দিয়ে পোস্টের ডিরেকশনই নষ্ট করে ফেলবে। উভয় পক্ষের আক্রমনাত্মক কমেন্ট যদি নিয়ন্রনে রাখতে পারেন, এটা একটা ভাল ব্লগ হতে যাচ্ছে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।