নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিহাব অাহমদ

শিহাব অাহমদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের উন্নয়নে গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভূমিকা

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:১৯

জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র ও সুশাসন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদেরকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথে হাঁটতে হবে এবং উন্নত অবকাঠামো তৈরীতে আরও মনোযোগি হতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে। সপ্তদশ শতাব্দীর বৃটিশ সমাজ বিজ্ঞানী জন লকের ’সোশিয়াল কন্ট্র্যাক্ট’ বা সামজিক চুক্তি মতবাদ এ মতটিকেই সমর্থন করে। তাঁর মতে একনায়কতন্ত্র বা একদলীয় শাসন কখনও গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়, কেননা তা জনগণের অধিকারকে খর্ব করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। স্বৈরতন্ত্র নাগরিকের সব অধিকারকে শুধু খর্বই করে না, উন্নয়নের ধারাকেও রুদ্ধ করে দেয়। স্বৈারাচারী আমলে এর অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। জন লক রাষ্ট্রের এ ধরনের অপরিমেয় সাংবিধানিক ক্ষমতার বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে জনগণ রাষ্ট্রকে ক্ষমতার লাইসেন্স প্রদান করে না। তৃণমূল জনগণের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। বিকেন্দ্রীকরণ তৃণমূল পর্যায়ের জনগণকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও স্বনির্ভর করে তোলে।
সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত একটি দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থা। সুশাসন ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। যখন প্রশাসন দলীয়রূপ ধারণ করে তখন আমলাতন্ত্র শাসকদলের লেজুড়বৃত্তি করে। দুর্নীতি ও লাল ফিতার দৌরাত্মে প্রশাসন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। জনসমর্থন না থাকলে শাসকগোষ্ঠী তখন আমলা নির্ভর হয়ে পড়ে এবং দেশ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। শাসকবর্গ যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে প্রশাসনে ও বিচারালয়ে নিজেদের অনুগত লোকদেরকে নিয়োগ দেয় যাতে এদের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে। ফলে প্রশাসন দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ আমলাদের আখড়ায় পরিণত হয়। এসব কারণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি শ্লথ হয়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি না থাকলে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়, তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইন ও বিচারের ধরা-ছোঁয়ার ঊর্দ্ধে এরা অবস্থান করে। ফলে আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়ে, অরাজকতার সৃষ্টি হয়। গুম, খুন, সন্ত্রাস, সরকারী অর্থ লোপাট ও সম্পদের অপচয় বৃদ্ধি পায়। সমাজ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মিডিয়া ও সুশীল সমাজ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলে এবং কলম ও মুখ বন্ধ রাখে। এভাবে দেশের বিরোধীদল, বিচারক, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজ অপারগ হয়ে পড়ে। এ অবস্থা যেকোন দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের রক্ষাকবচ। এ ধরনের গণতন্ত্র সুশাসনকে নিশ্চিত করে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৬

খেলাঘর বলেছেন:

"ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে। "


-"নাগরিক অংশগ্রহণ", সম্পর্কে আপনার ধারণা লিখুন।

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ ভোর ৫:২০

শিহাব অাহমদ বলেছেন: নাগরিক অংশগ্রহণ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাগরিক সমাজ তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে। সচেতন নাগরিক সমাজ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক ইস্যুতে সোচ্চার হবে, কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় করে তুলবে এবং তাদেরকে জবাবদিহির পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ ও জনমত গঠনে নাগরিক সমাজ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ ও দ্রুত হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান যেমন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ইত্যাদি স্ব-শাসিত সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। স্থানীয়ভাবে জনগণ তাদের দাবী-দাওয়া সহজ পন্থায় পেশ করার এবং তা আদায় করার সুবিধা পাবে। স্থানীয় উন্নয়ন ও আইন-শৃক্সক্ষলার রক্ষায় জনগণ অংশগ্রহণ বাড়বে। এখন সকল কর্মকান্ড কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় বলেই নাগরিকদের মতামতের তেমন কোন দাম থাকে না। অধিকন্তু, দলীয়করণ করায় কেন্দ্রীয় রাজনীতি, পেশী শক্তি ও কালো টাকার প্রভাবে এসব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নাগরিক অংশগ্রহণের এটি একটি সরল ব্যাখ্যা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.