নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যুক্তিই হোক মুক্তির হাতিয়ার।

সুরথ সরকার

সমস্ত অবিশ্বাসকে পিছনে ফেলে এমন একটি সমাজ গড়বো,যে সমাজ সমস্ত অবিশ্বাসকে দূর করবে যুক্তি দিয়ে।

সুরথ সরকার › বিস্তারিত পোস্টঃ

খোলা চিঠি

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:০৫

খোলা চিঠি

উৎসর্গঃ- আমার পাহাড়িয়া বন্ধুদের ।





ও পাহাড়িয়া বন্ধু আমার

প্রথমেই তোমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা ছাড়া

আর কোন ভাষা আমার কলমের আঁচড়ে শব্দ হয়ে বের হল না।

হয়তো হবার কথাও না।

কেন তোমার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, কেন পত্র মিতালীতে

বড্ড দেরি করছি এর কোন উওর আমার জানা নেই।

তবে, তোমার শেষ চিঠিটি আমি পেয়েছি

যে চিঠিতে তুমি আমাকে তোমার দেশ দেখবার আমন্ত্রণ করেছ

এবং আমাকে নিয়ে কোথায় যাবে, কীভাবে কাটবে তোমার দিন

সেই সব কথা লিখতে লিখতে

তোমার একটা পুর কলম শেষ করেছ।

প্রিয় বন্ধু আমার

সত্যি আমার বহু দিনের শখ তোমাকে দেখা

তোমাদের মানুষগুলোকে দেখা, আর তাদের সাথে

এক থালাতে গরম ভাত খেয়ে, এক বিছানাতে শুয়ে

সারা রাত কাটানো , এ আমার বহুদিনের স্বপ্ন

তোমার আমন্ত্রণ এ যেন আমার কাছে সোনার হরিনের মতই দামি

এবং যথারীতি কল্পনার কাঙ্খিত বস্তুর মতোই মূল্যবান।

সত্যি বলছি, আমি যখন তোমার লেখা চিঠি পেলাম

তখন আমি সবেমাত্র দুপুরের ভাত খেয়েছি

তুমি জান , দুপুরে আমার ভাত ঘুমের বড্ড বদ অভ্যাস আছে

তাই খাওয়ার পর বিছানাতে গড়ানো

আমার চাই ই চাই। আর বেয়ারা বিছানাও

আমাকে প্রিয়ার মত আদর করে, আমার মাথায় বুলিয়ে

ঘুম পাড়ায়।

প্রতিদিনের মত আজও আমাতে প্রিয়াতে যখন এক

ঘুম যখন বাধ্য মেয়ের মত আমার চোখে

তখনই তোমার চিঠি । ভাবতে পার আমার অবস্থা

বহু দুরের পাহাড়ের গা থেকে এক চিলতে ঠাণ্ডা বাতাস

তুমি তোমার চিঠির সাথে পাঠিয়েছ,যা আমাকে প্রথম প্রেমের

মতোই শিহরিত করে।

তোমার চিঠি খুলেই, আমি আমার পাহাড়িয়া

সেই বন্ধুর গায়ের গন্ধ পেলাম।

বিশ্বাস কর, আমি তোমার চিঠি একবার নয়

কয়েকবার পড়লাম।মুহূর্তেই ছুটে গেলাম তোমার কাছে

পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চড়ে।

বিশ্বাস কর, তুমি চিঠিতে যা যা লিখেছ

যেখানে যেখানে যাবার কথা বলেছ

আমি ঠিক সেই সেই জায়গাতে গেলাম এবং

প্রান ভরে দেখলাম। আমি তখন সত্যি বড্ড ঘোরের মধ্যেই ছিলাম।

টেলিফোনের কিরিং কিরিং শব্দ আমার কল্পনার

সব রং ফিকে করে আমাকে নামিয়ে আনলো

অন্ধকারে, আমার বদ্ধ ঘরে।

টেলিফোনে আমি আমার প্রিয় বন্ধু সোহাগের

কণ্ঠ শুনতে পেলাম। প্রিয় কথাটি শুনে তুমি আবার রাগ করোনা

আমার প্রিয়র তালিকাতে যেসব নাম আছে

ওরই মত তোমার নামটিও সেখানে বেশ ভালোবাসার।

আমার বন্ধু সোহাগের কথা আমি তোমাকে অনেক লিখেছি

এবং তুমিও তাকে দেখাবার জন্য আমার কাছে

বেশ বায়না ধরেছিলে,তাই আমিও কথা দিয়েছিলাম

আমরা দুজন একবার ঢু মারব তোমাদের দেশে।

আমার সেই বন্ধু, টেলিফোনে আমাকে যা শোনাল

এবং আমিও যা শুনলাম তার জন্য আমি তৈরি ছিলাম না।

ও আমাকে বলল পাহাড় আবার উতপ্ত হয়ে উঠেছে

বলল বাঙ্গালী আর আমার সেই সব পাহাড়িয়া বন্ধুর সংঘর্ষের কথা

বলল এ দেশের সরকার ও প্রশাসনের কথা।

ও আমার পাহাড়িয়া বন্ধু, জান তখন ওর সাথে

আমি একটি কথাও বলতে পারি নি।

তখন আমি শুধু দেখতে পেলাম

পাহাড় কন্যা ঝর্নার মত

তোমাদের আর আমাদের রক্তের ধারা

কেবলি প্রবাহমান।

কিন্তু বড়ই আশ্চর্য হলাম রক্তের মধ্য কোন

পার্থক্য নেই, সে তো দুইই লাল।

তবে কেন আমাদের এত অমিল

কেন এত হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃনা

কেন আমরা পরস্পর পরস্পর দমনে

এমন মরিয়া হয়ে উঠি ?

বন্ধু আমার, তুমি আমাকে ক্ষমা কর

আমরা আজও তোমাদের সম্ভ্রম, লজ্জা

তোমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারিনি।

সেই অক্ষম লজ্জায় মাথা নত করে

দূর থেকে কেবলি ক্ষমা চেয়েছি।

কাছে যাবার সাহস আমার হল না

তুমি ভালো থেকো, পারলে ক্ষমা কর

তোমার সুখ দুঃখের বন্ধুর ।









মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.