| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুরথ সরকার
সমস্ত অবিশ্বাসকে পিছনে ফেলে এমন একটি সমাজ গড়বো,যে সমাজ সমস্ত অবিশ্বাসকে দূর করবে যুক্তি দিয়ে।
বাতাসে পোড়া লাশের গন্ধ
আগুনের লেলিহান শিখা, উদরপূর্তিতে ব্যাস্ত অগ্নিকন্যা
পুড়ছে সবকিছু, পোড়া মানুষের আর্তনাদ, চিৎকার
চোখের কোনে লেগেয়াছে ধেয়ে আসা মৃত্যুর
শোক ব্যাকুল অশ্রু
জীবন ও মৃত্যুর মোহনায় দাড়িয়ে
যারা স্বপ্ন দেখেছিল তৃষিত ভোরের
তারা আজ স্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়।
আমি দেখেছি- মাতৃহারা সন্তানের ছায়াহীন শুন্যতা
পিতা মাতার শরীরের শেষ ধ্বংসাবশেষ একবার দেখার জন্য
তার কায়াহীন দেহটাকে একবার বুকে জড়িয়ে
অশান্ত মনের সান্ত্বনা খুঁজতে হেঁটে এসেছে
বহু দুরেরে পথ।
একজন স্বামী তার প্রিয়তমার লাশ
শনাক্ত করার জন্য ব্যাকুল।
অতগুল গলিত, পোড়া লাশের মধ্য
সে কীভাবে মেলাবে তার প্রিয়তমাকে
মাথার ভেতর স্মৃতি বিস্মৃতির ব্যাকুল মৈথন
লাশের বীভৎস বিকৃত মুখগুল যখন
বড় অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে
তখন পোড়া হাতের পোড়া কাঁকন দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো
মাথা কুটতে থাকলো, আর মাথা থেকে ঝরতে থাকা রক্ত
আগুনে পোড়া দেয়ালে এঁকে দিল বিরহ চিহ্ন।
যেখানে তার জীবনসঙ্গিনী মৃত্যু যন্ত্রণায়
বারবার মনে করেছিল প্রিয় সেই মুখ
এবং সেই ছবিটাই মনে এঁকে মিলিয়ে গেল শূন্যতায়!
জীর্ণ শীর্ণ শরীরের ভাঁজে মমতার দৃঢ় চিত্তে
মা দূরে দাড়িয়ে আছে
চোখের নীচে বিষণ্ণ বিকেলের শেষ আলো
আজকাল ভালো দেখতে পান না
তিনি বড় অভিমান করে অস্ফুট স্বরে বললেন
“ বাবা তুই না কইলি এবার দুখ ঘুজব”।
একজন মানুষ প্রতিদিন যে স্বপ্ন বুনত
লাল, নীল, হলুদ হরেক রঙের সুতায়
যে রচনা করতো শিল্পের সৌন্দর্য
যার হাতের একটু স্পর্শ দিয়েছিল
জীবন্ত শিল্পের বিরল সম্মান।
আগুনের লেলিহান শিখা আজ তার জীবনকে দিয়ে
এমন এক বিকৃত শিল্প রচনা করলো যা দেখে
মানুষের চক্ষু স্থির হোল, অশ্রুপাত করলো
আর মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করলো
“ যাদের ক্ষুদার জ্বালায় জ্বলে দেহ
তাদের আগুন জ্বালা দেহে
পোড়া লাশের গন্ধ কি খুব-ই প্রয়োজন ছিল”?
যখন শরীর অবসন্ন হয়ে আসে
চোখে যখন ঘুম প্রসন্ন হয় প্রিয়তমার বিলাসী আদরে
তখনও ঘুমের মধ্যে আমি শুনি সেই আর্তচিৎকার
নাকে এসে; আমার অন্তর আত্মাকে আঘাত করে
পোড়া লাশের গন্ধ।
আমি ঘুমাতে পারিনা, ঘুমাতে পারিনা
সারা রাত জেগে থাকি
ঘুম আসে না আমার দু চোখে।
পোড়া লাশের গন্ধ
(সুরথ সরকার)
©somewhere in net ltd.