| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুরথ সরকার
সমস্ত অবিশ্বাসকে পিছনে ফেলে এমন একটি সমাজ গড়বো,যে সমাজ সমস্ত অবিশ্বাসকে দূর করবে যুক্তি দিয়ে।
একজন মানুষ ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের দেশে চলে যেতে পারে। পারে অনেক কিছু করে ফেলতে এক নিমেষে। আমরা এমন বহু কাজ করে থাকি যা কখনও স্বপ্নের মাঝেও দেখার সাহস পাই না। আমাদের জীবনে অনেক কাজ আবার করবো করবো করতে করতে চিরদিন বাঁকির খাতায় থেকে যায়। এই খাতার একটি পৃষ্ঠাও আমরা কখনও খুলে দেখিনা। জীবনের সীমানা পেরোতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন আমাদের হতে হয়। জীবনে যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে জীবন থেকে সত্যিকার উপলব্ধিতা কখনও আসবেনা। তাই জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে নানা সমস্যা। যে জীবন নানা বাধা নানা জন্ত্রনা নানা সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে আগামীর পথে হাটতে পারবে সেই জীবন সার্থক। সেই জীবন শ্রেষ্ঠ জীবন।
আগামীর সূর্যের আলোতে আমাদের সমস্ত জীবন আলোকিত করতে চাই। চাই সুন্দরভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে। আমরা সুন্দর ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখকতে অনেক আগেই ভুলে গেছি। স্বপ্নের ফেরিওলা বহু আগেই আমাদের এই আধো অন্ধকারে ঢাকা রাস্তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। তার দরাজ গলায় স্বপ্ন নেবে একটি স্বপ্ন বলে ডাক শোনা যায়নি বহু দিন। তাই আমরা স্বপ্ন দেখার সেই আবেগতাকে সম্পূর্ণতা ভুলে গিয়ে এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দার হয়ে গেছি। সেই দ্বীপের মানুষ গুলর চোখে স্বপ্ন নেই মনে আশা নেই, শুধু বিষণ্ণতার এক ভয়াবহতা রয়েছে। তাই আমাদের জীবন হয়ে উঠেছে অন্ধকারের পচা গলি।
আমাদের একজন স্বপ্ন ফেরিওলা খুব প্রয়োজন যে আমাদের দুই চোখে স্বপ্নের মায়াজাল তৈরি করবে। স্বপ্ন দেখতে পারা অনেক জরুরি। যে জাতি তথা সমাজ স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায় সেই জাতি কখনও ভাল কিছু করতে পারে না। স্বপ্নহীন জাতি উচ্ছনে যায়। সেই দিক দিয়ে ভাবতে গেলে আমাদের অবস্থাখানা সেইরূপ। আমরা স্বপ্ন দেখা ভুলে গেছি।আমরা ভুলে গেছি স্বাদ আল্লাদ,ভুলে গেছি জীবনের পরিপূর্ণ মানে খোঁজার সাহস। আর তাই আমরা প্রতি নিয়ত পিছনের সারিতে চলে যাচ্ছি। নিন্মগামিতা আমাদের স্বভাবের অন্তর্নিহিত ভাবার্থে পরিণত হয়েছে। যা সমাজ তথা দেশের জন্য অমঙ্গলের বার্তা বহন করে। সেই বার্তা আমরা প্রতিনিয়ত পাচ্ছি। অশুভ বাতাসের ঘূর্ণিপাকে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। এই ঘূর্ণিপাক আমাদের ধ্বংসের দামামার ধ্বনি শোনাচ্ছে। আর আমরা দিন শেষে রিক্ত হস্তে শূন্য খাতা নিয়ে ঘুমের দেশে পারি জমাচ্ছি।
আমাদের অতীত ইতিহাস কিন্তু আমাদের বর্তমানকে দেখে মুখ ফিরিয়ে রাখে। কারন আমাদের অতীত ইতিহাস অনেক গৌরবের এবং জাতি হিসাবেও আমরা অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। আমরা তৈরি করেছি ইতিহাস। আমাদের দেখে সাহসী জাতি হিসাবে স্যালুট করেছে সারা বিশ্ব। কিন্তু আজকের অবস্থার কথা চিন্তা করতে গেলে আমাদের বোধের দরজা তালা বন্ধ করতে হয়। একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে বিবেকের দরজায়। আমরা কি সেই জাতি যে জাতির কথা ইতিহাসে লেখা আছে স্বর্ণের অক্ষরে। যে জাতি সমস্ত পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে এনেছে নতুন সূর্য। যে সূর্যের উৎভাসিত আলো আলোকময় হয়েছে সারা পৃথিবী। আমাদের সব থেকে বড় গৌরবের জায়গা হল আমাদের মায়ের ভাষা। যে ভাষা আমাদের অন্তরজ্বালা মেটায়। যে ভাষায় আমরা আমাদের মা কে সম্বোধন করি। এই ভাষার জন্য আমাদের পূর্ব পুরুষেরা শরীরের তাজা রক্তে রঞ্জিত পরাধীনতার শিকল পরা থেকে মাকে মুক্ত করতে জান কবুল করেছিল এদেশের সূর্য সন্তানেরা। তাদের চোখে মুখে ছিল স্বপ্ন আর সেই স্বপ্নই এনে দিয়েছিল সেই শক্তি যার ফলে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে আনতে পেরেছি স্বপ্নের সোনা ঝরা রৌদ্দুর।
আজ সত্যি একজন স্বপ্ন ফেরিওলা খুব প্রয়োজন, যে আমাদের একরাশ স্বপ্ন দেবে আমাদের দুই চোখে আর তারই ধারাই আবার তৈরি করব ইতিহাস। যে ইতিহাস লেখা হবে স্বর্ণের অক্ষরে হবে কালের সাক্ষী।
©somewhere in net ltd.