| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুরথ সরকার
সমস্ত অবিশ্বাসকে পিছনে ফেলে এমন একটি সমাজ গড়বো,যে সমাজ সমস্ত অবিশ্বাসকে দূর করবে যুক্তি দিয়ে।
আগে পতিতারা একচাটিয়া ব্যাবসা করত এখন আধুনিক মেয়েরা পতিতাবৃতকে নিজেদের মধ্য নিয়ে এসেছে”- সঞ্জীব চট্টপাধ্যায়ের এই কথাটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজেই সত্যতার প্রমান দিয়ে চলেছে। আজকাল এই কথাটা ধ্রুবতারার মত প্রমান দিয়ে চলেছে সমাজের কাছে ।
আমরা মানুষ ,আমরা সঙ্গবদ্ধ ভাবে একটা সমাজে বসবাস করি। আমাদের মধ্য তৈরি হয় সামাজিকতা। মানুষ কখন সমাজ থেকে বাইরে এসে বাচতে পারেনা। তাই মানতে হয় আমাদের সামাজিক মিয়ম কাননু। এই সমাজে থকে ,এই সমাজে বাস করে,কত অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছি আমরা । যেমন ধরুন পতিতা ,অনেকে এদের পতিতা না বলে সেক্স ওয়ার্কার বলে । আসলে যেটি লাউ সেটিই কদু। ওদের ও নিজেদের মত একটি সমাজ আছে। মদ্দাকথা পতিতারাও একটি সমাজে সঙ্গবদ্ধ ভাবে বাস করে। আমাদের চোখে যে সমাজটা অন্ধকারের অতল গভীরে। যে গভীরতা মাপার ক্ষমতা আমার আজও হনি। কিন্ত আমরা যারা আধুনিক সমাজে বসবাস করি। নিজেদের বহাল তবিলতে আধুনিক বলে দাবী করি । কতটুকু আলোয় আলোকিত হতে পেরেছি আমরা। আমাদের আধুনিকা মেয়েদের কথায় যদি আসি তাহলে প্রথমে বলতে হয় ধিক এই আধুনিকতার। সমাজের উঁচু তালায় বসে তোমরা যে কাজ করে চলেছে সেটা অনেকটা অমার্জনীয়। আমরা পতিতা বলে যাদের ঘৃনার চোখে দেখছি । আমরা কি কখন একটু ভেবেছি কেন আজ তারা পতিতাবৃতের কবলে ধুকে ধুকে জীবন কাটাছে। এই প্রশ্নের জানি কোন উত্তর মিলবেনা। অনেক কষ্টে অনেক অভিমানে অনেক অনুরাগে আজ তারা পতিতা হয়ে দিন কাটাছে। কিন্তু যাদের শিক্ষা আছে, সমাজে উচু আসন আছে ,অর্থ ও প্রাচুর্য আছে তারা কেন সেক্স ওয়ার্কার হচ্ছে। তারা কেন পতিতাবৃতকে নিজের মধ্য লালন পালন করছে। তারা কেন অবলিলায় একাধিক পুরুষগামী হচ্ছে। সমাজের চোখে যেটা খারাপ সমাজের চোখে যেটা নিন্দনীয় সেটা সমাজের যে শ্রেণীর মানুষই করুক না কেন সেটা ভালোর অর্থ বহন করে না। পতিতারা সমাজের একটা বিশেষ শ্রেণীতে বাস করে। যে শ্রেণী থেকে ওরা আর কোনদিন বেরিয়ে এসে সুস্থ জীবন কাটাতে পারবেনা। তাই ওদের থাকতে হয় ঔ বিশেষ শ্রেণীর মধ্যই। তাই ওরা যদি কিছু করে থাকে সেটা আমাদের সমাজের অনেক বাইরে। এতে সমাজের তাল ভঙ্গ হবেনা কোন দিন। যেমন আমাদের শহরে ময়লা আবর্জনা ফেলার একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। সেখানেই আবর্জনা ফেলা হয় পরিবেষ দূষণের হাত থেকে বাঁচার জন্য। ঠিক তেমন ভাবেই পতিতাবাসকে পৃথক করা হয়েছে আমাদের সমাজ থেকে। যেন ওর প্রভাবে সমাজ নষ্ট না হয়। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের আধুনিকা মেয়েরা পতিতাদের কাছ থেকে পতিতাবৃতকে ছিনিয়ে নিয়েছে। একজন পতিতা অন্ধকারে থেকে যে কাজ করতে শঙ্কা বোধ করে। সে একই কাজ আলোর জগতে বাস করা মানুষেরা মানে আমরা অবলীলায় করে যাচ্ছি চক্ষুলজ্জার ভয় ছাড়াই । এই কাজে আমরা কিন্তু অনেকটা এগিয়ে একজন পতিতার থেকে। একজন দেহ ব্যাবসায়ি যেখানে জীবন বাঁচানোর জন্য তার শরীর বিলিয়ে দিচ্ছে। সেখানে আমরা সমাজের উচু তালার মানুষেরা আমাদের শরীর বিলাচ্ছি নেহাত উতেজনার বশবর্তী হয়ে । এক কথায় বলতে গেলে ,আধুনিকা এই মেয়েরা একজন পতিতাবৃতি করেও মহান তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে। ডাসবিনের ময়লা ছরিয়ে দিচ্ছে, সমাজে পরিবেশ দূষণ করছে দিনেরপর দিন ।তবুও আমরা জর পর্দাথের মত নির্বিকায় হয়ে পড়ে রয়েছি। মাথা তোলার সাহস হয় না আমাদের । এই লজ্জা আমার একার নয় এই লজ্জা আমাদের.................. ।
©somewhere in net ltd.