নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যুক্তিই হোক মুক্তির হাতিয়ার।

সুরথ সরকার

সমস্ত অবিশ্বাসকে পিছনে ফেলে এমন একটি সমাজ গড়বো,যে সমাজ সমস্ত অবিশ্বাসকে দূর করবে যুক্তি দিয়ে।

সুরথ সরকার › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রিয় বন্ধু ব্লগার রাজীব হায়দার ( থাবা বাবা) স্মরণে !!!!!! খোলা চিঠি।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫৮

প্রিয় বন্ধু,কোন বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা বা বিশেষ কোন সম্বোধন দিয়ে চিঠি শুরু করলাম না।কারন তোমার সাথে আমার কোন সম্বোধনের সম্পর্ক নয়। একজন বন্ধু, বন্ধুর কাছে কেবল তার বন্ধু অনেক ভালোবাসার ধন।তাই বিশেষ কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুরু করলাম। তুমি কেমন আছ, কোন ঠিকানায় আছ আমি জানি না। তোমার ঠিকানা জানা এখন আমার সাধ্যের অতীত। তুমি যেখানেই থাক ভাল থাকো। একজন বন্ধু হিসাবে এ আমি সবসময় এটাই চাই। আমি জানি আমাদের ছেড়ে তোমার প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে তোমার মন ভাল নেই, থাকার কোথাও না। তবুও থাকতে হচ্ছে এটা ভাবতেই আমার মনের মধ্য হাহাকার করে উঠছে। একরাশ অভিমান বুকে নিয়ে এখন তুমি দিন কাটাও। তোমার অনুপস্থিতি আমাদের কাছেও বড় কষ্টের ব্যাপার।তবুও এক বুক কষ্ট নিয়ে তোমাকে লিখতে হচ্ছে।



আমি তোমার ঠিকানা জানি না এবং জানি তুমি আর কোনদিন তোমার ঠিকানা সযত্নে আমার ডাইরিতে লিখে দিতে পারবে না। কিন্তু ঠিকই একদিন তুমি তোমার বাসার ঠিকানা আমার ডাইরিতে লিখে দিয়েছিলে। সেটা আজ শুধু তোমার স্মৃতি বহন করে মাত্র। আমি জানি তুমি আমার ডাইরিতে লিখে দেওয়া ঠিকানাতে থাকো না। তাহলে বন্ধু আমার তুমি কোন ঠিকানাতে থাকো।বন্ধু আমার তুমি রাগ করোনা। ঠিকানা না পাওয়ার বেদনা বুকে নিয়ে আমি আজ তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি। যে বাংলার আকাশে বাতাসে তোমার শেষ নিঃশ্বাসের কষ্ট গুল ঘুরে বেড়ায়, যে বাংলাকে ভালোবেসে তুমি তোমার জীবন শুরু করেছিলে সেই বাতাসের কাছেই আমি আমার চিঠি উড়িয়ে দিলাম তোমার কাছে। তুমি পাবে তো! যদি পেয়ে থাকো তাহলে বুঝবো বন্ধুত্বের সম্পর্ক শ্রেষ্ঠ সম্পর্ক বহমান সব জায়গাতে। আমি বিশ্বাস করি এই চিঠি অবশ্যই তোমার কাছে পৌঁছবে। চিঠি পেয়ে তুমি তোমার এই অক্ষম বন্ধুকে মহৎ হৃদয়ের মহানুভবতায় ক্ষমা করে ভালোবাসার আবেগময় বন্ধনে বেঁধে রেখ। যেমন করে অবিচ্ছেদ বন্ধনে বেঁধে রেখেছিলে এতদিন।



বন্ধু আমার, তোমার সদা হাসিমাখা ফুল্ল ঠোঁট, তোমার উপস্থিতি প্রতিনিয়ত আমি, আমরা অনুভব করছি, তুমি কি সেই সুদূরের অচিনপুরে বসে আমাদের দেখতে পাও। নিশ্চয় দেখ তোমার ভালোবাসার বন্ধুদের।



রাজাকার মুক্ত দেশ উপহার দেওয়ার জন্য নবজাতকের কাছে যে অঙ্গীকার তুমি করেছিলে। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবী নিয়ে যে যুদ্ধ , যে সংগ্রাম তুমি শুরু করেছিলে সহযোদ্ধা হিসাবে সেই সংগ্রাম থেমে যেতে দিইনি।বরং তোমার বন্ধু হিসাবে তোমার স্বপ্ন বুকে লালন করে লড়াই আরও বেগবান করেছি। আমরা হেরে যেতে শিখিনি। বিজয়ের আলো গায়ে মাখতে তোমার আমার আমাদের সংগ্রামকে নিয়ে যাচ্ছি বিজয়ের চরম শিখরে। তোমার মহান ত্যাগের এই ঋন কখনও শোধ করতে পারব না। কিন্তু তোমার মুখের বিজিয়ের হাসি ফিরিয়ে আনতে আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।



বন্ধু, যেদিন তোমার বুক থেকে শত্রুরা ঝরিয়েছিল তাজা রক্ত, যেদিন তোমার রক্তে ভিজেছিল বাংলা মায়ের আঁচল সেইদিন আমরা তোমার পাশে থাকতে পারিনি, নর হত্যায় উন্মাদ শকুনেরা সেই দুর্বল মুহূর্তে তোমার বুকে বসিয়েছিল অবিবেকী কাপুরুষইয় থাবা। তোমার বুক থেকে ঝরা রক্ত দেখে আনন্দে মেতে উঠেছিল নরতঘাতকেরা। কিন্তু তোমার পরিশুদ্ধ রক্ত মাটিতে পরা মাত্র কেঁপে উঠেছিল বাংলা মায়ের বুক।



তোমার বর্বর হত্যার খবর শুনেই তোমার বন্ধুরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল। কান্না আর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সেই রাতেই রাজপথে নেমে ছিল তোমার অগনিত বন্ধু। তাদের চোখে কান্নার বদলে মুখে ঝরেছিল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।আকাশে বাতাসে ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলেছিল সেই ব্যাথাতুর হৃদয়ের শব্দ। তোমার হত্যাকারীর শাস্তির দাবীতে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে, শহীদ মিনারে, প্রজন্ম চত্বরে আজও লড়ছে তোমার লড়াকু বন্ধুরা। যত দিন বাংলার বুকে যুদ্ধাপরাধীরা , তোমার হত্যাকারিরা সগৌরবে ঘুরে বেড়াবে ততদিন তোমার বন্ধুরা ঘরে ফিরবেনা। এটা বন্ধুর কাছে বন্ধুর অঙ্গীকার।

প্রিয় বন্ধু, তুমি যেখানেই থাকো ভাল থাক। আমাদের অফুরান পেরনা হয়ে বেঁচে থাকো সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান হয়ে।



ইতি

তোমার ভালোবাসার বন্ধু।



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.