| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সময় তার নিয়মেই প্রতিনিয়ত আমাদের কাছ থেকে অতীত হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবী যখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে সময়ের সঙ্গে রীতিমত যুদ্বেলিপ্ত, তখন আমরা স্রোতের টানে পিছনে চলে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা যখন আমরা এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা করবো তখন দেখবো বর্তমান পৃথিবী আমাদেরকে অনেক দূরে ছোড়ে ফেলে দিয়েছে। একটি জাতি সামনে দিকে এগিয়ে তার সুচিন্তিত পরিকল্পনায়, সুষ্ঠ রাজনৈতিক চেতনায়, সুশীল এবং গনতন্ত্রের গতিপ্রবাহে। গনতন্ত্র মানে জনগনের ইচ্ছাই সব কিছু। কিন্তু, কষ্ট হলেও এটা বলতেই হয়, আমাদের প্রানপ্রিয় মাতৃভূমি তার বিপরীত স্রোতে অগ্রসর হচ্ছে। আমাদের দেশের রাজনীতি এখন ষ্পষ্টভাবেই দুটি বিপরীত মুখী স্বত্বা। এই দুটি স্বত্বা আমাদের মাঝে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই আমাদেরকে নিয়ে ফুটবল খেলছে। আমরা এপাশ থেকে দৌড় দিয়ে এপাশে যাই,আবার ওপাশ থেকে এপাশে। এটা আমাদের অনিচ্ছাকৃত অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। কলকাতার জীবন মুখী গানের গায়ক নচীকেতা চক্রবর্তী তার এক গানে একটা কৌতুক বলেছিলেন সেটা প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখযোগ্যঃ নির্বাচনের পর যথারিতী ফেষ্টুন-ছাতা পাতা নিয়ে জনগন বের হয়ে স্লোগন দিচ্ছে। ওখানে একজনকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি রে নাচচিস কেন? লোকটি বললো, কি বলবো নান্টু দা জিতে গেছে ! তিনি বললেন আর বল্টু দা? সে বললো বল্টু দা হেরে গেছে! তিনি বললেন তার মানে? সে বললো বল্টু দা চোর ছিল! তিনি বললেন আর নান্টু দা? সে বললোঃ নান্টু দা আরো বড় চোর। উনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তুই নাচচিস কেন? সে বললো আমি! আমি অভ্যাসে নাচি মাইরি!আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা হলো এরকম। কিছুকাল অতীতেও আমরা এই অভিজ্ঞতার বাইরে ছিলাম তা কিন্তু না। আমাদের অভিজ্ঞতা সব সময় ই এক । অতীতের মতো এখন আরেকটি রোগ এসে আমাদের শরীরে এখন খামচি কাটে, তা হলো কে কাকে কত বেশি অসম্মান করে কথা বলা যায় তার একটা মহা প্রতিযোগীতা আমাদের রাজনীতির অবহ্ময়কে আরো অনেক বেশি ত্বরান্বিত করছে। যে সম্মান পাবার যোগ্য তাকে আমরা সম্মান দিতে পারছিনা, আর যে সম্মান পাবার যোগ্য না তাকে আমরা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিচ্ছি। উদাহরণ স্বরুপ এই কিছু দিন আগে হারুন নামে একজন পুলিশ সদস্যকে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদ্ব্য় যে বীরত্বের জন্য পুরস্কৃত করলেন তা অত্যান্ত দুঃখজনক। এবং তিনি তাকে পুরুস্কৃত করার স্বপহ্মে যে জয়ধ্বনী গাইলেন তা আমাদের জাতির জন্য হতাশজনক একটি অধ্যায় ছাড়া আর কি হতে পারে। এটা চরম রাজনৈতিক অবহ্ময় নয় কি? জাতিকে সুপথে পরিচালনা করার জন্য যাদেরকে আমরা নির্বাচিত করলাম তাদের দ্বায়িত্ব সন্ত্রাসি জন্ম দেয়া বা পোষা না, তাদের দ্বায়িত্ব হলো সমাজ থেকে এবং রাষ্ট্র থেকে এই বিভাজনকে দুরিভুত করা। আমাদের এই মহা অবহ্ময়ের রাজনীতির ধ্বংসস্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে আমার এই প্রত্যাশা অমুলক বৈকি। তবু মানুষ স্বপ্নবাজ। সে স্বপ্নকে বুনে স্বপ্ন কে লালন করে এমনি ভাবেই দিনের পর দিন স্বপ্নের না না শাখা-প্রশাখা জন্মে। আর একদিন এই স্বপ্নের বৃহ্মটিই হয় পরিবর্তিত মানুষের ছায়ার স্থল। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে অদুর ভবিষ্যতে অবহ্ময় মুক্ত সুশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, যা সকলের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করে সমর্থ হবে বলে আশা রাখি।
©somewhere in net ltd.