নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অবিমৃষ্যকারী পুরুষ

যদি জন্মান্তর ভুল হয়ে থাকে তবে এ দেখাই শেষ দেখা

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী

......তখন আমায় নাই-বা মনে রাখলে......

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিকোটিন বিলাসী

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৩৩

নিচের ঠোঁটটাতে ফিল্টার রেখে উপরের ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে খুব জোরে টান দেয় রবিন আর ভাবতে থাকে ধোঁয়ার সাথে যদি কষ্টরা উড়ে যেতো !

স্টার্নামের শেষ অংশটাতে গিয়ে বিঁধে । মাথার জ্যামটা খোলে নতুন এক জ্যাম লাগলো । এ জ্যামটা বাধার জন্যই অপেক্ষা করছিলো রবিন । না সিগারেটটা খুব ধরেছে । মাঝে মাঝে খুব কষ্ট পেতে ইচ্ছে হয় । ক্ষুদ্র এ জীবনে যা চেয়েছে তাই পেড়েছে । একটা জীবন চেয়েছিল সে , খুব ভবঘুরে ধরণের ; যেমনটা চেয়েছিল ঠিক তেমনটাই পেয়েছে । 'আগ-পিছ' কেউ নেই । যাও একজন ছিল সেও একেবারে চলে গিয়েছে ।



মেয়েটার নাম অদ্রিতা । বন্ধুদের কাছে 'ফাজিল' , 'কুত্তা' উপাধি পাওয়া মেয়েটা রবিনের সামনে আসলেই যেন পৃথিবীর সব লজ্জাবতী তার মাঝে ভর করে । দেহের সব কপাট ধীরে ধীরে বন্ধ হতে থাকে । আঁটসাঁট হয়ে বসে থাকতো । এমনও অনেক ঘড়ির কাঁটা বদলে গেছে রবিন-অদ্রিতা বাকহীন । তাদের কখনও কিছু বলার ইচ্ছা থাকতো না । শুধু দেখার ইচ্ছা ; দুজন দুজনকে জানার ইচ্ছা । বরাবরের মতই রবিন অদক্ষ আবিষ্কারকের পরিচয় দিয়ে আসতে থাকে । "মেয়েটার মধ্যে কি যেন আছে !! ঠিক ঠাহর করা যায় না !! ওর ঠোঁট বলে ও চঞ্চল , ওর চোখ বলে ও ভালবাসাতে পেতে চায় আর ওর চুল বলে হাওয়া ভেসে যেতে" প্রথমবার দেখা করার পর ডায়রিতে লিখে রেখেছিলো রবিন ।



সুস্মিতা । রবিনদের এলাকায় নতুন ভাড়াটিয়া । রাস্তার পাশের ঘরটা ওর ; রাত জেগে পড়ে ; জানালার পাশেই ওর টেবিল । ল্যাম্প পোষ্টের আলোতে স্পষ্ট দেখা যায় রবিনকে । প্রতিদিন বড় ঘড়িটায় বারোটা আওয়াজ করে আর রবিন এখানে বসে । আরও কত মানুষকেই তো সিগারেট খেতে দেখে । কিন্তু রবিনের মতো করে কাউকে খেতে দেখে নি । হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে উঠা সিগারেটের আগুন অনেক পুড়িয়ে দেয় সিগারেটকে তবে মনকে কতটা পুড়ায় কেউ জানে না । সুষ্মিতার খুব জানতে ইচ্ছে হয় "সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে কি কষ্টরাও ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায় ?"



সিগারেট শেষ হতেই উঠে যায় রবিন । ইচ্ছে না করলে বাসায় আর ফেরা হবে না । শহরের বক্ররেখা আজ চষে বেড়াবে । এ স্থিতিস্থাপক অন্ধকার তার খুব আপন । আর ছিনতাইকারীর কোন ভয় নেই । ধরলেও বড়জোর বাকি থাকা ষোলটি সিগারেট ছিনতাই হতে পারে ।



হাঁটতে হাঁটতে চলে আসে অদ্রিতাদের বাসার সামনে । বেশ পুরনো মডেলের বাড়ি । অদ্রিতার দাদা বানিয়েছিল এ বাড়ি । লোকমুখে শোনা যায় এই এলাকায় এটিই প্রথম পাকা বাড়ি ।

বিশাল বারান্দায় মাঝ বরাবর আলো জ্বলছে । সাদা আলোতে স্বচ্ছভাবেই দেখা যাচ্ছে অদ্রিতার ক্রিকেট ব্যাট , জুতোর সেলফে নতুন জোড় জুতো ; না , সবই ঠিকঠাক আছে । বিষে ভরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা নুয়ে সিগারেট ধরায় । না , এখন আর দেখার ভয় নেই , অদ্রিতা এখন অন্ধ ; পরিচিত পায়ের আওয়াজ পেয়ে সুর ধ্বনিতে দৌড়ে আসার ভয় নেই , অদ্রিতা এখন বধির ; সিগারেটের গন্ধ পাওয়ারও ভয় নেই , অদ্রিতার ঘ্রাণ শক্তি এখন শূন্য । নিচের ঠোঁটটাতে ফিল্টার রেখে উপরের ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে খুব

জোরে টান দেয় রবিন আর ভাবতে থাকে ধোঁয়ার

সাথে যদি কষ্টরা উড়ে যেতো ! না , নিকোটিন কখনও আপন হতে পারে না , ক্ষত করে শূন্যস্থান পূরণ ।



লাইট নিভানোর সময় বাইরে চোখ পড়ে সুস্মিতার । পরিচিত একটা ছায়া এই মাত্র পার

করলো জানালা , এইতো সে নাম নাজানা নিকোটিন বিলাসী সে ছেলেটা ।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৪৫

শূন্য পথিক বলেছেন: ভালো।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৫৮

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ

২| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৫৫

তোমার গল্পের মৃত রাজকন্যা বলেছেন: নিকোটিন এ বিরক্ত খুব ... কিন্তু লেখায় ভালো লাগা


ভালো থাকবেন

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:০০

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী বলেছেন: হে হে হে !!!!!

ধন্যবাদ !!!

৩| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:০৯

অনন্ত নক্ষত্র বীথি বলেছেন: গল্পটা অসমাপ্তই রয়লো ।।মাঝে মাঝে কিছু জিনিস অসমাপ্ত থাকাই ভাল ।

৪| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৩৫

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী বলেছেন: B:-/ B:-/

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.