নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অবিমৃষ্যকারী পুরুষ

যদি জন্মান্তর ভুল হয়ে থাকে তবে এ দেখাই শেষ দেখা

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী

......তখন আমায় নাই-বা মনে রাখলে......

তাহ্জীর ফাইয়াজ চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

পৌষের নষ্ট রাতের গল্প

৩১ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:৩৯

: গুরু, দুইটা ভোটকা ।



: এখানে প্রিপেইড সিষ্টেম ।



: আহ! টাকার কথা চিন্তা করো না । গুরু বলে ডেকেছি । শিষ্য কিভাবে গুরু ফাঁকি দিবে?



: এখানে কেউ গুরুও নয়, শিষ্যও নয় । এখানে সাম্যবাদী নীতিতে নেশা চলে ।



টাকাটা মিটিয়ে বেরিয়ে পড়লাম দোকান থেকে । ঠিক দোকান বলা যায় না । খুঁপড়ি । স্বামী-স্ত্রী'র বিশাল ব্যবসা । শহরের ছেলেদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ।



সেভেন আপের একটা খালি বোতল ব্যাগে ছিলো । বোতলে এখন ভোটকা টয়টুম্বুর । রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই খাওয়া যাবে ।



গলার প্রথম ভাগ থেকে স্টার্ণাম পর্যন্ত জ্বলে যাচ্ছে । পৃথিবী গুলিয়ে যাচ্ছে । একটা সিগারেট ধরানো দরকার । নেশাটা জমবে । বোতলও প্রায় খালি হয়ে যাচ্ছে । মনে হচ্ছে, সময় স্থির হয়ে গেছে । আমি সময়ের উর্ধ্বে চলে গেছি ।

সন্ধ্যা নেমে এলো । ম্রুণালীনীর কথা ভীষণ করে মনে পড়ছে । প্রথম যখন ম্রুণালীনীর স্পর্শ আমার জীর্ণ শরীরকে ছুঁয়ে যায় তখনও ঠিক এমনটা মনে হয়েছিলো । আমি যেন কিছু ফিরে পেয়েছি । ম্রুণালীনী? না । তার গায়ে এমন উদ্ভট গন্ধ ছিলো না । একটা শিউলী ফুল যেন ম্রুণালীনীর সারা গা জুড়ে বিচরণ করতো । শিউলী ফুল? ম্রুণালীনীর ভালো লাগতো না । যার সারা গা জুড়ে শিউলীর গন্ধ সে কিভাবে তাকে অপছন্দ করে?-- আমি ভেবে যেতাম ।



সিগারেট শেষ হয়ে আসলো । সন্ধ্যা এখন রাতের রূপ নিচ্ছে । পৃথিবী কত বদলে যায়! সন্ধ্যার পর রাত । রাতের পর ভোর, আলো । আলো? কিশোর মনে আলো খুঁজেছিলাম । "আলোকিত জীবন চাই"-- কখনো স্বপ্ন বুনা হতো মনের খুব গভীরে, সারা মন জুড়ে । এখন সব ঘুণে ধরা । বিষাক্ত হয়ে গেছে মন, নীল রং ।



পৃথিবী বদলে গেলেও মানুষ বদলাতে চায় না । বিষাক্ত হয়ে বদলে যায় মানুষরূপী কিছু পাষাণ । পাষাণ? ম্রুণালীনীর শেষ কথা ছিলো-- তুমি খুব পাষাণ । আর পাষাণ হবোই বা না কেন? এই হাতেই! হ্যাঁ, এই হাতেই আমি আমার সুখগুলোকে গলা টিপে মেরেছি । "নিজের গলা দু'হাতে টিপে, বরণ করা মৃত্যু"-- কার না ভালো লাগে? আমারও ভালো লাগতো বিষাদ, শূণ্যতা । শূণ্যতা কখনো ভয়াল রূপ নেয়-- তা জানা ছিলো না । কিসের ভয়াল? কিসের ভয়ানক? কতটুকু কেড়ে নিতে পেড়েছে আমার কাছ থেকে? সে শুধু আমার শূণ্যতাকে কেড়ে নিয়ে শূণ্যতা দিয়েছে ।



শুনেছে, সুরলতা সুখের সংসার । ফুট-ফুটে দুটো বাচ্চা আর স্বামীর বিশাল বিজনেস । সে খুব সুখেই আছে নিশ্চয়ই । সুখ? কখনও অধরা ছিলো । এখনও খুঁজি তোমাকে, প্রিয় সুখ ।



একদিন সন্ধ্যা নেমে এলে সুরলতা খুব তাড়া দেয় । বাড়ি ফিরতে হবে । রিকশা চলছে শহরের উপকন্ঠ বেয়ে । মনে সুখে রিকশাওয়ালা গায়ছে, "চলে আমার রিকশা উইড়া, উইড়া" । কি জানি কার মনে কি সুখ! হঠাৎ তুমি বাম হাতের আঙুল জড়িয়ে বললে, "তোমাকে ছাড়া আমি কখনও সুখী হবো না ।" অপরিচিত কন্ঠ, এতো পরিচিতা কিভাবে এতো অপরিচিতার রূপ নেয় । নারীর হাজারো রূপ ।



রাস্তায় ব্যাস্ত মানুষের ভীষণ ব্যাস্ততা । কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছে, কেউ নতুন সংসার সাজাচ্ছে । মানুষ নিজেকে ব্যাস্ত রাখতে ভীষণ ব্যাস্ত থাকে । তাহলে আমি? অমানুষ হয়ে গেলাম?



কখনো এ ব্যাস্ত রাস্তায় তোমাকে খুঁজি । মোড় ঘুরলেই হয়তো তোমাকে দেখতে পাবো । আমার অন্ধ হয়ে গেছি । পুরনো দিনের মত তোমাকে স্পর্শ করতে জানি না । আর অন্ধ ছিলামই না কবে? ভালবাসার আলোয় আমার দু'চোখ গেছে । শূণ্য হয়ে অন্ধকারে নিজেকে অন্ধ ভাবি ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.