নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানিন মোমতাজ

একি অপরূপ সুন্দর তারা স্বপ্নের বর্ষা রাতে আমি ভিজে ভিজে মরি মিছে মগ্ন প্রভাতে... দেখি ভীষণ অন্ধকার মাঝে আলোছায়ায় তার নুপুর বাজে আমি যে ভেবে ভেবে শিহরিত... আমি সূর্যের আলো হয়ে তোমার চলার পথে ছায়া হয়ে তোমায় দেখি || উম্ম... ম এতোটা ভালোবাসি এতোটা ভালোবাসি .

তানিন মোমতাজ

তানিন মোমতাজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বীর বালকের রাজাকার বধ !!!

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:০৮



আমাদের বালক । সবে মাত্র তৃতীয় শ্রেণীর বই গুলো নিয়ে সন্ধাবেলায় ভালই কসরত করা শিখেছে , পড়ালেখার বই থেকে তার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু দখল করেছে পিতার শেলফ এ থাকা মোটা ছবি দেওয়া বই গুলো । সে ভাবে



" ইশস আমি কি পুষি বিড়াল নাকি , যখন মা যখন মাছ কুটে আর আমাদের বিড়ালটা কেমন করে তাকিয়ে থাকে বঁটি আর মাছের দিকে , আমি আজ বই গুলা বের করে পড়বই । আমি কি পড়তে পারি নে ? আব্বু কেন বলে বাপ বড় হ তারপর সব বই গুলা তোর দিয়ে দেব তখন পড়িস ।

হুহ !!!! ঐ যে লাল রঙের মলাট দেওয়া বইটা ! ' হাজার বছরের ইতিহাস ' বইটা দিলেই তো হয় , আমি কি সব বই চাচ্ছি ?? "





অবশেষে আমারদের বালকের পিতা পরাস্থ হইলেন তার গোমড়া মুখ , চরম্পন্থি চাহনি , গুয়ার গোবিন্দ লোভের কাছে । কি যেন ভেবে নিয়ে শেলফ থেকে বইটা বের করে দিয়ে হাসি মুখে বললেন,

" নে বাপ , পড় , তবে কিন্তু স্কুলের বই গুলো গুল্লায় দিস নে "



সেদিন যেন ঈদ ঘটে গেল সেই বাড়িতে , আমাদের বালক একাই যে বাড়ির চেহারা বদলে দিতে পারে সেটা আপনাদের বলে কাহিনী টেনে লাভ কি। তবে এতটুকু বলি আমাদের বালক তার নতুন লাল মলাট দেওয়া বই পড়তে গিয়ে কম বেগ পোহায়নি , আর হবেই না কেন ? আর্য , অনার্য , মুঘল , নবাব সিরলা-উদ- দোলা , মির জাফর , ঈশা খাঁ , সিপাহী বিদ্রোহ , নীল কর , এই বিদ্রোহ সেই বিদ্রোহ ।



বাব্বাহ !! চাট্টি খানি কথা !!! ভাবুন তো দেখি ? বালক সবে মাত্র তৃতীয় শ্রেণীর সাময়িক পরীক্ষায় ঐকিক নিয়ম ভালই সমাধান দিয়েছে । কই ?কোথায় তো সে পায় নি পানিপথের যুদ্ধ ,

"পানির ভিতরে তাহলে পথ বানায় মানুষ ?? সেই খানে আবার যুদ্ধও করে ? ইশস কত্ত ছবি , কত বন্দুক , ঘোড়া , খুদিরামের ফাঁসি , প্রীতিলতা !!! "





ইতিহাস থামে না , ইতিহাস চলে । রাজা রাজত্ব , সম্রাট , খুন , দুর্বলের প্রতি সবলের আঘাত , আন্দোলন , প্রতিবাদ ঠায় নেই ইতিহাসের পাতায় ।বালক পড়ে আর শিহরিত হয় , আবার পড়ে , পড়ে , পড়ে............

বঙ্গ ভঙ্গ , সান্ধ আইন , লর্ড , ১৯৪৭ হিন্দুস্তান , পশ্চিম পাকিস্থান , পূর্ব পাকিস্থান , ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারী , ভাষা আন্দোলন , ৬ দফা , ৭ ই মার্চ , শেখ মুজিব । আর কত কি !!! দিন পেরিয়ে যায় , বালক পড়ে ...।









সেদিন দুপুরে ......।।।

এ কি ?? এটা কি মানুষ না ?? মাথায় টুপি , টুপিতে চান আবার একটা তারাও আছে দেখছি । চোখ গুলা এতো লাল ?? শিয়ালের মত লম্বা দুইটা দাঁত , তাতে রক্ত !!! সত্যি নাকি ?? ছবিটা ???



বালক : তাহলে এইটা রাজাকার ?? গুলাম মাজন ?? মানুষ না , সত্যি মানুষ খুন করে ? রক্তও খায় ?? ওই যে দাঁতে লাল রক্ত ??



পিতা : গুলাম মাজন না রে বাপ , গোলাম আজম । করে না আবার ? এই রাজাকাররা কতো মানুষ খুন করলো , এরা মানুষ নারে বাপ। সব গুলা ছিল রক্ত চোষা । এখনও বেঁচে আছে ।



বালক : দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে চোখ দিয়ে রক্ত চোষে তাই না আব্বু ??



পিতা: হ্যাঁরে বাপ হ্যাঁ । জানিস আমার কতো শখ ছিল এই রক্তচোষাটাকে খুন করবো , পারলাম না । তোর দাদার দোনলা বন্দুকটাও জমা দিয়ে দিয়েছিলাম সেই কবে স্বাধীনতার পরই ।







গ্রীষ্মের দুপুর পেরিয়েছে অনেক খানি হইল , কেমন যেন আলসেমি লাগে , ঘুম আসে , আবার আসেনা । আমাদের বালক বিছানায় শুয়ে দ্রুত বার কয়েক এপাশ ওপাশ করে , কান খাড়া করে থাকে । আজ ঠিকই সে দেখিয়ে দেবে তার হাতের নিশানার বাহাদুরি । গতকাল কি লজ্জাটায় না সে পেয়েছিল , কে জানত আমটার ২ হাত দূর থেকেই ঢিলটা বেরিয়ে যাবে । ছুরী টা কাল খুব হেসেছে । এই সব কত কথা ভাবে । ভাবতে ভাবতেই জানালার কাছে লম্বা চুলের একটা ছায়া হঠাৎ ভুস করে ভেসে উঠে বলল .........



ছায়া : কই রে যাবিনে ? হি হি হি হি...... আজ দেখপানে কিরাম পারিস ... ৩ বার তোর চান্স । পারেনা যুদ্ধ করতি আবার বন্দুক ঘাড়ে করে । হি হি হি......।



বালক : এই ছুরী তোর ঘুম নেই ? অত মেলা বকিস কেন ? দেখচিস না ঘুমচ্ছি ? কত বাজে রে এখন ?



মেয়ে : কি জানি ? চল চল তারাতারি চল , আমটা আজ পারতি হবে । আজ আমিও ঢেলা মারব । মেলা বড় ফজলী আম রে , খুব মিষ্টি হবে দেকিস ।



বালক : হুম , তুই পিছন দিক দিয়ে বাগানে যা আমি আসচি । আম্মু কোণে দেখে নিই ।









তাঁরের কাঁটার বেড়া দেওয়া বিরাট আমবাগানের ঠিক ফজলী গাছাটার নিচে থামে তারা ২ জন । আমটা আগের দিনের মতই ঝুলছে , যেন দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বালককে বলে কই পার দেখি আমায় কেমন পারিস । লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বালক ভাবে ' একেবারে কম উঁচুতে না বজ্জাত আমটা , গাছের রস খেয়ে খেয়ে ভালই তাগড়া হয়েছে , আজ ৩ বার কেন যতক্ষণ না নিচে আনতি পারচি ততোক্ষণ ঢেলা মারবো , যাবি কই ' । এতক্ষণে বালকের সার্বক্ষণিক সঙ্গী লম্বা চুলের মেয়েটা বেশ কিছু ইটের টুকরা জোগাড় করে ফেলে , বালকের পায়ের কাছে জড় করে বলে ......।



মেয়ে : এই নে ঢেলা , তুই আগে ৩ টা মারবি , যদি না লাগাতি পারিস , তারপর আমি আর তুই ২ জন মিলে একসাথে মারব , তখন নিচ্চিত পরে যাবে দেকিস ।



বালক : আচ্চা , দে ওইখান ঢেলা ডা দে দিনি আমি আগে মেরে নিই , তারপর তুই মারিস কেনে ।



মেয়ে : [ কি যেন দেখতে পেয়ে , প্রচণ্ড ভয়ে ] ওরে সরে আয় , সরে আয় !! ঐ দেখ কি , সব রক্ত চুষে নেলে , সরে আয় বলচি , বুকে থুতু দে ।

বালক : [হকচকিত বালক ২ পা পিছিয়ে , ভয়ার্ত কণ্ঠে ] কৈ রে ? কি ? কোনে ??



মেয়ে : ঐ দেখ ছেমড়া , রক্তচোষা । মাগো কি চোখ ! দেখেচিস ?? আরে ঐখানে , চোখ দিয়ে আমাদের সব রক্ত খেয়ে নেলে । থুতু দিস নি , শিগগিরি দে ।



বালক : কিরে এটা ? রক্তচোষা ?? চোখ দিয়ে রক্ত চোষে ?? রাজাকার ???









মাগরিবের আজান এর সময় হই , আমবাগান আর ঝপঝাড় , পথের পাশে পাতকুয়া পেরিয়ে মেয়ে আর বালকটি চিৎকার ছুটতে থাকে বাড়ির দিকে । মাকে দেখাতে তো হবে । আমাদের বালক বীর এইবার আর ব্যর্থ হয়নি এক ঢিলেই সারা । ধুপ করে রক্তচোষা রাজাকার টি মাটিতে পরে আকাশের দিকে চার হাত পা তুলে বার কয়েক কাপিয়েই শেষ !! বামপাশের চোখ টা এক্কেবারে বেরিয়ে গেছে , নির্ভুল নিশানা !

পুলকিত বালক হন্তদন্ত হয়ে রান্না ঘরের দাওয়াই পিড়িতে বসে থাকা দাদীর পাশ কাটিয়ে একেবারে মায়ের কাছে ......।



বালক : কই , আম্মু গো এই দেখ রাজাকার , রক্তচোষা রাজাকার , এই দেখ মেরেচি !!



দাদি : কি হল রে খুকা ? চিল্লাচিস কেন ? তোর হাতে কিরে ওইডা ?? এহ হ্যাহ , ছি ছি !! দেখ দেকিনি কাণ্ড !



বালক : দাদী !! রাজাকার , রাজাকার মেরেচি এই দেখ , চোখ বেরিয়ে গেছে ।



দাদী : ছি ছি । সরা সরা , আবার রান্না ঘরে এনেচিস । ওরে হাত দিস নে , হাতে বিষ করবে যে । বলি ছোট বউ তোমার এই ছেলের কোন কাণ্ড জ্ঞান আছে ? এই ভর সন্ধে বেলাই অকাম করে বেরাই । ইশসস আবার গায়ে হাত দিস ! ফেলে দে শিগগিরি !!



মা : কিরে বাপ , কি মেরে এনেচিস , তোর হাতে ওইটা রাজাকার নাকি ?? ওরে আমার বীর পুরুষ ছেলে রে !! যাহ্‌ বাগানে ফেলে দিয়ে আই । সারাদিন কি সব এটা ওটা মেরে বেরাস । সন্ধে হয়েচে । ভালো করে হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসগা যাও ।









ইংলিশ ফর টু ডে বইয়ে বালকের আর সেদিন মন বসে না , লাল মলাটের হাজার বছরের ইতিহাস বইটিও পরে থাকে টেবিলে । একবার ও ইচ্ছা করেনা লাল চোখ আর শিয়ালের মতো লম্বা দাঁতের রাজাকারের ছবিটা আরেক বার দেখার । লাল চোখের রাজাকার , রক্ত চোষা রাজাকার ......... তার মনে পরে



“গুলাম মাজন না রে বাপ , গোলাম আজম । করে না আবার ? এই রাজাকাররা কতো মানুষ খুন করলো , এরা মানুষ নারে বাপ। সব গুলা ছিল রক্ত চোষা । এখনও বেঁচে আছে । । জানিস আমার কতো শখ ছিল এই রক্তচোষাটাকে খুন করবো , পারলাম না । তোর দাদার দোনলা বন্দুকটাও জমা দিয়ে দিয়েছিলাম সেই কবে স্বাধীনতার পরই । ‘’







কেমন যেন ঘৃণাই গা গুলিয়ে আসে , বমি লাগে , বাম চোখ বেরিয়ে আসা রাজাকার ।

আর বেশি সময় নেই তার পিতার বাড়ি আসার ।।

আজ সে বলবে ,

" আব্বু তুমি পারনি , আমি পেরেছি , রক্তচোষা রাজাকার ! "



বি. দ্র : আপনারা কেও ডাইন চেনেন ? একধরনের গিরগিটি , গ্রামে সবাই বলে এরা রক্তচোষা সরীসৃপ । এটা ভুল কথা , আসলে এরা ভয় পেলে চোখ দিয়ে রক্ত নিক্ষেপ করে । তবে বালকের কাছে নামে কিছু এসে যাই না । রাজাকার তো রাজাকারই । দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে চোখ দিয়ে রক্ত চোষে ।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৪৯

শামীম আরা সনি বলেছেন: ছাগুদের বাঁশ দিয়েছেন মনে হয় :)

ব্লগে কি আপনি নতুন?

নতুন হলে আশা করবো লেখালেখির পাশাপাশি অন্য সবার লেখাগুলিও পড়বেন, এতে করে আপনার ভালো ধারনা হবে ব্লগ নিয়ে।

ভালো থাকুন :)

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৫

তানিন মোমতাজ বলেছেন: হ্যাঁ সনি আপু , ব্লগ এ আমি নতুন , ধন্যবাদ আপনাকে । :)

২| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:২০

মাক্স বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন!
++++++++

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৩৭

তানিন মোমতাজ বলেছেন: ধন্যবাদ মাক্স ভাই

৩| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৩৬

শামীম আরা সনি বলেছেন: এখনও ওয়াচে আছেন মনে হয় :(

তবে আশা করি খুব শিঘ্রী জেনারেল হয়ে যাবেন :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.