| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশের বেসরকারী মেরিন একাডেমি গুলো এখন নাকি ক্যাডেট পায় না । এর কারন কি ? উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা মেয়েরা তো প্রাইভেট মেরিনে একাডেমীতে পড়তে আসবে না । তাহলে শুধু থাকলো ছেলেরা ।নিম্ন বিত্তের ছেলেরা তো এত অর্থ ব্যয় করে মেরিন একাডেমীতে পড়তে আসবে না । উচ্চ বিত্ত ও মধ্য বিত্তের ছেলেরা আসবে । এদের মধ্যে অনেকের তো আবার মেরিনে পড়ার ইচ্ছাই নাই ।অনেকের ডাক্তারী সহ অন্যান্য ল্যান্ড বেজড পেশায় থাকতে চায় ।আবার অনেকের চোখের সমস্যা শারীরিক ভাবে আনফিট ইত্যাদি ইত্যাদি।উচ্চ বিত্ত ও মধ্য বিত্ত পরিবারের ছেলেদের অনেকের প্রশ্ন ’আমি ২ বছরের প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদের জন্য এত টাকা খরচ কেন করব ?’ তাহলে বেসরকারী মেরিন একাডেমিতে কারা পড়বে ।অনেকে আবার ফ্যান্টাসির বশে ভর্তি হয় ।কিন্তু বাস্তবতা মুখোমুখি হয়ে ২ মাস পর ভর্তি বাতিল করে চলে আসে যা সবচেয়ে বেশী ঘটে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ।
এবার একটু ভিন্ন প্রসংগে আসি ।১৯৯৬ সালে মোবাইল ফোনের লাইসেন্স পাওয়ার পর আস্তে আস্তে মোবাইলের ব্যবসা প্রসার ঘটতে থাকে ।মানুষ মোবাইলকে নিত্য দিনের সংগী করে নেয় ।তখন সরকার ২০০২ সালে পিএসটিএন ফোনের লাইসেন্স দেয় । তখন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ গণহারে পিএসটিএন ফোনের লাইসেন্স নিয়েছিল । তারা মনে করেছিল মোবাইল ফোনের মত পিএসটিএন ফোন পাবলিক বেশী বেশী খাবে । বাংলাদেশকে কয়েকটা জোনে ভাগ করে অসংখ্য পিএসটিএন ফোনের লাইসেন্স দিয়েছিল । তখন পত্রিকায় রেংকস টেল, বে ফোন্স সহ অনেক ফোন কোম্পানী বিজ্ঞাপন দেখা যেত ।এরপর তারা যখন মোবাইল ফোন কোম্পানীরগুলোর সাথে ব্যবসার দৌড়ে পারল না ক্ষতির সম্মুখীন হল তখন তারা ক্ষতি পোষাবার জন্য অবৈধ কল টার্মিনেশন তথা ভিওআইপি করা শুরু করল ।এই কারনে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক গুলো কোম্পানী বন্ধ করে দেয় ও জরিমানা করে । এখন কি এসব পিএসটিএন ফোন কোম্পানীরগুলো আছে ? উত্তরটা আপনারাই দিন ।
অনেক উদ্যোক্তা বেসরকারী মেরিন একাডেমি চালানোর অনুমতি নিয়েছে তারা মনে করেছে মেরিন একাডেমি চালানো প্রাইভেট ভার্সিটি বা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ চালানোর মত সহজ । অধিকাংশ বেসরকারী মেরিন একাডেমি এভাবে ছাত্র না পাইলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে তাহলে বেসরকারী মেরিন একাডেমির উদ্যোক্তারা কি ব্যক্তিগত বাড়ী জমি বিক্রি করে একাডেমি চালাবে ।অবশ্যই না । ২ বছর প্রী সী প্রশিক্ষণের পর ১২ মাসের অনবোর্ড জব ট্রেনিং কে আপনি চাকরী বলেন ইন্টার্নশীপ বলেন শিক্ষানবীশকাল বলেন অথবা অন্য যে নামেই অবহিত করেন না কেন এটা একটা পাবলিক পারসেপসান যে ২ বছর প্রী সী প্রশিক্ষণের পর ১ বছর জাহাজে চাকরী নিশ্চিত করতে হবে । এটার জন্য আইন থাকুক আর নাই থাকুক । থাকলে ক্যাডেটদের জন্য বাড়তি সুরক্ষা ।বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর ক্যাডেটদের নিয়া সরকার বেকায়দায় কারন এত গুলো ছেলের চাকরি দেয়া কি চট্টিখানি কথা ।তাই কোন সরকারই চাইবে না বেসরকারী মেরিন একাডেমির ক্যাডেটদের দায়িত্ব সরাসরি নিজের ঘাড়ে তুলে নিতে । বাপরে একটার জ্বালায় বাচি না আরো ১৮ টা ।ছেড়ে দে মা কেদে বাচি অবস্থা । অনেক প্রাইভেট একাডেমী ১ম ও ২য় ব্যাচ সগৌরবে চালায় কিন্তু ৩য় ও ৪র্থ ব্যাচের ছাত্ররা যখন জানতে পারে যে ১ম ব্যাচের ছাত্রদের এখনও জাহাজে অনবোর্ড করতে পারেনি তখন তারা ২ বা ৩ মাস পর পালায় এবং এটাই স্বাভাবিক ।ক্ষতি সামাল দেয়ার জন্য বেসরকারী মেরিন একাডেমিগুলো তখন সনদ জালিয়াতি, সনদ বিক্রির মত অবৈধ কাজ করবে পিএসটিএন ফোন কোম্পানীরগুলোর মত ।আর তখন আইএমও বাংলাদেশকে কালো তালিকাভুক্ত করবে যার অনেক লক্ষণ এখন দৃশ্যমান ।এতে করে ১৯৬২ সাল থেকে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী ক্যাডেটদের তিল তিল করে গড়ে তোলা সুনাম ও অর্জন ধ্বংস হবে ।অলরেডী আইএমও ২০০৯ সাল থেকে ইস্যু হওয়া বাংলাদেশী সিওসি গুলোকে বাকা চোখে দেখে ।
©somewhere in net ltd.