নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এই সেই জন

সময়ের সাথে সাথো চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করার প্রয়াসে … …

তারেক আযামী

অপরিপক্ক হাতে অগোছালো ব্লগিং

তারেক আযামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি হজ ও তাবলিগ জামাতের বিরোধী : কুখ্যাত মুরতাদ আঃ লতিফ সিদ্দিকী

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:০৩

নিউ ইয়র্কে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুখ্যাত মুরতাদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী
হজ, তাবলিগ জামাত, সজীব ওয়াজেদ জয়, টক শো ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

গতকাল রোববার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্ক টাঙ্গাইল সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের এই ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।পবিত্র হজ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’

রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীদের সাথে এক মতবিনিময়কালে একথা বলেন। তিনি তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত ‘টক শো’রও সমালোচনা করেন।

মন্ত্রীর পবিত্র হজের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য রাখার পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও এ মন্ত্রী একাধিকবার অসংলগ্ন কথা বলেছেন। তাকে এখনো মন্ত্রিসভায় রাখায় তারা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এধরনের বক্তব্যে বিস্মিত দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সভাস্থলেই অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলে একপর্যায়ে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক সফর করছেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলীগ জামাতের।’ তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোন কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এভারেজে (গড়ে) যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়; প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’

তিনি হজের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে এদের একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।

তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন প্রবাসী মন্ত্রীকে বাংলাদেশের কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি কোন পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। সে সময় ওই প্রশ্নকর্তা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রসঙ্গ টানেন। জবাবে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘জয় ভাই কে?’ ওই সময় মঞ্চে থাকা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়।’ আমরা জানতে পেরেছি এ ব্যাপারে জয়ভাই ইন্টারনেটের কানেকশনের কাজ করছেন। এসময় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে দেখা যায় মন্ত্রি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে।এসময় প্রশ্নকর্তা বলেন, তার তো এ ব্যাপারে প্ল্যান রয়েছেই। মন্ত্রী এবার বলেন, ও সেটা বলেন, ওনার একটা প্ল্যান আছে। এসময় মন্ত্রী তার ডান পাশে উপবিষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সভাপতি এবং একজন প্রবাসীকে দেখিয়ে বলেন, এ ধরনের প্ল্যান সিদ্দিকুর রহমান করতে পারে, সে-ও করতে পারে। জয় কম্পিউটার বা ইনফরমেশন টেকনোলজি সায়েন্টিস্ট। তার নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। সরকার জনগণের। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। তিনি তার মায়ের তথ্য উপদেষ্টা। এটাও ঠিক আছে। তিনি শিক্ষক সেটাও ঠিক আছে। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। কার্যকর করেন মন্ত্রী।

ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় যা কিছু তার দায় মন্ত্রীর। বর্তমান মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দায়িত্ব। এখানে জয়ের কিছু নাই। মন্ত্রী বলেন, একজন একটি বই লিখেছেন। সে বইয়ের লেখকের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। যিনি পড়াচ্ছেন এবং পড়ছেন দায়-দায়িত্ব তাদের। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন?’

মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সবসময় কামলাই দিবেন। রাজনীতি করার দরকার কি? টিভির টক শো’র সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বরেন, আমরা রাগ হলে দেশে একটা গালি দেই চু..মা..নি (অশ্রাব্য একটি গালি)। এসময় হলভর্তি প্রবাসীদের বিশ্মিত পিনপতন নীরবতা। মন্ত্রী ওই গালির সাথে মিল রেখে টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের ‘টক মারানি’ বলে আখ্যায়িত করেন।টেলিভিশনের টক শো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ওদের আমি বলি ‘‘টক মারানি’’।’ তিনি বলেন, ‘যারা টক শোতে যায় তারা টক ম্যান। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে। টকমারানিদের আর কোনো কাজ নেই।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বারবার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন মন্ত্রী। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমার মতো কথা বলব? আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?’

মন্ত্রী বলেন, ওয়ান এলিভেনের পর আমি যাদের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলাম। এক লাখ পেয়েছি। তাদের কোনো তদবির আমি এখন রক্ষা করি না।প্রবাসীদের উদ্দেশে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে। রাজনীতি করার দরকার কী?’ মঞ্চে বসা টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. নুরুন্নবীকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একবার তাঁর (নুরুন্নবী) কাছে চাঁদা চেয়েছিলাম। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এক লাখের কম কারও কাছ থেকে চাঁদা নেয় না।’

এদিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অসংলগ্ন বক্তব্যের সময় হলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মন্ত্রীর এসব বক্তব্যে মঞ্চে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা উসখুস করতে থাকেন।

ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হজ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যের পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এদিকে ইসলামবিরোধী মন্তব্য করার কারণে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই সাথে তাকে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পৃথিবীর দেড়শ’ কোটি মুসলমানের কাছে নিজের জীবনের চাইতে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি মানবতার মুক্তির দূত এবং মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। অন্যদিকে হজ মুসলমানদের প্রধান পাঁচটি মৌলিক ধর্মীয় স্তম্ভের অন্যতম। পবিত্র হজ ও হাজীদের কটাক্ষ করা মহানবী সা:-কে বিদ্রুপাত্মক ভাষায় তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধা দেখিয়ে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্কে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন তা কেবল একজন উগ্র নাস্তিকের পক্ষেই সম্ভব। আমরা অবিলম্বে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার এবং ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে দেশের কোটি কোটি নবীপ্রেমিক জনতা আবারো নাস্তিকবিরোধী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এছাড়া আরও একবার প্রমাণিত হবে আ’লীগ নাস্তিক-মুরতাদদের দল।

নেতারা আরো বলেন, আমরা ক্ষুব্ধ, বিস্মিত, স্তম্ভিত এবং লজ্জিত যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে গিয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবীর ব্যাপারে জঘন্য কটূক্তি, পবিত্র হজ ও হাজীদের ব্যাপারে চরম আপত্তিকর মন্তব্য এবং তাবলীগ জামাআতের ব্যাপারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে সাহস কি করে পেলেন।

আমরা একই সাথে হুশিয়ারি উচ্চারণ করছি, সরকার ও প্রশাসন যদি তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে তার জন্য সালমান রুশদী ও তাসলিমা নাসরিনের পরিণতি অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের মাটিতে তাকে পা রাখতে দেয়া হবে না; সেই সাথে সংখ্যারিষ্ঠ নবীপ্রেমিক জনতা সরকারের হঠকারিতারও উপযুক্ত জবাব দেবে।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সারাদেশে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর আমেরিকায় বসে ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জঘন্য ধৃষ্টতাপূর্ণ কটূক্তি এবং তাবলীগ জামাত সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিকভাবে ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ হয়েছে। মিছিল শেষে কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে জনতা।

সমাবেশ বক্তারা বলেন, পবিত্র হজ ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জঘন্য ধৃষ্টতাপূর্ণ কটূক্তি এবং তাবলীগ জামাত সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে লতিফ সিদ্দিকী মুরতাদ হয়ে গেছে। সে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের অন্তরে আঘাত করেছে। তার কথায় ১২৫ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি সে বক্তব্য প্রত্যহার করে তাওবা না করে তবে সারা দেশব্যাপী ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হবে। বিদেশের মাটিতে বসে ইসলাম ও মহানবীর বিরদ্ধে কটূক্তি করার দুঃসাহস দেখিয়ে সে যে জঘন্য অপরাধ করেছে এর জন্য প্রয়োজনে তার ফাঁসির দাবিতে লাগাতার হরতালের কর্মসূচিও দেয়া হবে।

হজ ও তাবলিগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে কাফের হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের স্বাধীনতা স্কয়ার চত্বরে এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সমপ্রচার নীতিমালা বাতিলের দাবিতে এবং বিচারপতিদের অভিশংসন সংসদে ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরূপ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চরমোনাইর পীর বলেন, “এই বক্তব্য দেয়ার ফলে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে কাফের হয়ে গেছেন। কেননা হজ ইসলামের মূল পাঁচ ভিত্তির অন্যতম। এখন থেকে সে (লতিফ) নিজেকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না।” তিনি অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ সম্পর্কে চরম ধৃষ্টতা পূর্ণ মন্তব্য ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার ব্যাপারে নবীপ্রেমিকের মিথ্যা দাবীদার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামধারী মাজার পূজারী ভান্ডারী ও অন্যান্য ভন্ড ইসলামী গোষ্ঠীগুলোকে নিরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে বরাবরের মতো নাস্তিক মুরতাদদেরকে সমর্থন দিয়ে যেতে দেখা গেছে।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০১

আমায় ডেকো না বলেছেন: নিন্দুকেরা বলে নির্বাচন আসলেই তিনি হাতে তসবিহ নেন আর মাথায় দেন হিজাব। আর তাঁর দলীয় কর্মিরা বলে তিনি আসলেই একজন ধর্মপ্রান মুসলমান। তারা আরো এ কথাও বলেন তিনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও নাকি আদায় করেন নিয়মিত, এমনকি তাহাজ্জুদের নামাজও নাকি আদায় করেন। প্রতি বছর তিনি হজ্বও পালন করেন। কিন্তু এসবই কি শুধু রাজনৈতিক প্রচারনা? নাকি এর মধ্যে কিছু হলেও বস্তু নিষ্ঠতা আছে? থাকলে আজ সেটার প্রয়োগ দেখটে চাই। হ্যাঁ, আমি আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কথাই বলছি।আজ প্রায় সমস্ত জাতীয় দৈনিকে উনার মন্ত্রীসভার একজন (অ)সভ্যের মুসলমানদের প্রানের চেয়েও প্রিয় নবী হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে এবং ইসলামের মুল স্তম্ভের একটি, হজ্জ সম্পর্কে চরম বেয়াদপিপুর্ন এবং ধৃষ্টতাপুর্ন মন্তব্য ছাপা হয়।
"ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী, এর চেয়ে বেশি হজ ও তাবলিগ বিরোধী।’ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী রবিবার টাঙ্গাইলের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে এসব কথা বলেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়- টকশোর আলোচকদের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা টকশোয় যায়, তারা টকম্যান, টকমারানি। এদের সঙ্গে চুতমারানিদের কোনো পার্থক্য নেই। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় তারা সারা দিন ক্যামেরার সামনে গিয়ে বিড়বিড় করে।’হজ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাত- দুটোরই ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাজ নেই। এদের কোনো প্রোডাকশন নেই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। অ্যাভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ লোক হজে যায় আর প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে খরচ করে আসে তাহলে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’ হজ কীভাবে এসেছে তারও একটি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আবদুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এই জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটা ব্যবস্থা করল যে, তার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’ঢাকার তুরাগ পাড়ে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গ তুলে নিয়ে আসেন মন্ত্রী। বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। আবার সারা দেশের গাড়িঘোড়াও তারা বন্ধ করে দেয়।’লতিফ সিদ্দিকী তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন? জয় ভাই কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ারও কেউ নন।’জয়কে নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় : প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক সফররত মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। মন্ত্রী প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সবসময় কামলাই দেবেন।’ প্রবাস থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকাগুলোকে লতিফ সিদ্দিকী ‘টয়লেট পেপার’ বলে আখ্যায়িত করেন। টিভির টকশোয় যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের ‘টকমারানি’ বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, “এদের সঙ্গে ‘চুতমারানিদের’ কোনো পার্থক্য নেই।” মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যাদের কাছে ৪ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে ১ লাখ পেয়েছি তাদের কোনো তদবির এখন রক্ষা করি না।’একই সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ধর্ম নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর এসব অস্বাভাবিক কথাবার্তায় সভাস্থলের ভিতরে ও বাইরে প্রচণ্ড ক্ষোভের সঞ্চার হলে এক পর্যায়ে তাকে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়কে নিয়ে খোদ ক্ষমতাসীন দলের একজন মন্ত্রীর এমন কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এটি এখন নিউইয়র্কসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ‘টক অব দ্য কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে। - See more at: Click This Link
এই বেয়াদপের চরম শাস্তি দিয়ে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী প্রমান করুক যে তিনি মুসলমানদের প্রানের চেয়েও প্রিয় নবী হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত। আজ যদি মন্ত্রীসভার কোন সদস্য মাননীয়া প্রধান মন্ত্রীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ডাকাত বলতো তাহলে তিনি কি করতেন? নিশ্চয় দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দিতেন। তাহলে হজ্জ এবং সমস্ত মুসলমানদের প্রানের নবী হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে চরম বেয়াদপির ফল উনি কি দেন এখন দেশবাসী তা দেখতে চায়।
সেই সাথে আমাদের সকলেরই উচিত এই ব্যাপারে শক্ত অবস্হান নেওয়া।




২| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৬

েমাহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন: সব কিছুরই একটা সিমানা থাকে ! ইসলামের মূল স্তম্ব পবিত্র হজ্জ নিয়ে মন্তব্য করাটা কোন ভাবেই সঠিক হয়নি। সাধারণ একজন মুসলমান হিসাবে আমিও এই বক্তব্যের নিন্দা জানাই।

৩| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৪৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
এই বক্তব্যের ভিডিও বা অডিও কিছুই পেলাম না।

এসবের সুত্র নিউইয়র্কের একটি ২ টাকার চটি পত্রিকা।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:১০

তারেক আযামী বলেছেন: http://youtu.be/aiyME4XM5hk

৪| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:০১

এনটনি বলেছেন: সারা দুনিয়া ভিডিও দেখে ফেলল আর এখানে দেখি কেউ কেউ কিছুই পেলনা!

হজ নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী: http://youtu.be/aiyME4XM5hk

৫| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১২:৪৬

ইসপাত কঠিন বলেছেন: হাসান কালবৈশাখী@ এখন তো জানলেন। কোন মন্তব্য?

৬| ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৯

তারেক আযামী বলেছেন: হাসান কালবৈশাখী
www.somewhereinblog.net/blog/mmdhw
www.facebook.com/kjhor1
হয়তো এখনো নিউয়র্কের ২টাকার চটি পড়ছেন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.