নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গাজী তরিকুল ইসলাম

গাজী তরিকুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

তালবেতাল : পুষ্প তুমি ভালো থেকো

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৮:৫৪

পুষ্প তুমি ভালো থেকো ।

সেদিনের সেই মেঘে ভরা আকাশ, ঝুমঝুম বৃষ্টি, ভরা ভাদরের মহরায় তোমার প্রথম দেখা । মনে পড়ে ? তোমার অবশ্য মনে পড়ার কথা না ! আমরা আমাদের বিশেষ মুহুর্তগুলো মনে রাখি । ভাদ্রের সেই দুপুর আমার জন্য নতুন যুগের অরুণোদয় হলেও তোমার জন্য বিশেষ কিছু নয় । তুমি ছিলে একা ! নাকি ভুল বল্লাম ? তোমার সাথে তোমার মা আর বোন থাকলেও মনে হচ্ছিলো না তুমি তাদের দলের কেউ ! আমি দেখেছিলাম তোমাকে , শুধুই দেখেছিলাম ।

দেখেছিলাম কারন তুমি একটা মেয়ে । এই দেখাই আমার কাল হলো । আমি ভাবতে থাকলাম এবং তোমাতে মজতে থাকলাম । ভেবেছিলাম তুমি খুব মুডি হবে । তুমি যে মুডি নও এমনটা না , তবে ফ্রেন্ডলিও বটে ।

আমাদের সাক্ষাত ছিলো অবধারিত । নাহ ! ইশ্বরের বিশেষ কোনো কৃপা নয় , আমরা ক্লাসমিট হিসেবে একই কলেজে স্বেচ্চা নির্বাসন নিয়েছিলাম ! স্বেচ্ছা নির্বাসন না ? তখন তো সেটাকে তেমনই মনে হতো !

তারপরের অনেক কিছুই তোমার মনে থাকবে । কারন আমরা বিশেষ সুখের বা বিশেষ দুঃখের মুহুর্তের পাসে যন্ত্রনার এবং বিরক্তির সময়গুলোও মনে রাখি । রাখি বলতে রাখতে চাইনা, মানুষ্য চালক প্রোগ্রামবাগ এর কারনে স্বৃতি সেগুলোকে নিজ দায়িত্বে ধরে রাখে । এইজন্য হয়তো তুমিও আমাকে অনেকদিন মনে রাখবে ।

অনেক জ্বালিয়েছি তোমাকে । ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, আশায়-হতাশায়, রাগে-অনুরাগে বোকার মতো বারবার তোমার বিরক্তির কারণ হয়েছি ।

একবার তুমি ফেসবুক ছাড়া হয়েছিলে আমার বাড়াবারিতে । টিচারের বকা খেয়ে কেঁদেছো । বলেছো আমার সাথে আর কখোনো কথা বলবে না । কিন্তু তুমি এতই উদার , আমাকে আবার ফেসবুকে বন্ধু বানিয়েছো , আবারো আমার সাথে কথা বলেছো ।

যখন কলেজ ছেরে চলে আসলাম , ভেবেছিলাম সব ফেলে চলে যাচ্ছি । কলেজে আর আসতে হবে না , তোমাকেও আর দেখতে হবে না ।

কিন্তু সেটা চরম সত্য ছিলো না । আফিশিয়াল কাজেই আবার কলেজে আসতে হয়েছে । পলকের জন্য হলেও তোমাকে দেখতে হয়েছে ।

পুষ্প তুমি সূখি হও । তোমার স্বপ্নীল জীবন রংধনুর সাতরঙ্গে রঙ্গীল হউক । তুমি সফল হও ।

তোমার ফোন নাম্বার আমার কাছে ছিলো বটে, কখোনো সাহস করিনি । ভয়ে ?? হ্যা ভয়েই । তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে , তখন সত্যটা বলিনি । ফেসবুকে তুমাকে পেতাম মাঝে মধ্যে । ভদ্রতাবসত হোক আর যে জন্যই হোক , তুমি জবাব দিতে । ফোন নাম্বারও দিলে । তোমার সাথে কথা হতো খুবই অনিয়মিতো ।

শেষের দিকে তোমার আচারনগুলো অদ্ভুত হতে শুরু করেছিলো ।অদ্ভুত ? নাকি ওটাই স্বাভাবিক ? হয়তো স্বাভাবিকই হবে ! আমি বুঝিনি , যদিও আমার বোঝা উচিত্‍ ছিলো । বুঝিনি এমনও না , সম্ভবতো বুঝতে চাইনি । অনেকদিন ভেবেছি তোমাকে আর ফোন দিবো না । ডাইরেক্টরি থেকে নাম্বারও মুছে দিয়েছি বহুবার । তারপর আবার কনভারসেসানের মেসেজের স্তুপ থেকে নাম্বার খুজে কল দিয়েছি । আমি পারিনি ।

শেষে যখন তোমার চুরান্ত বিরক্তির কারন হলাম , একদম নিঃস্বার্থভাবে তোমার স্পর্সকাতর ইস্যুতে নিখুতভাবে আঘাত করে তোমাকে চুরান্ত রকমের বিরক্ত ও হতাশ করলাম , তুমি সম্ভবত রেগেও গিয়েছিলে । জানো , তোমার কাছে যখন ধরা খেলাম তখন খুব লজ্জা লাগছিলো । খুব খারাপও লাগছিলো । আমি অস্বীকার করে যাচ্ছিলাম অনবরত । কিন্তু তোমার কাছে আমার অভিনয় টিকলো না । আমি দক্ষ অভিনেতা আর তুমি পেশাদার দর্শক ।

বোকামির জন্য নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগছিলো । তোমার রিলেশন ভেঙ্গে গেলে তাতে আমার লাভ কি ? আমি তো তোমার সূখ চাইতাম ! আর তোমার সম্পর্ক ভাঙ্গলে তুমি কষ্ট পাবে ! সিন্ধান্ত নিলাম তোমাকে আর ঘাটাবো না । সরি বলে তোমাকে টেক্সট করে আমার সিন্ধান্ত জানিয়ে দিলাম । তাত্‍ক্ষনিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে ফোন করে তুমি স্বান্তনা দিলে । আর দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া হিসাবে তুমি নাম্বারই চেঞ্জ করে ফেললে ।

পুষ্প তুমি বেচে থেকো । এরপর তোমাকে আর পাওয়া যায়নি । ফোন করেছিলাম কয়েকবার । ভুলভাল বকেছে শুধু । ঢাকার রাস্তায় আর গলিতে হাটতে হাটতে ভাবি হটাত্‍ হয়তো তোমার দেখা পেয়ে যাবো । আর তুমি হবে সেই চিরচেনা । আমি তো তোমার বন্ধুই ! কোনোদিন কোনো কাজে না আসলেও অকাজে আমার জুড়ি নেই !

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.