| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক’দিনবাদে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে
শুরু হচ্ছে টেস্ট উৎসব। ওই অঞ্চলের মানুষদের মাঝে
নিশ্চয় অন্যরকম আনন্দই বইছে। খুলনার সঙ্গে
আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারতো গোটা
উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীরাও। কিন্তু কি কারণে
বারবার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে বগুড়ার শহীদ চান্দু
স্টেডিয়াম, এ প্রশ্নের সুদত্তর দিতে পারেন না
কেউই। বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বগুড়ার যাত্রা শুরু
হয়েছিল ২০০৬ সালে। আর উৎসবের শহর বগুড়ায়
সেবার আনন্দটা দ্বিগুন হয়েছিল যখন হাবিবুল বাশারের
বাংলাদেশ প্রথমবার শ্রীলংকাকে পরাজয়ের স্বাদ
উপহার দিয়েছিল। যদিও প্রথম ওয়ানডেটি হেরেছিল
বাংলাদেশ। অন্যসব দেশগুলোর সঙ্গে পেরে উঠলেও
বাংলাদেশ কিছুতেই পেরে উঠছিল না লংকানদের সঙ্গে।
অবশেষে অধরা সেই জয় এলো বগুড়ায়। এ নিয়ে
বগুড়াবাসীরও গর্বের শেষ নেই। তাদের আরও বুক
ফুলিয়ে গর্ব করার সুযোগ এনে দিল ওই বছরই
জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া সিরিজের তিনটি ম্যাচ। তিন
ম্যাচেই বিজয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচের
৪টিতে জয়। শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে বাংলাদেশের পয়া
ভেন্যু না বলে উপায় আছে? নিন্দুকেরাও শহীদ চাঁন্দু
স্টেডিয়ামের গুনমুগ্ধ। কিন্তু ২০০৬ সালের ৫
ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেষ ওয়ানডের পর
এমন কি ঘটলো, যে এখনও তার কুল-কিনারা পাওয়া
যায় না! শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়ে-কেনিয়া এই তিনদেশের
সঙ্গে পাঁচ ওয়ানডে এবং লংকানদের সঙ্গে এক
টেস্টের পর সুদীর্ঘ আট বছরে আর কোন
আন্তর্জাতিক ম্যাচই গড়ালো না শহীদ চাঁন্দু
স্টেডিয়ামে! অদৃশ্য হাতের ইশারায় বারবার উপেক্ষিতই
থেকে যাচ্ছে শহীদ চাঁন্দু! আর নিরবে যেন ডুকরে
কাঁদছে স্টেডিয়ামটি! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
(বিসিবি) থেকে যুক্তি দেখানো হয় বিমানবন্দরসহ
অন্য সুযোগ-সুবিধাগুলো অপ্রতুল। তাই ইচ্ছা
থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না বগুড়ায় ম্যাচ আয়োজনের।
প্রশ্নটা এসে যায় এখানেই, তাহলে শ্রীলংকা-
জিম্বাবুয়ে আর কেনিয়া খেলে গেল কিভাবে?
অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা কি নেই শহীদ চাঁন্দু
স্টেডিয়ামে। আন্তর্জাতিক মানের প্রেসবক্স,
ভিআইপি বক্স, হসপিটালিটি বক্স সঙ্গে দিবা-রাত্রীর
ম্যাচ আয়োজনের জন্য ফ্লাড লাইট। প্রতিকুল
আবহাওয়াতেও যাতে অনুশীলন করা যায় তার জন্য
রয়েছে ইনডোর সুবিধাও। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে
শ্রীলংকার বিরুদ্ধে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের অভিষেক
হলেও যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে যুব
বিশ্বকাপের ম্যাচ দিয়ে। এরপর জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের
সাথে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের এবং ইংল্যান্ড যুব দলের
সঙ্গে বিসিবি হাই পারফরম্যান্সের ম্যাচও আয়োজন
করে বগুড়া। এসবের সফল আয়োজন দেখে আইসিসি
২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারী শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে
আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি দেয়। এই আট বছরে
ঘরের মাঠে বাংলাদেশ প্রায় ৬০টির বেশি ওয়ানডে
খেলেছে। যার একটি ম্যাচও শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের
ভাগ্যে জোটেনি। বেশিরভাগ সময়ই বগুড়ায় অন্যসব
ম্যাচ পড়ে কেবল ঢাকায় মাঠ সমস্যা দেখা দিলে।
সাত্বনা তো নয়ই বরং এতে বগুড়াবাসীর দুঃখ আরও
বাড়ে। তারপরও ক্রিকেটকে ভালবাসে ‘এ’ দল,
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) জাতীয় ক্রিকেট লিগ
(এনসিএল) ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখতেও
স্টেডিয়ামে ছুটে যাচ্ছেন বগুড়ার ক্রিকেট ভক্তরা।
কিন্তু এভাবে আর কতদিন তাদের আন্তর্জাতিক
ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে?
©somewhere in net ltd.