নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

৫২ আর ৭১ এর চেতনায় আছি বাধা

সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল

ধীবর

সাংবাদিক কলামিস্ট

ধীবর › বিস্তারিত পোস্টঃ

সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল...

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০৪





বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ভেবেছিলাম প্রত্যক্ষদর্শিদের বর্ণনা থেকে স্মৃতিচারণমুলক একটা লেখা লিখবো। যেমন গত বছর দিয়েছিলাম। কিন্তু বিধি বাম ! আম এবং আমড়ার দর সমান বিবেচনার কারণে সংরক্ষিত পাতায় লেখাটি প্রকাশিত হবে না বলে ক্ষান্ত দিলাম। তবে ১৬ই ডিসেম্বরের আগে অবোধ কারো কারো সুমতি হলে, হয়তো সেই লেখাটি লেখা হলে হতেও পারে।



আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট কিন্ত সেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু। যার চুড়ান্ত পরিণতি ১৯৭১ এর রক্তক্ষয়ি সশস্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ।



অথচ আমাদের সেই স্বাধীনতার গৌরবময় দিনগুলিকে বছরের দুটি মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। ফলে ডিসেম্বর আর ফেব্রুয়ারী এলেই, বাকি ১০ মাসের ভুলে থাকার অনুশোচনাকে পুষিয়ে দেবার নিমিত্তে অতিরিক্ত আচরন করা হয়ে থাকে। যা এক দিকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভাবগাম্ভির্য্যকে হাল্কা করে দেয়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে শ্রেফ আনুষ্ঠানিকতা বা পার্বনের মত করে উপস্থাপিত হয়।



ফলে যে নিদারণ ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে একটি স্বাধীন জাতিসত্ত্বার উদ্ভব ঘটেছিল, সেটি যথাযথ মর্যাদায় পরবর্তি প্রজন্মের কাছে গ্রহনযোগ্যতা লাভ করেনি। আর সেকারণেই বিদেশপ্রীতি এবং বিদেশি অনুকরণে আমরা অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি।



সেই অভ্যস্থতার সবচেয়ে বিপদজনক দিকটি হলো আপন সার্বভৌমত্বের প্রতি এক ধরণের অবহেলাবোধের জন্ম হওয়া। সাথে হীনমন্যতা যুক্ত হবার কারণে, স্বাধীনতার পর যে বাংলাদেশে সার্বভৌমত্বের দিকে আঙ্গুল তোলবার মত কেউ ছিল না, মাত্র ৩৮ বছরে এখন সেই সার্বভৌমত্বের দিকে মধ্যমা তুললেও, সেটা পরোক্ষ সমর্থনও লাভ করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারিদের উপর নেমে এসেছে কন্ঠরোধকারি নিষেধাক্ষা, কখনো দেশদ্রোহিতার অপবাদ।



যেমন গত ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি সিরিজ প্রকাশের করবার পর, জনৈক সহব্লগার আমার প্রতি একটি কুৎসিত ইঙ্গিত করেছিলেন, কারণ আঃ লিগ ও ভারতের বিরোধিতা করে আমার বেশ কয়েকটি লেখা ছাপা হয়েছিল। ঐ একই ব্লগার আবার ভারত কেন আমাদের মিত্র নয় সে বিষয়ে বিস্তারিত লেখার জন্য চ্যালেঞ্জ ছূড়ে দিয়েছিলেন। আমি এ ব্যাপারে লিখলেও, তাকে আর বিরোধিতার জন্য এর ধারে কাছেও দেখিনি। সম্ভবত লজ্জায় তিনি মুখ লুকিয়েছিলেন। স্বদেশের বিরুদ্ধে ভিন একটা দেশের অন্যায়ের পক্ষ্যে সাফাই গাইবার এমন নির্লজ্জ্য উদাহারণ একমাত্র বাংলাদেশেই আছে। যেটা করে থাকে দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবির দল।



পিতা ও শশুর গৃহ, দুইই যার বাংলাদেশের বাইরে এমন লোকও দেশপ্রেমিক সুশিলের তকমা গায়ে আটে। তার সাথে চ্যালাচামুন্ডাও জুটে যায়, যারা ঐ ধরণের লোককে মাথায় তুলে নাচে। আমাদের পাশের দেশের স্বভাষিরা যতই কটুভাষন করুক না কেন, অজানা কারণে এদের মাথায় তুলে নাচবার লোকেরও আজকাল অভাব হচ্ছে না। এমনকি, আপন ঘরে বিদেশি কেউ এসে মা বাপ তুলে গালাগাল করলেও, তার বিরুদ্ধে নাকি প্রতিবাদ করা যাবে না। কেন? তাতে সুশিলত্বের সতিত্বহানি হয়। উন্মুক্ত নিম্নাঙ্গের উর্ধাঙ্গ আব্রতদেরই বোধ করি সুশিল বলা হয়ে থাকে।



আর এসব অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে আপন গতিতে চলতে না দেয়ার কারণে। সবাই চাইছে আপন পাতে ঝোল টানতে। সরকার বদলায়, সাথে বদলায় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। তো পোড়োরা কোনটা সত্যি কোনটা নয় সেটা পার্থক্য করবে কি করে?



ফলাফল, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তার অনিহা। আপন শেকরের দৈন্যদশা দেখে লজ্জিত প্রজন্ম, সান্তনা খোজে প্রতিবেশির রাংতায় মোড়ানো ........... চলবে...।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৮

সেলিম মোল্লা বলেছেন: খুব সত্য চালিয়ে যান।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৩৯

ধীবর বলেছেন: ধন্যবাদ সেলিম ভাই।

২| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৭

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন: +। ভালো লাগল। নিয়মিত লেখা চাই।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৪১

ধীবর বলেছেন: সঙ্গতকারণেই নিয়মিত লেখা হয়ে উঠে না বা-জি ভাই। তাও আপনাদের মত গুণমুগ্ধদের জন্য লেখাটা চালিয়ে যাই। অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.