| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একুশ শতকের অদৃষ্ট,সুপথের সন্ধানী তবু পথভ্রষ্ট,পূর্নতায় হৃদয় সিক্ত,রজক জয়ন্তী পূর্ন বন্দি অবশেষে মুক্ত।
কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে তার কালি, ঠোঁটের কোণে ক্লান্ত একটা হাসি। আমি তারে বলি, "ভাই, তুমি কে?" সে কিছু বলে না। শুধু চশমাটা একটু ঠিক করে নেয়।
একসময় কবিতা লেখতাম। বেশিরভাগ বাতাসে, চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বইসা, কাপের ভাপে লাইন বানাইতাম, ভাপের সাথেই সেগুলা মিলাইয়া যাইত। কিছু টুকে রাখতাম পুরানো খাতার পাতায়, ছোটবেলা থেকেই। সেই খাতা কোথায় আছে, জানি না।
তখন মনে হইত, কবিতা মানে বাঁইচা থাকা, আর বাঁইচা থাকা মানেই কবিতা। আমাদের দেবতা ছিল সুনীল, নজরুল, জসীমউদ্দীন, আর পাশের টেবিলের জাহিদ-মারজুকরা। পকেটে পয়সা নাই, কিন্তু আকাশটা আমার। ছেঁড়া স্যান্ডেল, এলোমেলো চুল, বন্ধুদের গলা জড়াইয়া মাঝরাতে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটা। কোথাও যাওয়ার নাই, তাই সব জায়গাতেই যাওয়া যাইত।
আজ আমার একটা ক্যালেন্ডার আছে। মিটিং আছে, ইএমআইতে কেনা গ্যাজেটের বিল আছে, "ঠিক আছে, পরে কথা হবে" নামের এক অদ্ভুত বাক্য আছে। কবিতা মরে নাই, মরছে সেই লোকটা, যে কবিতারে দরকার ছাড়াই ভালোবাসত। এখন শব্দ আসে, কিন্তু আসে ইমেইলের চেহারায়। হৃদয় ভরা থাকলেও হাতে আসে কেবল "Regards"।
বন্ধুরা ছড়াইয়া গেছে। কেউ আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যে, কেউ কবরে। যারা আছে, তাদের সাথে দেখা হয় কয়েক বছরে একবার, বিয়েবাড়িতে বা জানাজায়, অথবা মেসেঞ্জারের চ্যাট লিস্টে সবুজ বাতিতে। একেকটারে মনে কইরা নক দিয়া বলি, "দোস্ত, কী খবর?" আসল খবরটা কেউ জিজ্ঞেস করি না, কারণ উত্তরটা সবাই জানি। আমরা সবাই একটু একটু কইরা ক্ষইয়া যাইতেছি, নদীর পাড়ের মতো। কেউ দেখে না, কিন্তু একদিন দেখা যায় মাটিটাই নাই।
খাতার এক কোণে লেখা একটা লাইন আজও মনে আছে:
"তুই, তোরা, তারা কোথায় ?
কোথাও কেউ নাই, শুধুই সময়ের অপচয়।"
তবু মাঝেমধ্যে, কোনো এক শরতের বিকালে, যখন বাতাসে কাশফুলের গন্ধ আর আকাশে ধোওয়া নীল, তখন বুকের ভিতর কী যেন নড়ে ওঠে। আলেকজান্ডাররের শহর নর্থ মেসিডোনিয়ার স্কোপিয়ে শহরের কোনো এক ফুটপাতে দাঁড়াইয়া মনে পড়ে টেংরাখোলার সেই ধুলাওড়া রাস্তা, মায়ের ডাক, আর নদীর ঘাটে বসা সেই ছেলেটারে, যে লুঙ্গির কোঁচা সামলাইতে সামলাইতে ভাবত, "আমি একদিন সব বদলাইয়া দিবো।"
বদলায় নাই কিছুই। বদলাইছি শুধু আমি।
তবু একটা কথা মানি। কবিতা মরে নাই, সে শুধু চুপ হইয়া গেছে। বুড়া মানুষের মতো, কথা কমাইয়া, তাকাইয়া থাকে। একদিন হয়তো আবার নদীর পাড়ে লুঙ্গি পইরা বসবো, কাউরে কিছু না বইলা। তখন সে হয়তো পাশে আইসা বসবে, আর কিছু না কইয়াই সব কইয়া দিবে।
তারপর?
বেঁচে আছি ভালোবাসায়,
শঙ্কায়, আশঙ্কায়,
শত আলোকবর্ষের যাত্রায়।
ততদিন, নাহ্, বয়স বাড়ুক। চুল পাকুক। ভুঁড়ি যা হওয়ার হোক।
শুধু মায়াটা যেন না মরে।
-মুহাম্মাদ তমাল
ফ্রাঙ্কফুর্ট,জার্মানী
২|
২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:১৯
মুহাম্মদ তমাল বলেছেন: তুমি আমি ছুটে চলি এই শহরে, জীবিকার তাগিদে।
আমাদের মন ভর্তি আবেগ, পেট ভর্তি খিদে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:১২
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: মাঝে মাঝে মন চায় সব ছেড়ে-ছুড়ে কোন এক সাগর পাড়ে বসে থাকি। কিন্তু ক্ষুধার কথা চিন্তা করলে তখন সাগর পাড় নয়, অফিসের চেয়ারই বেশি ভালো মনে হয়।
বন্ধু আমার তেমন বেশি কখনও ছিলো না; ছিলো দু-একজন; শেষ কবে কথা হয়েছে সেটা বের করা সম্ভব নয়। ফোন তিন মাসের কল লিষ্ট রাখে, কিন্তু বন্ধুদের সাথে কথাতো তিন বছরেরও আগে হয়েছে!