নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।

এম টি উল্লাহ

আমি এম টি উল্যাহ। আইনি উপন্যাস ‘‘অসমাপ্ত জবানবন্দী’’ ও ‘‘নিরু”, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই ‘‘মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধ’’ ও ‘‘একাত্তরের অবুঝ বালক’’ এর লেখক। পেশায়-আইনজীবী।www.facebook.com/mohammad.toriqueullah , Email- [email protected]

এম টি উল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সামাজিক যোগাযোগ/ফেইসবুকের মাধ্যমে হয়রানি হলে কিংবা মানহানিকর অপরাধের শিকার আইনী পদক্ষেপ যেভাবে নিবেন

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২২

যে কোনো ধরনের ক্রাইম বা অপরাধ যখন অনলাইন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘটে, তখন তাকে সাইবার ক্রাইম বা অপরাধ বলে। এটিই সবচেয়ে সহজ সংজ্ঞা

সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম এর নমুনা ঃ

১। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি : ফেসবুকে সাইবার ক্রাইম এখন মামুলি বিষয় হয়ে গিয়েছে। আপনি ফেসবুকে বা সামাজিক গণমাধ্যমে সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে যখন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন :

**সাইবার বুলিং- কেউ যদি অনলাইনে আপনাকে অহেতুক জ্বালাতন করে এবং আপনার সম্মানহানি করার চেষ্টা করে অথবা অনলাইনে যেকোনো উপায়েই হোক কেউ যদি আপনাকে উত্যক্ত করে তাহলে তা সাইবার বুলিং হিসেবে স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে তা যদি অনলাইনে হয় তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

** মানহানি - আপনার আর আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য কেউ যদি উঠে পড়ে লাগে এবং সেক্ষেত্রে তা যদি অনলাইনে হয় তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

**আইডি হ্যাক- আপনার ফেসবুক আইডি কেউ যদি হ্যাক করে থাকে আর আপনার ব্যক্তিগত ছবি আর কথোপকথন অনলাইনে ছেড়ে দেবে বলে যদি হুমকি প্রদান করে, পাশাপাশি তা ঠেকানোর জন্য তার বিনিময়ে যদি সে আপনার কাছে অর্থ দাবি করে সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

**সেক্সুয়ালি এবিউজ- কেউ যদি অনলাইনে আপনার ছবি দিয়ে কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আইডি খুলে, আপনার ছবি ব্যবহার করে কোনো পোস্ট প্রদান করে। আপনার ছবির সাথে অন্য ছবি জোড়া লাগিয়ে বিতর্কিত কিছু বানোয়াট খবর প্রকাশ করে, আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে, পাশাপাশি তা ঠেকানোর জন্য তার বিনিময়ে যদি সে আপনার কাছে অর্থ দাবি করে সেক্ষেত্রে আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

**হ্যাকিং- অনলাইনে ডাটা বা তথ্য অনুমতিবিহীন চুরি, ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় হ্যাকিং। এতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুন্ন হয়।

আর সহজ করে বলতে গেলে অপরাধগুলো হলো এমন-

• সামাজিক মাধ্যমে ফেক আইডি খুলে জ্বালাতন

• সামাজিক মাধ্যমের আইডি, ইমেইল অথবা ওয়েব সাইট হ্যাক

• সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন ট্রল গ্রুপ বা পেজে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া

• বিভিন্ন পর্নো ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ধারণ করা ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া

• সামাজিক মাধ্যমের আইডি হ্যাক করে অর্থ দাবি

• ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান ও হয়রানি

• কাউকে মারধর করে তার ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া

• কোনো কিশোরী বা যুবতী বা নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে তার ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া

• অনলাইনে ইকমার্সের নামে ভুয়া পেজ খুলে খারাপ পণ্য বিক্রির নামে হয়রানি

• অনলাইনে পরিচিত হয়ে অনলাইন কারেন্সি ট্রাঞ্জেকশন করতে গিয়ে ফ্রডের শিকার

• ভুয়া বিকাশ নম্বর থেকে ফোন করে লটারির কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ

• ভুয়া বিকাশের এসএমএস দিয়ে গ্রাহককে দিয়েই অভিনব কায়দায় প্রতারণা

• অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট আর এটিএম কার্ডের ডিটেইলস চুরি করে অর্থ চুরি

• অনলাইনে স্প্যামিং এবং গণ রিপোর্ট

• অনলাইনে স্ক্যামিং

• অনলাইনে বিভিন্ন সেলেব্রেটি বা মানুষের নামে ভুয়া তথ্য ছড়ানো বা খবর প্রচার


****সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইমে আক্রান্ত হয়ে গেলে আপনার করণীয় :

করণীয় বা প্রতিকার দুই ভাবে পেতে পারেন ঃঃ
১। থানায় এজাহার দায়েরের মাধ্যমে মামলা করে
২। সরাসরি সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করে। ( দেশের একমাত্র সাইবার ট্রাইবুনাল ঢাকায়)

থানায় এজাহার দায়েরের মাধ্যমে মামলা করার ক্ষেত্রে করণীয় ঃ
প্রমাণগুলো সঠিকভাবে কালেক্ট করা। বাচাই করে সেগুলো প্রিন্ট করে ফেলা। স্ক্রিন ভিডিও এবং লিংকসহ প্রমাণ যোগাড় করা। তারপর
থানায় যাবেন। অভিযোগ দায়ের করবেন।

কোনো কারণে যদি থানা মামলা না নেয় তখন আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে সরাসরি সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করতে হবে। ( দেশের একমাত্র সাইবার ট্রাইবুনাল ঢাকায়) ।

## এক্ষেত্রে আইনী সহায়তায় যোগাযোগ করতে পারেন।
এম টি উল্যাহ
আইনজীবী
০১৭৩৩ ৫৯৪ ২৭০

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: ওকে। জেনে রাখলাম।

২| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ভোর ৪:৪০

অনল চৌধুরী বলেছেন: ক্রিকেটারের মেয়ের মানহানি করলে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ না পেলেও অপরাধীকে ধরার চেষ্টা করে।
আমি গত ৩ মাস আগে জিডি করে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও এখনো আসামীকে ধরা হয়নি।
কারণ এই দেশে জমিদার আর নাগরিকদের জন্য দুইরকম আইন চলে।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩৯

এম টি উল্লাহ বলেছেন: সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আদালতেরও শরণাপন্ন হতে পারেন

৩| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৭

অনল চৌধুরী বলেছেন: তাতে আমার সময় শ্রম আর অর্থ নষ্ট হবে। কর দিয়ে সিটিটি রেখেছি কেনো?
শুধু নেতা আর জমিদারদের মানহানির তদন্তের জন্য?

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৯

এম টি উল্লাহ বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.