| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ ।
এই তিন কালের গল্প, শুনে আসছি সেই জন্মাবধি।
পূর্ব প্রজন্মেরা শিখিয়েছিলেন;
পিছনে ফেলে আসা ধূসর অতীতকে টেনে তুলে
কখনোই; বর্তমানের সোনালি সময়টাকে নষ্ট করতে নেই।
কৈশোরের প্রায় প্রতিটি সন্ধ্যায় পিতলের কুপির আলোতে
সামনে পিছনে মাথা দুলিয়ে, উচ্চস্বরে চিৎকারের সুরে,
মুখস্ত করেছি;
পাঠ্যপুস্তকের সাদা পাতার উপরে কালো কালিতে লেখা ,
জ্ঞানী-গুনীজনের সেই মহামূল্যবান বাণী;
“ভবিষ্যতের ভাবনাই জ্ঞানীর কাজ” ।
কৈশোর পেরিয়েই সদ্য যৌবনে পা দিয়ে যখন
মনের উপর প্রথম আঘাত হেনেছিল অপরিপক্ক বয়সের
সেই আনাড়ী প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ার ঢেঁউ;
তখন শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু-স্বজনেরা এসে বলেছিল কেউ কেউ;
ও কিছুনা প্রিয়; অতীত ভুলে যাও, সামনে তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
দেখবে এসেছে তোমার জীবনে আরো সে কত জন!
এভাবে বিশ্বাসে বিশ্বাসে কেঁটে গেছে, কাল অবধি কাল;
যেন কখন, দিনান্ত দিন!
আজ; জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে, প্রায় মাঝবেলাতে
কেবলই মনে হচ্ছে; অতীত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কিছুতেই তাকে আড়াল করা যায়না, মনের পর্দা থেকে।
সে এসে সামনে দাঁড়ায়, পাতা ঝরা হেমন্ত হয়ে;
সে বয়ে যায় শরীর জুড়ে, হেমন্তের বিকেলে বহমান মৃদ্যু বাতাস হয়ে।
সে ঝরে পড়ে দু’চোখের কার্নিশ বেয়ে, রূপালী রঙ্গের দুঃখ জলধারা হয়ে।
মনের পর্দায় আলো আঁধারিতে সাদাকালো ছবির মত
সে ভাসিয়ে দিয়ে যায় হারানো সেই সব বসন্তের দিনগুলোকে।
যার কাছে ম্লান হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, বহমান সোনালি বর্তমান।
যে সময়টিকে বলা হয়ে থাকে আমাদের জীবনের বসন্ত।
__তাই কেন জানি আজ শুধু মনে হয়;
অতীতে যা শুনেছিলাম, শিখেছিলাম তার সবই ছিল
সান্ত্বনা আর নিয়ম রক্ষার ছকে বাঁধা কিছু নিয়ম মাত্র।
কারণ-
অতীতের কাছে আসলে;
অতীত ব্যতীত আর সব কালই ম্লান।
©somewhere in net ltd.