| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজকে আমার নিজের ধর্মের উপর, নিজে হিন্দু হওয়ার জন্য বড়ই গর্ব হচ্ছে। এমন নয় যে আগে হয় নি। কিন্তু এখনকার ঘটনাবলি দেখে গর্বের পরিমানটা অনেকখানি বেড়ে গেছে।
দেশে ৭১এর দেশদ্রোহী আলবদর, শান্তিবাহিনী, রাজাকারদের কয়েকজন নেতার বিচার চলছে। সেই রাজাকারদের যারা নিজেদের মায়ের সম্ভ্রমহানি করতে চেয়েছিল, তাকে তুলে দিতে চেয়েছিল পর পুরুষের হাতে। তখন সেই মায়েরই অন্য সন্তানেরা তাকে বাচাতে নিজেদের রক্ত দিয়েছিল। নিজের চেয়ে মায়ের সম্মানকে বড় করে দেখেছিল। এই সন্তানদের মধ্যে কোন বিভেদ ছিল না, ছিল না আলাদা কোন নাম- সব সন্তানেরই, কি ছেলে, কি মেয়ে, তাদের নাম পরিচয় ছিল একটাই- বাঙালি। এই সন্তানদের ত্যাগের মধ্যে দিয়ে আমাদের মা মুক্ত হয়, সেই পরপুরুষ জানোয়ার পাকিস্তানের হাত থেকে।
মা বলে কথা। মায়ের মমতার মাঝে কোন ভেদাভেদ নাই, মায়ের কাছে সবাই সমান। খারাপ-ভাল যাই হোক, মায়ের কাছে সন্তান সন্তানই। তাইতো, মা এই সব রাজাকারদের মাফ করে দিয়েছিল। আপন করে নিজের কোলে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু মা আপনভোলা হলে কি হবে, এই রাজাকারগুলোর কিছুই পরিবর্তন হল না। তারা মনের মধ্যে সেই পাকিস্তানের ছেলে হয়ে রইল। শুধু তাই না, তারা সময় নিয়ে মায়ের ছোট্ট ছোট্ট নিষ্পাপ বাছাদের মন আত্মা ওই পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করে দিল। গরে তুলল বর্তমানের শিবির বাহিনী। এখন শিবির, কুলাঙ্গার সেই লোকগুলোকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বাঁচাতে, পাকিস্তানের হাতে মাকে তুলে দিতে, তারা ওই কুলাঙ্গারগুলোর মতই হিংস্র হয়ে উঠেছে। শুরু করেছে মায়ের নিষ্পাপ সন্তানদের হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও।
হয়ত ভাবছেন, এর সাথে আমার গর্বের সম্পর্ক কি? ৭১এর সময় এই রাজাকারদের বাপদের (পাকিস্তানের) মূল শত্রু ছিল হিন্দুরা, তারা বলত হিন্দুরাই নাকি সব নষ্টের গোঁড়া। তাইতো, রাজাকাররা হিন্দুদের টার্গেট করে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। মা স্বাধীন হওয়ার পরো তারা দোষ দিয়েছে এই হিন্দুদের। তাইতো যখনই সুযোগ পেয়েছে, হামলা করেছে হিন্দুর উপর, কি খুশিতে (২০০১ এ নির্বাচনে জিতার পর), বা দুঃখে (এখন), অথবা এমনিতেই (দেশে প্রতি মাসেই কমপক্ষে একটা করে মন্দির পোড়ান হয়) তারা আক্রমন করেছে এই হিন্দুদের উপর। নব্য রাজাকারেরাও একই কায়দায় হামলা করছে এখন, তাদের বাপদের বাঁচানোর জন্য।
অর্থাৎ, আমাদের জন্যই তারা এখনও মাকে বিক্রি করতে পারে নাই, তুলে দিতে পারে নাই পাকিস্তানের হাতে। তাহলে বলেন, আমি গর্বিত হব না কেন?
কিন্তু আসলে আমি লজ্জা পাচ্ছি। কেন জানেন? ৭১ এ আমরা বাঙালি ছিলাম, হিন্দু ছিলাম শুধু ওই রাজাকারদের কাছে। আর বাঙালি হয়ে এক ছিলাম বলেই আমরা ওদের হারাতে পেরেছিলাম। কিন্তু ৭১ এর পর আমরা বাঙালি থেকে হিন্দু, মুসলমান, বুদ্ধ, খ্রিস্টান হয়ে গেছি। আমরা আলাদা হয়ে গেছি বলেই, একা একা ওদের হারাতে পারিনি। সমূলে উৎখাত করতে পারিনাই এইসব পাকিস্তানের ভাইরাসদের। যারা এখনও রোগাক্রান্ত করে চলেছে মায়ের সন্তানদের। আমাদের আবারো বাঙালি হতে হবে, রুখে দাড়াতে হবে এদের বিরুধ্যে।
আমি এখন পর্যন্ত একজন বন্ধুদেরও দেখলাম না, শিবিরের মন্দির পোড়ানোর প্রতিবাদ করতে। একজনকেও দেখলাম না, মুসলমান হতে বাঙালি হতে। এক ভাই যদি অন্য ভাইয়ের কষ্টে কষ্ট না পায়, তবে পাবে কে? ভাই, মা আমাদের সবারই এক। আমরা সবাই একই মায়ের অংশ। যদি হিন্দুর কষ্টকে হিন্দুর কষ্ট মনে করেন, নিজের কষ্ট মনে না করেন- তাইলে আপনার আর রাজাকারের পার্থক্য কোথায়?
এখন সময় হয়েছে- হিন্দু, মুসলমান, বুদ্ধ, খ্রিস্টান হতে বাঙালি হবার- মায়ের প্রয়োজনে।
সনাতন শেশা, একজন গর্বিত হিন্দু নাকি লজ্জিত বাঙালি??
©somewhere in net ltd.