| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানিং গাড়িতে উঠলেই বাস ড্রাইভাররা ওয়াজ ছেড়ে দেয়। বড়দিনের দিন এনা বাসে করে যাওয়ার পথে একি অবস্থা। বাস রওনা দেবার ১ ঘণ্টা পর ওয়াজ ছাড়ে। যতই বলি বন্ধ করেন ইঙ্গিত পূর্ণ হাসি হাসে- ড্রাইভার কন্ডাক্টারের সাথে। শুধু সামনের স্পিকার চালু রেখে বলে ড্রাইভার শুনবে। সাথে স্ত্রী থাকায় বেশী কিছু আর বলিনি। কিন্তু প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আর সহ্য না হওয়ায় খারাপ ভাবে বলার পর বন্ধ করে। অনেকে হয়ত বলবেন, ভাল ভাবে বলে দেখেছি কিনা? তাদের জন্য বলছি, ভাল ভাবে বলে কাজ হয় নি, শুরুতে ভাল করেই বলেছিলাম।
ওই দিন বাস এর অরধেকের বেশী যাত্রি ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। তারা মুখে কলুপ এঁটে বসে ছিল। কেঊ কানে ইয়ার ফোন, কেঊ বা ঘুমের ঘোরে ছিল। আমার কথা শুনেও হয়ত শোনেনি। হয়ত এইসব বিষয়ে আমার চেয়ে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা বেশী ছিল। শুধু মিনিট পাঁচেক পর, এক জন বয়স্ক মহিলাকে দেখলাম উচ্চস্বরে সেল ফোনে গান ছাড়তে। যদিও, ওই লোকগুলা কিছুটা ভ্রু কুঞ্চিত করেছিল, তবে ওয়াজ থামায়নি।
আমার বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের চেয়ে সংখ্যালঘু মানুষের উপরই রাগ বেশী, বলা উচিত হতাশা বেশী। আমার যে কয়জন হিন্দু বন্ধু আছে, ওদের একটাই কথা- কি লাভ এসব বলে? ওদের অবস্থা হয়েছে সেই রশি পড়ান হাতির কথা। যার পা ছোট বেলায় রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল, যাতে ছুটে যেতে না পারে। তখন ছোট্ট হাতিটি শত চেষ্টা করেও রশি ছিঁড়তে পারে নি। ফলে একদিন তার মনে গেথে গেল, ওটা সে কোনদিনও ছিঁড়তে পারবে না। বড় হবার পর, যখন তার গায়ে অনেক জোর, তখনও কিন্তু তাকে সেই একিই রশি দিয়ে আটকে রাখা হয়। কিন্তু হাতির সেই ভয়, সেই নিরাশা এতই বেশী যে সে চেষ্টা করেও দেখতে চায় না। তার মনে স্থির বিশ্বাস- সে পারবে না। কিন্তু এখন সময় হয়েছে, নিজেদের সাথে ঘটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার। রুখে দাঁড়াবার, এইসব অমানুষ সংখ্যাগুরুর বিরুধ্যে।
©somewhere in net ltd.