| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পলাশ চিত্রী
নিজেকে নিজের মানুষ বলে মনে হয় না, অন্যরা ভাবলেও ভাবতে পারে
মৃত্যুর আগে তার মায়ের চিকিৎসার জন্য সে নিয়মিত টাকা পাঠাত। অথচ যে মায়ের জন্য তার এত দরদ সেই মাকে তিনি ছেড়ে এসেছেন ১৬-১৭বছর বয়সে। তারপর থেকে মায়ের মুখ শুধু কল্পনায়। দেখা হয়নি কুড়ি পঁচিশ বছর। বাড়িতে ভাইদের অত্যাচার লজ্জা আর সামাজিক অবস্থার কথা চিন্তা করেই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। এই মাঝ বয়সে এসে তার মনে হয় একটা হিজরার চেয়ে পতিতার জিবন অনেক ভাল। আলাপচারিতায় তিনি বলছিলেন আমার লেখাপড়ার ইচ্ছা ছিল, এখন যখন বড় বড় মানুষের সাথে মিটিং করি, দাবি আদায়ের কথা বলতে যায় তখন খুব ইচ্ছে করে কলেজে যেতে,বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, দেশের মঙ্গলের জন্য কিছু করতে। আমারও তো মেধা ছিল, বাবার টাকা পয়সাও ছিল, কিন্তু...। বোনদের জন্য তার বুকটা কুড়ে কুড়ে খায়, বোনদের সংসারের কথা ভেবেই আর দেখতে যাওয়া হয়না। এখন দেশ বিদেশ ঘুরছি, টিভি টকশোর অনুষ্ঠান করছি। আমার ভাই বোনরা সে অনুষ্ঠান দেখছে, লাইভ শোতে ফোন করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, বাসায় যাওয়ার নিমন্ত্রন করছে। কিন্তু আমার যে আর যে আর যেতে ইচ্ছা করেনা। কার জন্য যাব, যে সারা জিবন কাছে রাখতে চেয়েছিল, সবচেয়ে বেশি যে আমাকে বাড়ি যেতে বলত, আড়ালে আবডালে চোখের পানি ফেলত সে তো আর নেই। ইদানিং স্বপ্নে মাকে দেখি, মায়ের সাথে আমার কথা হয়, মাকে বলি আমার কোনকিছুই ভালোলাগেনা, আমাকে তোমার কাছে কবে নিয়ে যাবা ? বলতে বলতে তার গলা ভাড়ি হয়ে ওঠে...। মনে হচ্ছিল জানালার ফাঁক গলে পড়া দুপুড়ের তিব্র রোদের ছটা ঘড়ের ভেতর এতক্ষন যে উত্তাপ আর আলো ছড়িয়ে ছিল তা কিছুক্ষনের জন্য শীতল হয়ে উঠল। আবার একদিন আসবেন, আন্তরিকতার কোন অভাব ছিলনা, ভদ্রতার সবকিছুই ছিল অনেক পরিপাটি।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:০২
সকাল হাসান বলেছেন:
মনটা খারাপ হল পড়ে!