নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পোশাকের কারিগর

শোকার্ত উপকূল

আমি একজন পোশাক শ্রমিক ।।

শোকার্ত উপকূল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্ম এবং স্বর্গ নরক আসলে কি? কিছু উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন...

০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:১৮

প্রথমেই বলি আমি নাস্তিক না এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করি প্রতিদিন। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে কিছু প্রশ্ন আমার মনে উঁকি দেয়, যার উত্তর আমি এখনও কার কাছ থেকে পায়নি। বিষয়টা যেহেতু ধর্মীয়ও তাই কেও এই বিষয় নিয়ে কথাও বলতে চাইনা তেমন একটা। আর কেও এই প্রশ্নের উত্তর দিলেও তা আমাকে সন্তুষ্টি দেয় না। মাঝে মাঝে ভাবি এটা কি আমি বুঝতে পারছি না নাকি আমি বুঝাতে পারছি না।তাই আমি আমার ব্লগার ভাইদের সাহায্য চাইছি। আমি সত্যি বিষয়টাতে পরিষ্কার হতে চাই। নিচে আমার মনের কথাগুলো জানালাম আপনাদের ।



• আমরা সবাই জানি ঈশর সর্বশক্তিমান এবং আমরা জন্ম থেকে কি করব, কোথাই যাব, কি খাব, কিভাবে মারা যাব সবই উনি জানেন। এটা যদি সত্যি হয় তাহলে এই পৃথিবীতে আমি যে কাজগুলো করেছি তার দায়ভার আমি কেন নিব? হয়ত এখন অনেকে বলবেন ঈশ্বর মানুষকে ভাল খারাপ ২ টি পথ দিয়ে দিয়েছেন ... মানুষ যেকোনো একটা বেছে নিতে পারে। এটা মানুষের জন্য একটা পরীক্ষা। ঠিক আছে এটা যদি মেনেনি তাহলেও কথা হল আমি খারাপ করব নাকি ভাল করব তাতো ঈশ্বর জানেন ... তাহলে উনি আমাকে বাধা দেন না কেন? পৃথিবীতে প্রতিদিন ধর্মীয়ও হানাহানিতে অনেক লোক মারা যাচ্ছে, উনি কি চাইলে ওদের বাধা দিতে পারেন না? উনি কি জানেন না এই লোকগুলো এই খারাপ কাজটা করবেন? পারেন না এই পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে? এখানে আরও একটা কথা আছে যদি ভাল কাজগুলো আমরা ঈশ্বরের নির্দেশে করে থাকি তাহলে খারাপ কাজগুলো কার নির্দেশে করি? অনেকে বলবেন শয়তান আমাদেরকে দিয়ে এই কাজ করাই... তাহলে কথা হল ঈশ্বর কেন আমাদের শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করেন না? শয়তান কি ঈশ্বরের চেয়েও শক্তিশালী? এই ব্যাপারে আমার নিজের ধারনা হল ... এই জগৎসংসার হল একটি Real Time Strategy গেম লাইক commandoes -2 . এই গেমে যেমন আমরা যা ইচ্ছা তা করতে পারি, যাকে ইচ্ছা মারতে পারি, যাকে ইচ্ছা বাঁচাতে পারি, ঠিক তেমন ঈশ্বর আমাদেরকে নিয়ে খেলতে ভালবাসেন। আমরা হলাম তার অনেকগুলো প্রিয় গেমের একটা অংশ।



• আমরা জানি এই পৃথিবীতে আমাদের কাজের ভাল খারাপের উপর নির্ভর করবে আমরা স্বর্গে যাব নাকি নরকে যাব। যেহেতু এই পৃথিবীর ভাল খারাপ কোন কাজের দায় ভার আমাদের না(আমার নিজের মতামত) তাহলে কি স্বর্গ নরক বলে কিছু আছে? আমার নিজের ধারনা আমরা যাই করিনা কেন এই পৃথিবীতে তার ফল আমরা পেয়ে যাব। যেকোনভাবেই হোক ঈশ্বর তার বিচার অথবা পুরস্কার এখানে দেবেন আমাদের। তাই স্বর্গ নরক বলে আসলেই কিছু নেই। এখানে আরও একটি কথা হল, কিছু কিছু ধর্ম বলে যারা তাদের ধর্মকে স্বীকার করবে না তারা স্বর্গে যেতে পারবে না। উইকিপেডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পৃথিবীতে ২.১ বিলিওন লোক ক্রিস্টিয়ান , ১.৫ বিলিওন লোক ইসলাম , ১ বিলিওন লোক নাস্তিক, ৯০০ মিলিওন লোক হিন্দু এবং ৩৭৬ মিলিওন লোক বুদ্ধ ধর্ম পালন করে। তাহলে চিন্তা করে দেখুন যেকোনো একটি ধর্মের লোক যদি স্বর্গে যাই তাহলে এই পৃথিবীর বেশিরভাগ লোক স্বর্গে যেতে পারবে না। প্রশ্ন হল বাকিরা কি দোষ করল? আমার মতামত হল আমরা যেহেতু ঈশ্বরের সন্তান তাহলে আমাদের সবার স্বর্গে গিয়ে অনন্ত যৌবন ও ভোগবিলাস( যদিও আমি বিশ্বাস করি না) করার অধিকার আছে।



• এই পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মতামত ও দর্শন নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে আরও কিছু ধর্ম। তাহলে আমার প্রশ্ন ঈশ্বর আসলে কোন ধর্মের অনুসারী? উনি অবশ্যয় জানেন যে শুধু ধর্মীয়ও কারনে তার ছেলেরা একজন আর একজনকে খুন করবে , তাহলে উনি কেন এতগুল ধর্ম সৃষ্টি করলেন? সব ধর্মের অনুসারীরা যেহেতু বলে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় তাহলে একটি ধর্ম সৃষ্টি করলে এমন কি ক্ষতি হত? এই ব্যাপারে আমার নিজের মতামত হল ...এই পৃথিবীতে আদৌ কোন ঈশ্বর সৃষ্ট ধর্ম ছিল না এবং এখনও নেয় ,কিছু জ্ঞানী মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে বা নিজের মতাদর্শ সমাজে প্রয়োগ করার জন্য কিছু অনুশাসন সৃষ্টি করছেন যাকে আমরা ধর্ম বলে জানি । এবং মানুষের নিজের আত্মার পরিশুদ্দির জন্য ধর্মীয় অনুশাসন দরকার আছে। এইসব নিয়মকানুন হয়ত আমাদের খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখবেন।



• আফ্রিকার গহিন জংগলে যে মানব আদিবাসীরা আছে, তারা কোন প্রথাগত ধর্ম পালন করে না যেহেতু তারা পৃথিবীর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, মানুষের মাংস খাই, গায়ে কাপড়চোপড় ছাড়া থাকে ... তারা কোথাই যাবে? স্বর্গে নাকি নরকে? পশু পাখিদের কি স্বর্গ নরক আছে?



যাই হোক আজ আর লিখতে ইচ্ছা করছে না কিন্তু আরও কিছু প্রশ্ন মনে আছে তা না হয় পরেই শেয়ার করব, ...আর ব্লগে আমার এই প্রথম লেখাটি পড়ার জন্য আপানাকে ধন্যবাদ যদিও জানি না কতটা গুছিয়ে লিখতে পেরেছি। আমি শুধু আমার কিছু মনের ধারনা প্রকাশ করলাম। কেও গঠনমূলক মতামত দিলে খুশি হব।



সব শেষে বুদ্ধার একটা বানী শেয়ার করলাম ...

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১০:৪৫

*কুনোব্যাঙ* বলেছেন: উত্তর একটাই, আল্লাহ আপনাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতে চেয়েছে। করেছে জীব জগতের সবচাইতে বুদ্ধিমান, দিয়েছে নৈতিকতা বিচারের ক্ষমতা। দিয়েছে নিজ স্বাধীন যাচাই বাচাই করে এগিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা। জৈবিকতার বাইরেও দিয়েছে আরেকটি সত্ত্বা। দিয়েছে মুক্তির আকুতি। দিয়েছে স্বাধীন চিন্তা যেখানা আল্লাহ ইচ্ছা করেই অন্যান্য প্রাণিদের মতো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেনি। এটা তো মানুষের জন্য অনেক বড় একটা সম্মান। আল্লাহ শুধুমাত্র একজন অভিবাবকের মতো চলার পথের কিছু নিয়ম বলে দিয়েছেন। আপনি আজ ইচ্ছা করলেই যে কোন পথে চলতে পারেন, সমস্ত প্রানিজগতের মধ্যে একমাত্র মানুষেরই রয়েছে এর একমাত্র বিরল যোগ্যতা। যে শুধু জৈবিক বোধ সম্পন্ন একটি প্রাণি মাত্র নয়, সে শ্রেষ্ঠতম এবং অন্য যে কোন প্রাণী থেকে সে ভিন্ন। আল্লাহ ইচ্ছা করলেই মানুষকে অন্য সব প্রণির মতো বানাতে পারত, কিন্তু আল্লাহ আপনাকে এতটুকু ক্ষমতা দিয়েছেন যে আপনি চাইলে তাকে নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করতে পারেন। আর অভিবাবক বা অফিসের বস বা ক্লাসের শিক্ষক কাজ ভালোমতো বা তাদের হুকুম মতো না করলে শাস্তি হবে এটাই তো নিয়ম।

২| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:০৫

পথীক_১৯৮০ বলেছেন: সহমত

৩| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:১১

মেলবোর্ন বলেছেন: প্রথমেই বলি আমি নাস্তিক না এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করি প্রতিদিন। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকে কিছু প্রশ্ন আমার মনে উঁকি দেয়, যার উত্তর আমি এখনও কার কাছ থেকে পায়নি-- যেহেতু আপনি কোন ধর্মেক কাছ থেকে উত্তর জানতে চচ্ছেন তা পরিস্কার নয়

স্বর্গের ব্যপারে এই পোস্ট দেখতে পারেন:
Click This Link

এই পোস্টে ১০৮ ও ১০৯নং কমেন্ট দেখুন যারা দোজখে যাবে তাদেরকে সৃষ্টি করলেন কেন? বা মানুষের কর্মফলের আয়াত সর্ম্পকে
Click This Link

আর এই পোস্টেও অনেক রকম প্রশ্নের উত্তর মিলবে আশাকরি:
http://www.amarblog.com/Qadri/posts/153114

আল্লাহ কেন শাস্তি দেন বা মানুষের যখন খারাপ সময় যায় তখন কি আল্লাহকে দোষারপ করা যায় যে আল্লাহ কেন আমাদের খারাপ সময় দিচ্ছেন যেমন রোগ, খরা, ঝর, জলোচ্ছাস ইত্যাদি:

If you believe God is the Rabb/Master/Owner, then He is the One who gives to His slaves what He wants. His slaves did not pay Him for the favours He gave them, so even if He was to take a blessing away from them, why do they have the right to complain when it was Allah [the Masters] to begin with?

He has given us everything we have for free out of His Generosity, so He can take it whenever He wants. And if we were to use these blessings for good, for Allah’s pleasure, He will give us more good. If we do evil, and abuse the blessings He has given us – He can punish with us as He wants. And nobody can question Him, because He is the Master without need, and we are the slaves who are dependant on Him.

The Qur’an is not trying to prove to you that it is a Miracle:

Rather the Qur’an is psychological, look into yourself, look outside of yourself. The Qur’an guides a person through different forms of Psychological Reflection.

Use your sense of balance and justice (universally recognised principles) – but ask yourself where did you get your balance from? How can that balance make you become even better, by not just believing its right, but implementing and spreading balance and justice among mankind too.

It goes beyond philosophy, it actually guides to what is higher than human thought. This is Qur’anic logic.

৪| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:১৩

মেংগো পিপোল বলেছেন: • আমরা সবাই জানি ঈশর সর্বশক্তিমান এবং আমরা জন্ম থেকে কি করব, কোথাই যাব, কি খাব, কিভাবে মারা যাব সবই উনি জানেন। এটা যদি সত্যি হয় তাহলে এই পৃথিবীতে আমি যে কাজগুলো করেছি তার দায়ভার আমি কেন নিব? হয়ত এখন অনেকে বলবেন ঈশ্বর মানুষকে ভাল খারাপ ২ টি পথ দিয়ে দিয়েছেন ... মানুষ যেকোনো একটা বেছে নিতে পারে। এটা মানুষের জন্য একটা পরীক্ষা। ঠিক আছে এটা যদি মেনেনি তাহলেও কথা হল আমি খারাপ করব নাকি ভাল করব তাতো ঈশ্বর জানেন ... তাহলে উনি আমাকে বাধা দেন না কেন?

• আমরা জানি এই পৃথিবীতে আমাদের কাজের ভাল খারাপের উপর নির্ভর করবে আমরা স্বর্গে যাব নাকি নরকে যাব। যেহেতু এই পৃথিবীর ভাল খারাপ কোন কাজের দায় ভার আমাদের না(আমার নিজের মতামত) তাহলে কি স্বর্গ নরক বলে কিছু আছে?



ভাই আমি মনে হয় বুঝতে পেরেছি আপনি কোন ধর্ম মানেন। যা হোকআপনি যে ধর্মই মানেন না কেন আমার আপনার ধর্মের প্রতি সম্মান আছে।

আপনার কথার মধ্যে একটা ফাকা আছে আল্লাহ তালা এখানে দুটি পথের কথা বলেন নি বলেছেন বিবেকর কথা। আল্লাহ মানুষের বিবেকের উপর নিয়ন্ত্রন করেন না। ইসলমে এটাও আছে মানুষ নিজের ভাগ্য তার কর্মের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারে। যেহেতু আপনার কর্মের ফল আপনি ভোগ করবেন, এবং ভালো করলে ভালো পাবেন খারপ করলে খারাপ পাবেন, সুতরাং আপনাকে বিচারের সম্মুক্ষিন হতে হবে। আর বিচারের ফল কি? বেহেস্ত অথবা দোজখ। আর আপনাকে বলে দেয়া হয়েছে কোন টা ভালো আর কোন টা মন্দ আপনি বেছে বেছে মন্দটা করবেন সেটার দায় ভার কেন আল্লাহ নিবেন। ধরুন আপনার শিক্ষক আপনাকে বলল পরীক্ষায় নকলা করা খারাপ, বাবারা তোমরা কেউ পরীক্ষায় নকল করবেনা। তার পরো আপনি নকল করলেন, এখন এই নকল করার দায় ভার কার আপনার না আপনার শিক্ষকের। যদি নুন্যতম জ্ঞান থাকে কারো- সে বলবে আমার। তাহলে আপনার পাপের ভার কেনো সৃষ্টি কর্তাকে দিতে চাইছেন সেটাই বোধগম্য হচ্ছেনা।



আমার মতামত হল আমরা যেহেতু ঈশ্বরের সন্তান তাহলে আমাদের সবার স্বর্গে গিয়ে অনন্ত যৌবন ও ভোগবিলাস( যদিও আমি বিশ্বাস করি না) করার অধিকার আছে।

আমরা সবাই ঈশ্বরের সন্তান হবো কিভাবে তাই তো বুঝতে পারছিনা। তাহলে তো আপনার বাবা আপনার ভাই হয়, আবার আপনার দাদা আপনার বাবার ভাই। আমার আল্লাহ তালার সন্তান না আমারা আল্লহতালার সৃষ্টি।


• এই পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মতামত ও দর্শন নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে আরও কিছু ধর্ম। তাহলে আমার প্রশ্ন ঈশ্বর আসলে কোন ধর্মের অনুসারী? উনি অবশ্যয় জানেন যে শুধু ধর্মীয়ও কারনে তার ছেলেরা একজন আর একজনকে খুন করবে , তাহলে উনি কেন এতগুল ধর্ম সৃষ্টি করলেন?



যেহেতু আমরা ওনার ছেলেনা সেহেতু হাজার টা ধর্ম সৃষ্টি করলেও ওনার কিছু যায় আসেনা। ওনাকে যে সঠিক ভাবে ডাকবে উনি তার ডাকেই সারা দিবেন। আর আপনি হয়তো বলবেন কৈ দেখিনা তো আল্লাহ কে সারা দিতে। আমি বলি একজন ঈমান দারই বুঝবে আল্লাহ কিভাবে সারা দেয়।


• আফ্রিকার গহিন জংগলে যে মানব আদিবাসীরা আছে, তারা কোন প্রথাগত ধর্ম পালন করে না যেহেতু তারা পৃথিবীর শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, মানুষের মাংস খাই, গায়ে কাপড়চোপড় ছাড়া থাকে ... তারা কোথাই যাবে? স্বর্গে নাকি নরকে? পশু পাখিদের কি স্বর্গ নরক আছে?

ভাই যখন ইসলাম আসেনি তখন কার মানুষরা কি বেহেস্ত পাবেনা!? পাবে। যাদের কাছে ইসলাম পৌছতে পারেনি তারা কি করবে? ইসলামে আছে আপনি যদি জেনে ভুল করেন তাহলে তার কোন ক্ষমানেই। তবে না জেনে ভুল করলে কিছুটা সাজা কম হবার সম্ভাবনা আছে। তবে জানার চেষ্টা করতে হবে।(আল্লাহ তালার কাছে সঠিক ভাবে ক্ষমা চাইলে কেবল শিরক ছাড়া সকল গুনাহই মাফকরবেন।)

হ্যা পশু পাখিকেও বিচারের সামনে দ্বাড়াতে হবে, যেমন কোন সবল পশু যদি কোন দূর্বলকে আঘাত করে তাহলে কেয়ামতের দিন তাদের কে উত্থিত করা হবে এবং সেই দুর্বল পশুকে সেই সবল পশুর শক্তি দান করা হবে এবং বলা হবে সে জীবিত থাকতে সবল দ্বাড়া যেভাবে আক্রান্ত হয়েছিল সেভাবে আক্রমন করতে। যখন তাদের বিচার হয়ে যাবে তারা অদৃশ্য হয়ে যাবে।


এখন আমি একটা ঘটনা, আর একটা কোরআনের আয়াত বলি।

এক কৃষি অফিসার এসেছে এক কৃষক কে বোঝাতে কি ভাবে গরূ মোটাতাজা করন করা যায়। কৃষক ছিলো একটু বিটকেল টাইপের সে বলল, আপনি যদি আমাকে বোঝাতে পারনে কি ভাবে গরূ মোটা তাজা করা যায় তাহলে আমি আমার গরুটি আপনাকে দিয়ে দিব, এই শুনে কৃষকের বৌ ঠাঠা করে উঠল বলল আহা কি করো এই গরু দিয়ে দিলে তুমি খাবা কি এর দুধেই তো আমাদের জীবন বাচে। কৃষক মৃদু হাসলেন, বললেন ধৈর্জ ধর বেগম।

এবার কৃষি অফিসার তাকে ব্যাপক ভাবে বোঝাতে থাকলেন, সব সুনে কৃষক বললেন বুঝলাম না। অফিসার আবার বুঝায়, কৃষক বলে বুঝলাম না। এবার বৌ ব্যাপার টা বুঝতে পারলেন এবং কাজে চলে গেলেন।

আর পবিত্র কোরআনে আছে আমি আমার ভাষায় লিখছি, "আপনি তাদের কে যাই বলেন না কেন তারা ঈমান আনবেনা।"

৫| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:৩৯

শেখ মিঠুন বলেছেন: ইশ্বর, ধর্ম, স্বর্গ, নরক... এই বিষযে আপনি নিজে কিছু ধারণা নিয়ে আছেন। আপনার মনের পাত্র থেকে সেই ধারণা নামক বস্তুগুলোকে সরিয়ে নতুন কিছু স্থাপন করা মুশকিল। কোনো শূন্যপাত্রে কিছু রাখা সম্ভব, কিন্তু যেখানে কিছু বস্তু আছে, সেই বস্তু সরিয়ে ভিন্ন কিছু রাখা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে দাড়ায়।তারপরও কিছু যৌক্তিক দিক তুলে ধরা যেতে পারে, কারণ জ্ঞান অনুসন্ধানকারীরা যুক্তি মানে বলে জানি।
আমি ইশ্বর নাম নিয়ে কথা বলবো না, কারণ ইশ্বর নামটা আল্লাহর সমার্থক নাম নয়। সে ব্যাখ্যা ভিন্ন। আল্লাহ সবকিছু জানেন, কে ভালো করবে, কে মন্দ করবে তাও জানেন, তার নির্দেশেই সব কিছু হয। তা হলে আমি দোজখে যাবো কেন?
বিষয়টা নিয়ে আজ থেকে ১২/১৩ শত বছর আগে কিছু সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছিল। যারা মুতাজিলা, খারেজি, রাফেজি ইত্যাদি নামে পরিচিত। যদিও তাদের এই সব প্রশ্ন বিভিন্নমূখী ছিল। কিন্তু তার ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল। কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল, সৃষ্টি জগতের মধ্যে মানুষকে কিছুটা স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এবং পবিত্র কোরানে ভালো-মন্দ পথ দেখিয়ে তা অনুশিলন এবং প্রশিক্ষনের জন্য আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন।
একটা ভালো কাজ করার জন্য মানুষকে প্রথমে কিছুটা চিন্তা করতে হয়। তাতে তার শরীরের মধ্যে কেমিকেল রিয়াকশান হতে শুরু করে। তার শরীরের নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্ন কেমিকেলগুলো ভালো কাজটি করার জন্য মানসিক শক্তির যোগান দেয়, প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তির জন্ম হয়। শরীর কাজটি করার জন্য প্রস্তুত হয়। এই যে ভালো কাজ করার চিন্তা, এটা আল্লাহ জানেন। এই চিন্তার পরবর্তী স্তরগুলোর সঙ্গে যে বিষয়বস্তুগুলি জড়িত, তার প্রত্যেকটির নিজস্ব সত্তা আছে, সেগুলোর মধ্যে চৌম্বকশক্তির জন্ম হয়। যেমন চুম্বক লোহাকে টানে, কারণ লোহাও চুম্বককে টানে। চুম্বক কাঠকে টানেনা, কারণ কাঠ চুম্বককে টানেনা। যাই হোক ভালো চিন্তা এবং তা কার্যকারী করার পরবর্তী স্তরগুলোর মধ্যে যে আকর্ষণ আল্লাহ জানেন বলেই তার প্রত্যেক স্বত্তার মধ্যে আকর্ষণ করার শক্তি তৈরি করে দেন। ভালো চিন্তা করার জন্য মানুষটির জন্য আল্লাহ একটি পুরস্কার রেখে দেন। ভালো কাজটি সমাপ্ত হলে দশটি পুরস্কার আল্লাহ রেখে দেন যা মৃত্যুর পরে তাকে দেয়া হবে। ঠিক একই ভাবে মন্দ কাজের শুরু এবং পরিণতি হয়। একটা ব্যাপার আমরা প্রায়ই লক্ষ করি, ধরা যাক তাতীবাজার থেকে একটা ফ্যামিলি উত্তরায় বাসা বদল করে গেল। তাদের গাজাখোর ছেলেটি মাত্র ৭/৮ দিনের মাথায় এলাকার কিছু গাজাখোর ছেলে জুটিয়ে ফেলে। অন্যদিকে ছেলেটি যদি সৎ চরিত্রের হয় তবে দেখা যায় ৭/৮ দিনের মাথায় কিছু সৎ বন্ধু তার জুটে যায়। বিষয়টি ব্যাখ্য করতে ধৈর্য দরকার, অত ধৈর্য না থাকায় সংক্ষিপ্ত ভাবে বললাম। আশা করি নিজে একটু বুঝার চেষ্টা করবেন।
মানুষ যখন মন্দ করার চিন্তা করে, তখন শয়তানকে শক্তি দেয়া হয়েছে তাকে সাহায্য করার। এবং ভালো করার চিন্তা করলে শয়তানকে শক্তি দেয়া হয়েছে তাকে বিভ্রান্ত করার। তাই বুদ্ধিমান মানুষের উচিৎ সর্বাবস্থায় ভালো চিন্তা করা। ভালো চিন্তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন।
২য়ত: এই পৃথিবীতে কত মানুষ ক-ত ভালো কাজ করে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে তার পুরস্কার পায়নি। আবার বহু মন্দ মানুষ তার মন্দ কাজের শাস্তিও পায়নি। তাই মৃত্যুর পরে পুনরায় জীবন দান জরুরী, যেখানে চরম একটা সত্ত্বা তাকে পুরস্কৃত করবে অথবা শাস্তি দেবে। আবার ধরা যাক এক ব্যক্তি একাই ৫০০ মানুষকে হত্যা করলো, বিচারে তার মৃত্যুদন্ড হলো। কিন্তু বিচারটি যথার্থ নয়। ৫০০ মানুষ হত্যার বিপরীতে একটা হত্যা। অতএব এই শাস্তি একমাত্র আল্লাহ দিতে পারেন।
প্রত্যেক সমাজে আল্লাহ নবী পঠিযেছেন। আফ্রিকার জঙ্গলের মানুই জানে তারা কিসে ভালো আর কিসে মন্দ তা জানলো কি করে। যেমন আমাদের সমাজেও কি ঐ ধরণের মানুষ নাই? তারা কি আল্লাহর বিধানের কথা জানে না? আমরা কি জানি না? তবে কতটুকু মানি! অতএব নিজের কথা ভাবাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, কিন্তু সেই অর্থে ইসলাম তেমন কোন ধর্ম নয়। মানুষ পৃথিবীতে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে সেই জন্য দরকার সঠিক নীতি-নিয়ম, বিধান। ইসলাম হলো সেই বিধানের সমষ্টি। কিন্তু বিধান মানার শর্ত হলো, মানুষ কেউ কারো প্রভু নয়, অতএব একজন বা একটি দল বিধান তৈরি করবে এবং অন্য মানুষ তা মানতে বাধ্য এটা মনুষ্য সত্ত্বার জন্য অবমাননাকর। বরং স্রষ্টাই বিধান দিবেন, কারণ তিনিই জানেন কিসে তাঁর সৃষ্টির ভালো এবং কিসে তাঁর সৃষ্টির মন্দ । আর যেহেতু মানুষ সম্মানীত প্রাণী, সেহেতু সে তারই মত কারো গোলামী না করে তার স্রষ্টার গোলামী করবে।
শেষ কথা: যুক্তিতে মিলে গেলে আল্লাহকে মানবো আর যুক্তিতে না মিললে আল্লাহকে মানবো না এটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং শর্তহীনভাবে সত্য মেনে নিয়ে তার পক্ষে যুক্তি খুজলে আল্লাহ তাকে সে জ্ঞান দান করেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আর প্রথমেই যদি বলি 'মানি না' তবে শত কোটি সঠিক যুক্তি পেলেও মানুষ তা মানতে চায় না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.