নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ও বলতে চাই !

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন

ব্লগিং হউক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


বিগত দেড় দশকের ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নিরাময় করাই হওয়া উচিত বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে যে পরিবারটি সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে, সেটি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবার। একইভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে দিতে হয়েছে চরম মূল্য। চৌধুরী আলম থেকে ইলিয়াস আলী হাজারো নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন বিগত স্বৈরশাসনামলে। মামলা, জেল-জুলুম আর অমানুষিক নির্যাতনের স্টিমরোলার দলটির ওপর দিয়ে যেভাবে বয়ে গেছে, তা সমকালীন ইতিহাসে বিরল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে বঞ্চিত হতে হয়েছে মায়ের স্নেহ আর ভাইয়ের ভালোবাসা থেকে। এমনকি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে বিদেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে মা ভাই সহ প্রায় সকল স্বজনদের সান্নিধ্য ছাড়াই। এই ত্যাগের হিসাব কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং এটি সমগ্র জাতিকে কোন কোন ভাবে দিতে হয়েছে , যার দায় শুধু মাত্র খুনি হাসিনা তার রাজনৈতিক দল আওয়ামিলীগ এবং তার সুযোগসন্ধানী দোসরা। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যখন এক নতুন গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারমুখী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা এটাই যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনাব তারেক রহমান গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা রক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করবেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-জনতা বুক পেতে দিয়েছিল, তাদেরই যদি এখন ক্ষমতার অলিন্দে আশ্রয়- প্রশ্রয় বা পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা হবে চব্বিশের বিপ্লবের সাথে এক ধরনের ছলনা ।

​রাজনীতির ময়দানে আদর্শিক লড়াই যখন ব্যক্তিস্বার্থ বা ক্ষমতার ভাগাভাগির সমীকরণে পর্যবসিত হয়, তখন জনমনে গভীর সংশয় ও ক্ষোভের জন্ম নেয়। যারা দীর্ঘ সময় ধরে একটি খুনি ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক বৈধতা উৎপাদন করে এসেছে, তাদের সাথে যদি বর্তমান সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সখ্যতা দৃশ্যমান হয়, তবে তা ফ্যাসিবাদের পূর্নবাসনের ই অশনি সংকেত। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পক্ষে যারা সাফাই গেয়েছিল, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের 'দুষ্কৃতকারী' বলেছিল, সেই সময়ের দালাল বুদ্ধিজীবী আর বর্তমানের ফ্যাসিবাদের দোসরদের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য আছে বলে আমি মনে করি না । উভয় পক্ষই নিজ নিজ সময়ের শোষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের কলম ও কণ্ঠকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। বর্তমান সময়ে যারা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের পক্ষে জনমত গঠন করেছে এবং এখনো সেই প্রেতাত্মাকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্নে বিভোর, তাদের পুনর্বাসন যদি খোদ ক্ষমতাসীন শিবির থেকে শুরু হয়, তবে তা গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক নিদারুণ হতাশার কারণ হবে। জনাব তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ব্রিটিশ রাজনীতির উদারতা ও সহনশীলতার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়েছেন, যা তাকে একজন পরিপক্ব উদার রাজনীতিবিদে পরিণত করেছে সত্য কিন্তু বাংলাদেশের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে কেবল ব্রিটিশ চশমায় দেখার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে যে ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেছে, তা দূর থেকে অনুভব করা আর সরাসরি ভুক্তভোগী হওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ফ্যাসিস্ট দোসরদের ব্রিটিশ রাজনৈতিক ধারায় দেখার মানসিকতা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। যদি এমন ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হয় যারা গত ১৫ বছর ধরে জুলুমকে প্রগতিশীলতার মোড়কে জায়েজ করেছে, তবে তা হবে বিষবৃক্ষকে পুনরায় পরিচর্যা করে বাঁচিয়ে রাখার শামিল। এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ তারা ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথেই গিরগিটির মতো রঙ বদলে নতুন করে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে সিদ্ধহস্ত।

​আনিস আলমগীরের মতো বিতর্কিত চরিত্ররা যখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্ব পেতে শুরু করেন, তখন সেই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। সম্প্রতি ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রীকে দেখেও না দেখার ভাণ করে চলে যাওয়ার যে অসৌজন্যতা আনিস আলমগীর দেখিয়েছেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার যে দম্ভোক্তি প্রকাশ করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর নজর সম্ভবত এড়ানোর কথা নয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই দিন বিকেলেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে আলাপ করেন। প্রশ্ন জাগে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর যে ব্যক্তিটি টকশো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানে খুনি হাসিনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন কীভাবে? আনিস আলমগীর কেবল শেখ হাসিনার সাফাই গাননি, বরং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। এমনকি যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের ওপর তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মন্তব্য করতে ও দ্বিধা করেননি। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে গ্রেফতার হওয়ার জামিনে মুক্তি পাওয় একজন ব্যক্তি যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে 'গুরুত্বপূর্ণ' হয়ে ওঠেন, তখন সেই ছাত্র-জনতার কি প্রতিক্রিয়া হয় যারা বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে রাজপথে জীবনবাজী রেখে আন্দোলন করেছে বা শহীদ পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া ই কি হবে? যে শহীদ পরিবারগুলো এখনো তাদের স্বজন হারানোর ব্যথায় মুহ্যমান, তাদের খোঁজ কি প্রধানমন্ত্রী একইভাবে নিয়েছেন? ঈদের দিনে যখন শহীদ পরিবারের চোখে জল, যখন আহত যোদ্ধারা হাসপাতালের বিছানায় পঙ্গুত্ব নিয়ে কাতরাচ্ছেন, তখন তাদের সান্ত্বনা দেওয়াই ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নৈতিক দায়িত্ব। জানিনা সেই দায়িত্ব তিনি পুরোপুরি পালন করতে পেরেছেন কি না? কিন্তু তিনি যখন একজন ফ্যাসিস্ট দোসরকে ফোন করেন তার ও তার পরিবারের খোঁজ খবর নেন তখন প্রশ্ন জাগে এটা কি মহানুভবতা নাকি কঠিন রাজনীতির খেলা ? রাষ্ট্র পরিচালনা মানে কেবল সব পক্ষকে খুশি রাখা বা মহান উদার হয়ে সবাইকে আলিঙ্গন করা নয়। রাষ্ট্র একটি নৈতিক ও বিচারিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যারা খুনিদের হাতকে শক্তিশালী করেছে, যারা জুলাইয়ের গণহত্যার পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছে, তাদের প্রথম গন্তব্য হওয়া উচিত ছিল বিচারের কাঠগড়া। কিন্তু বিচারের বদলে যদি তাদের সমাদর করা হয়, তবে তা অপরাধকেই পুরস্কৃত করার নামান্তর হবে।

​বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঠেকানোই এখনকার সময়ের প্রধান জাতীয় দাবি। নেতৃত্বের এই রহস্যজনক নীরবতা বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে হঠাৎ এই সখ্যতা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা আমাদের শিখিয়েছে যে, আপস নয় বরং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই মুক্তির একমাত্র পথ। নেতৃত্বের প্রতিটি পদক্ষেপকে এখন শহীদদের রক্তের মাপে পরিমাপ করা হবে। যদি কোনো রাজনৈতিক শক্তি খুনিদের সহযোগীদের সাথে সখ্যতা বজায় রাখে, তবে তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে। রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে এখানে অন্যায়ের সাথে আপস করে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা যাবে। এই দেশ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, আর চব্বিশের গনঅভ্যুত্থান সেই রক্তের দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের শেকড় উপড়ে ফেলাই ছিল এই নতুন যুদ্ধের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই আবারও দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়া। তাই সময় এসেছে সরাসরি প্রশ্ন তোলার এবং নেতৃত্বের প্রতিটি বিতর্কিত পদক্ষেপের বিপরীতে সোচ্চার হওয়ার। রাজনীতির কৌশল যদি অন্যায়ের সাথে সখ্যতা হয় এবং তা যদি শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত করে, তবে সেই রাজনীতি দেশের জন্য কেবল নতুন কোনো ধ্বংসযজ্ঞই ডেকে আনবে। জনগণের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সুবিধাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবেন এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন। অন্যথায়, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বড়ই নির্মম হয় এবং জনরোষ থেকে বাঁচার কোনো বিকল্প পথ তখন খোলা থাকে না।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এটা ডিলিট করে দিন ।

২| ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:০১

রাজীব নুর বলেছেন: এক লেখা প্রথম পাতায় দুইবার এসেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.