| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গল্পের শুরুটা সেই আদি ও পুরাতন।এক যে ছিল রাজা,তার দুই রাণী, সুয়োরাণী আর দুয়োরাণী।সুয়োরাণীর পুত্র অরুণ কুমার,দুয়োরাণীর বরুণকুমার।রাজ জ্যোতিষি দুই রাজকুমারের ভাগ্য গণনা করে বললেন বরুণকুমারের নাম চিরঅক্ষয় হবে পৃথিবীতে,অরুণকুমারকে মনে রাখবে না কেউ।সবাই ভাবে নিশ্চয় বড় কোন যোদ্ধা হবে বরুণকুমার।
দিন যায়,রাজপুত্ররা বড় হয়।বরুণকুমার রাক্ষসের গল্প শুনে মায়ের আঁচলের নিচে লুকিয়ে পড়ে,আর অরুণকুমার বলে, ‘কোথায় থাকে সে রাক্ষস আমি তার মাথা কেটে আনব’।অরুণকুমার ভালবাসে অস্ত্রচালনা, সমরবিদ্যা আর বরুণকুমার বসে রঙিন কাগজের ফুল বানায়।সবাই ভাবে গণনায় তবে ভুল ছিল জ্যোতিষির।
রাজপুত্ররা তাদের যুবক বয়সে উপনীত হল।অরুণকুমার মস্ত যোদ্ধা, তার প্রতাপে আশেপাশের সব রাজ্যের রাজারা ভয়ে কাঁপে।যুদ্ধক্ষেত্রে অরুণকুমার একাই কচুকাটা করে শত সৈন্যকে।আর বরুণকুমার সখীদের নিয়ে বাগানে পাখিদের গান শোনে আর ফুলচাষ করে।
রাজা মহাখুশি অরুণকুমারের উপর।একদিন অরুণকুমারকে ডেকে রাজা বলেন ‘অরুণকুমার,দখল করে নাও আশেপাশের সমস্ত রাজ্য।তারপর আমার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সিংহাসনে বসবে তুমি ।আমি চাই বাকি সমস্ত রাজ্যের রাজারা তোমাকে কুর্ণিশ করুক।তুমি সম্রাট হবে আর তারা হবে তোমার সামন্ত রাজা।’
অরুণকুমার সৈন্যবাহিনী নিয়ে আশেপাশের রাজ্য দখলে গেলেন।কিন্তু ফিরে আসলেন ব্যর্থ হয়ে।সকল রাজ্যে কঠিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।গুপ্তচর এসে খবর দিল বরুণকুমার চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিল অন্যান্য রাজাদের।রাজা প্রচন্ড রেগে বিশ্বাসঘাতক বরুণকুমারকে নিক্ষেপ করলেন অন্ধকার কারাগারে।
এদিকে অন্যান্য রাজারা সম্মিলিত হয়ে বিশাল সৈন্যদল নিয়ে এল এই রাজার রাজ্য দখল করেতে।অরুণকুমার যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হলেন।অরুণকুমারের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে রাজা বুঝলেন তার পরাজয় নিশ্চিত।তিনি কারাগারে গেলেন বিশ্বাসঘাতক বরুণকুমারকে হত্যা করতে।বরুণকুমার রাজার পা জড়িয়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চাইলেন নিজের।রাজা বরুণকুমারের কাপুরুষতায় অত্যন্ত বিরক্ত হলেন, খাপ থেকে তলোয়ার বের করে আমূল বিঁধিয়ে দিলেন বরুণকুমারের বুকে।
বিজয়ী রাজারা রাজপ্রসাদ দখল করল।তারপর তারা খুঁজে বের করল বরুণকুমারের মৃতদেহ।দক্ষ এক কসাইকে খবর দিয়ে আনা হল।কসাই ধারালো ছুরি দিয়ে কাটতে থাকে বরুণকুমারের শরীর।একজন রাজা তখন বরুণকুমারকে দেখিয়ে বলে ‘দেখুন মৃত্যুর পরও কি শান্তি লেপে আছে পুরো চেহারা জুড়ে’, আরেকজন বলে ‘চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ওখানে যেন নবজাতক শিশুর বিস্ময়’,আরেকজন বলে ‘কত বড় কলিজাটা দেখেছেন, ওখানে দুঃসাহস রাখতে পারত কিন্তু সে রেখেছিল ভালবাসা’,কেউ একজন বলে ‘আস্তে ছুরি চালাও হে, যেন ব্যথা না পায়’,সমস্বরে সবাই বলে, ‘খবর্দার, যেন ব্যাথা না পায়।’
এরপর সবাই বরুণকুমারের একটি একটি করে টুকরা নিয়ে নিজ রাজ্যে ফিরল।তারা রাজ্যের মাঝখানে পুঁতে দিল টুকরাটি আর তার উপরে একটি করে হাসনাহেনার গাছ লাগাল।স্মৃতিফলকে লিখে দিল ‘একদিন বরুণকুমার বেঁচেছিল এই পৃথিবীতে যে ভালবাসত জীবনকে’।বরুণকুমারের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই রাজারা আর কখনো যুদ্ধ করে নি।
যে রাতে আকাশে হাজার তারা ওঠে, হাসনাহেনার গন্ধে ভারী হয় বাতাস, শিশুরা বায়না ধরে গল্প শোনার-সেই রাতে মায়েরা গল্প বলে,বরুণকুমারের গল্প- ‘এক যে ছিল রাজকুমার, বরুণকুমার তার নাম..’।অরুণকুমারকে সবাই ভুলে গেছে কবেই।
১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:৫৩
জীসান মাহমুদ অভি বলেছেন: জানিনা হয় কিনা, তবে হলে কিন্তু বেশ হয়।
২|
১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:২১
দ্যা ফয়েজ ভাই বলেছেন: রুপকথার গল্প হয়ে রুপকথার গল্পকেই হার মানালো।
জানি না।এট, কি আপনার লেখা,নাকি আমার অজ্ঞতায় থাকা কোন রুপকথা।
আমার কাছে,ভালো লাগলো। ![]()
৩|
১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:৫৬
জীসান মাহমুদ অভি বলেছেন: ভাল লেগেছে জেনে সুখি হলাম। বরাবরই তো অরুণকুমারকে হাইলাইট করা হয় রূপকথায়, আমার হটাৎ সাধ জাগল বরুণকুমারের গল্পটা শোনাবার। প্রচেষ্টাটুকু আমারই।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৮:৫৬
আরণ্যক রাখাল বলেছেন: এমন হয় নাকি?