| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আলমগীর সরকার লিটন
সামহোয়্যারইন শুরু থেকে লেখালেখি করছিলাম হঠাৎ আইডি বন্ধ হয়ে যায় তারপর আবার নতুন করে আইডি খুলে লেখালেখি শুরু করলাম সবার প্রতি কৃষ্ণচূড়া শুভেচ্ছা রইল
আমি হাওয়ায় শূন্যের কথা ভাবি
ভাবি ঐ আত্মা সুখের চীর;
আমি শুধু মাটির গন্ধ খুঁজি
আছে যত দেশপ্রেমিক বীর
আমি- আমি লিটন আলম গীর-
আমি আমার গানে আধ্যাত্মিক শির
বুঝাতে কষ্ট পাও- খাও যে ক্ষীর
ভাবি না কখন ভণ্ড রূপে পীর-
আমি- আমি লিটন আলম গীর।
আমার আমি সরলতায় চলি ছন্দ
করি না তো সচেতনায় যে দ্বন্দ্ব-
দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বে হারাবে মনের ছন্দ
আমার আমি সরলতায় চলি ছন্দ।
নিঃশ্বাসে দেখি ধর্ম কর্ম অন্যায়ে আপসহীন
ন্যায়ের হাত করে ঝিন ঝিন- ক্ষণস্থায়ী পিন
তুমি শুধু সত্যের পথ খোঁজ বংশ মীর
আমি- আমি লিটন আলম গীর।
আমি দেখি তোমার সুখের ময়ূর
পেখম তোলে আছে- বিজলী চোখে
উড়ে যাও মহা শূন্যের ভাজে- ভাজে
ভেবে দেখেছো কি? ভেবে নাও শুধু
এক অগ্নি সবিতা হয়ে- ভোরের সূর্য সুখে;
আমি বলি কবিতায় কিংবা গানের সুরে
নিজের সরলতায় পাবে সুখ শান্তির ভীর।
আমি- আমি লিটন আলম গীর।
১৭-১০-২৬
২|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭
আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: হায় হায় কবি দা ভাল থাকবেন
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১০
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
আপনার ‘শূন্যের কথা ভাবি’ কবিতাটি পড়লাম। কবিতাটিতে শূন্যের ভাবনা থেকে শুরু করে আত্মার চিরন্তন সুখ, দেশপ্রেম, ধর্মীয় অনুভূতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ব্যক্তিমানুষের সরলতায় শান্তি খোঁজার চেষ্টা প্রকাশ পেয়েছে। আমার কাছে কবিতাটির বিশেষ দিক হলো, আপনি নিজের পরিচয় ও বিশ্বাসের কথা বলতে গিয়ে একই সঙ্গে পাঠককেও নিজের ভেতরে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
‘আমি হাওয়ায় শূন্যের কথা ভাবি’—এই পঙ্ক্তিটি আমাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। শূন্যকে আমরা সাধারণত কোনো কিছুর অনুপস্থিতি হিসেবে দেখি। কিন্তু কবিতার ভাষায় শূন্য কেবল অভাবের প্রতীক নয়; এটি হতে পারে নীরবতা, অসীমতার অনুভব, আত্মজিজ্ঞাসা কিংবা অস্তিত্বের রহস্য নিয়ে চিন্তা করার একটি উপলক্ষ। দৃশ্যমান জগতের বাইরে কী আছে, মানুষের অস্তিত্বের গভীরে কী ধরনের সত্য লুকিয়ে আছে—এমন প্রশ্ন থেকেই তো দর্শন ও আধ্যাত্মিক চিন্তার জন্ম। অবশ্য গাণিতিক শূন্য, মহাবিশ্বের ভৌত শূন্যস্থান এবং দর্শনের শূন্যতা এক বিষয় নয়; তবু কাব্যিক কল্পনায় এদের ঘিরে মানুষের বিস্ময় ও অনুসন্ধানকে একসূত্রে আনা যায়।
‘আমি শুধু মাটির গন্ধ খুঁজি / আছে যত দেশপ্রেমিক বীর’—এই অংশে মাটির প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের অনুভূতি ফুটে উঠেছে। মাটি এখানে শুধু জন্মভূমির ভূখণ্ড নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে মানুষের শিকড়, ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং নিজের পরিচয়ের বন্ধন। প্রকৃত দেশপ্রেম কেবল আবেগের বিষয় নয়, বরং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মধ্য দিয়েও তার প্রকাশ ঘটে।
আপনার কবিতায় ‘ভণ্ড রূপে পীর’ হওয়ার প্রসঙ্গটি ধর্মীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্মরণ করিয়ে দেয়। ধর্মের বাহ্যিক পরিচয় আর প্রকৃত নৈতিক চরিত্র সব সময় এক নয়। মানুষের পোশাক, পদবি কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তার সততা, বিনয়, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক আচরণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম যদি মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে, তবে তার প্রতিফলন মানুষের কর্মেও দেখা যাওয়ার কথা। তাই ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে আত্মসমালোচনা ও নৈতিক দায়িত্ববোধের সংযোগ থাকা প্রয়োজন।
‘দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বে হারাবে মনের ছন্দ’—পঙ্ক্তিটিতে ব্যক্তিগতভাবে আমি একটি সুন্দর জীবনদর্শনের ইঙ্গিত পাই। মানুষের জীবনে মতভেদ থাকবেই। কিন্তু প্রতিটি মতভেদকে বিরোধে পরিণত করলে সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। আবার শান্তি বজায় রাখার নামে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করাও গ্রহণযোগ্য নয়। আপনার কবিতায় একদিকে সরলতা ও মনের ছন্দ রক্ষার কথা এসেছে, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার কথাও বলা হয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই জীবনের বড় শিক্ষা—মানুষের সঙ্গে আচরণে সৌজন্য থাকবে, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে বিবেককে বিসর্জন দেওয়া যাবে না।
কবিতার শেষাংশে সুখ, শান্তি এবং মহাশূন্যের প্রসঙ্গ এসে ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করেছে। মানুষ প্রতিদিনের ব্যস্ততায় নিজের অস্তিত্ব, প্রকৃতি এবং মহাবিশ্বের বিশালতা নিয়ে ভাবার সময় খুব কমই পায়। অথচ এই ভাবনাগুলো মানুষকে বিনয়ী করতে পারে, নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে সাহায্য করতে পারে এবং জীবনের অর্থ খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। আপনার কবিতা সেই আত্মজিজ্ঞাসার দরজাটি খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তবে কবিতাটির কিছু পঙ্ক্তিতে ভাবের গভীরতা থাকলেও শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাস আরও একটু পরিমার্জিত হলে বক্তব্যটি পাঠকের কাছে অধিক স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শূন্য, আত্মার সুখ, সত্যের পথ এবং মহাশূন্যের ভাবনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহতভাবে প্রকাশ করলে কবিতার দার্শনিক আবেদন বাড়বে। কবিতায় ব্যক্তিগত পরিচয়ের পুনরাবৃত্তি আত্মপ্রকাশের একটি কৌশল হিসেবে কাজ করেছে; পাশাপাশি অন্যের জীবন ও উপলব্ধির সঙ্গে সেই আত্মপরিচয়ের যোগসূত্র আরও স্পষ্ট করা গেলে কবিতাটি সর্বজনীন আবেদন লাভ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, আপনার কবিতায় আত্মপরিচয়, আধ্যাত্মিক অনুভব, দেশপ্রেম এবং নৈতিকতার যে সমন্বয়ের চেষ্টা রয়েছে, তা প্রশংসনীয়। কবিতা শুধু ছন্দ ও শব্দের সৌন্দর্য নয়; কখনো কখনো তা মানুষের মনে নতুন প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার মাধ্যমও। আপনার ‘শূন্যের কথা ভাবি’ কবিতাটি পাঠককে নিজের ভেতরে তাকাতে এবং সত্য, সরলতা ও শান্তির অর্থ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে। আপনার কাব্যচর্চা অব্যাহত থাকুক, আর আপনার ভাবনার প্রকাশ আরও পরিণত ও গভীর হয়ে উঠুক—এই শুভকামনা রইল।