| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নতুন নকিব
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।
রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন
ছবি সংগৃহিত
রমযান মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বরকতময় মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা সিয়ামকে ফরয করেছেন এবং কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:
شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِ
রমযান মাস - যে মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত, স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। -সূরা বাকারা, আয়াত নং ১৮৫
রমযানের মূল দুটি বিষয়: সিয়াম ও কুরআন তেলাওয়াত। এ দুটির পূর্ণ হক আদায় করতে একটি লিখিত ২৪ ঘণ্টার রুটিন অপরিহার্য। এ রুটিন কুরআন-সুন্নাহর দলিলসহ প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত করা হয়েছে। প্রতিটি আমলের সাথে আরবি দলিল, বাংলা অনুবাদ এবং রেফারেন্স যুক্ত করা হয়েছে। লিখিত রুটিন অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ আমলের সম্ভাবনা ২৫-৪০% বৃদ্ধি পায়।
পূর্ব প্রস্তুতি - সফলতার তিনটি মূল স্তম্ভ
যেকোনো কাজে সফলতার জন্য তিনটি অপরিহার্য বিষয়:
১. পরামর্শ নেওয়া (এই রুটিনটি পরামর্শের অংশ)।
২. দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
৩. আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা।
وَشَاوِرۡهُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِۖ فَإِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُتَوَكِّلِينَ
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করো। তারপর যখন সিদ্ধান্ত নেবে, আল্লাহর উপর ভরসা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন। -সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৫৯
ধারাবাহিক ২৪ ঘণ্টার রুটিন
১. রমযানের চাঁদ দেখা (শা'বান ২৯ তারিখ সন্ধ্যায়)
চাঁদ দেখামাত্র এই দোয়া পড়ুন এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করুন।
اللَّهُمَّ أَهْلِلْهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ
আল্লাহ, এ চাঁদকে আমাদের উপর কল্যাণ, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে উদিত করো। আমার ও তোমার রব আল্লাহ। -সুনান তিরমিযী, হাদিস নং ৩৪৫১ (হাসান)
২. তারাবীহের প্রস্তুতি ও আদায় (রাত ৮:০০-১০:০০)
খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে খতম তারাবীহ আদায় করুন। মসজিদে আধা ঘণ্টা আগে যান।
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমযানে রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২০০৯
৩. তারাবীহের পর ঘুম (রাত ১০:০০-১১:০০)
তারাবীহ শেষে যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়ুন। তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত ও সাহরীর নিয়ত করে ঘুমান। মোবাইল দূরে রাখুন। অতিভোজন এড়িয়ে দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে ঘুমান।
৪. তাহাজ্জুদ (রাত ৪:০০)
এলার্ম দূরে রেখে ওযু করে তাহাজ্জুদ (২-৮ রাকাত) আদায় করুন। কুরআন তেলাওয়াত, কান্নাকাটি ও দোয়া করুন।
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا
রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো - এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত। সম্ভবত তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উঠাবেন। -সূরা ইসরা, আয়াত নং ৭৯
৫. সাহরী (রাত ৪:৩০-৫:০০)
সাহরী খান (অল্প হলেও), খেজুর দিয়ে শুরু করুন। শেষ সময়ের কিছু আগে শেষ করুন।
تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯২৩
৬. ফজরের আযান (৫:০০-৫:৩০)
আযানের জবাব দিন। আযান-ইকামতের মাঝে দোয়া করুন। জামাতে ফজর পড়ুন। সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকির করুন। তারপর ২ রাকাত ইশরাক নামাজ।
الدُّعَاءُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ لَا يُرَدُّ
আযান ও ইকামতের মাঝে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। -সুনান তিরমিযী, হাদিস নং ২১২ (হাসান)
مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ لَهُ أَجْرُ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ
যে ফজর জামাতে পড়ে, সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকির করে, তারপর ২ রাকাত পড়ে - সে পূর্ণ হজ ও উমরার সওয়াব পায়। -সুনান তিরমিযী, হাদিস নং ৫৮৬ (হাসান)
৭. সকালের বিশ্রাম ও কর্মস্থল (৬:০০-১২:০০)
১-১.৫ ঘণ্টা বিশ্রাম নিন। তারপর নিষ্ঠার সাথে অফিস/কর্মস্থলে যান।
৮. যোহর (দুপুর ১২:০০-১:৩০)
আযানের জবাব দিন। ৪ রাকাত সুন্নাত + ফরয + ২ রাকাত সুন্নাত আদায় করুন। সময় পেলে কুরআন তেলাওয়াত বা দ্বীনি বই পড়ুন।
৯. আসরের আগে বিশ্রাম ও আসর (৩:০০-৪:৩০)
ক্লান্তি হলে ৩০-৪০ মিনিট বিশ্রাম। আসরের আযানের জবাব ও জামাতে আসর আদায় করুন। তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ুন (সম্ভব হলে)।
১০. আসরের পর বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতি (বিকেল ৪:৩০-সূর্যাস্ত)
বাসায় ফিরে পরিবারকে ইফতার প্রস্তুতিতে সাহায্য করুন।
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْدُمُ أَهْلَهُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে এসে পরিবারের কাজে সাহায্য করতেন। -সহীহ বুখারী (আয়েশা রা. থেকে)
১১. ইফতারের ১০ মিনিট আগে দোয়া (সূর্যাস্তের আগে)
দোয়া-দরূদ ও ইস্তিগফারে মগ্ন হোন।
إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ
রোযাদারের ইফতারের সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। -সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৭৫৩ (হাসান)
১২. ইফতার (সূর্যাস্তের পর)
খেজুর + পানি দিয়ে শুরু করুন। হালাল-স্বাস্থ্যকর খাবার খান। সবাই মিলে খান এবং অন্তত একজন রোযাদারকে ইফতার করান।
إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ
তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, খেজুর দিয়ে ইফতার করুক, কেননা তাতে বরকত রয়েছে। -সুনান তিরমিযী, হাদিস নং ৬৯৫ (সহীহ)
مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا
যে রোযাদারকে ইফতার করায়, সে তার সমান সওয়াব পায় - রোযাদারের সওয়াব থেকে কিছু কমানো ছাড়া। -সুনান তিরমিযী, হাদিস নং ৮০৭ (সহীহ)
১৩. মাগরিবের নামাজ (ইফতারের পর)
জামাতে মাগরিব আদায় করুন।
১৪. মাগরিবের পর (রাত ৭:৩০-৮:০০)
দ্বীনি বই পড়ুন, পরিবারের সাথে রমযানের ফযিলত নিয়ে আলোচনা করুন। আজকের তারাবীহের তেলাওয়াতের অনুবাদ-তাফসীর দেখুন।
১৫. তারাবীহ (রাত ৮:০০-১০:০০)
পূর্ববর্ণিত দলিল অনুসারে খুশু-খুজুর সাথে আদায় করুন। পানি নিয়ে যান, মাঝে সতেজ হয়ে আসুন।
১৬. রাতের শেষে ঘুম (রাত ১০:০০)
বিলম্ব না করে ঘুমান। তাহাজ্জুদের নিয়ত করুন।
রমাদানের জরুরি আমলসমূহ
১. গুনাহ থেকে পূর্ণ বিরতি (রোযার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া)।
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
যে মিথ্যা কথা ও কাজ ত্যাগ করে না, আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই তার খাবার-পানীয় ত্যাগে। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৩
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে - জীবনভর ছাড়ব না।
৩. যাকাত আদায় - ইসলামের মৌলিক ফরয।
৪. কুরআন খতম + অনুবাদ-তাফসীর প্রতিদিন।
৫. দ্বীনি বই সাথে রাখা।
৬. শেষ দশকে ই'তিকাফ (পূর্ণ বা নফল)।
৭. লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান।
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। -সূরা কদর, আয়াত নং ৩
৮. প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি আয়াত + ১টি হাদিস + ১টি দোয়া মুখস্থ করুন।
৯. মোবাইল নিয়ন্ত্রণ করুন।
১০. বেশি বেশি দোয়া করতে থাকুন - আল্লাহ! আপনি যেমন রমযান চান, তেমন রমযান আমাদের নসীব করুন।
শেষ কথা
রমযান আমাদের তাকওয়াবান বানাতে এসেছে। এ রুটিন অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ আমরা নতুন মানুষ হয়ে বের হব। জিবরাইল আলাইহিস সালামের বদদোয়া থেকে বেঁচে যাব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রমযানে তাকওয়া ও জান্নাত লাভের তাওফীক দান করুন। আমীন।
প্রিন্ট করে দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখুন এবং প্রতিদিন টিক মারুন। আল্লাহ আমাদের আমল কবুল করুন।
রেফারেন্স তালিকা
সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫
সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯
সূরা ইসরা, আয়াত ৭৯
সূরা কদর, আয়াত ৩
সহীহ বুখারী, হাদিস ১৯২৩, ১৯০৩, ২০০৯
সহীহ মুসলিম (সম্পর্কিত হাদিস)
সুনান তিরমিযী, হাদিস ৩৪৫১, ৬৯৫, ৮০৭, ৫৮৬, ২১২
সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭৫৩
সুনান আবু দাউদ (সম্পর্কিত)
২|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:২১
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: সৃন্দর পোস্ট।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪২
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: উপকারী পোষ্ট।