নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলামী মরমী সাধনা সুফীবাদ নিয়ে একটি ধারাবাহিক লেখা***** ১ম পর্ব : এক মহিয়সি সুফী সাধিকা নারী রাবিয়া বসরী (রহ.)

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩


রাবিয়া বসরী (রহ,) কে নিয়ে আলোচনার পুর্বে সুফিবাদ কী এবং সুফিবাদের ইতিহাস নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করে নেয়া হল। (এখানে উল্লেখ্য এ পোস্টে দেয়া রাবিয়া বসরী(র,) সম্পৃক্ত সবগুলি ছবিই প্রতিকী ছবি , উনার কোন সত্যিকার ছবি নেই )

সুফিবাদ ইসলামের এক আধ্যাত্মিক ও রহস্যময় বিশ্বাস ও সাধনার ধারা, যার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর সঙ্গে নিবীর সান্নিধ্য অনুভবের মাধ্যমে ঐশী প্রেম ও জ্ঞানের সত্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। এটি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সাধনার পথের সমষ্টি, যার লক্ষ্য মানবসত্তা ও সৃষ্টিকর্তার প্রকৃতি অনুধাবন করা এবং পৃথিবীতে ঐশী প্রেম ও প্রজ্ঞার উপস্থিতির অভিজ্ঞতা লাভে সহায়তা করা।

আরবি ভাষায় ইসলামী আধ্যাত্মিকতাকে বলা হয় তাসাওউফ যার আক্ষরিক অর্থ “উলের পোশাক পরিধান করা”। তবে উনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে পাশ্চাত্য ভাষায় এটি সুফিবাদ তথা Sufism নামে পরিচিত। ‘সুফিবাদ’ একটি বিমূর্ত শব্দ, যা আরবি সুফি শব্দ থেকে এসেছে; আর সুফি শব্দটির উৎস সুফ , অর্থাৎ উল ; সম্ভবত প্রাচীন মুসলিম সাধকদের উলের পোশাক পরিধানের প্রতি ইঙ্গিত করে। সুফিদের সাধারণভাবে দরিদ্র বলেও অভিহিত করা হয়। আরবিতে ফুকারা , যা ফকীর -এর বহুবচন; পারসিতে দরবেশ , যেখান থেকে ইংরেজি fakir ও dervish শব্দের উৎপত্তি।

একসময় ধারণা করা হতো যে ইসলামী আধ্যাত্মিকতার শিকড় প্রাচীন ইউরোপ কিংবা ভারতসহ বিভিন্ন অ-ইসলামী উৎস থেকে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এই আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে ইসলামের প্রাথমিক যুগের সংযমী ও ত্যাগমূলক জীবনধারা (asceticism) থেকে, যা দ্রুত সম্প্রসারিত মুসলিম সমাজে ক্রমবর্ধমান ভোগবাদিতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে কেবল সেইসব বিদেশি উপাদান গ্রহণ করা হয়, যা আধ্যাত্মিক তত্ত্ব ও সাধনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে নেওয়া হয়।

সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও মুসলমানদের আধ্যাত্মিক চেতনা গভীরতর করার মাধ্যমে সুফিবাদ মুসলিম সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ধর্মীয় ফিকাবিদদের(আইনবিদদের) শুষ্ক তর্কধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করলেও সুফিরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শরিয়তের বিধান পালন করেন। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ধর্মপ্রচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও সুফিদের বিশেষ অবদান রয়েছে, যা আজও অব্যাহত। ইসলামের প্রবর্তক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর ব্যক্তিত্ব ও আদর্শকে সুফিরা এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন, যার ফলে মুসলিম ধর্মীয় অনুভূতি ও ভক্তি-চেতনার ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে। পারসি ভাষা এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত তুর্কি, উর্দু, সিন্ধি, পশতু ও পাঞ্জাবি সাহিত্যেও সুফি পরিভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। এসব ভাষার কাব্যধারার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। কিছু দেশে সুফি নেতারা রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

ইসলামী আধ্যাত্মিকতার বিকাশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(১) প্রাথমিক যুগের সংযমী সাধনা বা ত্যাগবাদ (asceticism)-এর আবির্ভাব,
(২) ঐশী প্রেমকেন্দ্রিক ধ্রুপদী ( ক্লাসিক্যল) আধ্যাত্মিকতার বিকাশ, এবং
(৩) সুফি ভ্রাতৃসংঘ বা তরিকা-ভিত্তিক সংগঠনের উত্থান ও বিস্তার।

তবে এসব সাধারণ ধাপ থাকা সত্ত্বেও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার ইতিহাস মূলত ব্যক্তিগত সাধক-অভিজ্ঞতার ইতিহাস।
সুফিবাদের প্রথম পর্যায় গড়ে ওঠে ধর্মপরায়ণ মানুষের মহলে, উমাইয়া যুগের (৬৬১–৭৪৯) ক্রমবর্ধমান জাগতিক ভোগবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। কুরআনের কিয়ামত সংক্রান্ত আয়াতসমূহ নিয়ে নিরন্তর ধ্যান করার ফলে এসব সাধক “সর্বদা ক্রন্দনকারী” নামে পরিচিত হন এবং তারা এই পৃথিবীকে “দুঃখের কুটির” বলে মনে করতেন। কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ কঠোরভাবে পালন, অধিক ইবাদত, এবং বিশেষত রাতের নামাজে গভীর অনুরাগ এসব বৈশিষ্ট্যে তারা পরিচিত ছিলেন।

সংযমী সাধনাকে প্রকৃত আধ্যাত্মিকতায় রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে “ঐশী প্রেম” এর ধারণা যুক্ত হওয়াকে সাধারণত বসরার সাধিকা রাবেয়া আল-আদাবিয়্যা ( জন্ম আনুমানিক ৭১৩–৭১৭ খ্রি. - মৃত্যু ৮০১ খ্রি.)-এর কৃতিত্ব বলে ধরা হয়। তিনিই প্রথম এমন এক সুফি আদর্শ তুলে ধরেন, যেখানে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা হবে নিঃস্বার্থ, জান্নাতের আশায় নয়, জাহান্নামের ভয়ে নয।

তাঁর জীবনের কাহিনি মূলত পরবর্তী যুগের সুফি জীবনীগ্রন্থে সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে কিছু বিবরণ ঐতিহাসিকের চেয়ে ভক্তিমূলক হলেও, এগুলো প্রাথমিক যুগের মুসলমানরা তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদাকে কীভাবে উপলব্ধি করতেন তা প্রকাশ করে।

রাবেয়া আল আদাবিয়া (Rābiʿah al-ʿAdawīyah) যিনি প্রায়ই রাবেয়া আল-বসরী নামে পরিচিত ,অর্থাৎ বসরার রাবেয়া আনুমানিক ৭১৩–৭১৭ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের প্রাথমিক যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র Basra নগরে এক দরিত্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর শৈশব ও জীবনের প্রারম্ভিক অধ্যায় সম্পর্কে যে বিবরণ আজ আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তার অধিকাংশই সংরক্ষিত হয়েছে পরবর্তী যুগের প্রসিদ্ধ সুফি সাধক ও কবি ফরিদউদ্দিন আত্তারের রচনায়। আত্তার নিজেও পূর্ববর্তী নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এসব কাহিনি সংগ্রহ করেছিলেন। ( ফরিদ উদ্দিন আত্তার অন্তত ৩০ টি বই লিখে গেছেন। তার একটি বিখ্যাত বই হচ্ছে "মানতিকে তাইয়ার" বা "পাখির সমাবেশ"। আত্তারের কবিতা রুমিসহ বহু আধ্যাত্মিক কবির জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তিনি কিছু আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে দীর্ঘ দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তিনি গবেষণার মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন করেন,তা কবিতার আকারে লিখে গেছেন। হিজরী ৮১১ সালে ইরানের এই বিখ্যাত কবি মোঙ্গলদের হামলার সময় মৃত্যুবরণ করেন। ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিশাপুর শহরে তার কবরস্থান রয়েছে) ।

বিস্ময়ের বিষয়, আধ্যাত্মিক মহিমায় উজ্জ্বল এই নারী স্বাধিকা রাবিয়া নিজে কোনো গ্রন্থ বা লিখিত রচনা রেখে যাননি; তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত শিক্ষা।

পরিবারের চতুর্থ কন্যা হিসেবে জন্ম নেওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় “রাবিয়া”, যার অর্থ‘চতুর্থ’। তিনি জন্মেছিলেন স্বাধীন অবস্থায়, এক দরিদ্র কিন্তু সম্মানিত ও ধর্মপরায়ণ পরিবারে; যেখানে অভাব ছিল, কিন্তু মর্যাদা ও ঈমানের দীপ্তি ছিল অক্ষুণ্ণ।

ফরিদউদ্দিন আত্তারের বর্ণনায় জানা যায়, তাঁদের দারিদ্র্য ছিল এতই গভীর যে ঘরে একটি প্রদীপ জ্বালানোর মতো তেলও ছিল না, এমনকি নবজাতক শিশুকে জড়িয়ে রাখার মতো কাপড়ও অনুপস্থিত ছিল। এক রাতে তাঁর মা নবজাতক কন্যার জন্য সামান্য তেল ধার করে আনতে স্বামীকে অনুরোধ করলেন। কিন্তু তিনি আজীবন এই অঙ্গীকার করেছিলেন যে, সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত আর কারও কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করবেন না। অতএব তিনি প্রতিবেশীর দরজার দিকে যাওয়ার ভান করলেন, কিন্তু কারও কাছে হাত না বাড়িয়ে নীরবে খালি হাতেই ঘরে ফিরে এলেন, যেন তাঁর নির্ভরতা কেবল আল্লাহর ওপরই অটল থাকে।

এক গভীর রজনীতে রাবিয়ার পিতা এক অপূর্ব স্বপ্ন দর্শন করলেন। স্বপ্নে তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। নবীজি স্নেহভরা কণ্ঠে তাঁকে বললেন;
“তোমার নবজাত কন্যা আল্লাহর অতি প্রিয় এক বান্দি। সে বহু মুসলমানকে সত্য ও সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করবে। তুমি বসরার আমীরের কাছে যাও এবং তার হাতে একটি পত্র পৌঁছে দাও। সেখানে লিখবে—
‘আপনি প্রতি রাত্রে নবীর প্রতি একশতবার দরূদ শরীফ পাঠ করেন এবং প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে চারশতবার দরূদ পাঠ করার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আপনি এই নিয়ম পালন করতে পারেননি। অতএব এর কাফফারা হিসেবে এই পত্রবাহককে চারশত দিনার প্রদান করুন।’”

স্বপ্নভঙ্গ হতেই রাবিয়ার পিতা গভীর আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠলেন। আনন্দাশ্রু তাঁর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল। তিনি বিলম্ব না করে সরাসরি বসরার আমীরের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং স্বপ্নে প্রাপ্ত বার্তাটি পৌঁছে দিলেন।

বার্তাটি শুনে আমীর বিস্ময় ও আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়লেন। তিনি উপলব্ধি করলেন মহানবীর দৃষ্টিতে তিনি স্মরণীয় হয়েছেন, যা তাঁর জন্য এক বিরাট সৌভাগ্য। কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে তিনি দরিদ্রদের মধ্যে এক হাজার দিনার দান করলেন এবং পরম আনন্দের সঙ্গে রাবিয়ার পিতার হাতে চারশত দিনার তুলে দিলেন। এরপর তিনি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, যখনই তাঁর কোনো প্রয়োজন হবে, যেন তিনি নির্দ্বিধায় তাঁর কাছে আসেন; কারণ আল্লাহর প্রিয়জনদের সান্নিধ্য লাভ করা তাঁর জন্য বরকত ও কল্যাণের উৎস।

কিন্তু পার্থিব জীবনের পরীক্ষা দ্রুতই নেমে এলো। রাবিয়ার পিতার ইন্তেকালের পর বসরা নগরী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হলো। অভাব ও দুর্যোগের সেই কঠিন সময়ে রাবিয়া তাঁর বোনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। জনশ্রুতি অনুসারে, তিনি এক কাফেলার সঙ্গে যাত্রা করছিলেন; কিন্তু পথিমধ্যে কাফেলাটি ডাকাতদের হাতে আক্রান্ত হয়। ডাকাতদলের নেতা রাবিয়াকে বন্দি করে এবং পরে বাজারে তাকে দাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয়।নতুন মালিকের গৃহে তাঁর জীবনের সূচনা হয় কঠোর শ্রম ও দুঃসহ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।

Source : Click This Link
কিন্তু সেই দুঃখ-দুর্দশার অন্তরালেই ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছিল এক মহিমান্বিত আত্মা যার হৃদয় পরবর্তীকালে আল্লাহপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে মানবতার পথ আলোকিত করবে।

রাবিয়া আল-বাসরীর দাসত্ব জীবনেও ছিল দিব্য প্রেমের এক নিরব আলোকযাত্রা।দুঃসহ দাসজীবনের মধ্যেও রাবিয়া আল-বাসরীর অন্তর ছিল মুক্ত আকাশের মতো বিস্তৃত। দিনের বেলায় তিনি গৃহস্থালির কঠোর কাজ সম্পন্ন করতেন, আর রাত নেমে এলে তাঁর জীবন ডুবে যেত ইবাদতের নীরব সাগরে। সব কাজ শেষ করে তিনি সারারাত নামাজ ও প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকতেন। বহু দিন তিনি রোজা রেখে কাটাতেন যেন ক্ষুধা ও ক্লান্তিকে অতিক্রম করে আত্মাকে আল্লাহর সান্নিধ্যের দিকে উত্তোলন করছেন।

এক গভীর রাতে গৃহস্বামী হঠাৎ ঘুম ভেঙে জেগে ওঠেন। নিস্তব্ধতার মাঝে ভেসে আসা এক করুণ, হৃদয়বিদারক প্রার্থনার ধ্বনি তাঁকে আকর্ষণ করল। তিনি লক্ষ্য করলেন রাবিয়া সেজদায় লুটিয়ে পড়ে তাঁর প্রতিপালকের কাছে মিনতি করছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল আকুলতা, প্রেম ও আত্মসমর্পণের এক অপার্থিব সুর;
হে আমার প্রভু! আপনি জানেন, আপনার আদেশ পালন করা এবং সমগ্র হৃদয় দিয়ে আপনার ইবাদত করাই আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা, হে আমার নয়নের আলো। যদি আমি স্বাধীন হতাম, তবে দিন-রাত অবিরাম আপনারই ইবাদতে কাটাতাম। কিন্তু আমি কী করতে পারি, যখন আপনি আমাকে মানুষের দাসী করে রেখেছেন?”

এই কথা শুনে গৃহস্বামী গভীরভাবে আলোড়িত হলেন। তিনি অনুভব করলেন, এমন এক সাধ্বীসুলভ নারীকে নিজের সেবায় আবদ্ধ রাখা যেন এক প্রকার ধর্ম অবমাননার শামিল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এখন থেকে তিনিই রাবিয়ার সেবা করবেন।
পরদিন সকালে তিনি রাবিয়াকে ডেকে নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি বললেন, রাবিয়া চাইলে এই গৃহেই গৃহকর্ত্রীর মর্যাদায় বাস করবেন এবং তিনি নিজে তাঁর সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। আর যদি তিনি চলে যেতে চান, তবে তিনি আনন্দের সঙ্গেই তাঁকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেবেন।
রাবিয়া জানালেন, তিনি নির্জনে থেকে একান্তভাবে ইবাদতে নিমগ্ন হতে চান। গৃহস্বামী তাঁর এই ইচ্ছা মঞ্জুর করলেন, এবং রাবিয়া সেই গৃহ ত্যাগ করলেন এবং নির্জনে ইবাদতে মগ্ন হলেন । জানা যায় তিনি নিরামিশাসি ছিলেন বলে বনের পশু পাখীরাও তার সান্নিধ্যে যেতে ভয় পেতোনা ।

দিব্য ভালবাসার দর্শন
ঐশী প্রেম বা ‘দিব্য ভালোবাসা’র দর্শন সর্বপ্রথম সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছিলেন তিনিই। প্রারম্ভিক সুফি কবিদের মধ্যে তাঁকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর জীবন ও ভাবধারা নিয়ে প্রামাণ্য গবেষণাগুলোর মধ্যে মার্গারেট স্মিথ নামে এক গবেষক প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণাগ্রন্থ (মাস্টার্স থিসিস হিসেবে রচিত) প্রণয়ন করেন, যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর নামে প্রচলিত বহু কবিতার প্রকৃত উৎস নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। কঠোর সংগ্রামময় জীবনের মধ্য দিয়ে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আত্মজ্ঞান বা আত্ম-উপলব্ধির এক উচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছিলেন। একবার শেখ হাসান আল-বাসরী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ,তিনি কীভাবে এই আধ্যাত্মিক রহস্য উপলব্ধি করলেন? উত্তরে রাবিয়া বলেছিলেন;
“আপনি জানেন ‍’কীভাবে’, কিন্তু আমি অনুভবি ‘কীভাবে-হীন’ সত্যকে।”(

তাঁর জীবনকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রচলিত রয়েছে। এর একটি মতে, তাঁর মালিক এক রাতে তাঁকে আলোবেষ্টিত অবস্থায় ইবাদত করতে দেখে উপলব্ধি করেন যে তিনি একজন আল্লাহর ওলি। ভয়ে ও শ্রদ্ধায় তিনি তাঁকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন।

যদিও তিনি বহু বিবাহপ্রস্তাব পেয়েছিলেন এমনকি শেখ হাসান আল-বাসরী নিজেও তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে, তবুও তিনি আজীবন অবিবাহিত থেকে যান। কঠোর সংযম ও সাধনাময় জীবনযাপন করতে করতে বার্ধক্যে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর অনুসারী শিষ্যরাই তখন তাঁর একমাত্র সঙ্গী ও পরিচর্যাকারী ছিলেন। নারী সুফি সাধিকাদের দীর্ঘ ধারার সূচনাকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম।

এমনও ধারণা করা হয় যে, মুসলিম সমাজে দাসদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের প্রথম ভাগে দাসত্বের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এ প্রথার বিরুদ্ধে গভীরভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তী জীবনে উচ্চ আধ্যাত্মিক মর্যাদা লাভের পরও তিনি নিজে কোনো দাস গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন।

আধ্যাত্মিক জীবনপথে রাবিয়ার জীবন ছিল—চরম সরলতা,নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত,নিয়মিত রোজা,রাতজাগা সাধনা,এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল)—এই বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত।
স্বপ্নের উপকথা (Dream Fable) তাঁর বয়ানে রচিত একটি লেখার সন্ধান পাওয়া যায় যেখানে তিনি বলেছেন

আমি নিজেকে দেখলাম এক বিস্তীর্ণ সবুজ বাগানে,
যা আমার বোঝার সীমার চেয়েও বেশি সুন্দর।
সেই বাগানে ছিল এক কিশোরী মেয়ে।
আমি তাকে বললাম,
“এই স্থানটি কতই না অপূর্ব!”
সে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কি এর চেয়েও আরও অপূর্ব একটি স্থান দেখতে চাও?”
আমি বললাম, “অবশ্যই চাই।”
তারপর সে আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে চলল।
অবশেষে আমরা পৌঁছালাম এক মহিমান্বিত প্রাসাদের সামনে
যেমনটি মানবচোখ কখনও দেখেনি।
কিশোরীটি দরজায় কড়া নাড়ল,
এবং কেউ দরজা খুলে দিল।
মুহূর্তের মধ্যেই আমরা দু’জন আলোয় ভেসে গেলাম।

… রচয়িতা: রাবিয়া আল বাসরি

পূর্ববর্তী অনেক সাধক যেখানে জাহান্নামের ভয় বা জান্নাতের আশায় ইবাদত করতেন, সেখানে তিনি এক বিপ্লবাত্মক আধ্যাত্মিক ধারণা উপস্থাপন করেন:আল্লাহকে কেবল তাঁর নিজের জন্যই ভালোবাসতে হবে।পরবর্তীকালের সুফিবাদের অন্যতম মৌলিক নীতি হয়ে ওঠে এই ধারণা।তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষা হলো নিঃস্বার্থ ও বিশুদ্ধ ঐশী প্রেম (মহাব্বাতুল্লাহ)।তাঁর নামে বর্ণিত একটি দোয়া এই আদর্শকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে;
“হে আমার প্রভু, যদি আমি জাহান্নামের ভয়ে তোমার ইবাদত করি, তবে আমাকে জাহান্নামে দগ্ধ করো;
যদি জান্নাতের আশায় ইবাদত করি, তবে আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করো;আর যদি কেবল তোমার জন্যই
ইবাদত করি, তবে তোমার চিরন্তন সৌন্দর্য থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না।”


এটি ইসলামী আধ্যাত্মিক চিন্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ কর।যেখানে প্রাথমিক ইসলাম যুগে বড় দাগে ভয় ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়েছে সেখানে রাবেয়ার শিক্ষা ছিল আল্লাহর সঙ্গে প্রেম ও অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ওপর জোর দেয়া ।পরবর্তী সুফি কবিতা, গজল ও দর্শন এই পরিবর্তনের ধারাবাহিক ফল।

ব্যক্তি জীবনে তিনি কখনো বিবাহ করেননি। বলা হয়, তাঁর হৃদয় সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর প্রেমে নিমগ্ন ছিল। অষ্টম শতকের পুরুষপ্রধান জ্ঞানচর্চার পরিবেশ সত্ত্বেও বহু খ্যাতিমান আলেম ও সাধক যথা হাসান বসরী তাঁর কাছে আধ্যাত্মিক পরামর্শ নিতে আসতেন যা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তাঁর ব্যক্তিত্বের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল গভীর বিনয়,তীক্ষ্ণ আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি,কাব্যিক অভিব্যক্তি, পার্থিব ক্ষমতা ও প্রভাব থেকে স্বাধীনতা ।তিনি খ্যাতি এড়িয়ে চলতেন এবং উপঢৌকন বা পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করতেন না।

তাঁর শিক্ষা ও উক্তি সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি নিজে কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। তাঁর শিক্ষা সংরক্ষিত হয়েছে মৌখিক পরম্পরায়, পরবর্তী সুফিদের সংকলিত উক্তির মাধ্যমে, এবং শতাব্দী পরে রচিত জীবনীগ্রন্থে।
তাঁর শিক্ষার প্রধান বিষয়গুলো হলো:-
১. আল্লাহর প্রতি বিশুদ্ধ প্রেম
২. পার্থিব আকাঙ্ক্ষা থেকে বিমুক্তি
৩. অন্তরের আন্তরিকতা (ইখলাস)
৪. নিরবচ্ছিন্ন আল্লাহস্মরণ
৫. আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আধ্যাত্মিক অন্তরঙ্গতার গুরুত্ব

কোনো আনুষ্ঠানিক তরিকা প্রতিষ্ঠা না করলেও সুফিবাদে তাঁর প্রভাব ছিল অপরিসীম,তিনি ত্যাগবাদী সাধনাকে প্রেমকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিকতায় রূপান্তর করেন।পরবর্তী পারসি সুফি কবিরা তাঁর ভাবধারা বিকশিত করেন, যেমন জালাল উদ্দিন রুমী, ফরিদ উদ্দিন আত্তার প্রমুখ।

মাওলানা রুমি রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ “মসনবী”। ফার্সি সাহিত্য সম্পদ ছয় খন্ডে বিভক্ত মসনবীতে প্রায় ২৬ হাজার ছন্দবদ্ধ দ্বিপদী কবিতা আছে।রুমীর কবিতায় ভাব-ভাষা ও আবেদন সরাসরি পাঠককে এমনভাবে আকর্ষণ করে যা তার নিকট মনে হয় অপ্রতিরোধ্যঃ
মাওলানা রুমির লেখা একেকটি লাইন মানুষের ভেতর নাড়িয়ে দিতে থাকে, ক্ষমতাশীল পৃথিবীকে তুচ্ছ করে দেয়ার মতো সব লেখা লিখতে থাকেন তিনি।সুফি সাধক মাওলানা রুমী প্রতিদিন নিজেকে সঁপে দিতেন স্রষ্টার কাছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন;

আমরা শূন্য থেকে ঘুরতে ঘুরতে এসেছি
যেমনটা তারারা ছড়িয়ে থাকে আকাশে
তারারা মিলে একটি বৃত্তের সৃষ্টি করে
এবং তার মাঝে আমরা নাচতে থাকি।

সুত্র: Click This Link

কোন বিষয় নিয়ে লিখতে বসে প্রথমেই আমি খুঁজে দেখি এই সামু ব্লগে সে বিষয়ে কোন লেখা আছে কিনা।
চেস্টায় সফল হয়েছি ।মাওলানা রুমীকে নিয়ে এটি আধ্যাত্মিক সুফিবাদের সম্রাট মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি (র) পেয়ে যাই সামুতে ।

যাহোক, ফিরে যাই আমার মুল লেখার বিষয়ে । মাওলানা রুমী ও ফরিদ উদ্দীন আত্তার‌ এর মত বিখ্যাত সুফী সাধকদের জীবনালেখ্য থেকেই বুঝা যায় রাবেয়া বসরী ইসলামে নারী আধ্যাত্মিক সাধকের এক আদর্শ প্রতীক হয়ে ওঠেন। সুফি কবিতায় ব্যবহৃত ঐশী প্রেমের ভাষা তাঁর দর্শনের সঙ্গেই গভীরভাবে যুক্ত।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার : রাবেয়া বসরী( রহ,) আনুমানিক ৮০১ খ্রিস্টাব্দে বাসরায় ইন্তিকাল করেন।

রাবিয়া আল-আদাবিয়্যার মাকাম (সমাধিস্থল)

Source: Click This Link

১৯৯৫ সালে পরিচালিত স্থাপত্যগত পরীক্ষা ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলাফল থেকে জানা যায় যে এই মাকামটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুগের নির্মাণসমূহের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে আবিষ্কৃত কিছু মৃৎপাত্রের খণ্ড থেকে বোঝা যায় যে স্থাপনাটির প্রাচীনতম নিদর্শন বাইজান্টাইন যুগের। পশ্চিম দেয়ালে একটি গ্রিক ভাষার শিলালিপি রয়েছে, যেখানে লেখা আছে: “সাহসী হও, তোমরা। কেউ অমর নয়।”

কিছু মানুষের মতে স্থানটি মূলত একটি সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে প্রাথমিক ইসলামী যুগের একটি কুফি লিপির শিলালিপি পাওয়া গেছে; যদিও তা এখনো পাঠোদ্ধার করা যায়নি, তবু ধারণা করা হয় এর ধর্মীয় গুরুত্ব থাকতে পারে। কারণ ষষ্ঠ/দ্বাদশ শতাব্দী থেকে প্রচলিত বহু কাহিনিতে Rābiʿah al-ʿAdawīyah-এর সমাধিস্থল হিসেবে এই স্থানটির উল্লেখ পাওয়া যায়।এছাড়া এখানে আবিষ্কৃত মৃৎপাত্রের নিদর্শন উমাইয়া ও মামলুক যুগের বলে চিহ্নিত হয়েছে। তদুপরি একটি দেয়াল সপ্তম/ত্রয়োদশ থেকে অষ্টম/চতুর্দশ শতাব্দীর সময়কার বলে ধারণা করা হয়।

বর্তমানে স্থানটি রাবিয়া আল-আদাবিয়্যার নামে পরিচিত। তবে ইসলামী ঐতিহাসিক সূত্রে একই নামে একাধিক ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন উম্মুল খায়র রাবেয়া আল-আদাবিয়্যা আল-বাসরিয়্যা তথা আমাদের প্রখ্যাত সুফি সাধিকা রাবেয়া বসরী , যিনি ১৮৫ হিজরি / ৮০১ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের Basra নগরে ইন্তিকাল করেন। আরেকজন ছিলেন আহমদ ইবন আবু আল-হাওয়ারির স্ত্রী রাবেয়া, যিনি সম্ভবত এই স্থানেই সমাহিত।

১৯৩০-এর দশকে আবদুল্লাহ আল-মুখলিস সামে বিখ্যাত এক যুক্তিবাদী ইসলামী চিন্তাবিদ ও আরবীয় ঐতিহাসিক ( ১৮৭৮-১৯৪৭) এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন:
“সম্ভবত অলিভ পর্বতে এবং জাওইয়া আল-আসআদিয়্যার নিচে যিনি সমাহিত আছেন, তিনি না আল-আদাবিয়্যা, না আহমদ ইবন আবু আল-হাওয়ারির স্ত্রী; বরং অন্য কোনো রাবেয়া, যার ইতিহাস সময়ের প্রবাহে হারিয়ে গেছে, কিন্তু যার নাম টিকে আছে।”

সমাধিটির একটি অন্যতম স্থাপত্য বৈশিষ্ট হল এর পশ্চিমাংশে একটি বর্গাকার কক্ষ রয়েছে, যা অর্ধবৃত্তাকার ছাদ দ্বারা আচ্ছাদিত।দক্ষিণ দেয়ালে একটি মিহরাব রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে স্থানটি নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হতো।

যাহোক তার সমাধিস্থল যেখানেই হোক না কেন তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে একজন আধ্যাত্মিক সাধিকা (অলি) হিসেবে সম্মানিত করা হয়,তাঁর জীবনকাহিনি সমগ্র ইসলামী বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে,এবং তিনি আধ্যাত্মিক ভক্তি ও প্রেমের অন্যতম প্রাচীন ও মহান প্রতীক হয়ে ওঠেন।
আজ তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন সুফিবাদে ঐশী প্রেমের অগ্রদূত হিসেবে,ইসলামের শ্রেষ্ঠ নারী আধ্যাত্মিক সাধিকাদের একজন হিসেবে,এবং প্রাথমিক ত্যাগবাদী ইসলাম ও পরবর্তী রহস্যময় আধ্যাত্মিক দর্শনের মধ্যকার এক সেতুবন্ধন হিসেবে।

রাবিয়ার পরবর্তী দশকগুলোতে ইসলামী বিশ্বজুড়ে আধ্যাত্মিক চিন্তার বিস্তার ঘটে; প্রাথমিক যুগের অনেক সুফি তাওয়াক্কুল অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেন, যা পরে সুফিবাদের কেন্দ্রীয় ধারণায় পরিণত হয়।তাই রাবিয়া আল-বাসরীর জীবন কেবল একজন সাধিকার জীবনী নয়; এটি মানব আত্মার মুক্তির ইতিহাস। দারিদ্র্য, দাসত্ব, কষ্ট ও নিঃসঙ্গতার অন্ধকার অতিক্রম করে তিনি পৌঁছেছিলেন এমন এক আলোর কাছে, যেখানে ইবাদত হয়ে ওঠে প্রেম, আর প্রেম হয়ে ওঠে আল্লাহর সঙ্গে আত্মার অন্তহীন সংলাপ।তাঁর জীবন আজও স্মরণ করিয়ে দেয় সত্যিকারের স্বাধীনতা বাহ্যিক নয়; তা জন্ম নেয় হৃদয়ের গভীরে, যখন মানুষ সম্পূর্ণভাবে নিজেকে স্রষ্টার প্রেমে সমর্পণ করে।

এতক্ষন ধৈর্য ধরে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।

সুফিবাদ নিয়ে আলোচনার পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য আমন্ত্রণ রইল ।

মন্তব্য ৯৫ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৯৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: চমৎকার লেখাটি সরাসরি প্রিয়তে,রেখে দিলাম প্রিয় আলী ভাই।কিছুটা পড়েছি,বাকিটাও পড়বো ইনশাআল্লাহ।যাযাকাল্লাহু খইরান কাসিরা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




লেখাটি প্রিয়তে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানবেন । আশা করি বাকিটা পড়বেন । পরিশোষনের কিছু বিষয় থাকলে
জানালে কৃতার্থ হব। আমরা ভুলের সাগরে আছি। হৃদয় পবিত্র হলে জ্ঞানের দরজা খুলতে পারে।বদ্ধ অন্তরে
জ্ঞানের আলো প্রবেশ করেনা, সে যত যুক্তিবাদই হোক না কেন । সারাদিন যুক্তিতে ভরা ওয়াজ শুনেও
মানুষের ভিতর কোন পরিবর্তন হয়না । পক্ষ্‌ন্তরে লালন ফকিরের গানের একটি ছোট ৪ শব্দের লাইনে থাকা
কথা -দয়াল পার কর আমারে- শ্রোতাকে নিয়ে যায়য় ভাবের অতলে , নিরবে বসে চিন্তা করে কি করলে
দয়াল পার করবে তারে । অন্তর পবিত্র না হলে কোন যুক্তির কথাই আছর করবে না তাকে । অজু করতে
হয় অন্তর বাহির দুটিই পবিত্র করার জন্য, শুধু বাহ্যিক হলেই হবেনা , নামাজ কবুলের জন্য অন্তরও পবিত্র
হতে হবে । শুধু এরিস্টলের বাহ্যিক পদ্ধতিতে কাজ হবেনা রাবিয়ার পদ্ধতিতে ভিতর বাহির দুদিকেই
পবিত্র হতে হবে নীজের না শুধু সমাজের মঙ্গলের জন্যও।যাহোক নীচে থাকা বিজ্ঞ পাঠকের মন্তব্যের
প্রেক্ষিতে এই প্রতিমন্তব্য একটু বড়ই হয়ে গেল ।

শুভেচ্ছা রইল

২| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: পুরো লেখাটা পড়লাম।
সুন্দর সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন।

কিন্তু রাবেয়া বসরী সম্পর্কে যা জানা যায় সেগুলো সত্য না-ও হতে পারে। সব মানুষের ধারনা করে লেখা। যাইহোক, এই বিশ্ব সংসারে কার অবদান বেশি রাবেয়া বসরীর না এরিস্টলের?

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ । প্রথমেই বলি , অনেক খেটে খুটে এদিক সেদিক থেকে তথ্য
নিয়ে সাজাতে হয়েছে পোস্টটি। তাই পেটে কিছু দিয়ে পিঠে দিলে সয়। যতটুকু ভাল বলেছেন তাতেই আমি তুষ্ট।
যাহোক আপনার প্রশ্নেই কথান বলি। অ্যারিস্টটল ও রাবিয়া বসরী যুক্তি ও ঐশী প্রেমের দুই ধারা । মানব
সভ্যতার চিন্তা ও আধ্যাত্মিক ইতিহাস গড়ে উঠেছে দুই শক্তিশালী প্রবাহের মাধ্যমে যুক্তিনির্ভর দর্শন এবং
আত্মিক প্রেমভিত্তিক সাধনা। এই দুই ধারার উজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করেন এরিস্টটল ও রাবিয়া বসরী (রহ.) ।
ভিন্ন সময়, সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও তাঁরা মানবজীবনের উদ্দেশ্য, নৈতিকতা এবং সত্য অনুসন্ধানের
ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব রেখে গেছেন।

অ্যারিস্টটল হলেন যুক্তিবাদী চিন্তার স্থপতি। খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪–৩২২ অব্দে জীবিত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল
পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চার অন্যতম ভিত্তি নির্মাণ করেন। যুক্তিবিদ্যা, নৈতিক দর্শন, রাজনীতি, জীববিজ্ঞান, ভাষণশাস্ত্র
প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান যুগান্তকারী।তিনি দেখিয়েছিলেন যে জ্ঞান অর্জনের প্রধান উপায় হলো পর্যবেক্ষণ
ও যুক্তি। নৈতিক দর্শনে তিনি “মধ্যপন্থা” ধারণা তুলে ধরেন অর্থাৎ চরম দুই অবস্থার মাঝামাঝি ভারসাম্যই
নৈতিক উৎকর্ষ। তাঁর মতে মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইউডাইমনিয়া তথামানবিক বিকাশ ও কল্যাণ,
যা অর্জিত হয় যুক্তিনির্ভর সৎ জীবনযাপনের মাধ্যমে।অ্যারিস্টটলের চিন্তা পরবর্তীকালে ইসলামি দর্শন,
খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর গভীর প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে রাবিয়া আল বসরী হলেন ঐশী প্রেমের পথিকৃৎ। অষ্টম শতাব্দীর বিখ্যাত সুফি সাধিকা রাবিয়া
বসরী ইসলামী আধ্যাত্মিকতায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আল্লাহর প্রতি নির্মোহ ও নিঃস্বার্থ প্রেম
(মাহাব্বাহ) এর শিক্ষা দেন।

তাঁর আগে অনেক সাধক আল্লাহর ইবাদত করতেন জান্নাতের আশা বা জাহান্নামের ভয়ে। কিন্তু রাবিয়া শিক্ষা
দেন আল্লাহকে ভালোবাসতে হবে কেবল তাঁর জন্যই, কোনো পুরস্কার বা ভয়ের কারণে নয়। তাঁর বিখ্যাত
দোয়া এই আদর্শকে প্রকাশ করে: ইবাদত হবে নিখাদ প্রেমের প্রকাশ।তাঁর জীবন ও শিক্ষা পরবর্তী সুফি
দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে অন্তরের বিশুদ্ধতা ও প্রেমকে
স্থাপন করে।

এরিস্টটল আর রাবিয়া মুলত যুক্তি বনাম প্রেম তাই এই দুই পথের একটি সহজ তুলনা তুলে দিলাম ।
এরিস্টটল বলেছেন জ্ঞান আসে যুক্তি ও পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে , রাবিয়া বলেছেন জ্ঞান আসে আধ্যাতিক
অভিজ্ঞতার মাধ্যমে । এরিস্টটল বলেছেন নৈতিকতা যুক্তিনির্ভর জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত, রাবিয়া বলেছেন নৈতিকতা
ঐশী প্রেমে প্রতিষ্ঠিত। এরিস্টটলের লক্ষ্য মানবিক কল্যান ও বিকাশ, রাবিয়ার লক্ষ্য আল্লাহর প্রেমে আত্মিক
একাত্মতা । এরিস্টলীয় পদ্ধতি হল বাহ্যিক বাস্তবতার বিশ্লেষন, অপরদিকে রাবিয়ার পদ্ধতি হল অন্তরের রূপান্তর ।

তাই তাদের দুজন পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক। অ্যারিস্টটল ও রাবেয়া দুজন যেন মানব অনুসন্ধানের
দুই দিক: চিন্তা ও প্রেম। সভ্যতার জ্ঞানভিত্তি গড়ে উঠেছে যুক্তির শক্তিতে, আবার মানুষের অন্তর্জগত আলোকিত
হয়েছে আধ্যাত্মিক প্রেমের মাধ্যমে।

তাঁদের শিক্ষা আমাদের মানবকুলকে স্মরণ করিয়ে দেয় পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞা হয়তো তখনই অর্জিত হয়, যখন যুক্তিবোধ ও
হৃদয়ের গভীরতা একসঙ্গে কাজ করে।অর্থাৎ সত্যের পথে মানুষকে একই সঙ্গে চিন্তাশীল এবং প্রেমময় হতে হয়।

ব্লগে পাঠক খরা ও মন্তব্য খরার সন্ধিক্ষনে কষ্ট করে এসে মন্তব্য করে কিছু পারস্পরিক কথা বলার
সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪২

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: রাজীব নূর@রাবীয়া বসরী এবং এরিস্টল একই পথের যাত্রী নয়।সুতরাং উভয়ের মধ্যে আপনি কোনদিক দিয়ে মিল খুঁজে পেলেন।

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


দুজনের দর্শনই সৎ ও মানব কল্যানের লক্ষ্যমুখী ।
এরিস্টটলরের পদ্ধতি ও বাহ্যিক যুক্তি নির্ভর ।
রাবিয়া বসরীর পদ্ধতি হল ভিতর বাহির দুদিকেই
মানব অন্তর পরিস্কারের মাধ্যমে কহ্যিক ও
অভ্যন্তরীন মানব কল্যান । এরিস্টল হলেন
ইহলোকের মুক্তির দিশারী আর রাবিয়া
বসরী হলেন ইহকাল পরকাল দুজগতেই
মানব কল্যালের দিশারী ।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০৪

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: ভালো বিষয় উপস্থাপন করছেন। পাঠক এতে আল্লাহর পথে চলতে উৎসাহিত হলে আপনি এর সাওয়াব পাবেন।

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




খুবই মুল্যবান কথা বলার জন্য ধন্যবাদ ।
কামনা করি আল্লাহ আপনার কথা কবুল
করুণ ।

শুভেচ্ছা রইল

৫| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

সামিউল ইসলাম বাবু বলেছেন: চলতে থাক এমন ব্লগ

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ধন্যবাদ ব্লগ সচল রাখার শুভ কামনার জন্য ।
তবে মাঝে মধ্যে এসে দেখে যাবেন ।

শুভেচ্ছা রইল ।

৬| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- সুফীসাধনায় নারীরা জড়িত আছে দেখেছি তবে তাদের মধ্যে খুব কমই নাম-জস করতে পেরেছেন।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ ।

সুফীসাধনায় নারীদের উপস্থিতি সত্যিই সংখ্যায় কম দৃশ্যমান মনে হয়, তবে এর প্রধান কারণ তাদের অবদান
কম ছিল এমনটি নয়; বরং ইতিহাস লিপিবদ্ধ হওয়ার সামাজিক কাঠামো দীর্ঘকাল পুরুষকেন্দ্রিক ছিল। ফলে
বহু নারী সাধকের আধ্যাত্মিক সাধনা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে গেছে।

তবুও ইতিহাসে আমরা দেখি, রাবিয়া বসরী-এর মতো সাধিকারা সুফীবাদের প্রেমময় আধ্যাত্মিক দর্শনকে এক
নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আল্লাহভীতির বদলে নিখাদ ঈশ্বরপ্রেমকে সাধনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন
করে সুফীচিন্তায় গভীর প্রভাব রেখেছেন।

আসলে সুফীধারায় নাম-যশ কখনোই মূল লক্ষ্য ছিল না; আত্মগোপন, বিনয় ও অন্তর্মুখী সাধনাই ছিল প্রধান আদর্শ।
তাই অনেক নারী সাধিকার জীবন ইতিহাসের পৃষ্ঠায় কম থাকলেও আধ্যাত্মিক ধারাবাহিকতায় তাদের প্রভাব নীরব
অথচ গভীর।

সুতরাং বলা যায়, দৃশ্যমান খ্যাতি কম হলেও সুফীসাধনায় নারীদের অবদান মৌলিক ও অনস্বীকার্য।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৭| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: রাবেয়া বসরী,ইসলামি ইতিহাসের একজন বিখ্যাত সুফি সাধিকা। তবে সুফিবাদের ইতিহাসে তিনি যে প্রথম মহিলা সাধক তা জানতাম না।
ছোট থেকে শুনেছি,রাবেয়া বসরী ছিলেন নিঃস্বার্থ ভক্তি ও ঈশ্বরপ্রেমের প্রতীক। তাঁর জীবন ছিল কঠোর সাধনা, ত্যাগ এবং আত্মবিসর্জনের উদাহরণ। আজ বিশদ জানতে পেরে খুবই ভাল লাগলো।
লেখাটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার উপলব্ধিটি সত্যিই আনন্দের। ইসলামের আধ্যাত্মিক ইতিহাসে রাবেয়া বসরী শুধু একজন নারী সাধক
হিসেবেই নয়, বরং ঈশ্বরপ্রেমভিত্তিক সুফীচিন্তার এক উজ্জ্বল দিশারী হিসেবে স্মরণীয়। তাঁর সাধনার মূল শিক্ষা
ছিল আল্লাহকে ভয় বা প্রতিদানের আশায় নয়, নিখাদ ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা।

সম্ভবত এই কারণেই তাঁর জীবনকাহিনি যুগে যুগে মানুষকে বাহ্যিক আচার থেকে অন্তরের বিশুদ্ধতার দিকে
আহ্বান জানায়। আপনার মতো পাঠকের নতুন করে তাঁকে জানার আগ্রহই প্রমাণ করে যে সত্যিকারের
আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব সময়ের সীমা অতিক্রম করে হৃদয়ে জীবন্ত থাকেন।

আপনার এই অনুভব ভাগ করে নেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

৮| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ভাইয়া, প্রথমেই একটা প্রতিবাদ জানিয়ে রাখছি।
সুফি সম্রাট হিসেবে আমরা জালালুদ্দিন রুমীকে চিনি। কিন্তু, রুমীকে রুমীতে পরিনত করা শামস তাবিরিজী নিয়ে তেমন আলোচনা করি না। রুমী যদি সম্রাট হন, তাহলে, শামস তাব্রীজী (রহ) কি সম্রাটদের সম্রাট নন কি?

রাবেয়া বসরী সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হলো আপনার লেখা থেকে। তবে, তাঁর আধ্যাত্মিকতার ঘটনা বা কারামত নিয়ে আরও কিছু লিখে পোস্টে উল্লেখ করা যেতো। অন্ততঃ কিছু লিংক।

সর্বোপরি এরকম একটি পোস্ট লেখার জন্যে ধন্যবাদ নিরন্তর।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার প্রতিবাদ সবিনয়ে গ্রহন করে নিচ্ছি । মাওলানা রুমিকে অন্যদের কথা অনুযায়ী সুফি সম্রাট বলে
মন্তবড় ভুল করে ফেলেছি । আপনি ঠিকই বলেছেন রুমি(রহ,) কে সম্রাট বললে তাবরিজী (রহ.) কে সম্রাটের
সম্রাট বলতেই হবে । ।
এখানে প্রসঙ্গক্রমে রুমি(র.) ও তাবরিজী(র.) এর প্রথম সাক্ষাতকার এর একটি ঘটনা তুলে ধরলে বুঝা যাবে
তাবরিজী যে রুমীর থেকেও সুফি জগতে কত উচ্চস্তরের ছিলেন ।
সামস ই তাবরিজের একটি প্রতিকৃতি

১৫ নভেম্বর ১২৪৪ সালে মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি কোনিয়ার বিখ্যাত “চিনি ব্যবসায়ীদের সরাইখানায়” এসে উপস্থিত হন। তাঁর নাম ছিল শামস তাবরিজি। তিনি নিজেকে এক ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী বলে
পরিচয় দিচ্ছিলেন। হাজী বেকতাশ ভেলির “মাকালাত” গ্রন্থে যেমন বলা হয়েছে, তিনি এমন কিছুর সন্ধানে
ছিলেন, যা তিনি কোনিয়াতেই খুঁজে পাবেন। অবশেষে তিনি কালো ঘোড়ায় আরোহী রুমির সাক্ষাৎ লাভ করেন।

উল্লেখ্য খ্রিস্টীয় ১২৪৪ সালে, তখন রুমি সেলজুক সুলতানাত-ই রূমের অধীনে কর্মরত একজন আইনজ্ঞ ও
আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা ছিলেন। সেই সময় কনিয়ায় তাঁর সাক্ষাৎ হয় শামস-ই তাবরিজি নামে সেই ভবঘুরে পারস্যীয়
সুফি দরবেশের সঙ্গে। পূর্বে কাব্যচর্চায় অনভিজ্ঞ রুমি দ্রুতই শামসের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।
শামস তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষক হিসেবে রুমিকে পথনির্দেশ দেন এবং সুফি সামা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগীত,
গীতিকবিতার জগতে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। ১২৪৬ সালে শামস হঠাৎ কনিয়া ত্যাগ করেন; এক বছর
পরে ফিরে এলেও ১২৪৮ সালে আবার নিখোঁজ হয়ে যান । শামসের প্রথম বিচ্ছেদের সময় রুমি তাঁর
প্রত্যাবর্তনের আকুতি জানিয়ে কবিতারূপে চিঠি লিখেছিলেন। আর শামসের দ্বিতীয় অন্তর্ধানের পর রুমি
আবার কবিতা রচনায় ফিরে আসেন, যেখানে শামসের প্রশস্তি এবং তাঁর বিচ্ছেদের বেদনাই প্রধান হয়ে ওঠে।
রুমির মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যরা এই কবিতাগুলো সংকলন করে দিবান-ই শামস-ই তাবরিজি নামে প্রকাশ করেন।
লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন এই দিবান-ই শামস-ই তাবরিজি তে থাকা একটি পৃষ্ঠার ছবি ও সেখানে থাকা
কবিতার কটি চরন বাংলাঙ আমার এই পোস্টে তুলে দিয়েছি । এখানেও আবার তুলে দিলাম ।

একদিন রুমি বিশাল এক স্তূপ বইয়ের পাশে বসে পড়ছিলেন। সেই সময় পথ দিয়ে যেতে যেতে শামস তাবরিজি
তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কী করছেন?” রুমি কিছুটা অবজ্ঞার ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, “এমন কিছু, যা
তুমি বুঝতে পারবে না।” (অর্থাৎএ এমন জ্ঞান, যা অশিক্ষিতের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।)

এ কথা শুনে শামস বইগুলোর পুরো স্তূপটি পাশের পানির কুপে ছুড়ে ফেললেন। রুমি তাড়াতাড়ি বইগুলো
তুলে আনলেন, আর বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলেন সব বই সম্পূর্ণ শুকনো! তখন রুমি জিজ্ঞেস করলেন,
“এটা কীভাবে সম্ভব?”
শামস উত্তর দিলেন, “মওলানা, এটাই সেই বিষয়, যা আপনি বুঝতে পারবেন না।” (অর্থাৎ এ এমন জ্ঞান,
যা কেবল বিদ্যাবত্তা দিয়ে উপলব্ধি করা যায় না।)। তাবরিজী তাকে বলেছিলেন শিখার জন্য পড় তবে
জানার জন্য ভালবাস।

যাহোক আপনি আমার থেকেও ভাল জানেন যে দিবান-ই শামস-ই তাবরিজি সুফি সাধক রুমির রচিত কবিতার
একটি সংকলন। গীতিধর্মী কবিতার এই সংকলনে ৪০,০০০ এরও বেশি পংক্তি এবং ৩,০০০-এর অধিক গজল
অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রুমির প্রিয় আধ্যাত্মিক শিক্ষক শামস-ই তাবরিজির অন্তর্ধানের পরবর্তী সময়ে রচিত এই গ্রন্থটি
শামসকে উৎসর্গ করা হয়েছে; এতে তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর অনুপস্থিতির বেদনায় ভরা বহু পংক্তি স্থান পেয়েছে।

উল্লেখ্য ১২৪৮ সালের দিকে শামস ই তাবরিজ(রহ,) দ্বিতীয় বারের মত নিখুঁজ হয়ে যাবার পর উনার আর কোন
হদিস পাওয়া যায়নি । তবে পারশ্যের কয়ীতে তার একটি মাঝার রয়েছে বলে জানা যায় ছবি দেখুন

আবার পাকিস্তানের মুলতানেও শামস ই তাবরিজ নামে একটি মাযার রয়েছে বলে জানা যায়।

অপর দিকে বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার (পূর্বে পাবনা)শাহজাদপুর উপজেলার দরগাহ পাড়ায় অবস্থিত
হযরত শামসুদ্দিন তাবরিজির(রহ,) মাজার নামে একটি অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা রয়েছে। এটি মূলত
শাহজাদপুর দরগাহ মসজিদের পাশেই অবস্থিত এবং বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভুক্ত। মাজারটি
হযরত মখদুম শাহদৌলার (র.) অন্যতম সঙ্গী হযরত শামসুদ্দিন তাবরিজি (র.)-এর বলে দাবী করা হয়েছে
শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে।

দরগাহ মসজিদ ও মাজার কমপ্লেক্সটি সুলতানি আমলের প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে। স্থাপনাটি বগুড়া নগরবাড়ি
পাকা সড়ক থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে হুরাসাগর নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই মাযার । নীচে ছবি দেখুন ।

আমি নীজে বছর ত্রিশেক আগে মাযারটি দেখেছি , পাশের মসজিদে নামাজ আদায় করেছি । মাজারটির স্থাপত্য
শৈলী সত্যিই অপুর্ব । এলাকার লোকজন বলেছেন এলাকাটি যমুনা নদীর কাছাকাছে এবং এটি ভয়ানক নদী
ভাঙ্গন ক্ষমতার অধিকারী হুররা সাগর নদীর তীরে , বর্ষাকালে সত্যিই এটি সাগরে পরিনত হয় । যাহোক এর
আশেপাশের অনেক স্থাপনা কালের গর্বে বিলীন হয়ে গেলেও শামস ই তাবরিজ নামের মাযারটি অক্ষুন্য আছে
কালের সাক্ষী হয়ে ।

শুভেচ্ছা রইল

৯| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: শৈশব থেকে ইসলামী বই পাঠ্য বইতে সুফী সাধিকা নারী রাবিয়া বসরী (রহ.) নিয়ে অনেক লেখা পড়েছি যদিও কিন্তু বেশ বিস্তারিত ভাবে আজকে জানলাম। অনেক ধন্যবাদ চমৎকার পোষ্টের জন্য।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:





আপনার আন্তরিক মন্তব্যের জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ।
শৈশবের পাঠ্যবইয়ের পরিচিত সেই মহান সাধিকা হযরত রাবিয়া বসরী (রহ.)এর জীবন ও আধ্যাত্মিক ভাবনা
নতুন করে জানার সুযোগ হয়েছে জেনে সত্যিই ভালো লাগলো। তাঁর জীবন আমাদেরকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,
আল্লাহভীতি ও আত্মিক পরিশুদ্ধতার এক অনন্য শিক্ষা দেয়।

পোস্টটি আপনার ভালো লেগেছে এটাই লেখার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দোয়া করবেন, যেন এমন অনুপ্রেরণাদায়ক
বিষয়গুলো নিয়ে আরও লিখতে পারি।

শুভেচ্ছা রইল

১০| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আবার এসে দেখার জন্য ধন্যবাদ । আপনার পর্যবেক্ষন ক্ষমতা ভাল । াআপনি ব্লগে নিয়মিত
প্রায় সকলের পোস্টে বিচরণ করেন । এটা ভাল লক্ষন । ব্লগের এই ক্রান্তিকালে যেখানে প্রায়
সকলেই মন্তব্য খরায় ভোগেন সেখানে সকলের ঘরে যে কোন মন্তব্যই ব্লটটিকে সচল রাখতে
সহায়তা করে । ব্লগ সচল থাকলে তবেইতো আমরা থাকব, এখানে লেখা প্রকাশ করতে পারব,
অন্যের লেখা পাঠ করতে পারবে । ব্লগে যারা লেখালেখি করেন তারা সকলেই বিজ্ঞতার অধিকারী।
কারো লেখায় কোন ভুল থাকলে তিনি সেটা পাঠক মন্তব্য হতে শুধরে নিতে পারেন । তাই সকলের
যে কোন মন্তব্যই আমার কাছে খুবই মুল্যবান ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১১| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

Akasher tara বলেছেন: চমৎকার শিক্ষনীয় একটি পোস্ট।রাবীয়া বসরী রহ.ছিলেন খাজা হাসান বসরী রহ.এর সময়কার একজন মহীয়সী ত্াপসী।রাবীয়া বসরী রহ.এর বিখ্যাত কিছু বানী পোস্টের নিচে সংযুক্ত করে দিলে আরোও ভালো লাগত। যা হোক আমি রাবীয়া বসরীয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহা সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ঘটনা শেয়ার করছি।
তিনি মূলত হাকিকি প্রেমকে প্রাধান্য দিতে।তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রেমে দগ্ধ একজন মহীয়সী রমনী।অধিকাংশ সময় প্রেমে মগ্ন থাকতেন,দুনিয়া থেকে বেখবর থাকতেন।একবার তার দরবারে কিছু দরবেশ দুনিয়ার নিন্দা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন।তিনি বললেন,তোমরা দুনিয়ার নিন্দার আলোচনা করছো,এতে বোঝা যায় তোমাদের অন্তরে দুনিয়া আছে।(যদি তোমরা সত্যিকার যাহেদ হতে তাহলে দুিনয়ার নিন্দার আলোচনাও করতে না।)

একবার তার দরবারে জান্নাতের আলোচনা করা হলো, তিনি বললেন,আগে ঘরের মালিক,পরে ঘর।তার কথার অর্থ হলো,আগে ঘরের মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করো পরে ঘরের চিন্তা করো।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




রাবিয়া বসরী (রহ.)-কে নিয়ে আপনার সুন্দর ও আন্তরিক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। সত্যিই তিনি ইসলামের
আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি আল্লাহর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা (মাহাব্বাতুল্লাহ) ও
ইখলাসের শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে আলোচনাকে আরও বস্তুনিষ্ঠ রাখতে কয়েকটি বিষয় সংযোজন করা যেতে পারে। ইতিহাসবিদ ও তাযকিরা
লেখকদের মতে, রাবিয়া বসরী (রহ.) ছিলেন প্রাথমিক যুগের একজন প্রসিদ্ধ জাহিদা ও আবেদা; তিনি বাসরায়
বসবাস করতেন এবং তার জীবনযাপন ছিল ত্যাগ, ইবাদত ও আল্লাহমুখীতার প্রতীক। তাকে সাধারণভাবে
হাসান বসরী (রহ.)-এর যুগের মানুষ বলা হলেও সরাসরি শিক্ষক-শিষ্য সম্পর্ক ছিল কি না এ বিষয়ে
নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রগুলো একমত নয়। তাই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করা উত্তম
বলে মনে করি ।

তাঁর নামে প্রচলিত বহু ঘটনা ও উক্তি রয়েছে, যেগুলোর কিছু সুফি সাহিত্য ও লোকমুখে প্রসিদ্ধ হলেও সবগুলোর
সনদ সমানভাবে প্রামাণ্য নয়। এজন্য এগুলোকে ঐতিহাসিক বর্ণনা (historical anecdotes) বা আধ্যাত্মিক
শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা নিরাপদ, সরাসরি নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়।

তবে আপনার উল্লেখ করা বক্তব্যগুলোর মূল শিক্ষা দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ত্যাগ, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বাগ্রে রাখা,
এবং জান্নাতের চেয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইসলামী আধ্যাত্মিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ
দিককে তুলে ধরে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে ইবাদতের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য, অর্থাৎ স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে
মনোযোগী করে।

দুনিয়ার প্রতি আসক্তির বিষয়ে তাঁর মুল্যবান দর্শন আমার পোস্ট এ তুলে দেয়া হয়েছে , সম্ভবত বিষযটি আপনি
লক্ষ করেছেন। সেখানে লেখার সাথে দেয়া ইমেজটি পুণরায় এখানে তুলে দিলাম ।

আলোচনাটি সমৃদ্ধ করার জন্য ভবিষ্যতে তার নির্ভরযোগ্য সূত্রভিত্তিক বাণী বা ঐতিহাসিক রেফারেন্স যুক্ত করা
হলে পাঠকদের জন্য আরও উপকারী হবে বলে আমি মনে করি।

মুল্যবান শেয়ার ও চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

১২| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯

Akasher tara বলেছেন: একবার রাবেয়া বসরী রহ. হাসান বসরী রহ.এর সাথে সাক্ষাত করতে গিয়ে দেখেন খাজা হাসান বসরী রহ.সম্ভবত দজলা নদীতে পানির উপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পরছেন। এটা দেখে রাবেয়া বাতাশের উপর জায়নামাজ বিছিয়ে দিলেন।নামাজ শেষে রাবেয়া বললেন,আসলে পানির উপর, জায়নামাজ বিছানো অথবা বাতাশের উপর জায়নাামজ বিছানো কোনো কারামত নয়,আসল কারামত হলো ইস্তিকামাত,অর্থাৎ স্থায়ীত্ব।অর্থাৎ তিনি বাকা বিল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে এটাই আসল কারামত।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মন্তব্যে শেয়ার করা ঘটনাটি সুফি সাহিত্যে বহুল প্রচলিত এবং এতে একটি গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষার দিক তুলে
ধরা হয়েছে এ জন্য ধন্যবাদ। তবে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে দেখার জন্য কয়েকটি দিক উল্লেখ করা
প্রয়োজন।

রাবিয়া বসরী (রহ.) ও হাসান বসরী (রহ.)-কে কেন্দ্র করে পানির উপর বা বাতাসে জায়নামাজ বিছানোর ঘটনাটি
মূলত পরবর্তী যুগের তাযকিরা ও সুফি কাহিনিগ্রন্থে পাওয়া যায়। প্রাচীন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বা হাদিসভিত্তিক
সূত্রে এ ঘটনার শক্ত সনদ পাওয়া যায় না। তাই অধিকাংশ গবেষক এটিকে আক্ষরিক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে
নয়, বরং আধ্যাত্মিক শিক্ষা বোঝানোর জন্য রূপকধর্মী বা শিক্ষামূলক বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করেন।

এই কাহিনির মূল বার্তাটি অবশ্য ইসলামী শিক্ষার একটি স্বীকৃত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারামত বা
অলৌকিকতার চেয়ে ইস্তিকামাত তথা দ্বীনের উপর অবিচল থাকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বহু আলেমই বলেছেন,
একজন মুমিনের প্রকৃত মর্যাদা তার ধারাবাহিক তাকওয়া, আমল ও চরিত্রে প্রতিফলিত হয়; অসাধারণ
কোন ঘটনা প্রদর্শনে নয়।

এ কারণে গল্পটির ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও এর নৈতিক শিক্ষা আত্মশুদ্ধি, স্থিরতা এবং
আল্লাহমুখী জীবন ইসলামী আধ্যাত্মিকতার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আলোচনা করতে গেলে
ঘটনাটিকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং শিক্ষামূলক আধ্যাত্মিক উপমা হিসেবে উল্লেখ করা
অধিক সতর্ক ও গবেষণাসম্মত পদ্ধতি হবে বলে মনে করি ।

সুন্দর আলোচনা ও ভাবনার খোরাক যোগানোর জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

১৩| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪

Akasher tara বলেছেন: অধিকাংশ সময় তিনি আগুন আগুন বলে চিৎকার করতেন।একবার তিনি আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিলেন।তার ভক্তরা পানি নিয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখেন কোনো আগুন নাই!(এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়,তার অন্তরে কি পরিমান প্রেম ছিলো)

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার শেয়ার করা ঘটনাটি রাবিয়া বসরী (রহ.)-কে ঘিরে প্রচলিত আধ্যাত্মিক বর্ণনাগুলোর একটি, যা তার
আল্লাহপ্রেম ও অন্তর্দহনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ,এ জন্য ধন্যবাদ। তবে বিষয়টি
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য কিছু বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, রাবিয়া বসরী (রহ.)-এর জীবনীসংক্রান্ত বহু ঘটনা পরবর্তী যুগের সুফি তাযকিরা
ও আধ্যাত্মিক কাহিনিগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। “আগুন আগুন” বলে চিৎকার করার ঘটনাটিরও নির্ভরযোগ্য
প্রাচীন সূত্র বা শক্ত সনদ পাওয়া যায় না। ফলে অধিকাংশ গবেষক এ ধরনের বর্ণনাকে সরাসরি ঐতিহাসিক
ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক অনুভূতি বোঝানোর জন্য রূপক বা প্রতীকী উপস্থাপন হিসেবে বিবেচনা
করেন।

এ ধরনের কাহিনির মূল উদ্দেশ্য সাধারণত একটি অন্তর্নিহিত শিক্ষা তুলে ধরা হয়,মানুষ যখন আল্লাহর
ভালোবাসা ও ভয় (মাহাব্বাহ ও খাশিয়াত)এ গভীরভাবে নিমগ্ন হয়, তখন তার অন্তর দুনিয়াবিমুখতা ও
আত্মশুদ্ধির তীব্র অনুভূতিতে জ্বলে ওঠে। “আগুন” এখানে বাহ্যিক আগুন নয়; বরং অন্তরের আধ্যাত্মিক
তাপ বা আল্লাহপ্রেমের তীব্রতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে।

তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেয়ে আধ্যাত্মিক শিক্ষা বা প্রতীকী
বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা অধিক সতর্ক ও গবেষণাসম্মত পন্থা। এতে যেমন রাবিয়া বসরী (রহ.)-এর মর্যাদা
অক্ষুণ্ণ থাকে, তেমনি ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে ভারসাম্যও বজায় থাকে।

সুন্দর আলোচনা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১৪| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮

Akasher tara বলেছেন: আমার ঘটনা গুলো শেখ ফরিদুদ্দিন আত্তার রহ রচিত তাযকিরাতুল আউলিয়া,এবং ইমাম গাজ্জলী রহ.রচিত ইহইয়াউল উলুমুদ্দিন থেকে নেওয়া।কিমিয়ায়ে সায়াদাতেও কিছু কাহীনি পাওয়া যায়।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


পুস্তক দুটি আমার ব্যক্তগত সংগ্রহে আছে । এখন মাঝে মাঝে রেফারেন্ম
পুস্তক হিসাবে পাঠ করে থাকি ।
পুস্তক দুটি নিস্দেহে মুল্যবান । আবার এসে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১৫| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

Akasher tara বলেছেন: নারীরা অনেকসময় পুরুষদের থেকেও উঁচু মকাম অর্জন করতে পারে।বলা হয় কোনো কোনো নারী একশত অথবা একহাজার পুরুষের থেকেও উত্তম।

হুসাইন ইবনে মনসূর হাল্লজ রহ.এর বোন তেমনই এক মহীয়সী ছিলেন।মাঝে মধ্যে গভীর রাত্রে পাহাড়ের দিকে চলে যেতেন।মনসূর হাল্লাজ রহ.বিষয়টা লক্ষ করলেন।মনে মনে ভাবলেন,বোন, কোথায় যায় প্রতিদিন।আজকে দেখবো।একদিন রাত্রে মনসূর হাল্লাজ রহ.বোনের পেছনে পিছেন গেলেন।গিয়ে দেখেন বোন নিরিবিলি এক জায়গায় চলে যান,সেখানে কেউ একজন তাকে এক পেয়ালা শরাব জাতীয় বস্তু পান করান।হুসাইন মনসূর বোনকে বলল,একা একা পান কোরোনা,আমাকেও এক ঢোক দাও।বোন বলল তুমি এটা সহ্য করতে পারবেনা।কিন্তু মনসূর নাছোড়বান্দা। নিরুপায় হয়ে তার বোন মনসূরকে এক ঢোক পান করিয়ে দিলো।তার পর থেকেই মনসূরের মুখ দিয়ে আনাল হক বের হওয়া শুরু হলো।এখন আনাল হক বলেন আর পাগলের মতো ঘুরে বেড়ান।

তৎকালীন বাদশা আনাল হক বলার কারনে মনসূর কে মৃত্যুদন্ড দেয়।মৃত্যুদন্ড কার্যকরের সময় তার বোনও নিকটেই ছিলো।তার বোন বলল,মনসূর প্রেমের পথে শিশু ছিলো।মাত্র এক ঢোক গিলেই রহস্য ফাঁস করে দিলো,আর আমরা হাজার হাজার পেয়ালা পান করার পরেও টু শব্দ করিনা(সামান্য শাব্দিক পরিবর্তন হতে পারে,তবে কাহীনি ঠিক আছে)

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যে উত্থাপিত বিষয়গুলো আধ্যাত্মিক সাহিত্য ও সুফি ঐতিহ্যে প্রচলিত কিছু ধারণা ও কাহিনিকে
তুলে ধরে এ জন্য ধন্যবাদ।তবে বিষয়টি সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রথমত, ইসলামী দৃষ্টিতে তাকওয়া, ইমান ও নেক আমলের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মর্যাদা আল্লাহর নিকট সমান;
কুরআনেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে মর্যাদার মানদণ্ড হলো তাকওয়া। তাই ইতিহাসে এমন বহু নারী সাধিকা
ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিত্বের কথা পাওয়া যায়, যারা আধ্যাত্মিকতায় উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। এই অর্থে
নারী উচ্চ মকাম অর্জন করতে পারে বক্তব্যটি মূলনীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে একশ বা হাজার
পুরুষের চেয়ে উত্তম এ ধরনের বাক্য সাধারণত সাহিত্যিক বা উপমামূলক ভাষা, নির্দিষ্ট শরঈ বা
ঐতিহাসিক পরিমাপ নয়।

দ্বিতীয়ত, হুসাইন ইবনে মনসূর হাল্লাজ (রহ.) ও তার বোনকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাটি বর্ণনা করা হয়েছে,
রাত্রে পাহাড়ে যাওয়া, রহস্যময় পানীয়, এবং সেখান থেকে আনাল হক উচ্চারণের সূত্রপাত, এ ধরনের
কাহিনি প্রামাণ্য ইতিহাসগ্রন্থ বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নয়। অধিকাংশ গবেষক এসব বর্ণনাকে পরবর্তী
যুগের সুফি কিসসা বা প্রতীকধর্মী আধ্যাত্মিক গল্প হিসেবে দেখেন, বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে নয়।

বিশেষভাবে শরাব বা পানীয়ের প্রসঙ্গ সুফি সাহিত্যে প্রায়ই রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয় যা বাস্তব পানীয় নয়;
বরং মাআরিফাত , আধ্যাত্মিক অনুভূতি বা আল্লাহপ্রেমের গভীর অভিজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
একইভাবে আনাল হক উক্তি নিয়েও ইতিহাসে ভিন্নমত রয়েছে; কেউ এটিকে আধ্যাত্মিক উন্মাদনার ভাষা
বলেছেন, আবার অনেক আলেম সতর্ক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন।

অতএব, এসব ঘটনাকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক সাহিত্যিক বর্ণনা বা প্রতীকী
শিক্ষা হিসেবে দেখা অধিক গবেষণাসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা। এতে একদিকে আধ্যাত্মিক ভাবধারার সৌন্দর্য
বোঝা যায়, অন্যদিকে ইতিহাস ও আকীদাগত সতর্কতাও বজায় থাকে।

চিন্তাশীল আলোচনা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

১৬| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬

কাঁউটাল বলেছেন: শামসুদ্দিন তাবরিজি (র.) এর পরিবারের দুইজন মহিলাকে আমার দুইজন আত্মীয় বিবাহ করেছেন। উনাদের আমল আখলাক অতি উন্নত। উনাদের ঘরের ছেলেপেলেও সাধারন ছেলেপেলের চেয়ে আডব আখলাকে অনেক উন্নত।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




শুনে খুশী হলাম যে শাসসুদ্দিন তাবরিজি(রহ,) এর বংশ লতিকা বাংলাদেশে আছেন।
তবে এর যথাযখ সনদ থাকলে ভাল কথা । আমার দোয়া রইল তাদের প্রতি ।

শুভেচ্ছা রইল

১৭| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

কাঁউটাল বলেছেন:

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



একটি পরিস্কার সুন্দর ছবি এখানে তুলে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১৮| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১

নতুন বলেছেন: Akasher tara বলেছেন: নারীরা অনেকসময় পুরুষদের থেকেও উঁচু মকাম অর্জন করতে পারে।বলা হয় কোনো কোনো নারী একশত অথবা একহাজার পুরুষের থেকেও উত্তম।

হুসাইন ইবনে মনসূর হাল্লজ রহ.এর বোন তেমনই এক মহীয়সী ছিলেন।মাঝে মধ্যে গভীর রাত্রে পাহাড়ের দিকে চলে যেতেন।মনসূর হাল্লাজ রহ.বিষয়টা লক্ষ করলেন।মনে মনে ভাবলেন,বোন, কোথায় যায় প্রতিদিন।আজকে দেখবো।একদিন রাত্রে মনসূর হাল্লাজ রহ.বোনের পেছনে পিছেন গেলেন।গিয়ে দেখেন বোন নিরিবিলি এক জায়গায় চলে যান,সেখানে কেউ একজন তাকে এক পেয়ালা শরাব জাতীয় বস্তু পান করান।
.

এমন অনেক কাহিনি আছে যেটা শুনতে খুবই মোটিভেটিভ কিন্তু আমার স্টাডি বলে এগুলি বানানো গল্প মাত্র। আর আমার মতে ধর্মীয় কোন শিক্ষা বা উদাহরন হিসেবে মিথ্যা ব্যবহার করা নৈতিক না।

এই কাহিনির বর্ননা কোরানে অবশ্যই নেই। হাদিসেও সম্ভবত না থাকার কথা।

তাহলে এই কাহিনি কোথা থেকে এলো? এটা কি সত্য কাহিনি?

প্রশ্ন"- এটাকে কি আপনাারা সত্য বলে বিশ্বাস করেন? না কি গল্প বলে বিশ্বাস করেন? (

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । Akasher tara এর মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আপনার মন্তব্য প্রতিফলিত করে
উপরে করা Akasher tara এর মন্তব্যের উপর আমার প্রতিমন্তব্যে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে একটি
আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে । অনুরোধ করব আপনি আমার প্রতিমন্তব্য অংশ টুকু পাঠ করবেন । পাঠের পর
আশা করি এ বিষয়ে আপনার উথ্থাপিত মন্তব্যের পরবর্তী অংশের যথাযথ উত্তর পেয়ে যাবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

১৯| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩২

Akasher tara বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে আমার কমেন্টের অভাবনীয় সুন্দর প্রতিমন্তব্য করার জন্য।উল্লেখিত কোনো ঘটনা আমি বানিয়ে বলিনাই।কিতাবে কিতাবে পেয়েছি বলেই বর্ননা করেছি।এগুলোর সত্যসত্য কাতেবই জানেন।আপনার প্রতিমন্তব্যের সাথে আমি একমত।কাহীনি সত্য হোক আর না হোক উক্ত ঘটনায় যে গভীর আধ্যাতিক শিক্ষা লুকিয়ে আছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।কাহীনি গুলোর প্রতিষ্টঠিত প্রমানিত কোনো সনদ নেই। তবে আপনার লেখাটি যেহেতু সুফি কেন্দিক,এজন্য এই প্রচলিত কাহীনি গুলো উল্লেখ করলাম। ব্লগার নতুনের@ আপত্তি এই বিষয়ে স্বাভাবিক।এগুলো কুরআনের আয়াত নয়, হাদীসও নয়।এগুলো কিচ্ছা,কিন্তু কিচ্ছার মধ্যে শিক্ষা লুকিয়ে আছে এজন্যই রাবিয়া আদাবিয়্যাহ সম্পর্কে ঘটনাগুলো শেয়ার করেছি।

এগুলো সত্য হোক বা না হোক। তবে সুফিদের কারামত আহলুস সুন্নাহ েওয়াল জামাতের আকিদা মতে সত্য।প্রাচীন কালে,মধ্যযুগে এবং বর্তমান কালেও সুফিদের দ্বারা অনেক কারামত ঘটে এগুলো অস্বিক্বার,@ব্লগার(মূলত বাহ্যিক,এবং বস্তুবাদি)নতুন বিশ্বাস না করলেও প্রত্যেক আধ্যাতিক সালিক তা বিশ্বাস করে, এবং করতে বাধ্য হয়।সাধারনত গোপন এবং প্রকাশ্য দুই প্রকারের কারামত রয়েছে।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার আন্তরিক ও সৌজন্যমূলক মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে
তুলে ধরেছেন ঘটনাগুলোকে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক শিক্ষার বাহক হিসেবে দেখার
দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই প্রশংসনীয়। কিতাবে বর্ণিত কাহিনিগুলো অনেক সময় কঠোর সনদভিত্তিক না হলেও, যুগে
যুগে মানুষের হৃদয় জাগ্রত করা, আত্মশুদ্ধির অনুপ্রেরণা দেওয়া এবং আল্লাহমুখী চিন্তার দরজা খুলে দেওয়ার
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই কথার সঙ্গে আমিও একমত।

আপনি যথার্থই বলেছেন,এগুলো কুরআনের আয়াত বা সহীহ হাদীস নয়; বরং শিক্ষামূলক কিচ্ছা বা আধ্যাত্মিক
অভিজ্ঞতার বর্ণনা।তাই এগুলোকে শরিয়তের দলিল হিসেবে নয়, বরং নৈতিক ও রুহানী উপলব্ধির আলোকে
বিবেচনা করাই অধিক ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা। বিশেষ করে রাবিয়া আদাবিয়্যাহ (রহ.) এর মতো মহান আধ্যাত্মিক
ব্যক্তিত্বদের ঘিরে প্রচলিত ঘটনাগুলো মানুষের অন্তর্জগৎকে আলোকিত করার প্রতীকী ভাষা হিসেবেই বেশি
মূল্যবান।

কারামতের প্রসঙ্গেও আপনার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী অলিয়ায়ে
কেরামের কারামত সত্য তবে তা মূলত আল্লাহর কুদরতের প্রকাশ, ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতার নয়। প্রকাশ্য ও গোপন
উভয় ধরনের কারামতের ধারণা আধ্যাত্মিক সাধনার ইতিহাসে সুপরিচিত, এবং এ বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই আমাদের জন্য উত্তম পথ।

আপনার সুচিন্তিত ব্যাখ্যা আলোচনাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা
অব্যাহত থাকুক এই কামনা রইল।

২০| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

Akasher tara বলেছেন: তবে প্রচীনকলে এবং মধ্যযুগের সুফিরা বর্তমান কালের সুফিদের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলো।তাদের দ্বারা প্রচূর কারামত ঘটত।তারা পানির উপর দিয়ে হেটে যেতে পারত এবং বাতাশে উড়তেও পারত,কিন্তু কারামতের বিষয়টা সুফি তরিকায় মূল্যহীন এক্টা বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এজন্য কারামতের দিকে সুফিরা তেমন গুরুত্ব দেননা।যা ঘটত তা তাদের অনিচ্ছাকৃতই ঘটত।তারা বাতেনি পরিশুদ্ধিকেই গুরুত্ব দিতেন।এবং কারামত যে মূল্যহীন এবং সওয়াবহীন তা তারা বলে দিতেন।

কারামতের অনেক প্রকারভেদ রয়েছে।এবং কারামত প্রদর্শনের জায়গাও ভীন্ন ভীন্ন।যেমন কুরআনে বলা হয়েছে নবীরা যখন দাওয়াত দিত তখন তাদের নিকট থেকে তাদের উম্মতরা কারামত মোজেজা কামনা করত।নবীরা উত্তর দিত কারামত আমাদের ইচ্ছাধীন কোনো বিষয়না

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার চিন্তাশীল ও বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ
দিক তুলে ধরেছেন;সুফিবাদের মূল লক্ষ্য কারামত প্রদর্শন নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন।
সত্যিই, প্রাচীন ও মধ্যযুগের বহু সুফির জীবনীতে নানা অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়; তবে তারা নিজেরা
কখনোই এসবকে সাধনার উদ্দেশ্য বা সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে দেখেননিএ কথাটি আপনি যথার্থভাবে স্মরণ
করিয়ে দিয়েছেন।

সুফি তরিকায় বাতেনি তাযকিয়া বা অন্তরের শুদ্ধিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারামত যদি ঘটেও থাকে, তা
আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহমাত্র সাধকের ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা অর্জন নয়। এজন্যই অনেক আধ্যাত্মিক সাধক
কারামতকে আড়াল করতেন এবং মানুষকে আমল, চরিত্র ও ইখলাসের দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত
করতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি আধ্যাত্মিকতার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বাহ্যিক বিস্ময়ের চেয়ে অন্তর্গত
পরিবর্তনকে অধিক মূল্য দেয়।

আপনি কুরআনের আলোকে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন নবীদের নিকট মুজিযা বা নিদর্শনের দাবি এবং তার
উত্তরে নবীদের বিনয়ী অবস্থান এটিও আলোচনাকে গভীরতা দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, অলৌকিকতা কখনোই
মানুষের ইচ্ছাধীন নয়; বরং সবকিছুই আল্লাহর হিকমত ও ইচ্ছার অধীন।

আপনার এই পরিমিত ও ভাবগম্ভীর উপস্থাপন আলোচনা আরও সমৃদ্ধ করেছে। এমন জ্ঞানগর্ভ মতবিনিময়
অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা রইল।

২১| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০৪

Akasher tara বলেছেন: কারামত সাধারনত তিনটি ক্ষেত্রে দেখা যয়,নবী কতৃক তার উম্মতকে মোজেজা দেখানো, ওলী কতৃক তাদের অনুসারী মুরীদদেরকে কেরামতি দেখানো,যা দুর্বল মুরীদদের ইমানি শক্তি বৃদ্ধির জন্য করা হয়।শক্তিশালী মুরীদরা নিজেরাই করারমতের অধিকারী হয়ে থাকেন,কিন্তু বিষয়টি কারো নিয়ন্ত্রনে থাকেনা।

আরেকপ্রকারের কারামত হলো,সাধারন মানুষের কৌতুহল নিবারনের জন্য দেখানো হতো,কিন্তু এটা মূল্যহীন।কারন সাধারন মানুষ এগুলোকে জাদু বলে উড়িয়ে দিত।কোনো লাভ হোতোনা।পূর্ববর্তী মানুষের কতৃক নিদর্শন অস্বীকার করাই নতুন নিদর্শর প্রেরনের পথে বাঁধা হয়েছে,বলে উল্লেখ আছে।যেমন আদ,জাতি ছামুদ জাতি নিদর্শন অস্বীকার করেছিলো, জাদু বলে উড়িয়ে দিয়েছিলো।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আবার এসে মুল্যবান কথামালা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ । বেশ গুরুত্বপুর্ণ দিক সমুহ তুলে ধরেছেন ।
ইসলামী আধ্যাত্মিক আলোচনা ও আকিদার ক্ষেত্রে প্রায়ই তিনটি শব্দ একসাথে উচ্চারিত হয় মুজিযা,কারামত
এবং ইস্তিদরাজ। বাহ্যিকভাবে তিনটিই অলৌকিক বা স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে ঘটিত কোনো ঘটনা মনে
হলেও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অর্থ, উদ্দেশ্য ও মর্যাদা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে
পারলে অনেকের অনেক বিভ্রান্তিই দূর হয়ে যায়।

প্রথমে মুজিযার কথা বলা যাক। ঠিকই বলেছেন মুজিযা হলো সেই অলৌকিক নিদর্শন, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর
নবী ও রাসূলদের মাধ্যমে প্রকাশ করেন তাদের নবুওয়তের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য। এটি কোনো ব্যক্তিগত
ক্ষমতার প্রকাশ নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য একটি স্পষ্ট প্রমাণ। নবীরা যখন মানুষকে আল্লাহর
পথে আহ্বান করতেন, তখন অনেক সময় মানুষ তাদের কাছে প্রমাণ চাইত। আল্লাহ তখন এমন ঘটনা ঘটাতেন
যা মানুষের সাধ্যের বাইরে এবং অনুকরণ অসম্ভব। হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠির অলৌকিক রূপান্তর, হযরত
ঈসা (আ.)-এর আল্লাহর অনুমতিতে রোগ নিরাময়, কিংবা সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে পবিত্র কুরআন এসবই
মুজিযার অন্তর্ভুক্ত। তাই মুজিযার মূল উদ্দেশ্য হলো নবীর সত্যতা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ঈমানকে দৃঢ় করা।

অন্যদিকে কারামত সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির বিষয়। কারামত ঘটে নবী নন, বরং আল্লাহর প্রিয় ও নেক বান্দাদের
মাধ্যমে, যাদের ইসলামী পরিভাষায় অলিয়া বা আধ্যাত্মিক সাধক বলা হয়। এটি নবুওয়তের প্রমাণ নয় এবং
কোনো দাবির বিষয়ও নয়। বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান, সাহায্য বা বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে কখনো কখনো
এমন ঘটনা প্রকাশ পায়। প্রকৃত সুফি ও আধ্যাত্মিক সাধকেরা কখনো কারামতকে তাদের লক্ষ্য মনে করেন না;
বরং অন্তরের পরিশুদ্ধি, নৈতিক উন্নতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই আসল সাফল্য হিসেবে গণ্য করেন। অনেক সময়
তাঁরা নিজের কারামত গোপন রাখতেন, কারণ বাহ্যিক বিস্ময় মানুষের মনকে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দিতে
পারে। তাই তাসাউফের ধারায় বলা হয় কারামত নয়, ইখলাস ও তাকওয়াই একজন সাধকের প্রকৃত মর্যাদার
পরিচয়।

এবার আসে ইস্তিদরাজের বিষয়টি, যা সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে এবং এখন দুনিয়া কিছু ভন্ড পির
ফকির দের মাঝে দেখা যায়। ইস্তিদরাজ হলো এমন অস্বাভাবিক ঘটনা, যা বাহ্যিকভাবে অলৌকিক মনে হলেও তা
আল্লাহর সন্তুষ্টির নিদর্শন নয়। বরং কখনো কখনো পাপাচারী বা পথভ্রষ্ট মানুষের ক্ষেত্রেও অদ্ভুত ক্ষমতা বা ঘটনা
প্রকাশ পেতে পারে, যা আসলে পরীক্ষা কিংবা ধীরে ধীরে বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত হওয়ার একটি অবস্থা। মানুষ যদি
বাহ্যিক আশ্চর্যে মুগ্ধ হয়ে যায় কিন্তু সেই ব্যক্তির চরিত্র, তাকওয়া ও শরিয়ত অনুসরণকে উপেক্ষা করে, তবে সে
সহজেই প্রতারিত হতে পারে। ইসলামী আলেমরা তাই সতর্ক করে বলেন অলৌকিকতা দেখেই কাউকে আল্লাহর
প্রিয় বান্দা মনে করা উচিত নয়।

এই তিনটির পার্থক্য বুঝতে আমার মত সাধারণ মানুষদের একটি মৌলিক নীতি মনে রাখা জরুরি: নবীর মাধ্যমে
প্রকাশিত অলৌকিকতা হলো মুজিযা, নেক বান্দার মাধ্যমে সংঘটিত হলে তা কারামত, আর শরিয়তবিমুখ বা
গোমরাহ ব্যক্তির হাতে প্রকাশ পেলে তা ইস্তিদরাজ হতে পারে। বাহ্যিকভাবে তিনটি একই রকম মনে হলেও
তাদের আধ্যাত্মিক মূল্য সম্পূর্ণ আলাদা।

ইসলামী ঐতিহ্যে একটি গভীর শিক্ষণীয় কথা প্রচলিত আছে ,মানুষকে তার অলৌকিক ঘটনার দ্বারা নয়, বরং
তার ঈমান, চরিত্র, বিনয় এবং শরিয়তের প্রতি আনুগত্য দ্বারা বিচার করতে হবে। কারণ সত্য আধ্যাত্মিকতার
আসল পরিচয় বিস্ময় সৃষ্টি করা নয়; বরং হৃদয়কে আল্লাহমুখী করে তোলা।

যাহোক মুল্যবান ও গুরুত্বপুর্ণ এ বিষযটিতে এ ব্লগের আরো অন্য সকল ইসলামী বিশেযজ্ঞদের আলোচনা হলে
আমরা অনেক কিছু বুঝতে ও জানতে পারব ইনসাল্লাহ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২২| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

নতুন বলেছেন: Akasher tara বলেছেন: <<<<<<<<<< ব্লগার নতুনের@ আপত্তি এই বিষয়ে স্বাভাবিক।এগুলো কুরআনের আয়াত নয়, হাদীসও নয়।এগুলো কিচ্ছা,কিন্তু কিচ্ছার মধ্যে শিক্ষা লুকিয়ে আছে এজন্যই রাবিয়া আদাবিয়্যাহ সম্পর্কে ঘটনাগুলো শেয়ার করেছি।

এগুলো সত্য হোক বা না হোক। তবে সুফিদের কারামত আহলুস সুন্নাহ েওয়াল জামাতের আকিদা মতে সত্য।প্রাচীন কালে,মধ্যযুগে এবং বর্তমান কালেও সুফিদের দ্বারা অনেক কারামত ঘটে এগুলো অস্বিক্বার,@ব্লগার(মূলত বাহ্যিক,এবং বস্তুবাদি)নতুন বিশ্বাস না করলেও প্রত্যেক আধ্যাতিক সালিক তা বিশ্বাস করে, এবং করতে বাধ্য হয়।সাধারনত গোপন এবং প্রকাশ্য দুই প্রকারের কারামত রয়েছে।


সুফীবাদ নিয়ে এমন অনেক কাহিনি শোনা যায়।

আমাদের দেশে এই কাহিনুগুলি শুরু হয় ওলীদের মাজার কেন্দ্র করে, এবং মাজার বর্তমানে একটা ধান্দাবাজীর স্থান মাত্র।

এবং আমার মনে হয় না কোন জ্ঞানী মানুষের নামে মিথ্যা কিচ্ছা/কাহিনি বানিয়ে সেটা অন্যের শিক্ষার জন উদাহন হিসেবে ব্যবহার কখনো কোন ধর্মমতে সহী হতে পারে।

ধর্ম কোন মিথ্যা সমর্থন যদি না করে তবে এই সব কিচ্ছা কাহিনি বিশ্বাস করা কি ঠিক???

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আশা করি আপনার মুল্যবান মন্তব্যটি Akasher tara দেখবেন এবং তিনি আমার থেকেও এ বিষয়ের ভাল
অলোচনা করতে পারবেন । অপেক্ষা করছি দেখি তিনি কি বলেন । আমার মুল পোস্টে কোথাও বলিনি
রাবেয়া বসরী অলৌকিক কিছু বা কারামতি তিনি নীজে দেখিয়েছেন । সুফী সাধকদের বিষয়ে জানার
জন্য্ আমি পড়াশুনা করছি, প্রাপ্ত পর্যালোচনা ব্লগে শেয়ার করে সত্যি বিষয়াদি জানার চেষ্টা করছি । আমি
সুফী বিষয়ে একজন প্রাথমিক ছাত্র বৈ কিছু নই । সকলের মুল্যবান আলোচনা হতেই শিখতে আগ্রহী ।
ব্লগকে একটি শিখার জায়গা বলেই আমি মনে করি ।

শুভেচ্ছা রইল

২৩| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৫

নতুন বলেছেন: লেখক বলেছেন: <<<<<<<<<<<<<<< সুফি তরিকায় বাতেনি তাযকিয়া বা অন্তরের শুদ্ধিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারামত যদি ঘটেও থাকে, তা
আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহমাত্র সাধকের ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা অর্জন নয়। এজন্যই অনেক আধ্যাত্মিক সাধক
কারামতকে আড়াল করতেন এবং মানুষকে আমল, চরিত্র ও ইখলাসের দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত
করতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি আধ্যাত্মিকতার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বাহ্যিক বিস্ময়ের চেয়ে অন্তর্গত
পরিবর্তনকে অধিক মূল্য দেয়।

আপনি কুরআনের আলোকে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন নবীদের নিকট মুজিযা বা নিদর্শনের দাবি এবং তার
উত্তরে নবীদের বিনয়ী অবস্থান এটিও আলোচনাকে গভীরতা দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, অলৌকিকতা কখনোই
মানুষের ইচ্ছাধীন নয়; বরং সবকিছুই আল্লাহর হিকমত ও ইচ্ছার অধীন।


রাসুল সা: এর নিকট ওহী আসতো। তিনি সরাসরি আল্লাহের সাথে কথা বলতেন না। তিনি শুধুই একবার পর্দার ওপাশ থেকে আল্লাহ সাথে কথা বলেছিলেন মেরাজের সময়।

তাহলে সুফীদের সাথে আল্লাহের কি ভাবে যোগাযোগ হয়? কেরামত করতে হলে যোগাযোগ দরকার। ওলী একটা কেরামত করতে চাইবেন, সেটার অনুমুতি আল্লাহের কাছ তাকে চাইতে হবে, এবং আল্লাহ তাকে অনুমদন দেবেন তারপরে তিকি কেরামত টা করবেন।

এই স্টেপ গুলি কি ভাবে হয়? সরাসরী? নাকি ফেরেস্তার মাধ্যমে?

রাসুল সা: এর পরে কোন ওহী আসবেনা।
ওলীরা সরাসরি আলাহের সাথে কথা বলার প্রশ্নই উঠে না।

তাহলে এই কেরামত তারা আল্লাহের ক্ষমতা বলে কি ভাবে করে???

গভীর ভাবে ভাবলে এই সকল কেরামতির কাহিনি ভুয়া সেটা বুঝতে পারবেন। :(

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আবার এসে মুল্যবান কথা বলার জন্য ধন্যবাদ ।
লেখক হিসাবে আমি স্পষ্ট করে বলেছি অলৌকিকতা কখনোই
মানুষের ইচ্ছাধীন নয়; বরং সবকিছুই আল্লাহর হিকমত ও ইচ্ছার অধীন।

তারপরো মন্তব্যের ঘরে বলা আপনার কথাগুলি বেশ প্রনিধান যোগ্য যথা
রাসুল সা: এর নিকট ওহী আসতো। তিনি সরাসরি আল্লাহের সাথে কথা বলতেন না। তিনি শুধুই একবার পর্দার ওপাশ থেকে আল্লাহ সাথে কথা বলেছিলেন মেরাজের সময়।
তাহলে সুফীদের সাথে আল্লাহের কি ভাবে যোগাযোগ হয়? কেরামত করতে হলে যোগাযোগ দরকার। ওলী একটা কেরামত করতে চাইবেন, সেটার অনুমুতি আল্লাহের কাছ তাকে চাইতে হবে, এবং আল্লাহ তাকে অনুমদন দেবেন তারপরে তিকি কেরামত টা করবেন।
এই স্টেপ গুলি কি ভাবে হয়? সরাসরী? নাকি ফেরেস্তার মাধ্যমে?
রাসুল সা: এর পরে কোন ওহী আসবেনা।
ওলীরা সরাসরি আলাহের সাথে কথা বলার প্রশ্নই উঠে না।
তাহলে এই কেরামত তারা আল্লাহের ক্ষমতা বলে কি ভাবে করে???


আপনার বলা কথার সাথে করা প্রশ্নগুলোর উত্তর আশা করি পেয়ে যাবেন উপরে Akasher tara র মন্তব্যের
নীচে আমার প্রতিউত্তর থেকে ।

আপনার মত আমারো কেরামতি কাহিনী নিয়ে প্রশ্ন অনেক , আর তা জানার জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা ।
আল্লা যদি আমাকে জানিয়ে দেন সেটাই হবে আমার জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি । আমার রব আল্লাহ
মহা ক্ষমতাবান , তাঁর কোন আদি অন্ত নেই, যখন খুশী কাওকে যে কোন কিছু্ দেখাতে পারেন নীজ
ইচ্ছা মুলে। এই সুস্থ দেহে সকল অঙ্গ প্রতঙ্গ নিয়ে বেচে যে আছি, কথা বলতে পারছি , লিখতে
পারছি , চিন্তা করতে পারছি , অনুভব করতে পারছি দোচোখ ভরে দেখতে পারছি, কানে শুনতে
পারছি , অনেকেইতো জন্ম হতেই অন্ধ মুক ও বধির হয়ে পৃথিবীতে আসে , পক্ষান্তরে আমি তাদের
মত না হয়ে সম্পুর্ণ সুস্থ ও সচল অঙ্গ প্রতঙ্গ নিয়ে এই ধরাধামে এসেছি , এটাই বা কম কী ? যার
কথা বলার , কানে শুনার বা চোখে দুনিয়াকে দেখার ক্ষমতা নেই সেই বুঝে আল্লাহর দয়া কাকে
বলে । শুকরিয়া জানাই মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর প্রতি, তিনি যে সর্বদিক দিয়ে সুস্থ দেহ দিয়ে
এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন আমাকে।

শুভেচ্ছা রইল

২৪| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

Akasher tara বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ। প্রিয় ব্লগার ড.এম এ আলী ভাই,আপনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আলোচনার দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।আশা করি এরকম শিক্ষনীয় পোস্ট আরো দিবেন এবং আলোচনা এবং শিক্ষার দরজা আরো বেশি প্রসস্থ হবে।আমিও আপনার মতোই প্রাথমিক ক্লাসের একজন ছাত্র,একটু একটু করে শিখতেছি।আপনার মূল্যবান প্রতিমন্তব্য পড়ে আলোচনার বিশাল দরজা এবং এবং এক মহাসমুদ্র খুলে গিয়েছে।আল্লাহ তায়ালা আমাদের অন্তরকে মহাসমুদ্র বানিয়ে দিন।জ্ঞান এবং হেকমত দিয়ে ভরপূর করে দিন।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মাশাআল্লাহ, আপনার আন্তরিক ও বিনয়পূর্ণ অনুভূতি সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। শেখার পথে নিজেকে ‘প্রাথমিক
শ্রেণির ছাত্র’ হিসেবে ভাবতে পারা আসলে জ্ঞানার্জনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ,কারণ বিনয়ই জ্ঞানের দরজা
খুলে দেয়। আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া প্রমাণ করে যে পারস্পরিক চিন্তা-বিনিময়
আমাদের চিন্তাকে গভীর ও সমৃদ্ধ করে।

মরমী উপলব্ধি হোক বা সাধারণ জ্ঞানচর্চা প্রতিটি ধাপই আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি যাত্রা। আমরা
সবাই একে অপরের সহযাত্রী; কেউ শিক্ষক, কেউ শিক্ষার্থী আসলে সবাই শিখছি, বুঝছি এবং নিজেদের
পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের অন্তরকে সত্যিই জ্ঞানের মহাসমুদ্রের মতো প্রশস্ত করে দিন, হেকমত, প্রজ্ঞা ও
কল্যাণময় চিন্তায় পরিপূর্ণ করে দিন। এমন সুন্দর ও ইতিবাচক আলোচনার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক
এই কামনাই রইল।

২৫| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০০

নতুন বলেছেন: এই উপমহা দেশে যত মাজার আছে সবাই দাবী করে তাদের ওলীর অনেক কেরামতি আছে।

একটা মাজার টাকাপয়সা কামানোর পথ ছাড়া আর কিছুই না।

তাই কেরামতের মতন জিনিস যখন ধান্দাবাজেরা প্রচার করে তখন অবশ্যই আমার মনে প্রশ্ন জাগে।

আরব দেশে এমন ওলীর মাজার কম, তাদের মাজারে টাকাপয়সার কাহিনি কম। কেরামতের কাহিনি ও কম।

যারা মিথ্যা কাহিনি বানিয়ে মানুষকে শিক্ষা দিওয়াটা ঠিক মনে করে তারা অবশ্যই তাদের ওলীর গুনগান করতে মিথ্যা কেরামতির কাহিনি বলবে সেটাই সাভাবিক।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ভাই, আপনার প্রশ্ন ও সংশয়কে আমি সম্মান করি কারণ অন্ধ বিশ্বাস যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অন্ধ অস্বীকারও
আমাদের সত্য থেকে দূরে রাখতে পারে। বাস্তবতা হলো, উপমহাদেশে কিছু মাজারকে কেন্দ্র করে অর্থলোভ,
অতিরঞ্জন বা ভুল চর্চা হয়েছে ও হচ্এছে এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু কিছু অপব্যবহার দেখেই
পুরো বিষয়টিকে ধান্দাবাজি বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া হয়তো ন্যায়সংগত বিচার হয় না।

ইসলামের ইতিহাসে ওলী বলতে এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে যাঁরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে জীবন উৎসর্গ
করেছেন।তাঁদের কেরামত মূল বিষয় নয়; বরং তাঁদের চরিত্র, তাকওয়া, মানবসেবা ও মানুষকে আল্লাহমুখী
করার প্রভাবই ছিল আসল পরিচয়। কেরামত ইসলামে আকীদার ভিত্তি নয়, বরং আল্লাহ চাইলে তাঁর প্রিয়
বান্দার মাধ্যমে অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে পারে এটুকুই বিশ্বাসের অংশ। তাই কেরামত মানতেই হবে এমন
বাধ্যবাধকতা নেই, আবার সবকিছুকে মিথ্যা বলাও প্রয়োজন নেই।

আরব দেশে মাজার কম এটা আংশিকভাবে ঐতিহাসিক ও সামাজিক বাস্তবতার ফল; সেখানে ধর্মীয় সংস্কৃতি
ভিন্নভাবে বিকশিত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস দেখলে দেখা যায়, ইসলামের জ্ঞান, তাসাউফ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা
বহু অঞ্চলে মসজিদ, খানকাহ ও মাজারকেন্দ্রিকভাবেই মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে। অর্থাৎ সমস্যাটা মাজার নয়,
বরং মানুষের ব্যবহার।

আমার মনে হয় আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হওয়া উচিত। মিথ্যা গল্প ও ব্যবসায়িক অপব্যবারের সমালোচনা
করা, কিন্তু প্রকৃত আল্লাহভীরু মানুষদের অবদান অস্বীকার না করা, এবং মানুষকে ব্যক্তি-পূজার বদলে আল্লাহমুখী
শিক্ষার দিকে আহ্বান করা।

প্রশ্ন করা ভালো, কারণ প্রশ্ন থেকেই জ্ঞান জন্ম নেয়। তবে বিচার যেন হয় প্রমাণ, ইতিহাস ও ন্যায়বোধের
আলোকে, সাধারণীকরণের ভিত্তিতে নয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য বুঝার মতো প্রজ্ঞা ও ন্যায়পরায়ণ
দৃষ্টিভঙ্গি দান করুন।

শুভেচ্ছা রইল

২৬| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

Akasher tara বলেছেন: @ব্লগার নতুনও আলোচনার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন,আমরা এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনার গভীরে ঢুকতে পারি।@নতুনের কথা ঠিক আছে,আল্লাহর সাথে সরাসরি কেউ কথা বলতে পারেনা।নবী-রসূল রা মাধ্যমে কথা বলেন।তাহলে আউলিয়ারা কিভাবে কথা বলেন,এবং কারামত প্রদর্শন করেন।
এই বিষয়টা সমাধানের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে নিতে হবে—
১।নবীদের মধ্যে মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন এই দুনিয়াতেই,কিন্তু দেখতে পারেননি।(কুরআন)
২।আল্লাহ মৌমাছিদের অন্তরে ইলহাম করেন(নাহল)
৩।মারিয়াম আ.(ঈসা আলাইহিস সালামের আম্মা)কোনো নবী ছিলেন না, ছিলেন সিদ্দিক(কুরআন)
৫।মারিয়াম আলাইহিস সালামের সামনে বিনা মৌসূমি ফল দেখতে পেয়েছিলেন যাকারিয়া আলাইহিসসালাম (কুরআন)
৬।রানী বিলকিসের সিংহাসন এনে দেওয়া ব্যাক্তি কোনো নবী ছিলোনা (কুরআন) এখন পরের কমেন্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি ইনশাআল্লাহ

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মন্তব্যটি যদিও ব্লগার নতুনকে এডড্রেস করে লেখা তারপরেও তিনি যেহেতু এখনো এসে এটা দেখে
কোন মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেখান নি তাই এই অবসরে আপনার মুল্যবানন মন্তব্যটি ধরে আমরা কিছু আলোচনা
চালিয়ে যেতে পারি মর্মে মনে করি ।

প্রথমেই বলি আপনার আলোচনা শুরু করার ধরণটি সত্যিই প্রশংসনীয় কারণ আপনি আবেগ নয়, বরং কুরআনের
উদাহরণ সামনে এনে বিষয়টি বুঝতে/বুঝাতে চাচ্ছেন। এভাবেই সত্যিকারার্থে জ্ঞানভিত্তিক সংলাপ এগিয়ে যায়।

আপনি যে ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ
করে; আল্লাহ তায়ালার সাথে যোগাযোগের ধরন একরকম নয়। নবী-রাসূলগণ ওহীর মাধ্যমে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত
ছিলেন, এটি ছিল নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্য এবং তা চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু কুরআন আমাদের দেখায় যে
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে ইলহাম, হিদায়াত বা বিশেষ সহায়তা দান করতে পারেন, যা নবুওয়াত নয়, বরং
আল্লাহর রহমতের একটি রূপ।

মুসা (আ.)এর সাথে আল্লাহর কালাম, মৌমাছির প্রতি ইলহাম, মারিয়াম (আ.)-এর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ, কিংবা
বিলকিসের সিংহাসন আনার ঘটনাগুলো এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে অলৌকিক সহায়তা সবসময় নবুওয়াতের
সমার্থক নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন দেখান। এখানেই কেরামত ধারণাটির ব্যাখ্যা খুঁজে
পাওয়া যায় যা নবীদের মুজিজা নয়, আবার স্বাধীন ক্ষমতাও নয়; সবই আল্লাহর ইচ্ছাধীন।

তবে এখানে একটি ভারসাম্য খুব জরুরি:-
আউলিয়াদের সম্মান করা মানে তাঁদেরকে নবীদের পর্যায়ে তুলে দেওয়া নয়,
কেরামতকে ধর্মের মূল ভিত্তি বানানোও ঠিক নয়,
আবার কুরআনের সম্ভাবনাগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করাও সমীচীন নয়।

আমার মনে হয় আলোচনাটি যদি কে সঠিক সেটা প্রমাণের বদলে কুরআন কী শেখায় এই দৃষ্টিকোণ থেকে
এগোয়, তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হবো। পরবর্তী বিশ্লেষণের অপেক্ষায় রইলাম ।
আশা করি আলোচনা আরও পরিমিত ও জ্ঞানসমৃদ্ধ হবে, ইনশাআল্লাহ।

শুভেচ্ছা রইল

২৭| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৪

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ধন্যবাদ, ভাইয়া।

দিওয়ান-ই শামস-ই তাবরিজি এর বাংলা সংস্করণটি কিনেছিলাম। পড়ে মজা পাই নাই। অনুবাদ ভালো হয় নাই।
জালালুদ্দিন রুমী (রহ) মছনবী শরীফ-ও কিনেছিলাম। বাজে অনুবাদ।

দুইটি বই পূনর্বার অনুবাদ করার একটি প্রজেক্ট নিলে ভালো হতো।


২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনি ঠিকই বলেছেন ভাই ।

আমার মনে হয় দুটি বই এর ই পুর্ণবার অনুবাদ দরকার ।
চলেন শুরু করা যাক অনুবাদ প্রকল্পের কাজ ।

মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমী (রহ.) রচিত মসনবী-ই মা'নবী (বা মসনবী শরীফ) ফার্সি সুফী সাহিত্যের
অন্যতম প্রভাবশালী ও কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৬৭ সনে পাকিস্তান আমলে মনিরুদ্দীন ইউসুফ অনুদিত
স্টুডেন্ট ওয়েস , বাংলাবাজার হতে প্রকাশিত সেটির প্রথম সংস্করনের মুল একটি কপি আমার সংগ্রহে
আছে । মাঝে মাঝে সেটি খুলে পাঠ করি । সেখান হতে কতক কবিতা পাঠে বুঝতে চেষ্টা করি । কিন্তু তাঁর
কবিতার এত উচ্চ ভাব যে, তা অনেকটা্ আমার মাথার উপর দিয়ে যায়। যাহোক, মসনবী শরীফের প্রথম
কবিতাটি নিশ্চয় আপনিউ পড়েছেন।নিশ্চয় কবিতাটি আপনি আমার থেকেও ভাল বুঝেছেন ।
কবিতাটির বাংলা অনুবাদ সাধু ভাষায়, একে চলতি ভাষায় একটু রুপান্তর করে দেখেছি , আমার কাছে
ভাল লেগেছে। কবিতাটির মুলভাব বুঝতে না পারলেও যতটুকু বুঝেছি ততটুকুই আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের ভাবনায়
নিয়ে আমার মত করে একটি অতি সাধারন কবিতা লিখে প্রিয় সুফি কবি মাওলানা রূমীর প্রতি মনে মনে
অর্পন করেছি ।


মূল ফারসী কবিতা ( মাওলানা রুমী )

বিশনো আয়ু নায় চু হেকায়েত মী কুনাদ
ওয়ু জুদায়িহা শিকায়েত মী কুনাদ ।

সাধু ভাষায় অনুবাদ ( অনুবাদক ; মনিরুদ্দীন ইউসুফ )
বাঁশির কাছে শোন
কি কাহিনী সে বলিতেছে
তার বিরহের অভিযোগে
সে ক্রন্দন করিতেছে।

চলতি ভাষায় রূপান্তর ( ড.এম এ আলী )
বাঁশির কাছে শোন
কী কাহিনী সে বলছে
তার বিরহের অভিযোগে
ক্রন্দন সে করছে ।

এতেও আমার মন ভরেনা তাই ভাবনার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে নীচে
তুলে দেয়া কবিতাটি আমি লিখলাম রুমীকেই উৎসর্গের তরে
যেমনটি তিনি তাঁর লেখা দিওয়ান ই শামস তাবরিজি উৎসর্গ
করেছিলেন তাঁর মরমী গুরু শামসউদ্দীন তাবরিজি(রহ,)কে ।


বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে
- ড. এম এ আলী

শোনো
দূর নীরবতার বুক চিরে
কে যেন ডাকে দীর্ঘশ্বাসের সুরে
বাতাসে ভেসে আসে কান্না
কেউ বলে, ও শুধু বাঁশির গান
আমি জানি সে মানুষের প্রাণ।

কখনো সে ছিল সবুজ বনে
মূলের সাথে নিবিড় বন্ধনে
আজ কাটা পড়ে একা দাঁড়িয়ে
নিজের শূন্যতা নিজেই গায়
বিচ্ছেদের আগুনে জ্বলে
তার প্রতিটি দীর্ঘ দীর্ঘ্রম্বাসে।

সুর কেন এমন কাঁদে?
কেন আনন্দের ভেতরেও বিষাদের ঢেউ?
হাসির নিচে লুকানো নদী
নিঃশব্দে বয়ে যায় কেবল সে-ই জানে
যে একবার হারিয়েছে আপন ঠিকানা।

মানুষও তেমনি
ভিড়ের মাঝে থেকেও নির্বাসিত
অগণিত প্রাপ্তির পরেও অপূর্ণ
স্বপ্নের পরে স্বপ্ন জাগে
তবু হৃদয় কথা বলে
এ নয়, এ নয়, আরও কিছু বাকি।

স্বর্ণের প্রাচুর্য তাকে ভরায় না
সঙ্গের উষ্ণতাও শেষ তৃষ্ণা মেটায় না
কারণ তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে
অদৃশ্য কোনো প্রথম সকাল
যেখানে ছিল না বিচ্ছেদ
ছিল শুধু পূর্ণতার আলো।

তাই সে কাঁদে
বাঁশির মত দীর্ঘ মিহীন সুরে
নিজের উৎসের দিকে ফিরে যেতে চায়
প্রতিটি প্রেম, প্রতিটি বেদনা
আসলে সেই পথেরই চিহ্ন
যেখানে আত্মা আপন ঘর খুঁজে পায়।

দুঃখ তাই মনস্তাপ নয়
এ গভীরতার দরজা
বিরহ তাই ক্ষত নয়
এ প্রত্যাবর্তনের ভাষা।

যেদিন মানুষ বুঝবে
তার অশ্রুই তার মানচিত্র
সেদিন বাঁশির সুর থামবে না
বরং মিলিয়ে যাবে
অসীম নীরবতার মাঝে
যেখানে আর কোনো বিচ্ছেদ নেই
শুধু চির-ফেরা, চির সাক্ষাৎ।

শুভেচ্ছা রইল

২৮| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: শাইয়্যান ভাই@মসনভী শরীফের অনেক অনুবাদ আছে,আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ইমদাদিয়া লাইব্রেরি প্রকাশিত অনুবাদটা,এটা অনুবাদ করেছেন আব্দুল মজিদ ঢাকুবী রহ.।এটা পড়ে দেখবেন। আর দেওয়ান-ই -শামস তিবরিজির অনুবাদ একদমই ভালো হয়নি ঠিক বলেছেন,বাজে অনুবাদ হয়েছে।এটার মনে হয় দ্বীতিয় কোনো অনুবাদ নেই।ভালো কোনো অনুবাদকের মাধ্যমে অনুবাদ করানো যেতে পারে,একমত।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:





প্রিয় সুলা্‌ইমান হোসেন ভাই, চলুন সমমতাদর্শী সকলে মিলে
দেওয়ান-ই- শামস তিবরিজির অনুবাদ কর্মে লেগেস যাই ,
মানুষ পাক আত্মোপলব্দির সঠিক চেতনা ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২৯| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: দেওয়ান-ই -শামস তিবরিজির অনুবাদ কি পি.ডি.এফ আছে কারো কাছে?

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মাওলানা মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী (রহঃ) রচিত দিওয়ান-ই-শামস তিবরিজি-র বাংলা অনুবাদ PDF
পাওয়ার বিষয়ে কিছু ধারনা দিচ্ছি।
বাংলায় সবচেয়ে প্রচলিত অনুবাদটি হলো
অনুবাদক: মোস্তাক আহমাদ
প্রকাশক: রোদেলা প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ২০১৫
এই সংস্করণটি এখনও বাজারে বিক্রিত বই (অর্থাৎ কপিরাইট সক্রিয়) তাই বৈধভাবে ফ্রি PDF
সাধারণত প্রকাশ করা হয়নি।
তাই গুগলে পাওয়া অনেক ফ্রি PDF লিংক আইনসম্মত নয় ।
ইন্টারনেটে কিছু ওয়েবসাইটে ফ্রি PDF ডাউনলোড লেখা দেখা যায় (যেমন কিছু ফাইল-শেয়ার সাইট)।
কিন্তু এগুলোর সমস্যা হল অধিকাংশই অনুমতিবিহীন আপলোড তাই ভাইরাস / বিজ্ঞাপন /
ভুয়া ডাউনলোড লিংক থাকে ।

বৈধভাবে PDF বা ই-বুক পাওয়ার বাস্তব উপায় অনলাইন লাইব্রেরি / ডিজিটাল লাইব্রেরি খুঁজুন
নিচের জায়গাগুলোতে মাঝে মাঝে বৈধ স্ক্যান পাওয়া যায়:
Internet Archive (archive.org)
Open Library
বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল লাইব্রেরি (ঢাকা / কলকাতা / আলীগড়
অথবা আপনার নীজের বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যাবহার করতে পারেন )

Ex PhD Research student হিসাবে আমার University Alumni Library Access আছে ।
আমি Alumni ID ব্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যাহার করে বইটি পাঠ করতে পারি।

নিচে মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী-র দিওয়ান-ই-শামস তিবরিজি-তে বর্ণিত হযরত আলী ইবনে আবি তালিব-কে
নিয়ে বিখ্যাত ঘটনাভিত্তিক ফারসি অংশটির একটি প্রাঞ্জল ও ভাবানুবাদধর্মী বাংলা অনুবাদ এখানে তুলে দিলাম।
(এটি আক্ষরিক নয় রূমীর মুল ফার্সি কবিতার ভাব ও সুফি অর্থ বজায় রেখে করা হয়েছে।)

বাংলা ভাবানুবাদ

আলীর কাছ থেকে শিখো কর্মের নিষ্কলুষ ইখলাস;
যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি এক মহাবীরকে পরাস্ত করেছিলেন।
সে শত্রু ক্রোধে আলীর মুখে থুথু নিক্ষেপ করল
যে মুখ চাঁদের মতো উজ্জ্বল।
সঙ্গে সঙ্গে আলী তাঁর আঘাত থামিয়ে দিলেন,
তলোয়ার সরিয়ে নিলেন ক্রোধের পথ থেকে।
তখন আমীরুল মুমিনীন সেই যুবককে বললেন
যখন তুমি আমার মুখে থুথু নিক্ষেপ করলে,
তখন আমার অন্তরে ব্যক্তিগত রাগ জেগে উঠল;
আর আমি আল্লাহর জন্য নয়, নিজের ক্রোধে আঘাত করতে পারতাম।
তাই আমি যুদ্ধ থামালাম
যেন আমার কর্মে অহংকার বা প্রতিশোধ মিশে না যায়।

এ কথা শুনে অবিশ্বাসীর অন্তরে আলো উদিত হলো;
সে বলল
আমি তো অন্যায়ের বীজ বপন করছিলাম,
আর তুমি ন্যায় ও সত্যের দাঁড়িপাল্লা হয়ে দাঁড়িয়েছ।
তোমার বীরত্ব তলোয়ারের শক্তি নয়,
বরং প্রভুর জন্য আত্মসংযম।

হে আলী! তুমি যেন জ্ঞান ও দৃষ্টির সমগ্র রূপ
আমাকে সেই গোপন রহস্য বলো।
বলুন, কারণ আমি জানি
এ সবই আল্লাহর গোপন সত্যের ইশারা।
হে আকাশের শিকারি বাজপাখি,
আরও বলুন সেই রহস্যের কথা!

রূমীর কবিতা শুধু ভাষা নয় এটি হাল (আধ্যাত্মিক অবস্থা) অনুভব করার বিষয়। বিশেষ করে হযরত
আলী ইবনে আবি তালিব-কে কেন্দ্র করে লেখা অংশগুলো সুফি সাহিত্যে “ইখলাস” ও নফস-জয়
-এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

শুভেচ্ছা রইল

৩০| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:


@সুলাইমান হোসেন ভাই, ধন্যবাদ।

@হুমায়রা হারুন আপু - কিনে পড়ার অনুরোধ থাকলো। এতে প্রকাশক ও লেখক অনুপ্রাণিত হবেন। আর, আপনি যদি দেশের বাইরে থেকে থাকেন, তাহলে, অনলাইনে একটু খোঁজ করলেই পাবেন। দেশে আসার পরে ১ কপি কিনে ফেললেই হলো। যদিও অনুবাদ ভালো হয় নাই।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যটির প্রতি ‍@হুমাইরা হারুনের দৃষ্টি া=আকর্ষন করছি ।
আশা করি তিনি আপনার মন্তব্যটি দেখবেন । উনার জন্য উপরে
আমিউ কিছু তথ্য পরিবেশন করে রেখে দিয়েছি ।

শুভেচ্ছা রইল ।

৩১| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৩৭

Akasher tara বলেছেন: তাহলে আউলিয়ারা কিভাবে কথা বলেন,এবং কারামত প্রদর্শন করেন।
এই বিষয়টা সমাধানের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে নিতে হবে—
১।নবীদের মধ্যে মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন এই দুনিয়াতেই,কিন্তু দেখতে পারেননি।(কুরআন)
২।আল্লাহ মৌমাছিদের অন্তরে ইলহাম করেন(নাহল)
৩।মারিয়াম আ.(ঈসা আলাইহিস সালামের আম্মা)কোনো নবী ছিলেন না, ছিলেন সিদ্দিক(কুরআন)
৫।মারিয়াম আলাইহিস সালামের সামনে বিনা মৌসূমি ফল দেখতে পেয়েছিলেন যাকারিয়া আলাইহিসসালাম (কুরআন)
৬।রানী বিলকিসের সিংহাসন এনে দেওয়া ব্যাক্তি কোনো নবী ছিলোনা (কুরআন) এখন পরের কমেন্টে বিস্তারিত আলোচনা করছি ইনশাআল্লাহ।
এখন মূল আলোচনায় আসি।
কারামত মূলত কোনো জুরুরি অথবা প্রয়োজনীয় জিনিস নয়।কারামতের থেকেও দামী হলো আল্লাহ তায়ালার প্রেম ভালোবাসা মুহাব্বত।এজন্যই একদল আরিফ বলেন খাজা খিযির আলাইহিসসালাম যদিও কারামতের অধিকারী ছিলেন,কিন্তু খিযির আলাইিসসালাম থেকে মুসা আলাইহিসসালামের মর্যাদা বেশি ছিলো।
কারামত কিভাবে ঘটে?
বলা প্রয়োজন,কারামত সকলের দ্বারা ঘটতে পারেনা,আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের দ্বারাই আল্লাহ তায়ালা কখোনো কখোনো কারামত ঘটান।কারামত কখোনো কখোনো আধ্যাতিক সাধকের জন্য বিপজ্জনক হয়ে থাকে,অন্তরে অহংকার মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারে।এজন্য অলীরা কারামতকে গোপন রাখেন।কিন্তু যেখানে প্রকাশের প্রয়োজন সেখানে খুবই সতর্কতার সাথে প্রকাশ করেন।
কারামত কারা দেখতে চাইত?
যাদের ইমান দুর্বল,অথবা ইমান নাই তারা কারামত দেখতে চাইতো।কিন্তু কারামত যখন দেখানো হতো তখন তারা বলত এটা তো জাদু।এজন্য কারামত উপকারি কিছু নয়।কারামতের থেকেও দামি জিনিস হলো চিন্তা ফিকির করা,এবং ইলমুল ইয়াকিন,আইনুল ইয়াকিন এবং হাক্কুল ইয়াকিন অর্জন করা।

কারামত এবং জাদুর মধ্যে আকাশ পাতালের ব্যাবধান রয়েছে।যেখানে কারামত থাকবে সেখানে আল্লাহর রহমত থাকবে,অপরদিকে জাদুর মধ্যে আল্লাহর আজাব গজব থাকে,অসন্তুষ্ঠি থাকার সম্ভাবনা প্রবল,কারন জাদু নিষিদ্ধ এবং হারাম কাজ।
রানী বিলকিসের সিংহাসন নিয়ে আসা।
সুলাইমান আলাইহিস সালাম রসূল হওয়া সত্বেও রানী বিলকিসের সিংহাসন নিয়ে আসতে পারলেন না,অথচ সুলাইমান আলাইহিসসালামের একজন সাধারন উম্মত যিনি রসূল নন,তিনি কারামতের মাধ্যমে সিংহাসন নিয়ে এলেন।
এখন ভেবে,কারামতের মর্যাদা কতটুুুকু।উক্ত উম্মত তো আর সুলাইমান আ.এর থেকে মর্যাদাবান নন।
আরিফরা বলেন কারামতধারী বুযুর্গদের থেকে কারামত ছাড়া বুযুর্গদের দাম বেশি।আরিফরা আরও বলেন,মৃত্যর সময় কারামত ওয়ালা বুযুর্গরা আফসোস করেছেন,বলেছেন,আমাদের দ্বারা যদি কোনো কারামত না ঘটত।
বোঝা যায়,কারামত কোনো উপকারি জিনিস নয়।বরং উপকারি জিনিস হলো মারেফতের জ্ঞান অর্জন করা

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার আলোচনাটি গভীর চিন্তা, কুরআনভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি সুন্দর সমন্বয়
যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে আউলিয়ায়ে কিরাম, কারামত এবং মারেফতের সম্পর্ককে
আপনি যেভাবে ধাপে ধাপে কুরআনের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, তা পাঠককে আবেগ নয় বরং চিন্তা
ও তাদাব্বুরের দিকে আহ্বান করে।

প্রথমেই আপনি নবী মূসা (আ.) এর ঘটনা উল্লেখ করে যে মৌলিক নীতি তুলে ধরেছেন আল্লাহ তাআলার সাথে
কথা হওয়া এবং তাঁকে দৃষ্টিগোচর না করা এটি আমাদের আকীদাগত সীমারেখা স্পষ্ট করে। এরপর মৌমাছির
প্রতি ইলহাম, সিদ্দিকা মারিয়াম (আ.)-এর মর্যাদা, এবং তাঁর কাছে অমৌসুমী রিযিকের উপস্থিতির উদাহরণগুলো
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখিয়েছে যে আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ কেবল নবুয়তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়;
বরং তাঁর প্রিয় বান্দাদের উপর রহমতের বিশেষ প্রকাশ ঘটতে পারে। এই ধারাবাহিক যুক্তি পাঠককে ধীরে ধীরে
মূল আলোচনার দিকে প্রস্তুত করে যা অপনার মন্তব্যটির একটি বড় শক্তি।

বিশেষভাবে প্রশংসনীয় হলো, আপনি কারামতকে উদ্দেশ্য নয় বরং পার্শ্বঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
আজকের যুগে যেখানে অনেকেই আধ্যাত্মিকতার মূল্যায়ন করেন অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে, সেখানে আপনি
স্পষ্ট করেছেন যে আল্লাহর মহব্বত, ইখলাস এবং মারেফতের জ্ঞান এইগুলোই আসল সম্পদ। খিযির (আ.)
ও মূসা (আ.)-এর মর্যাদার তুলনা এনে আপনি যে সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক শিক্ষা তুলে ধরেছেন, তা সুফি ঐতিহ্যের
গভীর উপলব্ধির পরিচয় বহন করে।

কারামতের সম্ভাব্য বিপদের কথা বিশেষত অহংকারের উদ্ভব যেভাবে সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেছেন,
তা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। আউলিয়ারা কেন কারামত গোপন রাখেন, এবং কেন প্রকৃত সাধকেরা এটিকে
লক্ষ্য বানান না এই ব্যাখ্যা অনেককেই বাহ্যিক বিস্ময় থেকে অন্তর্মুখী আত্মশুদ্ধির দিকে পরিচালিত করবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি সত্যিই পরিণত আধ্যাত্মিক চিন্তার প্রতিফলন।

আপনি কারামত ও জাদুর পার্থক্য যে স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর রহমতনির্ভর
করুণা ও হারাম জাদুর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বোঝানো বর্তমান বিভ্রান্ত সময়ের জন্য শিক্ষণীয় দিকনির্দেশনা।
বিশেষ করে রানী বিলকিসের সিংহাসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মর্যাদা ও ক্ষমতার প্রকৃত মানদণ্ড ব্যাখ্যা করা
এটি আমাদের আলোচনাটিকে গভীরতা দিয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশ হলো শেষের উপলব্ধি কারামত নয়, বরং মারেফতের জ্ঞানই আসল প্রাপ্তি। এই
উপসংহার আগ্রহী/অনাগ্রহী সকলকে মনে করিয়ে দেয় যে আধ্যাত্মিক পথের লক্ষ্য অলৌকিকতা নয়, বরং
আল্লাহকে চেনা, তাঁর নৈকট্য লাভ করা এবং অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জন করা।

সার্বিকভাবে বলতে গেলে, আপনার লেখাটি কেবল তথ্যভিত্তিক নয়; এটি আগ্রহী পাঠককে চিন্তা করতে
শেখায়, আকীদা সুদৃঢ় করে এবং আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত মানদণ্ড স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা আপনার
এই জ্ঞানচর্চাকে কবুল করুন এবং আরও মানুষের অন্তরে সঠিক উপলব্ধির আলো পৌঁছে দেওয়ার তাওফিক
দান করুন। আমীন

৩২| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪১

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ভাই ৩১ নং মন্তব্যটা ডিলেট করে দেন,আমি গুছিয়ে আরেকটি উপকারি মন্তব্য করার চেষ্টা করছি।উক্ত মন্‌তব্য অনেেকটা উদাসিনতা নিয়ে লিখেছি এবং উপকারি নয়।ডিলেট করে দিলে কৃতজ্ঞ হবো আপনার প্রতি

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ডিলিট করে দিয়েছি । আপনার উপকারী মুল্যবান লেখাটি দেখার অপেক্ষায় রইলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৩| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: এক কিতাবে পড়েছিলাম আল্লাহর অলীদের আলোচনা যেখানে করা হয় সেখানে রহমত এবং সাকিনা বর্ষন হয়।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার কথাটি সঠিক ।আল্লাহর অলীদের আলোচনা যেখানে করা হয় সেখানে রহমত ও সাকিনা বর্ষিত হয় ।
এটি ইসলামী আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত একটি ধারণা। কুরআন, হাদিস এবং বিজ্ঞ সুফী-উলামাদের
বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কেবল আবেগমূলক কথা নয়; বরং গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তিসম্পন্ন একটি
সত্য। বিষযটি নীচে একটু সংক্ষেপে তূলে ধরলাম ।

পবিত্র আল-কুরআন বারবার ঘোষণা করেছে যে আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর প্রিয় বান্দাদের প্রসঙ্গ মানুষের অন্তরে প্রশান্তি
আনয়ন করে। সূরা রা‘দ এর ২৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে
اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ تَطۡمَئِنُّ قُلُوۡبُهُمۡ بِذِكۡرِ اللّٰهِ ؕ اَلَا بِذِكۡرِ اللّٰهِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ
অর্থ : যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ
প্রশান্ত হয়’।

আউলিয়ায়ে আল্লাহ কারা এ প্রশ্নের উত্তর হল আওলিয়া হচ্ছেন সেই ব্যক্তিরা যাদের জীবন আল্লাহর স্মরণে পূর্ণ।
তাই তাঁদের আলোচনা মূলত আল্লাহর স্মরণকেই জীবন্ত করে তোলে। ফলে সেই মজলিসে সাকিনা (আত্মিক
প্রশান্তি) নাযিল হওয়া কুরআনের নীতির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আরেক স্থানে সুরা ইউনুস এর ৬২ নং আয়াতে বলা হয়েছে
اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰهِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿ۚۖ۶۲﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের (আউলিয়া) কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
এই আয়াত আউলিয়াদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে এবং বোঝায় তাঁদের জীবন আল্লাহর রহমতের বিশেষ ক্ষেত্র।

হাদিসেও আছে মজলিসে রহমত নাযিল হয় ।রাসূলুল্লাহ (স.) এর একটি সহীহ হাদিস এই ধারণাকে সরাসরি
সমর্থন করে।সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত:
“যে লোকেরা আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য একত্রিত হয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ফেলে, রহমত তাদের আচ্ছাদিত
করে, তাদের উপর সাকিনা নাযিল হয় এবং আল্লাহ তাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে উল্লেখ করেন।”
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মহান মুহাদ্দিস ইমাম নববী বলেন:
আল্লাহর স্মরণ শুধু যিকিরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নেককার বান্দাদের জীবন, আমল ও আল্লাহভীতি আলোচনা করাও
মজলিসুয-যিকর এর অন্তর্ভুক্ত।অর্থাৎ আউলিয়াদের আলোচনা সরল অর্থে আল্লাহমুখী আলোচনা যেখানে রহমত
ও সাকিনার অবতরণ ঘটে ।

সুফি উলামাদের দৃষ্টিতে আউলিয়াদের আলোচনা প্রসঙ্গে মহান আলেম ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী
তাঁর আধ্যাত্মিক রচনাগুলোতে বলেছেন নেককারদের জীবনী শুনলে হৃদয়ে ঈমান নবায়ন হয়।
কারণ মানুষের অন্তর অনুকরণপ্রবণ; সে যাদের কথা শোনে, ধীরে ধীরে তাদের মতো হতে চায়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন আউলিয়াদের আলোচনা হৃদয়কে দুনিয়ামুখী অবস্থা থেকে আল্লাহমুখী অবস্থায়
ফিরিয়ে আনে; আর এই পরিবর্তনই রহমতের প্রকাশ।

সুফি ঐতিহ্যের বক্তব্য হিসাবে প্রখ্যাত সুফি সাধক জুনাইদ বাগদাদী বলেন:
“সালেহীনদের কাহিনি আল্লাহর সৈন্যদলের অন্তর্ভুক্ত; এর মাধ্যমে মুমিনের অন্তর শক্তি পায়।”
অর্থাৎ আউলিয়াদের আলোচনা কেবল ইতিহাস নয়,এটি হৃদয়ের চিকিৎসা।

এখন প্রশ্ন হল কেন আউলিয়াদের আলোচনা রহমত ডেকে আনে? ইসলামী আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণে এর কয়েকটি
কারণ বলা হয়:
প্রথমত এরূপ আলোচনায় আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের স্মরণ করা হয় যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন, তাদের স্মরণ
আল্লাহর ভালোবাসার দিকেই মানুষকে টানে।
দ্বিতীয়ত এরূপ আলোচনা নিয়তের পরিবর্তন ঘটায়,আলোচনার মাধ্যমে মানুষ নিজের জীবন মূল্যায়ন করে
তওবা ও সংশোধনের ইচ্ছা জাগে।
তৃতীয়ত ফেরেশতাদের উপস্থিতি ঘটে । যেখানে ঈমান, যিকির ও নেককারদের আলোচনা হয় সেখানে
ফেরেশতাদের সমাগম ঘটে (হাদিসসমর্থিত ধারণা)।

সুফিরা বলেন কঠিন হৃদয় অলৌকিকতায় নয়, বরং আল্লাহওয়ালাদের স্মরণে নরম হয়।

তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাও আছে যথা উলামারা সতর্ক করেছেন:
আউলিয়াদের আলোচনা যেন অতিরঞ্জিত প্রশংসা বা গুলু (অতিরিক্ত মহিমান্বিতকরণ) না হয়।
উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর দিকে দাওয়াত, ব্যক্তিপূজা নয়। কারণ প্রকৃত আউলিয়া নিজের দিকে নয়,
আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করেন।

পরিশেষে বলা যায় আল্লাহর অলীদের আলোচনা হলে রহমত ও সাকিনা নাযিল হয় এই বক্তব্যটি:
কুরআনের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সহীহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত, সুফি ও প্রাচীন উলামাদের অভিজ্ঞতায়
প্রতিষ্ঠিত কারণকারণ আউলিয়াদের আলোচনা আসলে মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণের দিকে
ফিরিয়ে দেয়। আর যেখানে আল্লাহ স্মরণ হন, সেখানেই রহমত, প্রশান্তি ও অন্তরের নূর অবতীর্ণ হয়।

আপনার কথার প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৪| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: লেখক বলেছেন:





প্রিয় সুলা্‌ইমান হোসেন ভাই, চলুন সমমতাদর্শী সকলে মিলে
দেওয়ান-ই- শামস তিবরিজির অনুবাদ কর্মে লেগেস যাই ,
মানুষ পাক আত্মোপলব্দির সঠিক চেতনা ।

শুভেচ্ছা রইল ।


ভাই!আমি অনেক অনুবাদ,এবং অপুর্নাঙ্গ ব্যাক্তির কিছু বই পড়ে বিপদে পড়েছিলাম।কারন অনুবাদে তারা প্রকৃত অবস্তা এবং সঠিক জ্ঞান ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।যেকারনে ভিভ্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে আমাদের মত সাধারন মানুষের।সুতরাং আপনার কথাট্ খুবই সংগত এবং গুরুত্বপূর্ণ।
অনুবাদ আসলে এমনভাবে করা উচিত যেন কারো ইমান ক্ষতির মধ্যে পড়ে না যায়।কোনো কথা প্রকাশ্য শরিয়তের বিরোধীতা না করে।দেওয়ান-ই শামস তিবরীজির অনেক কথা প্রকাশ্য শরীয়ত বিরোধী মনে হতে পারে,কিন্তু আসলে বিষয়টা তেমন না।এমন কোনো কথা থাকলে সেখানে শেরটার নিচে ছোট্ট ব্যাখা সংযুক্ত করে দেওয়া উচিত,যেন বিভ্রন্তির সম্ভাবনা না থাকে।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ভাই, আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও গভীর সচেতনতার পরিচায়ক। বিশেষ করে আধ্যাত্মিক সাহিত্যের
অনুবাদ প্রসঙ্গে আপনি যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উৎসারিত। সত্যিই,
অনুবাদ কেবল ভাষান্তর নয়; এটি মূলত ভাব, প্রেক্ষাপট, আধ্যাত্মিক স্তর ও জ্ঞানের সূক্ষ্মতা যথাযথভাবে বহন
করার একটি আমানত। অনুবাদক যদি মূল লেখকের অন্তর্নিহিত অবস্থান ও জ্ঞানের গভীরতা অনুধাবন করতে
না পারেন, তাহলে পাঠকের কাছে ভুল অর্থ পৌঁছানোর সম্ভাবনা থেকেই যায়।

বিশেষত সুফি সাহিত্যে যেমন দেওয়ান-ই শামস তিবরিজির বহু বক্তব্য রূপক, ইশারা, এবং আধ্যাত্মিক
অভিজ্ঞতার ভাষায় প্রকাশিত। এগুলো বাহ্যিক অর্থে বিচার করলে অনেক সময় শরীয়তবিরোধী বলে মনে
হতে পারে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো তাসাউফের উচ্চতর উপলব্ধির ভাষা। ইতিহাসে দেখা যায়, বহু
আধ্যাত্মিক উক্তি যথাযথ ব্যাখ্যার অভাবে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছে। তাই পাঠকভাই যে প্রতিটি জটিল
শেরের নিচে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা যুক্ত করার কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ একটি প্রস্তাব।

অনুবাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পাঠককে বিভ্রান্ত করা নয়, বরং তাকে ধীরে ধীরে অর্থের গভীরে প্রবেশের
সহায়তা করা। এজন্য তিনটি বিষয় বিশেষভাবে জরুরি(১) ভাষাগত সততা, (২) শরীয়তের মৌলিক নীতির
প্রতি সংবেদনশীলতা, এবং (৩) আধ্যাত্মিক পরিভাষার প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা। এতে করে সাধারণ পাঠক যেমন
নিরাপদ বোধ করবেন, তেমনি আধ্যাত্মিক সাহিত্যের সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

অতএব বলা যায়, সম্মিলিতভাবে অনুবাদ কর্মে অংশ নেওয়ার আমার আহ্বান এবং তার সাথে আপনার
প্রস্তাব অনুযায়ী দায়িত্বশীলব্যাখ্যা সংযুক্ত করার প্রস্তাব দুইটিই পরস্পরকে পরিপূর্ণ করে। এই ধরনের
সচেতন আলোচনা ভবিষ্যৎ অনুবাদ উদ্যোগকে আরও পরিণত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং কল্যাণমুখী করে
তুলবে বলেই আশা করা যায়।

শুভেচ্ছা রইল

৩৫| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৫৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ড.আলী ভাই, দেওয়ান-ই -শামস তিবরিজির পি.ডি.এফ. ফাইল সঙগ্রহের পরামর্শে অনেক ধন্যবাদ।

মওলানা রুমীর ভাব অনুসারে যে কবিতাটি আপনি লিখেছেন, 'বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে' তা পড়ে মনে হচ্ছে মওলানা রুমীর কথাগুলো যেন আপনি, আপনার আত্মা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। যদি মওলানা রুমীর লেখা সমূহের ভাবার্থ এভাবে আপনার কলমে ফুটে উঠতো, আমরা সকল বাংলা ভাষা ভাষীরা blessed হতাম।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার আন্তরিক ও হৃদয়ছোঁয়া মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, ভাই।
আসলে মওলানা রুমীর ভাবজগৎ এমন এক সমুদ্র, যার তীরে দাঁড়িয়ে থাকাই সৌভাগ্যের বিষয়, তার গভীরতা
উপলব্ধি করা তো আরও বড় অনুগ্রহ। ‘বিরহের বাঁশি বাজে তারই তরে’ কবিতাটি লিখতে গিয়ে আমি শুধু সেই
অনুভূতির সামান্য স্পর্শটুকু ধরার চেষ্টা করেছি, যা রুমী আমাদের হৃদয়ের ভেতর জাগিয়ে দেন।

আপনার এই উৎসাহ ও ভালোবাসা সত্যিই অনুপ্রেরণা জোগায়। আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও রুমীর ভাবধারার
আলো থেকে কিছু উপলব্ধি বাংলায় প্রকাশ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখব যেন আমরা সবাই সেই প্রেম, বিরহ ও
আত্ম-অন্বেষণের পথে একটু করে এগোতে পারি। মসনবী তে থাকা দ্বিতীয় শেরটাও গভীরতা উপলব্দি করে
আমি আরো একটি কবিতা লিখেছে সেটা প্রায় তিন পৃষ্ঠার মত বড় হয়ে গেছে , তাই সেটা এখানে এই
প্রতিমন্তব্যের ঘরে দিলাম না । সময় মত কবিতাটি নিয়ে একটি পৃথক পোস্ট দিবার আশা রাখি, ইনশাআল্লাহ।

শুভেচ্ছা রইল

দোয়া ও শুভকামনা রইল।

৩৬| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:০১

হুমায়রা হারুন বলেছেন: @সত্যপথিক শাইয়ান, দেশে গেলে আমি অবশ্যই বইয়ের খোঁজ করব।
কেন যে আগে এই চিন্তা মাথায় আসে নাই বুঝতে পারছি না।
আসলে ওনাদের বইয়ের যে বাংলা অনুবাদ আছে তাই-ই আমি জানতাম না।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মন্তব্যটির প্রতি @সত্যপথিক শাইয়ান ভাই এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি ।
আশা করি তিনি এসে আপনার মন্তব্যটি দেখবেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৭| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ রূমীর কবিতা শুধু ভাষা নয় এটি হাল (আধ্যাত্মিক অবস্থা) অনুভব করার বিষয়। বিশেষ করে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব-কে কেন্দ্র করে লেখা অংশগুলো সুফি সাহিত্যে “ইখলাস” ও নফস-জয় -এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

@ ড. আলী ভাই, নফস্‌ জয় করতে পারলে তো এতদিনে 5D তে থাকতাম। এই 3D- তে হয়ত বা আসতেই হতো না।
দিওয়ান - শামস তাবরীজ বইটি grontho.net সাইটে পেয়েছি । আরেকটি বই পেয়েছি। আহমদ শরিফের লেখা, 'বাঙলার-সূফী-সাহিত্য।' মনে হয় এবার ফরমালি সূফী দর্শন জানবার পথ পেলাম। বুদ্ধের একটা কথা proverb রূপে আছেঃ 'when the student is ready, the teacher will appear.'
আমার ছাত্রদের সাথে তাই-ই হয়েছিল, যখন আমি শিক্ষক হিসাবে তাদের কাছে গিয়েছিলাম। আবার আমি যখন স্টুডেন্ট তখন আমার বেলায় হয়েছে অলৌকিক ভাবে। এবার হলো কিভাবে? যেমন ধরুন, প্রথমে আপনার পোস্ট পড়া। তারপর অনলাইনে খোঁজ করার পরামর্শ পেয়ে দর্শনের মূল আলোচনা ভিত্তিক বই 'বাঙলার-সূফী-সাহিত্য' পেয়ে যাওয়া। এবার আমার সূফী দর্শন নিয়ে পড়া শুরু হবে। বইটির লিঙ্ক বাঙলার সূফী সাহিত্য

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার অনুভবসমৃদ্ধ মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই ভালো লাগলো। রূমীর কবিতাকে যে আপনিও যে শুধু সাহিত্য
হিসেবে নয়, বরং “হাল”-এর অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন এটাই আসলে সুফি পাঠের আসল দরজা খুলে দেয়।
শব্দ সেখানে কেবল বাহন; আসল যাত্রা ঘটে অন্তরের ভেতর।

নফস্‌ জয় প্রসঙ্গে আপনার কথাটিও গভীর সত্য বহন করে। আমরা হয়তো 3D এর এই সীমাবদ্ধ জগতেই
পথ চলছি, কিন্তু সুফি শিক্ষার সৌন্দর্য হলো এই বাস্তব জীবনেই ধীরে ধীরে অন্তরের মাত্রা বদলে যায়। স্থান
নয়, চেতনার রূপান্তরই আসল সফর।

আপনার পাঠযাত্রার ধারাবাহিকতাটি বিশেষভাবে স্পর্শ করলো, একটি লেখা থেকে আরেকটি বই, তারপর
নতুন অনুসন্ধানের দরজা খুলে যাওয়া। সত্যিই, যখন অনুসন্ধান জাগে, তখন পথ নিজেই পথিককে ডেকে
নেয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সেই রহস্যময় সাক্ষাৎও বোধহয় এভাবেই ঘটে সময় পূর্ণ হলে।

আপনার সূফী দর্শনের পাঠযাত্রা শুভ হোক। পড়া, ভাবা ও আত্ম-অন্বেষণের এই পথ আপনাকে আরও গভীর
শান্তি ও অন্তর্দৃষ্টি দিক এই কামনা রইল। আর হ্যা বই এর লিংকটি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । যদিউ লিংকটি
আমার রিজিঅনে কাজ করছে না এখানকার কঠিন নিয়মের কারণে , তবে লিংটি দেশে আমার স্বজনদের
কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি যদি তাদের কাজে লাগে । কোন চেষ্টায় বৃথা যায়না এ আপ্ত বাক্যটি খাটে যে কোন
উপায়ে ।

শুভেচ্ছা রইল

৩৮| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক কৃতজ্ঞতা আলী ভাই।
আমার দেয়া লিংকে extra character এসে যাওয়াতে মনে হয় কাজ করছে না।
এবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। লিংকঃ
https://grontho.net/বাঙলার-সূফী-সাহিত্য
অথবা
বাঙলার-সূফী-সাহিত্য

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ধন্যবাদ , এবার লিংকটি কাজ করছে ।
তবে লিংকে গেলে শুধু আহমেদ শরীফ
সংকলিত পুস্তকটির মাত্র ২ পৃষ্ঠা প্রিভিউ
দেখাচ্ছে কোন ডাউন লোড লিংক নাই ।
যাহোক আমি নীচে তুলে দেয়া লিংক
ফলো করে পুরা বইটিটি ডাউনলোড
করে নিয়েছি । লিংক টি নীচে দেখুন।
https://ia902308.us.archive.org/15/items/in.ernet.dli.2015.266374/2015.266374.Banglar-Sufi_text.pdf

৩৯| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আলী ভাই।
আপনার দেয়া আমি লিঙ্ক থেকে পি.ডি.এফ বইখানি পেয়েছি।
আমার লিংকের পেইজের নীচের দিকে পুরো বইটি আমি ভিঊ করতে পারছিলাম। ফ্লোটিং পেইজ হিসাবে দেখা যায়। দিওয়ান ই শামস ই তাবরিজ বইটিও ভিউ করা যায়। কিন্তু ডাউনলোড করা যায় না।
এবার সূফী দর্শনের মূল বইটির পি.ডি.এফ আপনার থেকে পেয়ে, যার পর নাই আনন্দিত ।
এটি যেন আমার টেক্সট বই হিসেবে কাজ দেবে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এসে জানানোর জন্য ধন্যবাদ । বইটি আপনার টেক্সট বই বিসাবে কাজ দিবে
শুনে খুশি হলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

৪০| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১০

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া রাবেয়া বসরী আর রাবেয়া তাপসী তারা তো একই মানুষ তাই না?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



গুরুত্বপুর্ণ একটি প্রশ্ন তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ আপুমনি।আমিউ অনেক লেখায় অনেক সময় দেখতে পেয়েছি
অনেক ঝাযগাতেই না দুটি এভাবেই আসে, কারণ নাম ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার মিল থাকার কারণে বিষয়টি
সহজেই গুলিয়ে যায়। তাই তোমার প্রেক্ষিতে ধীরে-ধীরে পরিষ্কারভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক।

রাবিয়া বসরী একজন ঐতিহাসিক সুফি সাধিকা। রাবিয়া বসরী ( রাবিয়া আল বসরী) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে
অত্যন্ত বিখ্যাত একজন নারী সুফি সাধিকা।তিনি অষ্টম শতাব্দীতে ইরাকের Basra শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
ইসলামী তাসাউফ বা সুফিবাদের ইতিহাসে তিনি ইলাহি প্রেম (Divine Love) এর প্রধান প্রচারকদের একজন।
তাঁর শিক্ষার মূল কথা ছিল আল্লাহকে ভয় বা জান্নাতের লোভে নয়, শুধু ভালোবাসার জন্য ভালোবাসা।

অনেক বিখ্যাত সাধক ও আলেম তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদা স্বীকার করেছেন, যেমন প্রখ্যাত তাবেঈ
হাসান আল বসরী । অর্থাৎ তিনি একজন বাস্তব ঐতিহাসিক ব্যক্তি , ইসলামী আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে
সুপ্রতিষ্ঠিত নাম পক্ষান্তরে রাবিয়া তাপসী একটি আধ্যাত্মিক বা সাহিত্যিক পরিচয়।রাবিয়া তাপসী
সাধারণত কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তির নির্দিষ্ট নাম নয়।

বাংলা সাহিত্য, বক্তৃতা বা আধ্যাত্মিক আলোচনায় এই নামটি ব্যবহৃত হয় মুলত একজন নারী সাধিকা বা
ত্যাগী সন্ন্যাসিনী-সদৃশ চরিত্র বোঝাতে ,তপস্যা, সংযম ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে, কখনও কাব্যিক বা রূপক
চরিত্র হিসেবে।এখানে তাপসী শব্দের অর্থই হলো তপস্যাকারিণী বা সাধনায় নিমগ্ন নারী।অর্থাৎ এটি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রূপক বা সাহিত্যিক পরিচয়, নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ব্যক্তি নয়।

এখন প্রশ্ন হল তাহলে কনফিউশন কেন হয়?কারণ তিনটি ১)দুই নামেই রাবিয়া আছে,২) দুজনকেই
আধ্যাত্মিক নারী সাধিকা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়,৩)অনেক লেখক রাবিয়া বসরীর জীবন থেকে
অনুপ্রাণিত হয়ে রাবিয়া তাপসী ধরনের প্রতীকী চরিত্র ব্যবহার করেন, ফলে অনেক পাঠক মনে
করেন তারা একই ব্যক্তি।

পকৃত সহজ তুলনা হলো পরিচয় হিসাবে রাবেয়া বসরী হলেন ঐতিহাসিক সুফি সাধিকা পক্ষান্তরে
রাবেয়া তাপসী হল সাহিত্যিক/রূপক সাধিকা।
সময়কাল ধরলে রাবিয়া আল বসরী ৮ম শতাব্দী অপর দিকে রাবিয়া তাপসির সময়কাল নির্দিষ্ট নয়।
বাস্তব ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করলে রাবিয়া বসরী একটি বাস্তব চরিত্র/ব্যক্তি অপরদিকে
রাবিয়া তাপসী সাধারণত না।
ব্যবহার হিসাবে দেখলে রাবিয়া বসরী ইসলামী ইতিহাস ও তাসাউফ এ ব্যবহৃত, অপরদিকে
রাবিয়া তাপসীর ব্যাবহার মুলত সাহিত্য, কাব্য, ও আধ্যাত্মিক রূপকে ।

সংক্ষেপে উত্তর হল না, রাবিয়া বসরী আর রাবিয়া তাপসী একই মানুষ নন।
রাবিয়া বসরী ইতিহাসের বাস্তব সুফি সাধিকা। রাবিয়া তাপসী মূলত প্রতীকী
বা সাহিত্যিক আধ্যাত্মিক চরিত্র।

আশা করি এবার বিষয়টি তোমার কাছে পরিস্কার ভাবে অনুভুত হবে ।

শুভেচ্ছা রইল

৪১| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০২

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
নাহমাদুহু ওয়া নুসল্লি আলা রসূলিহিল কারীম

আপনার জন্য উপহারসরূপ সেরগুলো লিখেছি,ভালো না লাগলে ডিলেট করে দিয়েন এম আলী ভাই,

بشنو از نی چون حکایت می‌کند
از جدایی‌ها شکایت می‌کند
কান পেতে শুনো বাশি কি অবস্তা শুনায়,
বাশি বিচ্ছেদের করুন কাহিনি শুনায়,

প্রিয় এম এ আলী ভাই,আপনার জন্য উপহার সরুপ নিচের শেরগুলো লিখেছি,


আপনার দিকে দৌড়াই শুধু একটি আশায়,
হয়ত আপনার রহস্য একদিন জানতে পারব।
এই কঠিন জ্বালে নিজেেকে জড়াই,
কামনা একটাই,যদি আমিও পেয়ে যাই।

হৃদয়কে অন্য কোথাও যেতে দেইনা,
শুধু আপনার কাছে কাছে রাখি,
আপনি ছাড়া কাউকে মনে রাখিনা,
শুধু আপনার দিকেই চেয়ে থাকি।

আপনার স্মরন এক চমৎকার বাগান,
এখানে কোনো পাখী যদি উড়ে আসে,
হৃদয়ে সে পায় এক প্রশান্তির আছান,
সবকিছু ভুলে সে হাকিকি ইশকে ভাসে।

আপনার স্মরনে,আমার হৃদয় বাগানে,
ফুল ফুটে,ফল ফলে,পাখী গায় গান,
সবকিছু চেয়ে থাকে,হৃদয়ের নূর পানে,
নূরের তাছিরে জ্বলে পবিত্র হয় প্রান।

আমার হৃদয়ের পাত্র ভরে দাও শরাবে,
যেন আমার হৃদয়,আরো এগিয়ে যায়।
বাহিরে নয় আমি ভ্রমন করি ভিতরে,
এই ভ্রমনে আমার মন ক্লান্ত নাহি হয়।

আমি চেয়েছি সেই ভালোবাসা গভীরে,
যাতে আমার অন্তর সজীবতা ফিরে পায়।
তার স্মরন জারি হয়ে যাবে পৃথিবী জুরে,
যদি তার রহমত ভরা নয়ন এদিকে তাকায়।

যেদিন থেকে চেয়েছে,আপনাকে আমার অন্তর,
সেদিন থেকে আগুন লেগেছে শয়তানের শরীরে,
জানিনা কবে এই রাত, চলে গিয়ে আসিবে ভোর,
কবে প্রবেশ করবে আমার রুহ সাগরের গভীরে।


হৃদয়ে নামুক অমাবস্য অথবা পূর্নিমা,
সেদিকে আমার মনোযোগ আমি রাখিনা,
আমার মনোসংযোগ নূরপানে থাকে সদা,
আপনি ছাড়া আমি কাউকে ভালোবাসিনা।


আপনার ভালোবাসা থেকে দামি কিছু নাই,
পুরো ধরিত্রীকে আমি মৃত জ্ঞান করি,
আমার হৃদয়ে,শুধু আমি আপনাকেই চাই।
অন্যকিছু হৃদয়ে আসে কিনা ভয় করি।

আমি সত্য বলে আপনি সত্য নয়,
বরং আপনি সত্য বলেই আমি সত্য।
আপনি ব্যাতিত সবকিছুই মিথ্যা,
আপনার অস্তিত্ব ব্যাতিত অস্তিত্ব নেই।

যেদিকেই তাকাই,শুধু আপনাকেই দেখি,
আমার চোখের মধ্যেও দেখি আপনাকেই।
আমার চোখ আপনি ছাড়া কাউকে দেখেনা,
আমার হৃদয় আপনি ছাড়া,কল্পনা করেনা।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



উপহার কৃত সুন্দর শের পাঠের কালে মন ডুবে যায় ভাবের গভীরে
জবাব কি হতে পারে ভাবছি যখন , মনে বাজে নিরব কৃতজ্ঞতার গান।

আমি জানি শেরের আপনার হলো সেই আপনার যারপানে সকলেই ধায়
তবু এটা ধরে নিয়েই ভাবছি প্রতি উত্তর একটি দিতে হবে নিজ ভাবনায়
তাই ভাই আপনার থেকে তুমিতে নেমে এলাম তা না হলে কবিতা জমেনা
বারা বারি মনে হলে ভালবেসে করবেন ক্ষমা এটাইতো মুল সুফি সাধনা।

তোমার শের এর শব্দ এসে নীরবে ছুয়েছে
আমি তো ছিলাম শুধু পথের পথিক
তুমি তাকে বানালে আলোর ঠিকানা
ভালোবাসার ভাষায় লিখলে অনন্ত সঙ্গীত।

আমিওতো সেই রহস্যের পানেই তাকাই
রহস্য সে তো প্রশ্নেরই আরেক নাম
তোমার হৃদয়ের দরজায় যে আলো জ্বলে
সেই আলোই জ্বলুক আমারো হৃদয় মূলে।

তুমি যে দৌড়াও তাহার দিকের টানে
জানো আমিও চলি সেই উৎসের পানে
যেখানে সব নাম হারিয়ে যায় নীরবে
শুধু প্রেম থাকে এক অদৃশ্য টানে।

তোমার হৃদয় কথা বলে যে বাগানের
আমিও হতে চাই পাখী সে্ই খানের
ফুল ফোটায় যে করুণার মৃদু সমিরন
তারই দয়ায় অন্তর জেগে ওঠে যেন।

যে নূরের কথা লিখেছো ভালোবেসে
সে নূর কারও একার নয় কখনো
যার হৃদয় ভাঙে বিনয়ের স্পর্শে
আলো নেমে আসে তার ঘরেও নীরবে।

তাই চল সেই উৎসকেই ডাকি
যেখান থেকে প্রেমের নদী বয়
আমরা সবাই শুধু তৃষ্ণার যাত্রী
শুধু পেয়ালাটা হাতে ধরে রয়।

তোমার এই উপহার রাখলাম হৃদয়ে
শব্দ নয় মুল্যবান দোয়ার মতো করে
যেন আমাদের পথ আলাদা হলেও
গন্তব্য মিলে যায় এক নূরের সাগরে।

শুভেচ্ছা রইল

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



হৃদয়ে নামুক অমাবস্য অথবা পূর্নিমা,
সেদিকে আমার মনোযোগ আমি রাখিনা,
আমার মনোসংযোগ নূরপানে থাকে সদা,
আপনি ছাড়া আমি কাউকে ভালোবাসিনা


উপরে লেখা আপনার শেরটিকে করলাম আমি সম্প্রসারণ
এ নয় আমার কথা, এযে মনমাঝে জন্ম নেয়া তাঁরই ভাষন।

হৃদয়ে নামুক অমাবস্যা কিংবা পূর্ণিমার আলো
চাঁদের ক্ষয়-বৃদ্ধিতে আমার পথ থামে না কোনোকালো
সময় তার নিজস্ব ছন্দে বদলায় রূপ প্রতিক্ষণ
আমার দৃষ্টি থাকে শুধু এক অনন্তের পানে গমন।

দিনের রৌদ্র, রাতের ছায়া
সবই তো ক্ষণিকের খেলা
আমি খুঁজি সেই আলোকে
যার নেই অস্ত, নেই অবসানবেলা।

ঝড় এলে হৃদয় কাঁপে না আর
নিঃসঙ্গতাও ভয় দেখায় না
কারণ অন্তরের গভীর মসজিদে
নীরব জিকির থামে না।

অমাবস্যা এলে পৃথিবী ঢাকে আঁধারের চাদর
পূর্ণিমা এলে ভেসে ওঠে রূপের সমুদ্র
কিন্তু আমার অন্তর জানে
চাঁদের আলোও ধার করা নূর।

তাই বাহিরের সৌন্দর্যে মন রাখি না বেশি
যে সৌন্দর্য ক্ষয়ে যায় সময়ের স্পর্শে এসে
আমার মনোসংযোগ থাকে সেই উৎসের দিকে
যেখান থেকে প্রেম ঝরে অবিরাম নিশ্বাসে।

আল্লাহ ছাড়া ভালোবাসা আর কাহারে বলি?
সব প্রেম তো তাঁরই ছায়া, তাঁরই রঙে দুলি
মানুষ আসে, মানুষ যায়
নূরের স্রোত কখনো ফুরায় না তবু।

আমি প্রেম চাই না নামের জন্য
চাই না কোনো স্বীকৃতির ভাষা
শুধু চাই অন্তরের দরজা খুলে
তাঁর রহমতের বাতাসে ভাসা।

যেদিন “আমি” শব্দটি নীরব হবে সম্পূর্ণ
সেদিন বুঝি হৃদয় হবে সত্যে পরিপূর্ণ
তখন অমাবস্যা আর পূর্ণিমা এক হয়ে যাবে
নূরের সাগরে ডুবে থাকবে জীবন অনন্ত।

শুভকামনা রইল

৪২| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৭

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আমি সত্য বলে আপনি সত্য নয়,
বরং আপনি সত্য বলেই আমি সত্য

এই শেরটার ব্যাখা করার প্রয়োজন,
এর অর্থ হলো,তার অস্থিত্বের কারনেই আমরা আছি,এমন নয় যে আমরা আছি বলে তিনি আছেন,বরং তিনি আমাদের আগে থেকেই আছেন

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার ব্যখ্যায় এর মুল ভাবখানি বুঝিলাম
সে ভাবনাতেই লেখা কবিতাটি এখানে দিলাম।

আমি সত্য নই, তোমার সত্যে জাগে মোর পরিচয়
নিশীথের নীরবতায় তোমার নূরে ভরা হৃদয় ময়।

আমি ছিলাম পথহারা ধূলি, দিশাহীন এক শ্বাস
তোমার দৃষ্টির করুণায় পেলাম অস্তিত্বের বিশ্বাস।

নিজেকে যত খুঁজেছি, ততই দূরে আমি যেন রয়
তোমায় হারিয়ে বুঝেছি হারানোতেই অন্তর জয়।

চাঁদের মতো আমার সত্তা কোনো নিজ আলো নয়
তোমার প্রেমের সূর্য উঠলে জ্বলে ওঠে প্রাণময়।

আমি শব্দটি পর্দা শুধু, আলাদা থাকার ভ্রম
তোমার নামে ডুবে গেলে মুছে যায় সব সংশয়।

তুমি সত্য বলেই আজ আমার সত্য হওয়া
ফোঁটা যেমন সাগর পেলে পায় অনন্ত পরিচয়।

দরবেশ হৃদয় আজ নীরব, ভাষা সব থেমে যায়
তোমার স্মরণই জিকির হয়ে বাজে নিরন্তর ময়।

শেষে বুঝি আমি নই কিছু, তুমিও নও আলাদা
একই প্রেমের নিঃশ্বাসে সৃষ্টি পায় নব পরিচয়।

শুভ কামনা রইল

৪৩| ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫৪

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: প্রিয় এশআলী ভাই,এই কাহিনিটা আমার ব্লগে পর্ব আকারে পোস্ট করবো,এখান থেকে ডিলেট করে দেন,আমার ব্লগে গিয়ে পাঠের আমন্ত্রন রইলো


০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মুছে দিয়েছি । পোষ্ট করে জানান দিয়ে যাবেন ,গিয়ে দেখে আমব ইনশাআল্লাহ ।

৪৪| ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৫১

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: 8-|

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

আপনার খুশিতে আমিউ খুশী :)

৪৫| ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৪

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ভাই।আপনার নতুন পোস্টের অপেক্ষায় আছি।আউলিয়াদেরকে নিয়ে নতুন পোস্ট দিন।আরো যাতে আলোচনা করতে পারি।এসব পোস্ট এবং আলোচনার দ্বারা অন্তর ঠান্ডা হয়।

৪৬| ২০ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:০২

আলামিন১০৪ বলেছেন: সবটা পড়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু ধৈর্যচ্যুতি ঘটল। মিরাজের রাতে রাসুল (সঃ) কে দূধ, মদ ও মধুর পেয়ালা দেয়া হয়েছিল আর তিনি দূধকেই বেছে নিয়েছিলেন। এর অর্থ ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক ফিতরাতের উপর প্রতিষ্ঠিত। এর ব্যত্যয় হলে গোমরাহীতে লিপ্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। উদাহরণস্বরূপ পীরপুজা আর ফানাফিল্লাহ।

আল্লাহ যে বিষয়ের জ্ঞান আমাদের দেন নাই সে বিষয়ে অনুসন্ধান করলে শয়তানের খননকৃত কুপে পতিত হওয়ার আশঙ্কা ঠিক যেমনটি আদম (আঃ) কে শয়তান বিভ্রান্ত করেছিল এই বলে যে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খেলে অমর হওয়া যাবে (দুনিয়াতে আর যেতে হবে না)।

৪৭| ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সব পাঠ সকলের জন্য নয় ,লেখা দেখলে পড়তেই হবে এমনটিও নয় ।
যে টুকু পাঠ করেছেন তাতেই আমি ধন্য ।

মানুষের জ্ঞান একমাত্র আল্লাতায়ালার অনুগ্রহ ও ইচ্ছাতেই আসে ।
আল্লা যে বিষয়ে জ্ঞান দেন নাই সে বিষয়ে কোন কথাই কেও বলতে পারেনা।

সুফী সাধনায় পীর পুজা নাই,পীর পুজা আছে ভন্ডদের মাঝে।
শরীয়ত চর্চা কারীদের মধ্যেও প্রচুর ভন্ড আছে , তা না হলে
ইসলামে এত এত ভিন্ন ভিন্ন দল ও সংগঠন থাকতনা , সকল
শরিয়ত পন্থি মুসলমানদের একটিমাত্র দলই থাকত !!!!
ইসলাম নিয়ে, কেও অমুক ইসলাম কেও তমুক ইসলাম বলতনা ।
আর এখানে কোন ভন্ড সুফী সাধক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না ।
জ্ঞান চক্ষু একবার খোলে গেলে সত্য মিথ্যার পার্থক্য ধরা যায় ।

ফানাফিল্লাহ সুফি সাধনার শেষ স্তর নয়,এর পরে আছে বাকা বিল্লাহ ,
সে স্তরে গিয়ে সূফি সাধক শরিয়তি বিধি বিধান আরো দৃঢ়তার সাথে
পালন করেন । আরবের বাইরে ইসলামের প্রচার প্রসার হয়েছে
সুফি সাধকদের হাত ধরে,এ সব জানার জন্য ইতিহাস পাঠ প্রয়োজন।

৪৮| ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:১০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ফানাফিল্লাহর কথা কুরআন হাদীসেই আছে।গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখতে পাবেন।

"কুল্লুমান আলাইহা ফান,ওয়া ইয়াব-ক্ব রব্বুকা যুল যালালী ওয়াল ইকরাম।" (আর-রহমান)
হাদীসে আছে,আমি তার হাত হয়ে যাই যা দ্বারা সে ধরে,কান হয়ে যাই যা দ্বারা সে শোনে,পা হয়ে যাই,যা দ্বারা সে চলাফেরা করে।(হাদীস থেকে)
সুতরাং ফানাফিল্লাহকে যারা অস্বীকার করে,তারা মুর্খতার কারনে করে।
তবে ফানাফিল্লাহ মানে এটা নয় যে সৃষ্টিজগত আর আল্লাহ এক হয়ে যান।খবরদার,এই ধারনা কুফরী এবং শিরক।তাহলে ফানা বিল্লাহ কি।
এটা মূলত একপ্রকার নিয়ন্ত্রনহীন অবস্তা, এই বিষয়ের আলোচনা এক মহা সাগর।এটা আলোচনার বিষয়না,এটা অবস্তা বা হালের বিষয়।আলামিন ১০৪@ কে উদ্দেশ্য করে বললাম

৪৯| ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:১২

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ওয়া ইয়াব ক্ব ওয়াজহু, হবে

৫০| ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: নবীজিকে (স.)আল্লাহ তায়ালা বলেন,আপনি যখন তীর নিক্ষেপ করলেন,সেটা আপনি নয়(আপনার হাত দিয়ে)আল্লাহ নিক্ষেপ করেছিলেন।
এটা কি ফানাফিল্লাহ নয়?এটার কি ব্যাখা করবেন?ভাই আলামিন@

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.