নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

ক্লোন রাফা

আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

ক্লোন রাফা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন এত জটিল, সেটা দুই দিক থেকে দেখা যায়:

রিকন্সিলিয়েশন বা ক্ষমা-সমঝোতার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়:
দেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে স্থিতিশীলতা আনা
দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশনের মতো মডেল - যেখানে সত্য স্বীকারের বিনিময়ে ক্ষমা
সব পক্ষকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাখলে সহিংসতা কমে, অর্থনীতি সচল থাকে
এই মতের অনুসারীরা বলেন, বিচার ও রিকন্সিলিয়েশন একসাথে চলতে পারে

প্রথম দাবির পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, সম্পদ ধ্বংস - এগুলো সাধারণ রাজনৈতিক অপরাধ নয়, এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ
ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার না দিয়ে সমঝোতা করলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়
স্বাধীনতার মূলনীতি - জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা - যারা অস্বীকার করে, তাদের রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী
অনেকের মতে, আগে সত্য উদঘাটন, ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের বিচার, তার পরেই সমাজে পুনর্মিলনের প্রশ্ন আসতে পারে

বাংলাদেশের আইনগত বাস্তবতা:
সংবিধানে যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধিতার বিচারের বিধান আছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার হয়েছে
রাজনৈতিক অধিকার নিষিদ্ধ করার মতো বিধান করতে হলে সেটা সংবিধান, আইন ও আদালতের পরীক্ষায় টিকতে হয় - এটা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হয় না

যে "মেহনতি মানুষের উপর অত্যাচারের বিচার" এর কথা বলছেন, বাংলাদেশের বিচার-আন্দোলনের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে জোরালো দাবি হিসেবে থেকেছে - বিচার ছাড়া রিকন্সিলিয়েশন টেকসই হয় না।
আপনার অবস্থান থেকে লেখাটি তৈরি করে দিলাম:

---

রিকন্সিলিয়েশন, ইন্ডেমনিটির আরেকটি রূপ মাত্র।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যেমন ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে খুনিদের বিচার বন্ধ করা হয়েছিল, আজ বিচার না করে রিকন্সিলিয়েশনের নামে একই কাজ করার চেষ্টা চলছে। নাম পাল্টেছে, চেতনা একই - অপরাধীদের বাঁচাও।

আমি মনে করি, বিচার ছাড়া রিকন্সিলিয়েশন একটি প্রতারণা।

বাংলাদেশের মাটিতে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যে মা-বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে, যে মেহনতি মানুষের রক্তে রাজপথ ভেসেছে - তার বিচার না করে কিসের সমঝোতা?

যারা এই বাংলার স্বাধীনতাই মানেনি, যারা পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করেছে, যারা আজও স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করে, তাদের আবার রাজনৈতিক অধিকার কিসের? স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। এই বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করা অপরিহার্য এবং সময়ের দাবি।

ইন্ডেমনিটি যেমন বাঙালি মেনে নেয়নি, রিকন্সিলিয়েশনের নামে এই নতুন ইন্ডেমনিটিও বাঙালি মেনে নেবে না।

আগে বিচার, আগে সত্যের স্বীকারোক্তি, আগে ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা - তারপর অন্য কথা। বিচারহীন রিকন্সিলিয়েশন মানে শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


রিকন্সিলিয়েশন বা পুনর্মিলন কথাটি শুনতে যতই সুন্দর হোক, এর সাফল্য নির্ভর করে—কোন ভিত্তির ওপর এই সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তার ওপর। অপরাধের সত্য উদঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে যদি শুধু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সমঝোতার কথা বলা হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত পুনর্মিলন না হয়ে বরং বিচারহীনতারই নতুন নাম হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা প্রয়োজন, বিচার ও প্রতিশোধ এক জিনিস নয়। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত অপরাধের দায় নির্ধারণ, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। রাজনৈতিক মতভেদকে অপরাধের সঙ্গে একাকার না করে প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট দায় ও ভূমিকা প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের পথ।

আমার কাছে তাই প্রকৃত রিকন্সিলিয়েশনের সূত্র হতে পারে—সত্য → ন্যায়বিচার → দায় স্বীকার → ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ → তারপর জাতীয় পুনর্মিলন। সত্যকে চাপা দিয়ে যে ঐক্য তৈরি হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না; কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে যে ঐক্য গড়ে ওঠে, সেটিই পারে একটি জাতিকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে।

লেখকের প্রশ্নটি তাই গুরুত্বপূর্ণ—“কিসের রিকন্সিলিয়েশন?” আমার সংযোজন শুধু এটুকু: রিকন্সিলিয়েশন চাই, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের সঙ্গে আপস করে নয়।

২| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: রিকন্সিলিয়েশন কি
কেন এর উদ্ভব হলো ?
কিভাবে এর সমাধান হবে ??

...............................................................................
এর সমাধানের জন্য আমাদের মন ও মানসিকতা তৈরী আছে ?
আমাদের জাতিগত মান উন্নয়ন দরকার
৫৫ বৎসরেও জাতি এক লক্ষ্যে আসতে পারে নাই ,
পৃথিবীর মাঝে আমরা একটি অভাগা জাতি, কেউ আমাদের ভাগ্য গড়ে দেবে না,
এই বিষয়টি আমরা যত দ্রুত বুঝতে পারব, ততই আমাদের জীবন সহজতর হবে ।

৩| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৭

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ৫ ই আগস্ট ২৪ এর আগে মানুষ জানতো যে দেশে কেবল বিহারী পাকিস্তানি আছে।

৫ ই আগস্ট ২৪ এর পর মানুষ নিশ্চিত হলো যে দেশে কেবল বিহারী পাকিস্তানি আছে শুধু তাই না, বাঙ্গালী পাকিস্তানিও আছে।

এরা হলো বাঙ্গালী পাকিস্তানি। বাং/লাদেশের ব্যাপারে এদের ঈমান আকিদার ঠিক নাই।

১. এদের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব বাতিল করা হোক।

২. এদের অবিলম্বে অ-বাংলাদেশী ঘোষণা করে এদের যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি, “শত্রু সম্পত্তি” হিসেবে চিহ্নিত করা হোক।

৩. তারপর সেসব “শত্রু সম্পত্তি জব্দ” করে, এদের কৃতকর্মের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া মানুষদের মাঝে তা পুনর্বণ্টন করা হোক।

৪. আর এদেরকে “জেনেভা ক্যাম্পের” মতো অথবা “সাধারণ জনসমাজ হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন” কোন এক প্রান্তরে রাখার সুবন্দবস্ত করা হোক।

এটা করা বাঙ্গালী বাংলাদেশীদের জন্য ফরজ। ৫৫ বছর ধরে চলমান, আমাদের এই “বাঙ্গালী পাকিস্তানি” বিষয়ক problem এর এটাই final solution.

আমাদের এটা উপলব্ধী করতে হবে যে আমরা এমন শয়তানদের সাথে পাল্লা দিতে যাচ্ছি যারা খোদ ধর্ম নিয়ে শয়তানি করে। ধর্মটাই তাদের শয়তানি করার উপকরণ।

আইন তো সভ্য মানুষের জন্য। এরা কি সভ্য মানুষের পর্যায়ে পড়ে? এদের সাথে সভ্য আচরন করা বা সুশীলতা ফলানোর মানে, নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার ব্যবস্থা করা। এরকম ভুল বার বার করা যায় না।

উপরোল্লিখিত ৪ টি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত (কোন ব্যাতিক্রম ছাড়াই) করে তারপর লীগ চিন্তা করে দেখতে পারে যে রিকন্সিলিয়েশন হবে কি হবে না।

৪| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



রিকন্সিলিয়েশন যদি সত্যকে চাপা দেওয়ার কৌশল হয়, আমি তার বিরোধিতা করব; কিন্তু যদি সত্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তির ওপর সামাজিক বিভাজন কমানোর প্রক্রিয়া হয়, তাহলে সেটিকে আলোচনার বাইরে রাখাও ঠিক হবে না।

৫| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: Bank Reconciliation শব্দটা শুনেছিলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.