নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ\" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

মহিউদ্দিন হায়দার

শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

মহিউদ্দিন হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

আদর্শের মুখোশ, নাকি অনলাইন প্রোপাগান্ডা: \'ন্যায়পরায়ণ\' সাজার আড়ালে আসল রূপ কোনটা?

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২২



ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বানানোর চেষ্টা—আমাদের সমাজকে আসলে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে আমরা রাজনীতির ময়দানে এবং তথাকথিত ‘নৈতিকতার ঝাণ্ডাধারী’ কিছু নেতার চরম দ্বিমুখিতা দেখতে পাচ্ছি। মুখে যারা ধর্মের বাণী, ইনসাফ আর ন্যায়বিচারের কথা বলেন, তাদের অনেকের আসল রূপ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হচ্ছে।
ভাবছেন ঘটনার গভীরতা কতটা? কয়েকটা বাস্তব উদাহরণ দেখুন:
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক জামায়াত এমপির বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের পর শুরুতেই দাবি করা হলো ওটা নাকি ‘এআই (AI) প্রযুক্তির কারসাজি’! পরে আবার চালানো হলো ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র গল্প। কিন্তু জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে বহিষ্কার করেই দল দায় সারলো।
ছাত্রশিবির নেতার ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলা: কুমিল্লায় জিসান মিয়া প্রধান নামের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পরেই কেবল দল থেকে অব্যাহতির নাটক সাজানো হলো।
কওমি মাদ্রাসার বলাৎকার ও রিসোর্ট কাণ্ড: শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, কওমি মাদ্রাসার শিশুদের বলাৎকার থেকে শুরু করে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ড—সবখানেই একই চিত্র। নলছিটিতে ছাত্রের মাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাগুলোতেও শুরুতে নিজেকে নির্দোষ ও সাধু প্রমাণের চেষ্টা, আর শেষমেশ ধরা পড়ে গেলে ক্ষমা কিংবা বহিষ্কারের আশ্রয়!
অনলাইনে নতুন কসরত: বট বাহিনী ও 'সেলিব্রিটি' দিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল
এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর এখন জামায়াত-শিবির ও সমমনা গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে নতুন এক নাটক শুরু করেছে। দলকে জনগণের কাছে আবার 'স্বাভাবিক' ও 'ইনসাফকায়েমকারী' হিসেবে তুলে ধরতে সুসংগঠিত অনলাইন কসরত দেখা যাচ্ছে:
১. বট বাহিনীর দৌরাত্ম্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত ফেক আইডি ও ট্রোল বট নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের কাজই হলো মূল আলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া এবং অপরাধীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া।
২. স্বার্থান্বেষী ইনফ্লুয়েন্সার ও সেলিব্রিটি: দেশ-বিদেশে থাকা কিছু সুবিধাভোগী অনলাইন সেলিব্রিটি ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে দিয়ে হঠাৎ করেই "দোষীর কঠোর সাজা চাই" বলে পোস্ট করানো হচ্ছে।
৩. ধোঁয়াশা তৈরি করে সাধু সাজা: বাহ্যিকভাবে তারা অপরাধীর সাজা দাবি করছে, কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য—অপরাধীকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বানিয়ে পুরো দলকে ‘অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও কঠোর নীতিবান’ দল হিসেবে প্রচার করা! অর্থাৎ, চরম অপরাধের মাঝেও নিজেদের দলের মার্কেটিং করা!
এই 'বর্ণচোরা' নীতি ও দ্বিমুখিতা আসলে কী নির্দেশ করে?
প্রথমেই অস্বীকার ও ধামাচাপা: কোনো অনৈতিক কাজ ফাঁস হলেই প্রথম কাজ হয় সেটাকে 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' বা 'ডিজিটাল এডিটিং' বলে উড়িয়ে দেওয়া।
দায় এড়ানোর সহজ পথ: যখন আর কোনো উপায় থাকে না, তখন হুট করে অভিযুক্তকে ‘বহিষ্কার’ করে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়—যেন দল একদম ধোঁয়া তুলসী পাতা!
কথায় আদর্শ, কাজে অবক্ষয়: জনসম্মহরে যারা কঠোর অনুশাসন আর ধর্মীয় মূল্যবোধের বয়ান দেন, তাদের দলের ভেতরে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় যখন একের পর এক এ ধরনের অপরাধ ঘটে, তখন সেটা কেবল এক ব্যক্তির ব্যর্থতা থাকে না—পুরো রাজনৈতিক কাঠামোর ভণ্ডামি উন্মোচিত করে।
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সরল আবেগ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা আর কত দিন? কেবল অনলাইন প্রোপাগান্ডা চালিয়ে কিংবা তড়িঘড়ি বহিষ্কারের নাটক করে এই প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও দ্বিমুখিতা ঢাকা সম্ভব নয়।
আপনার মতামত কী?
অনলাইন বট বাহিনী আর সেলিব্রিটিদের দিয়ে ‘ন্যায়পরায়ণ’ সাজলেই কি তাদের এই নৈতিক অবক্ষয় ঢাকা সম্ভব? অপরাধীর সুবিচারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভণ্ডামির জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? কমেন্টে আপনার সৎ মতামত জানান!

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আজকে ফোকাস কোচিং এর ভেতর আরেকটা নিয়ে ধরা খাইছে । তিন বারের এমপি তিনি । :-B

২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০৩

মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: একদম সঠিক পয়েন্ট তুলে ধরেছেন! সাতক্ষীরা-৪ আসনের ৩ বারের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ফোকাস কোচিং সেন্টারের একটি কক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা অবস্থায় সরাসরি স্থানীয়দের হাতে আটক হন। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরুতে দল থেকে ‘এআই (AI) প্রযুক্তির কারসাজি’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আপনার তথ্যটি এই দলের ছদ্মবেশী নৈতিকতা ও ভণ্ডামির ওপর আরেকবার স্পষ্ট আলো ফেললো

২| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অপরাধীর সুবিচারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর এই
ভণ্ডামির জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?

..........................................................................................
দেশ যতদিন সঠিক ট্রাকে না আসবে,
আমাদের মুনাফেকী তওবা না হবে
এই রকম ঘটনা চলতেই থাকবে ।
............................................................................................
সৌদি আরব, মিশরের মত মুতা বিয়ে চালু করলেই সব ল্যাঠা চুকে যায় ।

২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫

মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: সহমত। ব্যক্তি সংশোধনের বদলে যখন সাময়িক ক্ষমা বা বহিষ্কারের মতো ‘মুনাফেকী তওবা’ দিয়ে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করা হয়, তখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি কেবল স্থায়ীই হয়। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও কঠোর সামাজিক বয়কট নিশ্চিত না হলে—কোনো দলই এমন প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি থেকে বেরিয়ে আসবে না। কারণ, গোড়ায় গলদ রেখে কখনোই জাতীয় সংস্কার সম্ভব নয়!

৩| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০১

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
ধর্মীয় সকল রাজনৈতিক দলের নাম থেকে ইসলাম শব্দটি উঠিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বহু বিবাহ, বদর যুদ্ধের সাথে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি তাত্ত্বিক সম্পর্ক আছে। আল বদর, আল শামস, হোটেলে ধরা খেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী এর মতো ঘৃন্য কাজে এইসব নাম ব্যবহার ধর্মকে কলুষিত করা হচ্ছে।

২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: একদম যথার্থ বলেছেন! সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ইসলামের মূল চেতনা যেখানে ইনসাফ, সততা ও নৈতিকতা—সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ স্বার্থে 'ইসলাম' শব্দটিকে কেবলই রাজনৈতিক ঢাল ও অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। পবিত্র ধর্মীয় ইতিহাস, পরিভাষা কিংবা ঐতিহ্যকে ব্যক্তিগত অবক্ষয়, বহুবিবাহের নামে প্রতারণা বা ক্ষমতার লোভ চরিতার্থে ব্যবহার করার অধিকার কারও নেই। এদের এই অব্যাহত দ্বিমুখিতা ও ভণ্ডামির কারণে সাধারণ মানুষের মনে যেমন বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তেমনি মহান ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তিও প্রতিনিয়ত ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

৪| ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: জামায়াত কি আল্লাহর মনোনীত দল?

আল্লাহর কি এই সম্পর্কিত ওহি আছে?

কোরআন আর সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামই মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট। যারা এই কোরআন আর সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামকে যথেষ্ট মনে করে না, তারাই মওদুদীর সিলেবাসের বই পত্র পড়ে নিজেকে “জামায়াতের ইসলামের (জামায়াতি ইসলাম না)” অনুসারী করে তোলে।

মুসলিম হওয়ার জন্য জামায়াতিদের মতো আহলে মওদুদী হওয়া জরুরি না।

সাধারণ মানুষের অনেক বড় পাপ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন কিন্তু আল্লাহ তার মনোনীত নবী রাসূলদের ছোট ভুল উপেক্ষা করেন না।

ইসলামে ভুল বলে কিছু নেই, এতে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু ইসলামের অনুসারী মুসলিমরা ভুল করতেই পারে।

তেমনি জামায়াতের সাথে ইসলাম শব্দটি যেহেতু যুক্ত, তাই এই দল বা দলের অনুসারী কোন প্রকার ভুল করতে পারে না। যদি দলটার নামের সাথে মুসলিম শব্দ যুক্ত থাকতো তবে এটুকু বুঝ দেয়া যেতো যে মুসলিম ভুল করতেই পারে।

কিন্তু মিশরের muslim brotherhood কে নকল করতে গিয়ে মওদুদী তার দলের নামের সাথে “ইসলাম” জুড়ে দিয়ে দলের বারোটা শুরুতেই বাজিয়ে দিয়েছে।

২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ ভাইয়ের কথার সাথে শতভাগ একমত। জামায়াতকে 'আল্লাহর মনোনীত দল' ভেবে অন্ধ সমর্থন দেওয়া চরম বিভ্রান্তি; কারণ দ্বীন ইসলাম সম্পূর্ণ হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমেই, ১৯৪১ সালে গঠিত কোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নয়। মওদূদী সাহেবের রচিত রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত এই দলটি নামের সাথে ‘ইসলাম’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে নিজেদের ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে প্রমাণের এক মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ তৈরি করেছে, যা সাধারণ মানুষের সরল ঈমানকে রাজনীতিতে ব্যবহারের কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষমাত্রই ভুল করতে পারে, কিন্তু ইসলামের পবিত্র নাম ভাঙিয়ে নিজেদের অপরাধ ঢাকাই তাদের সবচেয়ে বড় দ্বিমুখিতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.