নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে নানা ঘটনার উদাহরণ সামনে আসে। এসব ঘটনার দিকে তাকালে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভাষ্য কি সত্যিই ন্যায় ও গণতন্ত্রের, নাকি শক্তির প্রাধান্যের?

লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এমন বহু ঘটনা আলোচিত। উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপের প্রসঙ্গ প্রায়ই আলোচনায় আসে, যেখানে দেশটির বিপুল তেলসম্পদের ভূমিকাও অনেকে তুলে ধরেন। একইভাবে লিবিয়ার সাবেক নেতা Muammar Gaddafi-এর পতনকে ঘিরেও নানা বিশ্লেষণ রয়েছে—কেউ বলেন এটি আরব বসন্তের ফল, আবার কেউ মনে করেন এর পেছনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও কাজ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আরেক আলোচিত ঘটনা হলো Saddam Hussein- এর পতন। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির ওপর আক্রমণ চালায়। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্রের হুমকি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা; তবে সমালোচকরা মনে করেন, ইরাকের বিপুল তেলসম্পদও এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ছিল।

আফ্রিকার ইতিহাসেও একই ধরনের বিতর্ক দেখা যায়। কঙ্গোর স্বাধীনতা-পরবর্তী নেতা Patrice Lumumba- এর হত্যাকাণ্ড কিংবা ঘানার নেতা Kwame Nkrumah- এর ক্ষমতাচ্যুতি—এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। একইভাবে চিলির প্রেসিডেন্ট Salvador Allende- এর পতনও বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত অধ্যায়, যেখানে শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ইরানের ইতিহাসে Mohammad Mosaddegh- এর ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি দেশের তেলশিল্প জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়ার পর ১৯৫৩ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন- যা আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।

এসব ঘটনার আলোচনায় একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে: আন্তর্জাতিক রাজনীতি কি সত্যিই নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত, নাকি এটি মূলত শক্তি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব? শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই গণতন্ত্র, মানবাধিকার বা নিরাপত্তার ভাষায় নিজেদের নীতি ব্যাখ্যা করে; কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন বাস্তবে অনেক সময় অর্থনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি সম্পদ এবং ভূ-রাজনৈতিক কৌশলই বড় ভূমিকা রাখে।

তবে বাস্তবতা হলো- বিশ্বরাজনীতি সবসময় সরল নয়। এখানে বহু পক্ষ, বহু স্বার্থ এবং জটিল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কাজ করে। ফলে কোনো একটি ঘটনার ব্যাখ্যা একমাত্রিক হওয়া কঠিন। তবুও এসব উদাহরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষ্যে আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে প্রায়ই একটি বড় ফাঁক থেকে যায়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি রয়ে যায় মানুষের মধ্যেই: বিশ্ব রাজনীতির এই দ্বৈততা—আদর্শের ভাষা আর শক্তির বাস্তবতা—মানুষ কতটা বিশ্বাস করে, আর কতটা প্রশ্ন তোলে। সেই প্রশ্নই হয়তো ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পথে এগিয়ে নিতে পারে।(Attn: Admin) ইমেজ আপলোক করতে না পেরে লিংক দিলাম

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:





ঠিকই বলেছেন বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি বহুধ্রুবীয় শক্তির প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন,
রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থে প্রভাব বিস্তার করছে। এই শক্তির
দ্বন্দ্বের কারণে প্রায়ই আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন উপেক্ষিত হয়, যা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর
সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করে। জাতিসংঘ ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি প্ল্যাটফর্ম
হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই একটি সুষম বিশ্ব গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ
প্রয়োগ, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং সব রাষ্ট্রের সমঅধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৯

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

২| ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশের রাজনীতির অবস্থা ভালো না।
তাই আমি বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে চাই না।

১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: সমস্যা নাই, আগে দেশ ঠিক করেন তারপর দেশের বাইরের রাজনীতি নিয়ে বলবেন- তা ঠিক আছে।। কিন্তু ভাইয়্যা আন্তর্জাতিক নীতি ঠিক না হলে দেশও যে টালমাটাল অবস্থা হবে।

৩| ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৯

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: রাজনীতি নীতির রাজা থেকে রাজত্বের নীতি হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ইহুদী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার খায়েশ। রাশিয়ার আরো বড় হবার লোভ। উপমহাদেশে ভারতের অখন্ড প্রতিষ্ঠার সাধনা। আমেরিকার ডাকাতি। এসব বিষয় মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিবে না।

১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: আপনি সঠিক বলেছেন, ধন্যবাদ।

৪| ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:১৭

এইচ তালুকদার বলেছেন: বিশ্ব রাজনীতিতে ন্যায় বলে কিছু নেই। সবই সার্থ আর সুবিধা আদায় করে নেওয়ার খেলা।
যাই হোক, ইন্টেরিমের করা ইউএস বাংলাদেশ ট্রেড এগ্রিমেন্ট নিয়ে একটা পোষ্ট দেন।

১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১৫

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: ইন্টেরিম সরকারের করা ইউএস - বাংলাদেশ ট্রেড এগ্রিমেন্ট: সুযোগ, ঝুঁকি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন !

সম্প্রতি United States ও Bangladesh এর মধ্যে Agreement on Reciprocal Trade (ART) নামে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিটি করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চুক্তির মূল বিষয় কী?
চুক্তির প্রধান লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো এবং বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা।

মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে-
● যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ২০% থেকে কমিয়ে ১৯% করেছে।
● নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক (বিশেষ করে মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করলে) শূন্য শুল্কে রপ্তানি করার সুযোগ থাকবে।
● বাংলাদেশের প্রায় ২,৫০০ পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
● এর বিপরীতে বাংলাদেশ ৭,০০০-এর বেশি মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করছে, যার অনেকগুলো ধীরে ধীরে শুল্কমুক্ত হবে।
● বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য (বিশেষত জ্বালানি) কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়া চুক্তিতে ডিজিটাল ট্রেড, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং পরিবেশ ও শ্রমমান সম্পর্কিত বিভিন্ন শর্তও রয়েছে।

সম্ভাব্য সুবিধা
১. তৈরি পোশাক খাতে কিছু সুবিধা
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় বাজারগুলোর একটি। এই চুক্তির ফলে কিছু পোশাক পণ্যে শুল্ক কমবে বা শূন্য হবে, যা রপ্তানি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
২. বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা
চুক্তিতে প্রযুক্তি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে শিল্পখাত আধুনিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
৩. বাণিজ্য সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়া
এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।

বিতর্ক ও সমালোচনা
এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বেশ কিছু প্রশ্নও উঠেছে।
১. লাভের চেয়ে ছাড় বেশি?
বাংলাদেশ যেখানে মাত্র ১% শুল্ক কমানোর সুবিধা পেয়েছে, সেখানে হাজার হাজার মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলে দেওয়া হয়েছে—এটা কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
২. কৃষি ও স্থানীয় শিল্পের ঝুঁকি
মার্কিন কৃষিপণ্য, দুগ্ধ, গরুর মাংস বা প্রযুক্তিপণ্য বাংলাদেশে সহজে ঢুকতে পারলে স্থানীয় শিল্প ও কৃষকরা প্রতিযোগিতার চাপের মুখে পড়তে পারে।
৩. রাজনৈতিক সময় নিয়ে প্রশ্ন
চুক্তিটি নির্বাচনের ঠিক আগে স্বাক্ষর হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন-একটি অন্তর্বর্তী সরকার এত বড় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক।
৪. পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান-বিশেষ করে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য-নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

শেষ কথা
এই ট্রেড এগ্রিমেন্টকে এক কথায় “সুযোগ ও ঝুঁকির মিশ্রণ” বলা যায়।

যদি বাংলাদেশ দক্ষভাবে শর্তগুলো ব্যবহার করতে পারে, তাহলে রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে। কিন্তু যদি সঠিক প্রস্তুতি না থাকে, তাহলে স্থানীয় শিল্প ও অর্থনীতির ওপর চাপও তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে-
এই চুক্তি কি সত্যিই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে, নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক চাপের ফল?
এই প্রশ্নের উত্তরই ভবিষ্যতে এই চুক্তির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করবে।

৫| ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২০

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.