নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

বাধা বিঘ্ন না পেরিয়ে বড় হয়েছে কে কবে?

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নুসরাত ইস্যু আজ শেষ দিন

১২ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:১০

আর মাত্র চব্বিশ ঘন্টা পর নুসরাত ইস্যু হারিয়ে গিয়ে নতুন করে পহেলা বৈশাখ 'ইস্যু' হয়ে আসবে,
.
লাল নীল হলুদ শাড়ি পাঞ্জাবীতে টাইম লাইন মুখরিত হয়ে যাবে!
.
হেডলাইন থেকে পত্রিকার পাতার কোন এক কোণে নুসরাত হারিয়ে যাবে
.
এভাবে বহু নুসরাতরা টাইম লাইন থেকে হারিয়ে গেছে! যাবে! যাচ্ছে!
.
ধরে নিলাম, টাইমলাইনে, নুসরাতের শেষ রাত,
.
আজ যেমন নুসরাতকে নিয়ে লিখলে ডাবল লাইক কমেন্ট শেয়ার হচ্ছে ঠিক নতুন ইস্যু পহেলা বৈশাখ এলে তা কমে অর্ধেক থেকে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে,
.
নুসরাতকে নিয়ে যেসব পত্রিকা নিউজ চ্যানেল পোট্রাল ইয়ুটিয়ুবরা আজ সোচ্চার তারা যখন দেখবে আগামীকাল নিউজের কাটতি নেই, টিয়ুবে ভিউয়ার নেই, চ্যানেলে টিআরপি নেই, পোট্রালে হিট্ নেই আস্তে করে নুসরাত নামটিকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে নতুন নামে আলোচিত হবে,
.
মিডিয়া এবং রাজনীতিকদের কাছে জনগনের সেন্টিম্যান্ট একটা বিশাল বিষয়!
.
আসলে মূল সমস্যা হলো জনগনের, তারা কখনো একটি ইস্যু নিয়ে স্থির থাকতে পারে না, সম্ভবও না!
.
আজ আমরা সবাই রাতের ভাত খেয়েছি, সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে সব কাজ আগের মতোই করেছি কিন্তু নতুন করে আজ যা করেছি তা হলো শুধু আপসোস্!
.
দিনশেষে নুসরাত আমার আপনার বোন না, মা না, খালা না, মামী না, কিচ্ছু না!
.
শুধু যার চলে যায় সে ব্যাথা ভুলতে পারে না! নুসরাত বেঁচে থাকবে তার বাবা ভাই মা বোন কিংবা কোন প্রিয় মানুষের অশ্রুজল কিংবা বেদনায়!
.
সরকার খুব ভালোভাবে জানে চব্বিশ ঘন্টা কিংবা বাহাত্তর ঘন্টা পেরুলে জনগনও ঠান্ডা হয়ে যাবে!
.
কয়েকদিন পর পত্রিকার পাতায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ হলেও সেই খবর পড়ার টাইমও আমার আপনার হবে না! হয় না!
.
সেদিন যারা 'তনু হত্যার বিচার চাই' বলে দলে দলে প্লেকার্ড পেস্টুন ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারাও আজ নুসরাতের জন্য রাস্তায় নেমেছেন কিন্তু সেখানে কোথাও তনু নামটি খুঁজে পেলাম না! নুসরাত জায়গা করে নিয়েছে!
.
একদিন নুসরাত থাকবে না ইশরাত সে জায়গা করে নিবে!
.
এগুলো কঠিন বাস্তবতা! আজ যে মেয়েটা ধর্ষিত হয়েছে সে ভাইরাল হয়নি বলে কেউ আমরা একটা কাগজের টুকরো হাতে লিখে গলায় ঝুলিয়েও দাঁড়ায়নি!
.
কারণ সে পাবলিক সেন্টিম্যান্টে আঘাত করতে পারেনি,
.
জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরের মতো সে ও হারিয়ে গেছে!
.
গত বছর বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৮৭ জন সেই হিসেবে এই বছরও প্রথম তিন মাসে এর কম বেশী ধর্ষিত হয়েছে, বছরের চতুর্থ মাসে এসে নুসরাত ভাইরাল!
.
শুধু গত বছর ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো ৯৪২ জন, তাদের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ১৮২ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিলো ৬৩ জন নারী কে, আপনার বিচার চাই প্লে কার্ডে ওদের নাম নেই কেনো?!!!
.
নো নো নো! শুধু নুসরাতের বিচার চাই মর্মে যদি আমরা আন্দোলন করি তাহলে সকল ধর্ষিতদের প্রতি অবিচার করা হবে,
.
আসলে সকল ধর্ষিত নারীর বিচার পাওয়ার অধিকার আছে! প্রধানমন্ত্রী আপনি নুসরাতের নাম না বরং আরেকটি বিবৃতি দেন যে 'শুধু নুসরাতের ধর্ষক না বরং সকল ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে' আর আইনমন্ত্রী যে বললেন 'প্রয়োজনে নুসরাতের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার হবে' উক্তিটি আসলে এমন হওয়া উচিত 'প্রয়োজনে সকল ধর্ষকদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এনে বিচার করা হবে!'
.
নুসরাত মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে কিন্তু এমন এক সমাজে কোটি কোটি নারী বেঁচে থেকে মরার প্রস্তুতি নিচ্ছে!
.
কখন যে কাকে স্যার ভাইভা বোর্ডে 'নেক্সট্' বলে ডাক দিবে কে বা জানে!

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: বাস্তব কথা লিখেছেন। আবেগের ধারধারেনি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.