নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

বাধা বিঘ্ন না পেরিয়ে বড় হয়েছে কে কবে?

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নুসরাতের শেষ চ্যালেঞ্জ

১২ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯

এই সমাজে হাজারো নুসরাত আছে যারা স্কুল জীবনে প্রাইভেট টিউটর থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন, পথে, ঘাটে, বাসে, রাস্তায়, রেস্তোরায় প্রতিদিন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন!
.
কি সেক্সি মাল কল্পনা করতে করতে রাস্তার রিক্সাচালকও রিক্সার রডের সাথে মাংসের দন্ড ঘষে ফিল দি চিল্ হচ্ছে,
.
বাসে নুসরাতদের গা ঘেষে দাঁড়ানো এক প্রকার উন্মাদনা!
.
সুযোগ পেলে আম্মু আম্মু বলে বগল তলে স্পর্শ করে আদর করে দিচ্ছে বাবার সমবয়সী কেউ কেউ,
.
বাসের কন্টাকদারও ছাড় দিচ্ছে না কিংবা 'মেলায় যায় রে' বলে বেড়ানো ভদ্র ছেলেগুলো!
.
কেউ নুসরতাদের ছাড় দিচ্ছে না কেবলি তারা যখন ধর্ষিত হয় তখনি বিচারের ক্ষেত্রে ফিফটি টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট ছাড়,
.
রাস্তায় নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে থাকে বেহায়ারা, যে যার মতো নজর দিচ্ছে,
.
আরেকটু বাতাস জোরে আসলে হয়তো ব্লাকহোল দেখার কাছাকাছি চলে যেতো এই আপসোস নিয়ে দৃষ্টি ফেরায় অন্য কারো দিকে!
.
বহুত দিন এমন খাসা পাছা দেখিনি মর্মে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছে দেখতে পীর সাহেব মতো কেউ কেউ,
.
কেউ মজা ছাড়ে না, সবাই লুটে নেয়, তারপর বয়ান দেয়, আজ যদি মেয়েটি পর্দা করতো তাহলে আমরা পাছা দেখার সুযোগ পেতাম না, বড্ড খারাপ মেয়ে!
.
নুসরাত যখন একটু বড় হতে থাকে সাহায্যের মানসে নুসরাতদের জায়গা মতো পেরেকের উপ্রে বসিয়ে দিয়ে বুলি আওড়ায় 'বাবু, ঠিক মতো বসতে পারছো তো'
.
নুসরাতদের জন্য এই দুনিয়া অনেক অনেক কঠিন, নুসরাতদের গল্পগুলো ওরা কাউকে বলতে পারে না এমন কি বাবা মা কে ও,
.
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণে লক্ষ লক্ষ নুসরাতদের সাথে কি ঘটে যাচ্ছে একমাত্র তারা ই জানে!
.
অফিসের বস যখন বলে 'আজ একটু বিশেষ কাজ আছে ছুটির পর একটু থাকিও' তখন অনেক নুসরাতদের ক্যারিয়ার ঝুলে যায়!
.
শিক্ষককের হাত তেড়ে আসে, টেবিলের তলায় পা, ওরা সবার আগে বুঝে যায় ষাঁড় কাহাকে বলে,
.
গৃহকর্তী না থাকলে বাসার মালিক তেড়ে আসে, বাসে কেউ না থাকলে বাস ড্রাইভারও, কোচিংয়ে বড় ভাই,
.
প্রতিক্ষেত্রে নুসরাতদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় তুমি যদি ওটা দিতে পারো আমি তোমাকে যা চাও তা দিবো,
.
যদি বলো প্রশ্ন, মার্কস, প্রমোশন, আপগ্রেশন্, ডক্টরেট, পিএইচডি, নেত্রীর পোস্ট, ফ্রি তে অ্যাসাইনমেন্ট, যা যা চাও সব সব দিবো,
.
শুধু আমাকে তোমার শরীরটা নিয়ে খেলতে দিতে হবে!
.
আমি জানিনা ফেসবুকে এমন কোন নুসরাত আছে কি না যারা এমন পরিস্থিতি কিংবা লোলুপ দৃষ্টি শিকার হয়নি,
.
তারা অনেকে সরাসরি আন্দোলন তো দূরের কথা প্রকাশ করতেও পারে না মাঝে মাঝে 'মি টু' আন্দোলনে ও মিডিয়া তোলপাড় হয়!
.
শত যোগ্যতা থাকলেও প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নুসরাতদের জন্য একমাত্র যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায় 'কিছু দাও, কিছু নাও'
.
এই সমাজে অনেক নুসরাতদের ক্যারিয়ার থমকে গেছে কিছু দিতে রাজী হয়নি বলে!
.
বড্ড কঠিন এই দুনিয়া! দিতে থাকো, দিতে থাকো, নিতে থাকো, নিতে থাকো!
.
কর্পোরেটে দিতে পারা নুসরাতদের আলাদা কদর থাকে! তরতর করে উড়তে থাকে, উঠতে থাকে! ক্যারেক্টারলেস্ নুসরাতরা সে সুযোগ নেয়!
.
কিন্তু যারা ফেনীর নুসরাত, এসবের প্রতিবাদ করে, মেনে নিতে পারে না, গর্জে উঠে, তারা এভাবে আগুনে ঝলসে যায়!
.
খুঁজলে এমনও নুসরাত পাবেন যারা মাদ্রাসার সেই অধ্যক্ষকে নির্জন রুমে বিনোদন দিয়ে প্রশ্ন পেতো, সুযোগ পেতো, সুবিধা নিতো, এমন কি যখন ধর্ষণ চেষ্টাকারী অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দোলাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো হুজুরের মুক্তির জন্য আন্দেলনেও নেমেছিলো!
.
সমাজে এখনো অনেক প্রতিবাদী নুসরাত আছে, সবাই সস্তা নুসরাত না! ওরা এমনি নুসরাত যে পুরো শরীর ঝলসে যাওয়ার পরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলো যে কেউ ছাড় পাবে না! শেষ দেখে ছাড়বো!

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: পৃথিবীর সর্বাধিক যৌনকাতর প্রাণীটির নাম মুসলমান। তাদের স্বর্গচিন্তা মানে লাগাতার যৌনতা। অথচ জেনা হারাম। তাই হারাম থেকেই এল হারেম।

২| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
এবার তোরা মানুষ হ!
অনেক হয়েছে।
এবার ক্ষান্ত দে।

৩| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:৪০

নাহিদ০৯ বলেছেন: সমস্যা অনেক বড়। প্রতিবাদ সচেতনতা এর থেকেও ছোট ছোট সমস্যার ও সমাধান করতে পারেনি।

বিড়ি খাওয়া, ইয়াবা খাওয়ার মতো খারাপ স্বভাব কামনা নয়। বিড়ি সহ্য করতে পারেনা, ইয়াবা দেখেনি এরকম মানুষ অনেক।

সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ মাত্রই কাম বাসনা আছে৷ যাদের সুপ্ত আছে বা ভদ্র মানুষ নিয়ন্ত্রনে রাখে তাদের জন্য ও আছে।

প্রতিবাদ অবশ্যই হওয়া দরকার, সচেতনতার অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে আমার কেন জানি মনে হয় আমরা এই সমস্যা কে অনেক ছোট করে দেখছি।

এই বিষয়ে কোন রকম গোঁড়ামী না করে আলোচনা দরকার। যেসব দেশে যৌন হয়রানী কম সেসব দেশের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা দরকার। ভাবা দরকার। সমস্যা কে আমলে নিয়ে বড় কোন সমাধান আনা খুবই জরুরি।

একেকটা ঘটনা বর্ননা শুনে মনেই হয় যে ঘটনার ঘটক দুজনেই এর পেছনে যথষ্ট সময় এবং শ্রম অপচয় করে। কিছু কিছু ঘটনা ৩-৪ বছর ধরে ঘটনার জের এক সময় যৌন হয়রানী তে এস পৌছায়। শ্রম বাজারেও এর ব্যাপক ক্ষতি বলেই মনে হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.