নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার লেখা কারো ভালো লাগলে ০১৮১৫৩৩৮৩৭৫ নাম্বারে বিকাশ কিংবা লোড নতুবা ডাক বিভাগের সেবা নগদে মজুরি পাঠালে আমি গর্ববোধ করবো ৷ আমার জীবনের বেশীরভাগ সময় আমি লিখে কাটাতে চাই, আমার ফেসবুকের ঠিকানা, www.facebook.com/abdur.sharif

আবদুর রব শরীফ

আমার লেখা কারো ভালো লাগলে ০১৮১৫৩৩৮৩৭৫ নাম্বারে বিকাশ কিংবা লোড নতুবা ডাক বিভাগের সেবা নগদে মজুরি পাঠালে আমি গর্ববোধ করবো ৷ আমার জীবনের বেশীরভাগ সময় আমি লিখে কাটাতে চাই, আমার ফেসবুকের ঠিকানা, www.facebook.com/abdur.sharif অথবা Abdur Rob Sharif

আবদুর রব শরীফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন মুখ

২২ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০৬



আমার জন্মের সময় যে জ্যাঠা সবচেয়ে বেশী দৌড়াদৌড়ি করেছে সে আর আমাদের মাঝে নেই ৷ বাবা বলেছে তোর জ্যাঠা সেই দিনগুলোতে সারা দিন রাত এক প্রকার তোকে পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন যাতে কোন সমস্যা না হয় ৷ মুকুল জ্যাঠা ডাকতাম ৷ পুরো নাম সাজ্জাত হোসেন মুকুল ৷ অন্যদিকের পরিচয় সন্দ্বীপের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ. কে একাডেমি গাছুয়া স্কুল আঙ্গিনার চিরকালের অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ছেলে ৷
.
আমার দাদীকে একবার সাপে কামড় দিয়েছিলো ৷ তখন জসিম নামের এক লোক সাপের বিষ নামাতো ৷ কলার ধরে তাকে নিয়ে এসেছিলো দাদীর চিকিৎসা করানোর জন্য, না এসে যাবে কই!
.
চুপচাপ, নীরব, মেজাজি, কম কথা বললেও কারো বিপদে আপদে জরুরী প্রয়োজনে ছিলো রবিন হুডের মতো ৷
.
আমার ভাইয়ের বিয়ের সময়ও দেখেছি নীরব মানুষটা ই আমাদের পক্ষে সবচেয়ে সরব হয়ে উঠেছিলো ৷
.
ছোটকাল থেকে দেখতাম চট্টগ্রাম থেকে যত মেহমান, শুভাকাঙ্খি কিংবা আগন্তুক সন্দ্বীপ যেতো প্রায় সবাই জ্যাঠার বাসায় উঠতো ৷ বাসাটা যেনো ছিলো একটা রোজকালের অতিথিখানা ৷
.
সন্দ্বীপে এমপি ওবায়দুল হক সাহেবের বাড়িতে জ্যাঠার ই কেবল পাকা বাসা ছিলো ৷ তুফান ঘূর্ণিঝড় কিংবা যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে এটাই ছিলো আমাদের সাইক্লোন সেন্টার ৷ শেষ আশ্রয়স্থল ৷ তার একমাত্র হুন্ডাটা ক্রান্তিকালে ছিলো আমাদের অ্যাম্বুলেন্স স্বরূপ ৷
.
বাড়িতে ভোঁ করে ঢুকতেন ভোঁ করে বের হতেন ৷ বাড়ি গেলে আর কখনো এভাবে জ্যাঠাকে আসতে যেতে দেখবো না ৷ সুযোগ বুঝে চাচাতো ভাই সাদমান হোসাইনকে নিয়ে সেই হুন্ডা ই ছিলো আমাদের দেশ দেখার এবং ঘুরাঘুরিও শেষ পরিবহন ব্যবস্থা ৷
.
অদ্ভুতভাবে সন্দ্বীপের প্রায় মানুষের পরিচিত মুখ ছিলেন ৷ অন্যান্য এলাকা থেকে ফোন আসলে সবার আগে উনার কাছে ই আসতো ৷
.
মৃত্যুর মিছিল যেনো চলছেই ৷ দাদা, ডাক্তার চাচার পর এখন জ্যাঠা, অল্পকয়েক দিনের মধ্যে সবাইকে হারালাম ৷ খুব সহজে মানুষগুলো হঠাৎ করে চলে যাচ্ছে ৷ এখন সত্যি মনে হয়, দুনিয়াটা আসলে দুদিনের ৷
.
মোবাইলের টুং টাং শব্দে আতংক ভেসে আসে ৷ খুব অল্প বয়সে মানুষগুলো রোগ শোকে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে ৷ চারদিকে হাহাকার শূন্যতা ৷ আগে সকালে উঠে গল্প কবিতা প্রবন্ধ লিখতাম ৷ এখন লিখি কেবলি মৃত্যু সংবাদ ৷ এপিটাফ ৷
.
আল্লাহ জ্যাঠাকে তার দুনিয়ার সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতবাসী করুক ৷ আমীন ৷ সকলে দোয়া করবেন ৷

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:৪২

জনৈক অপদার্থ বলেছেন: দুয়া করি উনার জন্য

২| ২২ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: সাজ্জাত হোসেন মুকুল জ্যাঠাকে শ্রদ্ধা জানাই।

৩| ২২ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:১২

নেওয়াজ আলি বলেছেন: Respect

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.