| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি একজন অতি নগন্য সাধারণ মনুষ , অল্পতেই তুষ্ট থাকতে পছন্দ করি ,ভ্রমণ করতে পছন্দ করি ,জীব জন্তু পছন্দ করি, অপ্রয়োজনে বোবা প্রাণী কে আঘাত (কুকুর, বিড়াল) করার বিরোধী কারণ আমি মনে করি তাদের ও প্রাণ আছে ।
দিবস পার হইয়া যায় সপ্তাহ পার হইয়া যায়, তাহার সনে আর কথা হয় না। বালিকার হৃদয় ও নরম হয় না। এদিকে চক্ষুযুগল কোটরের ভিতরে যাইবার উপক্রম হইয়াছে । নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়া শুধু তাহার সনেই দেখা করিবার আর কথা বলিবার স্বাদ জাগে, যদিও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইয়া যায় বারে বারে।
ইতোমধ্যে আমার এক বাল্য বন্ধুর আগমন ঘটিল আমার গৃহে। তাহার অবস্থাও আমার মত ছন্নছাড়া আর দেবদাসের ন্যায় হইয়া গিয়াছে। কিবস্প্রকারে তাহার এইরূপ অবস্থা আমার জিজ্ঞাসু পিপাসু ভগ্ন হৃদয় তাহা জানিতে চায় বিধায় তাহাকে প্রশ্ন করিলাম রহস্য খানা কি?
বন্ধু রহস্যের দ্বার উন্মোচিত করিতে লাগিল আর কহিল তাহার বান্ধবী তাহাকে ছাড়িয়া দিয়াছে এবং বান্ধবী নাকি নতুন করিয়া আরেকজনের সঙ্গে প্রনয়ে জড়াইয়া গিয়াছে এবং বন্ধুকে তাহাদের ছবিও ইনবক্স করিয়া পাঠাইয়াছে। এই কষ্টে আর পীড়ায় বন্ধুর বক্ষ নাকি ফাটিয়া চৌচির হইয়া গিয়াছে। বন্ধুর কথা শুনিয়া হাসিব না কাদিব বুঝিতে পারিতেছিলাম না। মানুষ আকাশ হইতে পড়ে, কিন্তু আমি মহাকাশ হইতে পড়িলাম বন্ধুর কথা শুনিয়া। নিকট এক ভ্রাতা আখতারুজ্জামান আজাদের কথা মনে পড়িয়া গেল .. "অসুস্থ প্রেমের অসুস্থ প্রকাশ সুস্থদেরকেও অসুস্থ করিয়া তোলে, প্রেমহীনদেরকে করিয়া তোলে আগ্রাসী।"
যাহাই হোক, বন্ধুকে পাশে বসাইয়া সুন্দর করিয়া কহিলাম বন্ধু, তোমাকে কিছু শক্ত কথা বলিব , যদি মানিতে পারো তাহাতেই তোমার মঙ্গল | তোমার সার্বক্ষনিক যত্নের কারণে যে কন্যা ভাবে তোমার খাইয়া দাইয়া কোনো কর্ম নাই তাহার জন্য কোনরূপ সময় রাখিও না, তোমার ভালবাসা যে ললনার কাছে আদিখ্যেতা মনে হয় ,তৈলমর্দন মনে হয় তাহাকে শুস্ক ই থাকিতে দাও। বন্ধু তমি সস্তা হইয়া যাও নাই, অহংকারীর জন্য এক বালতি সমবেদনা রাখিয়া দাও। যে কন্যা তোমাকে ছাড়িয়া চলিয়া গিয়াছে সে যেসে মানুষের ই ভালবাসা পাইবার যোগ্য, তোমার না। আজ তোমার হৃদয় ভাঙ্গিয়াছে, কিন্তু সবসময় একটা কথা মনে রাখিবে হৃদয় যদি না ই ভাঙ্গে তাহলে জোড়া লাগিবে কিবস্প্রকারে|
বন্ধু পুলকিত হইয়া আমাকে জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, দোস্ত তুমি আসলেই আমার গুরু । আজি হইতে আমি শক্ত হইয়া গেলাম বটবৃক্ষের ন্যায় । দেখি আমাকে নত করিতে পারে কোন শ্যালিকায়।
বন্ধুকে বুঝাইতে বুঝাইতে আমার মনে হইলো বন্ধুর ঔষধ এ কাজ করুক আর না করুক কথা গুলা আমার মনে ধরিয়া গিয়াছে। তবে কেন আমি এইটা করিতেছিনা। যেইরূপ ভাবা সেইরূপ কাজ :
দিবস যায় রজনী যায় , আমিও আর প্রেয়সীর খোজ নেই না, বেনসন এন্ড হেজেস এর পরিবর্তে এখন কমলার কোয়া খাই, সারাদিন বই পুস্তকে ডুবিয়া থাকি। ইতোমধ্যে নতুন এক ললনার সঙ্গে গল্পগুজবে দিন পার করিয়া দিতেছি|আবার তাহার সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাইয়া ছবি তুলিয়া ফেবু তে চেক ইন ও দিতেছি যেন ললনা কোনক্রমে আমাদের এহেন কর্মকান্ড দেখিয়া ফুলিয়া ফাপিয়া যায়। ![]()
মাস কাটিয়া গেল এইভাবে। বৃহস্পতিবার , মধ্যান্নভোজ সারিবার পর প্রস্তুতি নিতেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাইবার জন্য। এই সময় দরজার ওপারে মা জননীর গলা শুনিতে পাইলাম, কহিলেন মৃন্ময় বাবা , তোমার অতিথি আসিয়াছে ,তাহার সত্কার কর। আমি দরজা খুলিবা মাত্রই মাথা টা ঘুরিয়া গেল। চেহারা টা কেমন জানি ঝাপসা ঝাপসা, ঠিক বুঝা যাইতেছে না। পোশাক পরিচ্ছদে শালীনতার ছাপ রইয়াছে। আখিতে কাজল, মাথায় গোলাপী রঙের ক্লিপ,পাশ দিয়া চুল গুলো খোলা, ঠিক গালের উপর পড়িয়াছে ,হাতে জামার সাথে ম্যাচিং করিয়া ব্রেসলেট, আমার প্রিয় রং এর জামা, সাথে মখমলের স্যান্ডেল, তাহার উপর সোনালী কালারের ডিজাইন করা। আখির কাজল গুলা ধুইয়া গিয়াছে কান্নার জলে। কিছু বুঝিয়া উঠার আগেই হটাত ঠাস করিয়া একটা আওয়াজ হইলো , গালটা মনে হয় পুড়িয়া যাইতেছে ।
“কুত্তা, হারামি, শয়তান, কাপুরুষ, এই তোমার ভালবাসা? যাকে ভালোবাসো তার সামান্যতম দুষ্টামি হজম করিতে না পারিলে যাও, গিয়া ঝালমুড়ি বেচো আর খাও, আমার সনে প্রেম করিবার দরকার নাই”। বলিয়াই মৌমিতা ঘুরিয়া গেল, মনে হইতেছে চোখের কোনে যে পানি তা জমিয়াছে তা লুকানোর চেষ্টা করিতেছে। খুব শক্ত করিয়া হাত টা ধরিলাম , আমার দিকে মুখের পানে ফিরাইয়া তাহাকে কহিলাম , "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মত বিড়ম্বনা যে দিত্বীয়টি আর নাই" ( সরি রবি দাদু তোমাকে কপি মারিবার জন্য)। ও আমার হাত টা ধরিয়া কহিল চল!! আমি কহিলাম কোথায়? ও কহিল তানহা নামের ওই ললনার সঙ্গে আমার কথা হইয়াছে যাহার সঙ্গে তুমি লুতুপুতু টাইপের ছবি দিয়াছ , সে আমাকে কহিয়াছে এই সব ই তোমার চক্রান্ত আমাকে ফিরিয়া পাইবার জন্যে । আমার সঙ্গে আজ তুমি সারাদিন থাকিবে, সন্ধায় আমরা রেস্টুরেন্ট এ যাইব আর ফেবু তে চেক ইন করিব। যদি ভবিষ্যতে আর কোনো ললনার পানে চোখ তুলিয়া তাকাইয়াছ তো তোমার চক্ষু আমি উঠাইয়া ফেলিব, কহিয়া আমার কাধে মুখ লুকাইয়া ফেলিল ।
হাসিয়া ফেলিলাম , নাহ.. আজ আর যাওয়া হইতেছেনা না ক্লাসে, কারণ এই চরম পাগলি ললনার সঙ্গে সারাজীবন যে কাটাইতে হবে।
পুনশ্চ: ঘি যদি সোজা আঙ্গুলে না উঠে তাহলে পাইপ (straw) ব্যবহার করা দোষের কিছু নহে।
২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১১
মৃন্ময় আহসান বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ![]()
২|
২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১:৪৯
সৈয়দ আহাম্মদ উপল বলেছেন: অতঃপর এই পুরো গল্পখানা পাঠ করিয়া আমার ভালো লাগিলো
২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৮:৫২
মৃন্ময় আহসান বলেছেন: আমি অত্যন্ত পুলকিত হইয়াছি যে আপনি আমার গল্পখানা পড়িয়া প্রসন্ন হইয়াছেন । ভ্রাতা, আপনি কি আমার দুই পর্ব ই পাঠ করিয়াছেন.... ? করিলে জোড়া ধন্যবাদ ![]()
৩|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪১
ভ্রমরের ডানা বলেছেন: গল্প পড়ে শরৎবাবুদের কথা মনে পড়ে গেল।
লেখনশৈলী সাধু ভাষায় হওয়ায় এমন মনে হল।
তবে গল্পটি বেশ ভাল!
শুভকামনা রইল!
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৯
মৃন্ময় আহসান বলেছেন: শুভকামনার জন্য আপনাকেও ওনেক ধন্যবাদ | দোয়া করবেন যেনো আরো লিখতে পারি|
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০৫
নুরুন নাহার লিলিয়ান বলেছেন: ভালো+