নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভুয়া মফিজ

ভুয়া মফিজের সাথে ভুয়ামি না করাই ভালো...

ভুয়া মফিজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বপ্নযাত্রা: ইটালী - ৩

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫০


১৮২১ সালে জন মার্টিনের আকা ছবি, ''Destruction of Pompeii and Herculaneum''.



১৮৩০-৩৩ এ আকা কার্ল ব্রুলভ এর ছবি, ''The Last Day of Pompeii''.

ছবি দু’টা কিন্তু নিছক কল্পনা না, উনারা বিশেষজ্ঞদের অভিমতের উপর ভিত্তি করেই একেছিলেন!


প্রকৃতি সবসময়ই মানুষকে সাবধান করে, মানুষ বোঝে না। কিংবা বুঝলেও গুরুত্ব দেয় না। ৬২ খৃষ্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারী একটা শক্তিশালী ভূমিকম্প হয় পম্পেই ও এর আশেপাশে। ৬৪ তে আবারও ভূমিকম্প হয়, কিন্তু কেউই গুরুত্ব দেয়নি কারন ভূমিকম্প ওই অন্চলের স্বাভাবিক ঘটনা, আর ভিসুভিয়াস যে একটা আগ্নেয়গিরি তাই লোকে তখন জানতো না! এগুলো ছিল ভিসুভিয়াসের প্রস্তুতিপর্ব। ২০ শে অগাস্ট ৭৯ তে ঘন ঘন ঝাকুনি শুরু হয় এবং পরবর্তী ৪দিনে তা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তাও লোকজনের হুশ হয়নি, কেউ পালিয়েও যায়নি। অবশেষে ৭৯ খৃষ্টাব্দের ২৪ শে অগাস্ট সকালে শুরু হয়ে যায় কেয়ামত! পরবর্তী ২৪ঘন্টায় একটা আড়ম্বরপূর্ণ, প্রানচন্চল উন্নত নগরী শ্রেফ উধাও হয়ে যায় পৃথিবীর মানুষের চোখের সামনে থেকে। পম্পেই ও এর আশেপাশের লোকসংখ্যা তখন ছিল আনুমানিক ১৬ থেকে ২০ হাজার। পরবর্তীতে মাত্র দেড় হাজার দেহ বা দেহাবশেষ পাওয়া যায়, বাকীদের অল্পকিছু নিশ্চিতভাবেই পালাতে পেরেছিল আর অবশিষ্টরা হয়তোবা শ্রেফ বাস্প হয়ে উড়ে গিয়েছিল প্রচন্ড উত্তাপে।

কেমন ছিল এই কেয়ামত? অগ্নুৎপাতের ফলে যে মেঘের সৃষ্টি হয় তার উচ্চতা ছিল প্রায় ২১ মাইল। ভিসুভিয়াসের জ্বালামুখ থেকে প্রতি সেকেন্ডে দেড় লাখ টন গলিত লাভা, পাথরের গুড়া আর তপ্ত ছাই বেরিয়ে আসতে থাকে। এর থার্মাল এনার্জি ছিল হিরোশিমা-নাগাসাকির দু’টা এটম বোমার মিলিত শক্তির চেয়ে এক লাখ গুন বেশি। ভারী, ঘন ধোয়া সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়। উল্টাদিকের নেপলস বে এর এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়, ” পৃথিবীর অন্যত্র তখন দিন ছিল, কিন্তু সেখানের নিকশ কালো অন্ধকার ছিল রাতের অন্ধকারের চেয়েও ঘন”! অগ্নুৎপাতের ফলে ভিসুভিয়াস থেকে যে লাভা, পিউমিস আর ছাই বেরিয়ে আসে তার গতি এত দ্রুত ছিলো যে অধিবাসীরা খুব বেশি সময় পায়নি পালাবার। মনে রাখতে হবে যে, তখন পায়ে হাটাই ছিলো যাতায়াতের অন্যতম উপায়, আর এলাকাটা পর্বতময়! ঘোড়ায় টানা গাড়ী খুব ধনী কয়েকটা পরিবার ছাড়া আর কারো কাছেই ছিলো না। এর সাথে যোগ হয়েছিলো ঘন ঘন ভুমিকম্প এবং নেপলস উপসাগরে সৃষ্ট সুনামী।

সত্যি বলতে ভিসুভিয়াস কাউকে বাঁচার ন্যুনতম সুযোগও দেয়নি। অগ্নুৎপাতের সময় তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে উঠে গিয়েছিল! বাতাসে মিশে গিয়েছিলো সালফার ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস। একদিন পর যখন অগ্নুৎপাত বন্ধ হলো, ধোয়া আস্তে আস্তে সরে যেতে লাগলো ততক্ষণে পুরো এলাকা চাপা পড়ে গিয়েছে ১৫ থেকে ১৭ ফুট উচু পিউমিস আর ছাই এর নীচে। আমুল বদলে গিয়েছে পুরোটা ল্যান্ডস্কেপ। আর একটা কথা, বছরের ওই সময়ে ওখানে বায়ুপ্রবাহ থাকে সাধারনভাবে দক্ষিন-পশ্চিম মুখী, আর অগ্নুৎপাতের দিন বায়ুপ্রবাহ ছিলো উত্তর-পশ্চিম মুখী; অর্থাৎ সোজা পম্পেই এর দিকে! একে গজব ছাড়া আর কি বলা যায়?

১৭৪৮ সালে শ্রমিকেরা রাজা তৃত্বীয় চার্লসের প্রাসাদ বানানোর জন্য ওই এলাকা খোড়াখুড়ি শুরু করলে আধুনিক বিশ্বের সামনে প্রথম উন্মোচিত হয় মানব ইতিহাসের অন্যতম এই বেদনাময় অধ্যায়!

দেখুন কেমন ছিলো পম্পেই, পম্পেইবাসীদের জীবন-যাত্রা এবং শেষ পরিনতি;


নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার



কারুকার্য করা মেঝের মার্বেল পাথরের মোজাইক এবং দেয়ালে ফ্রেসকো। পম্পেইবাসীর রুচি ছিলো!



এম্ফিথিয়েটার, মূলতঃ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো এখানে


গ্লাডিয়েটররা যুদ্ধ করতো এখানে, চারপাশের ছোট ছোট ঘরগুলোতে ওরা থাকতো



নগরীর মূল এম্ফিথিয়েটার, তাই সাইজে অনেক বড়!



ব্যবহার্য তৈজসপত্র



ব্যবহার্য অলংকার, শুধুই কি নারীদের? পুরুষদেরও হয়তোবা!



কাউন্টারসহ মদের দোকান, দেয়ালে সম্ভবতঃ মাতালদের ফ্রেসকো। মাতালদের তীর্থস্থানে আর কাদের ছবি থাকবে!



House of the Tragic Poet, মেঝের কাজ দেখেছেন? ভদ্রলোকের রুচি ছিলো বলতেই হবে!



এটা একটা ইউনিক জিনিস। প্রায় প্রতিটা বাড়ীর মূল দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে এমন চৌবাচ্চা দেখা যায়! ঠিক এটার ঠিক উপরে কোন ছাদ নাই। বৃষ্টির পানি এখানে জমা হতো। সামনের এমন পাত্রে তা সংরক্ষনও করতো।



কোনো এক হতভাগা!



রাস্তায় কিছুদুর পর পর এমন পথিকদের পানিপানের ব্যাবস্থা। সমাজকল্যানমুখী প্রশাসন!



নগরীর ফোরাম বা প্রাণকেন্দ্র। সোজা জিউসের মন্দির আর তার পিছনে ভিসুভিয়াস, সকল গাম্ভীর্য নিয়ে দন্ডায়মান!!



গ্রীক মিথোলজির সেন্টুর, অর্ধ ঘোড়া, অর্ধ মানব। ফোরামে স্থাপিত।



প্রচন্ড তাপে গলে যাওয়া পাথরে গাড়ির চাকার স্থায়ী চিহ্ন!



দেয়ালে মাটির পানির পাইপ, প্রযুক্তিতেও তারা কম ছিলো না!



আটা বানানোর জন্য বিরাট পাথরের যাতা আর চুল্লী। একটা রুটির ফ্যাক্টরী



মাথা নীচু করে দাড়িয়ে সমুদ্র, ভূমিকম্প আর ঘোড়ার দেবতা পসেইডন! ভাবছে, কেমন দেবতা হইলাম, এতগুলান মাইনসেরে বাচাইতে পারলাম না!!!!


প্রায় ৮ ঘন্টা ধরে আমি এই নগরীর রাস্তায় রাস্তায় হেটেছি। প্রচুর ছবি তুলেছি। হাটতে হাটতে আমার নেশা ধরে গিয়েছিল, নগরীর সাথে একাত্ব হয়ে গিয়েছিলাম। গভীরভাবে অনুভব করার চেষ্টা করেছি সেই দিনের প্রলয়ংকর প্রতিটা মূহুর্ত, কান পেতে শুনতে চেষ্টা করেছি ভয়ার্ত মানুষের করুণ আর্তনাদ! তাদের নিজেকে বাচানোর আকুতি আর প্রিয়জনকে বাচানোর ব্যর্থ প্রয়াস! যথাসম্ভব প্রতিটা বাড়ীতে, মন্দিরে উকি দেয়ার চেষ্টা করেছি, বিভিন্ন গাইডের বক্তব্য কান খাড়া করে শুনেছি (আমি কোন গাইড নেইনি)। আমাকে আশ্চর্য করেছে প্রচুর মদের দোকান - প্রতিটা রাস্তায়, অলিতে গলিতে! একপর্যায়ে আমার মনে হয়েছে এরা মদ ছাড়া বোধহয় অন্যকিছু খেতো না! প্রতিটা বাড়ির বর্ণনার সাথেই শুনেছি ভয়ংকর বিকৃত যৌনাচারের কথা। এই অবাধ পাপাচার বোধহয় সৃষ্টিকর্তার কাছেও অসহ্য ঠেকেছিল, না হলে এত অল্প সময়ে এই বিশাল আর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ আর কার পক্ষেই বা সম্ভব!!! আর তাই যদি না হবে তাহলে সেদিন বাতাসইবা নিয়মের ব্যাতিক্রম করে ভিসুভিয়াসের দিক থেকে পম্পেই এর দিকে বইবে কেন???

তথ্য কিছু গুগলের, কিছু ওখানকার পরিচিতিমূলক পুস্তিকা এবং বোর্ডের, প্রথম ছবি দু’টা উইকিপিডিয়া থেকে, বাকিগুলো আমার ক্যামেরা এবং ফোনের।

চলবে.........

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:১২

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: চমৎকার যতবস ছবি!!





ভালো থাকুন নিরন্তর। ধন্যবাদ।

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:১৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, আপনিও ভালো থাকুন।

২| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৬

হুমায়রা হারুন বলেছেন: খুব সুন্দর!

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:২৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

৩| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৫:০৬

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: সুন্দর ইতিহাস ও ছবি দেখে ভাল লাগলো।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৩০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

৪| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:১৭

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: ভয়াবহ দুর্যোগের ইতিহাস।
রাস্তায় রাস্তায় পানি খাবার জন্য যে ব্যবস্থা এটা আমি দেশে এসেও খুব মিস করি আর কিছুদূর পর পর বসার জন্য যে বেঞ্চি, সেটাও।

আপনার পোস্ট পড়তে পড়তে একটা লাইনে এসে চোখ আটকালো --

এই অবাধ পাপাচার বোধহয় সৃষ্টিকর্তার কাছেও অসহ্য ঠেকেছিল, না হলে এত অল্প সময়ে এই বিশাল আর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ আর কার পক্ষেই বা সম্ভব!!! আর তাই যদি না হবে তাহলে সেদিন বাতাসইবা নিয়মের ব্যাতিক্রম করে ভিসুভিয়াসের দিক থেকে পম্পেই এর দিকে বইবে কেন???

আপনি কি বলতে চাচ্ছেন পাপাচারের কারণেই কোনো জাতির উপর দুর্যোগ নেমে আসে?

view this link

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৪০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনি কি বলতে চাচ্ছেন পাপাচারের কারণেই কোনো জাতির উপর দুর্যোগ নেমে আসে? না, তা না, বোধহয় বলেছি! সবকিছু বিচার করে এটা আমার একটা ধারনা। সীমা লংঘন করলে সৃষ্টিকর্তার তরফ থেকে শাস্তি নেমে আসতেই পারে! সম্ভাবনার কথা বলেছি।

৫| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:১৮

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: যে লিংকটা দিলাম, ওটা আমার লেখা অসমাপ্ত একটা গল্প বা উপন্যাসের শুরুর লিংক। ইতালির প্রবাস জীবন নিয়ে কিছু কিছু কথা ছিল। সময় হলে দেখতে পারেন।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ২৫টা পর্ব লিখেছেন, এতদুর এসে থেমে গেলেন কেন? শেষ করে ফেলুন না!
প্রথম ৩টা পর্ব পড়লাম, পড়তে ভালো লাগছে। আপনি কি এখনো ইটালীতেই আছেন?

৬| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৩:১১

ফেরদৌসা রুহী বলেছেন: এই পর্ব থেকেও জানলাম অনেক কিছু।

এগুলি বহু ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে।
পরের পর্বের অপেক্ষায়

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৫১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ঠিকই বলেছেন, একটা করুণ পরিনতির ইতিহাস! সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৭| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৯

জুন বলেছেন: ভুয়া মফিজ আপনার অনাবদ্য লেখা আর সাথে ঝকঝকে ছবিতে সেই অনেকদিন আগের দেখা অভিশপ্ত নগরী পম্পেকে দেখে স্মৃতিকাতর হয়ে পরলাম । আমার অনেক ভ্রমনের মাঝে এটা ছিল একটা সেরা ভ্রমণ । সেখানে প্রবেশের আগে আগাম লাঞ্চে বসেছি তখনো অদুরে দেখতে পাচ্ছিলাম ভিসুভিয়াসকে যা থেকে খানিক পর পরই গম গম আওয়াজ ভেসে আসছিল। ভয়কাতর আমার মনে পড়লো পথে দেখে এসেছি তার পাদদেশে হাজারো লোকবসতি, তখনএকটু স্বস্তির সাথে পাস্তা নিয়ে বসি ।

ট্র্যাজিক পোয়েটের গেটের মেঝেতেই কিন্ত কালো মোজাইকে ল্যাটিন ভাষায় লেখা ছিল ক্যাভি ক্যানোম অর্থাৎ কুকুর থেকে সাবধান। ইতিহাসে বলে এটাই নাকি কুকুর থেকে সাবধান হওয়ার প্রথম বানী ।
তাদের আরাম আয়েশ আর বিলাসিতার নমুনা দেখেছেন ভুয়া মফিজ ? পথের পাশে সেই সব বিশাল বিশাল যাকে আরবীতে বলে হাম্মাম খানা । ওখানে গোসল করতে করতেই নাকি তারা রাজনীতি পৌরনীতি নিয়ে আলোচনা করতো ;)
বেকারীতে আটা ভাঙ্গানোর জন্য জন্য আনা ছোট একটি পাত্রে মমি হয়ে যাওয়া গম বা কিছু শস্য দানা দেখিয়েছিল গাইড।
সেই বড়লোকের বাসাটি দেখেছিলেন যার প্রাঙ্গনে দেবতা ফনের একটি নৃত্যরত মুর্তি আছে ? সে না কি তার টাকার বস্তা নিয়ে পালাতে চাইছিল কিন্ত তার আগেই সেই জ্বলন্ত লাভার নীচে চাপা পরে যায় ।
এ নাকি ইশ্বরের অভিশাপ কারন সেখানকার লোকেরা পাপী/ লম্পট ছিল।কিন্ত তাই বলে কি সবাই ঐ ভেট্টি ভাইদের মত ছিল ! সেই যে এক রুমে কিছু ভিনদেশী যাযাবর এসেছিল রাতটি থাকার জন্য । তারাও কি পাপী ছিল পম্পেবাসীর মত ?
''The Last Day of Pompeii' ম্যুভিটি মনে দাগ কেটে আছে ঠিক আমার আপনার পম্পে দেখার মতই ।
সাথে থাকলাম প্রিয় ইতালী ভ্রমনে ।
+

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:২১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: সবই দেখে এসেছি আপা কিন্তু আপনিই ভালো বলতে পারবেন একটামাত্র পোষ্টে পম্পেই এর বর্ণনা কতোটা চ্যালেন্জিং! একটা জনগোষ্ঠির বেশিরভাগই যখন পাপী তখন পাপীদের সাথে নিরীহরাও দন্ডিত হয়, এটাই হয়তো সৃষ্টিকর্তার বিধান। পাপের প্রতিবাদ না করাটাও তো পাপ! যাইহোক, এসব ব্যাপারে আমার জ্ঞান সীমিত....... :)
আসলে ট্র্যাজিক পোয়েটের বাড়ীর যে ছবি তুলেছি তাতে কুকুরের ছবি দিলে দেয়ালের ফ্রেসকোসহ পুরো মেঝের কারুকাজ আসেনা, কিন্তু পুরো মেঝের সৌন্দর্যটাই শেয়ার করতে মন চাইলো!!! ছবি দুটাই দেয়া যেতো কিন্তু কতো দিবো!!! আরও কতো সুন্দর সুন্দর ছবি দিতে পারলাম না!
নিন, আপনাকে আরেকটু স্মৃতিকাতর করার জন্য কুকুরের ছবিটা দিলাম... :)

৮| ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৯

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: ব্যস্ততায় লেখার আগ্রহ আর খেই দুটোই হারিয়ে ফেলেছিলাম। আপনি সময় করে ২৫ পর্যন্ত পড়ে তারপর জানিয়েন। তখন না হয় আবার নতুন করে পোস্ট দিবো পরবর্তী পর্ব।
এখন বাংলাদেশেই আছি।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:০৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ইটালীর লেখা শেষ করে পরবর্তী এসাইনমেন্ট আপনার এই ২৫ পর্বের অসমাপ্ত গল্প/উপন্যাস। ২৫তম পর্বের কমেন্ট লাইনেই আমার অনুভূতি জানাবো।

৯| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:১৫

কালীদাস বলেছেন: চমৎকার ছবি ব্লগ। ভালই ঘুরেছেন মনে হচ্ছে। নাহ, পম্পেই যেতে হবে ;) খালি নেপলসের চোরবাটপারদের কথা শুনে সাহস পাইনা :(
ছবিগুলোর ছবি দেখে মনে হচ্ছে আপনার আর্টে আগ্রহ আছে। নেক্সট-টাইম সময় বের করতে পারলে ফ্লোরেন্সে যান একবার, পস্তাবেন না। উফিজ্জি মিউজিয়ামের কালেকশন খুবই রিচ, এত পুরান অরিজিনাল আর্টিফ্যাক্ট আর স্কাল্পচার খুব কম মিউজিয়ামেই আছে।

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:১০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: পম্পেইতে চোর-বাটপার দেখিনি। সম্ভবতঃ আমি এসেছি শুনে ঘর থেকে বের হয়নি... :)
আসলে প্রাচীন সভ্যতার ব্যাপারে আগ্রহ আছে এমন যে কারোরই এটা একবার দেখা উচিত! আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে ফ্লোরেন্সে না গিয়ে বোকামীই করে ফেলেছি। পরেরবার কোনোভাবেই ফ্লোরেন্স বাদ পড়বে না এটা নিশ্চিত!

১০| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৪৩

পার্থ তালুকদার বলেছেন: চমৎকার পোস্ট।
আগামীটার অপেক্ষায় থাকলাম।
শুভকামনা।

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:০২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্ব দিলাম, কেমন লাগলো জানাবেন কিন্তু... :) !

১১| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৫

অপু তানভীর বলেছেন: চমৎকার !

চলুক ....

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী পর্ব দিলাম, কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না যেন!

১২| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৮

ফয়সাল রকি বলেছেন: কখনো দেশের বাইরে যাইনি। একবার পাসপোর্ট করেছিলাম কিন্তু সেটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অলরেডি। কোথাও যাওয়া হয়নি, হয়তো হবেও না। তবে আপনার পোস্টগুলো ইতালি ঘুরে দেখার জন্য উৎসাহিত করে। +++

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অনেকের কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না, ঘরকুনো টাইপ। তবে আপনার ইচ্ছা যদি খুব তীব্র হয়, একদিন না একদিন যাওয়া হবেই। অন্ততঃ দেশের আশেপাশে দিয়ে শুরু করে দেন...ভারত, নেপাল, ভুটান....মন্দকি! শুরুটাই আসল। শুভ কামনা রইলো।

১৩| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:৩৪

ফয়সাল রকি বলেছেন: আমার তো যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু সময়, সাহস, সঞ্চয়ে কুলিয়ে ওঠে না :(
তবে আপনার শুভ কামনা ভালো লেগেছে, পাশিপাশি যে সাহসটা দিলেন সেটাও।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অগেই বলেছি, ইচ্ছার তীব্রতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়, সাহস, সঞ্চয় ততোটা না। এক এক করে বলি;
সময় - 'সময় নাই' কথাটা আমার নিকের মতোই, ভূয়া। সবকিছুর সময় আছে, বেড়ানোর সময় নাই? পৃথিবীতে যারা বেড়ায় তারা সবকিছু করেই বেড়ানোর সময় বের করে। আপনাকে তো কেউ পৃথিবীর মতো ৩৬৫ দিন ঘুরতে বলছে না, বছরে অন্ততঃ একবার কিছুদিনের জন্য বেড়িয়ে পড়ুন না!!!
সাহস - ঘর থেকে বের না হলে সাহস হবে কিভাবে? দুনিয়ায় খুব কম দেশই আছে যেখানে বাংলাদেশী নাই। তারপরও সাহস না পেলে দেশের মধ্যে ঘুরে প্র্যাকটিস করেন। যেমন, দেশের উত্তরে থাকলে দক্ষিনে চলে যান, একা একা। সেখানে গিয়েও কোন বন্ধু বা আত্বীয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন না। একা কিছুদিন ঘুরে আসুন। সাহস হবে, তারপর দেশের বাইরে যাবেন!
সঞ্চয় - এটাও কোন ব্যাপার না। যেমন, ঠিক করলেন ১০ মাস পর অমুক স্থানে যাবেন। প্রতি মাসে কিছু টাকা সরিয়ে রাখুন, ওটাতে হাতই দিবেন না। তারপরও ধরেন, ১০ মাসে জমানোর টার্গেট পূরণ হলো না, অসুবিধা নাই। যতোটুকু জমলো তা সম্বল করেই বেড়িয়ে পড়ুন, প্ল্যানটাকে কাট-ছাট করে। তবুও বেড়ানোর প্ল্যান বাদ দিবেন না!
মাথায় রাখেন, বেড়ানো শেষে সামুতে পোষ্ট দিতে হবে.....সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন!
আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি আপনার কাছ থেকে একটা ভ্রমনের উপর পোষ্ট পাবো..... :)


১৪| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৫০

আরোগ্য বলেছেন: চমৎকার পোস্ট । আমার এ ধরণের লেখা পড়তে খুব ভালো লাগে। সময় পেলে আকজেই পরের পর্ব পড়বো।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমাদের ছোট্ট জীবন। যা যা ভালো লাগে করবেন, ফেলে রাখবেন না। :)
এ ধরণের লেখা পড়তে ভালো লাগলে পড়ে ফেলুন। দেরী করার দরকার কি?

পুরানো পোষ্ট, আপনার মন্তব্যের কল্যানে আমিও একটু ঘুরে-ফিরে দেখলাম।
ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.