| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আসসালামুআলাইকুম বোন,
জানি ভালোই আছ ইনশাল্লাহ। আর ভালো থাকবেই বা না কেন? দুনিয়ায় থাকতে এত অল্প বয়সেই যে ত্যাগের পরিচয় তুমি দিয়েছ তার প্রতিদান নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাকে দিচ্ছেন। ভালো তো নেই আমরা; তোমার এই কাপুরুষ ভাইয়েরা- যারা মৃত্যুভয়ে এতই ভীত যে দিনকে রাত বলতেও আমাদের বাধে না। কাপুরুষোচিত জীবন যে বড়ই বেদনাদায়ক!
কি দোষ ছিল তোমার? মাত্র সতের-তে পা রেখেছিলে। অন্যান্য কিশোরীদের মতই না জানি কত স্বপ্নের জাল বুনেছিলে। কিন্তু ঘাতকের বুলেট সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। এক মুহূর্তে নিস্তব্ধ করে দিল তোমার শরীর। জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল।
দ্য টেলিগ্রাফ তোমাকে নিয়ে লিখেছে, “Seventeen-year-old Asma el-Beltagi should have had the brightest of futures. She was top of her class in school, had a reputation as a gentle and intelligent young woman, and was loved as the daughter of one of Egypt's first ever democratically elected leaders.” জানি এসবের এখন আর কোন মূল্য নেই। কারণ তুমিই যে নেই! কিন্তু তোমার চেতনা আছে; তোমার স্মৃতি বেঁচে আছে। শহীদি তামান্নায় এত কম বয়সে নিজেকে উজাড় করবার মধ্য দিয়ে তুমি যে দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছ তা আমার মত তোমার অনেক কাপুরুষ ভাইদের হৃদয়ে একটু হলেও নাড়া দিয়েছে।
তুমি যাচ্ছিলে হাসপাতালে আহতদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে। নিজ জীবনের পরোয়া না করেই তুমি যাচ্ছিলে আর্তের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে। আর এটাই কাল হল তোমার জন্য। পথেই নপুংশক সেনারা তোমার বুক ঝাঁঝরা করে দিল। ক্ষত-বিক্ষত হল তোমার মগজ, তোমার বাম পায়েও গুলি লাগল। অথচ সেইসব নপুংশক সেনাদের বন্দুক কখনো তাদের দিকে তাক হয়না যারা সীমান্তের ওপারে লাখ লাখ মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখে! যারা ত্রাণবাহী জাহাজেও আক্রমণ চালাতে দ্বিধাবোধ করে না! তোমার মত নিরস্ত্র নিরীহ সপ্তদশী কিশোরীর বুক ঝাঁঝরা করেই নপুংশকেরা নিজেদের পুরুষত্ব জাহির করে। অবাক হই ভেবে এত অল্প বয়সে কিভাবে তুমি এত বড় হৃদয়ের অধিকারী হলে! আমরা তো পারিনা! কেন পারিনা? সে প্রশ্নের উত্তরও জানা নেই। আর তাইতো আমার মত ভাইদের কাপুরুষতার মূল্য তোমার মত বোনকে হারিয়ে দিতে হল।
তোমার ফেসবুক পেইজ বলে দ্য পিয়ানিস্ট ছিল তোমার প্রিয় মুভি। কি অদ্ভুত মিল! মুভিটা যে আমারও বড্ড প্রিয়। অথচ কত ফারাক আমাদের চিন্তায়! আমি যে মহত্মে তোমার ধারে কাছেও নেই বোন। মৃত্যুর ভেতর দিয়ে তুমি কি আমাদের বিবেকেই নারা দিয়ে গেলে না? অবশ্যই! বিবেকে নাড়া লেগেছে বলেই আমরা লাখে লাখে তোমার জানাজায় অংশ নিয়েছি। চিৎকার করে কেঁদেছি আর দু’হাত তুলে তোমার জন্য দুয়া চেয়েছি। আসলে আমরা নিজেদের জন্যই দুয়া চেয়েছি যাতে আল্লাহ তোমার মত হৃদয়ের অধিকারী করেন আমাদের আর তা না হলেও অন্তত যেন ছিটেফোঁটা-টুকু পাই।
জানি আমার এ লেখাতেও তোমার অনেক মুসলিম নামধারী ভাই ষড়যন্ত্রের আভাস পাবে। এর মাঝেও তারা জামাতি গন্ধ পাবে এবং কোন এক অজানা কারণে আমাকে রাজাকার বলে গাল পাড়বে। তোমার মৃত্যু তাদের কাছে নেহাতই তুচ্ছ বিষয়। অনেকে তোমার সম্পর্কে নূন্যতম না জেনেই তোমাকে মহিলা জঙ্গি বলবে এবং তোমার মৃত্যুতে উল্লাস করবে। আবার এরাই জর্জ বুশ মরলেও মানবতার দোহাই দিবে। একেই বুঝি বলে ডাবল ফেসড! বড়ই আজব এ দুনিয়া! তবে যে যাই বলুক আমি জানি তোমার প্রতি আমার এ চিঠি বুকের কোণে জমে থাকা অসহ্য ব্যথা থেকেই লেখা। তাই ওসব কথা অগ্রাহ্য করেই জানাজায় অংশ নেয়া তোমার অন্যান্য ভাইদের মত চিৎকার করে বলতে চাই, “You were an angel sister!’’
ইতি,
তোমারই কোন এক কাপুরুষ ভাই।
২৪ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ৮:২০
ব্ল্যাক বোল্ট বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৪:১২
নাম জেনে কি হবে? বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন ++