নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বই এর জন্য পাগল

আমি বই পড়তে খুব পছন্দ করি এবং পছন্দ করি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে। তাই কারো যদি কোন বই ভাল লাগে বা নতুন কোন বইয়ের খবর যদি কেউ জানেন তবে আমাকে বললে আমার খুব ভাল লাগবে।

বইপাগলা

আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় হল আমি বাঙ্গালি এবং একজন মানুষ। আমি বই পড়তে এবং কার্টুন দেখতে ভালোবাসি। আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে কারন আমার খুব আবাক লাগে এবং গর্ব বোধ হয় এটা ভাবতে যে আমাদের দেশে একদিন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, কি অসসসসসসসসসসাসাসাধারন ইতিহাস, কি অসম্ভব সাহসিকতা। তাছাড়াও গোয়েন্দা কাহিনী, থ্রিলার ইত্যাদি পড়তেও ভাল লাগে। আমার আড্ডা মারতেও খুব ভাল লাগে।

বইপাগলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি....

২০ শে মে, ২০১৩ বিকাল ৪:০৯

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যে কত প্রতিভা লুকিয়ে আছে তা আসলে চিন্তারতীত।

এরকমই এক বিরল প্রতিভার সাথে আমাদের দেখা হয়ে গেল “হানিফ” বাসের মাধ্যমে।

(যদিও তার যা প্রতিভা সে অনায়াসে হেলিকপ্টার চালক হতেপারতেন, কিন্তু ভাগ্য দোষে সে আজ স্থলে আছেন। যদিও তিনি যদি আকাশ পথে কোন যান চালাতেন তাহলে হয়ত আকাশের আর কোন পাখি জীবিত থাকত না।)

যাই হোক, আসল কথায় আসি,

আমি আর আমার বন্ধু উঠলাম বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে “হানিফ” বাসে (অবশ্যি অন্য কন বাসের টিকিট না পেয়ে)

বাস যখন ছাড়লো তখন খুব ই আনন্দ লাগছিল বাসায়ে যাচ্ছি............ কিন্তু মাত্র ২০ মিনিট পরই যখন নিজের চোখের সামনে “ফুড ভিলেজ” দেখলাম তখন খুব ই অবাক লাগছিল কারন যা ১.৩০ ঘন্টা পর আসার কথা তা কিভাবে এখন আমার সামনে? দুর্ভাগ্য আমরা তখনো আমরা জানতাম না আমাদের জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে।

খাওয়ার বিরতি এর পর বাসে উঠে আবিস্কার করলাম আমাদের বাসের ড্রাইভার হয়ত ডিজনিল্যান্ড এ রোলার কোস্টার চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, আর মাঝে মাঝে সখের বসে “হানিফ” এ বাস চালান। ক্স্রন তিনি যেভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন আমাদের বহু বছরের ডিজনীল্যান্ড এ যাওয়ার ইচ্ছা পুরন হয়ে যাচ্ছিল।

তার প্রতিভা এতই অসাধারন যে তিনি কাউকেই সাইড দিচ্ছিলেন না। গাড়ি তো নয়ই এমনকি কোন ধরনের পশু পাখিকেও নয়। কত ছাগল, ভেড়া এবং গরু যে অনার অসাধারন প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে গিয়ে প্রান দিল তার ইয়ত্তা নেই।

এই মহা প্রতিভাধর ব্যক্তি পুরো বাসের সকল যাত্রির মধ্যে একতা স্থাপন করতে পেরেছিলেন। প্রত্যেক যাত্রি সকল কাজ বাদ দিয়েও সামনের দিকেতাকিয়ে ছিলেন। এমনকি পাশের জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য না দেখেও সবাই সাম্নের বিভিন্ন গাড়ীর ভিন্নভাবে অভারটেক হওয়া দেখছিলেন।

কিন্তু সবুজ রঙের এক গাড়ী আমাদের এই বাস কেও অতিক্রম করে চলে গেল এবং তখন আমাদের প্রতিভাবান বাস চালকের মুখে নেমে এল ঘনকালো আধার।

সে এই সবুজ গাড়ী কে অতক্রম করার জন্য একবার প্রায় খাদে ই পড়ে যাছিল, তাতে কি? বাস ভর্তি যাত্রী মারা যাক কিন্তু গাড়িটাকে তো ওভারটেক করতেই হবে। (শেষ পর্যন্ত অবশ্য গাবতলি তে এসে গাড়িটাকে হারাতে পেরেছিলেন :) )

আমরা বুঝ তে পারছিলাম না আমরা জীবিত বাসায় পৌছাতে পারব নাকি, আমরা আমাদের ভাণ্ডারের সকল দোয়া দরূদ পড়তে শুরু করলাম।

আল্লাহ ছাড়া এই প্রতিভাবান ব্যক্তির প্রতিভা আর কে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন?

বাসের সামনে বসে থাকে সুপারভাইজার মোটামুটি সুপারম্যানের ভাব নিয়ে বসেছিলেন, যেন কোন এক্সিডেন্ট হলে তিনি একাই দুটো বাস কে ধরে ফেলবেন।

ঢাকায় ঢোকার পর আমাদের প্রতিভার আধার একটু থামলেন, এর ফলে আমরা সহি সালামতে পৌছাতে পারলাম, অক্ষত অবস্থায়।

নামার সময় আমি “প্রতিভাবান ব্যক্তির” সাথে সাক্ষাত করে বললাম-

“ভাই এর পর সবাই কে আপনার বাসে ওঠানোর সময় দয়া করে তওবা করে ওঠাবেন, যা অসাধারন চালান বেচে থাকার সম্ভাবনা তো খুব ই কম”

তিনি আমাকে এমন এক হাসি উপহার দিলেন, যেন তিনি খুব ই খুশি হয়েছেন।

সবার উদ্যেশ এ বলা “হানিফ” এর গাড়িতে অঠার আগে অবশ্য ই সবার থেকে বিদায় নিয়ে নেবেন এবং তওবা করে উঠবেন। কে জানে কখন আপনিও কোন প্রতিভাবান এর দেখা পেয়ে যান।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.