নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কেয়ার জন্য উৎসর্গীকৃত ব্লগ।

দানবিক রাক্ষস

অন্ধদের রাজ্যতে এক চোখা মানুষটি রাজা এবং আমি সেই রাজা। না ঈশ্বর, না পিশাচ—আমি তৃতীয় বিশ্বাস।

দানবিক রাক্ষস › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক অলস দুপুরের পুরাকথা: কেয়া

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪



অনেকদিন আগে—
ধুলোর নিচে ঘুমিয়ে থাকা এক পুরোনো পুঁথিতে
পড়েছিলাম এক পরীর কথা।

তারপর কত দুপুর পেরিয়ে গেছে—
কত নদী নিজের নাম ভুলে সমুদ্রের দিকে নেমেছে,
কত পাখি শীত শেষে ফিরে এসে
আমাকে আর চিনতে পারেনি।

আমি তবু তাকে খুঁজেছি।
শালবনের নীরব ছায়ায়,
ধানের ক্ষেতে শেষ রোদের ভিতর,
ভেজা ঘাসের গন্ধে,
আর সেইসব পথের ধারে
যেখানে মানুষ কম,
স্মৃতি বেশি হেঁটে বেড়ায়।

আমি তাকে খুঁজেছি
শহরের ধুলোয়,
নদীর ভাঙা ঘাটে,
রাতের শেষ ট্রেনের জানালায়,
অচেনা মুখের ভিড়ে—
যেখানে মানুষ ছিল,
কিন্তু অলৌকিকতা ছিল না।

পৃথিবী আমাকে কিছুই দেয়নি—
শুধু দীর্ঘ বিকেল,
কিছু ঝরা পাতা,
আর নামহীন এক অপেক্ষা।

তারপর একদিন—
অলস দুপুরের ভাঙা রোদের ভিতর
হঠাৎ তোমাকে দেখলাম, কেয়া।

মনে হলো,
তুমি যেন এই পৃথিবীর নও;
বহু শতাব্দী আগে হারিয়ে যাওয়া
কোনো বিস্মৃত উপকথা
মানুষের মুখ ধার করে
আজ আমার দিকে হেঁটে এসেছে।
সেদিন আকাশে
কোনো দেবদূত নামেনি।
পৃথিবীও থেমে যায়নি।
শুধু আমার সমস্ত অবিশ্বাস
এক মুহূর্তে
নিজের কবর নিজেই খুঁড়ে ফেলেছিল।

তুমি কিছু বলোনি।
তবু তোমার নীরবতার ভেতর
অসংখ্য অরণ্য দুলছিল;
তোমার চোখে ছিল
এমন এক দূরের আকাশ,
যেখানে হয়তো
হারিয়ে যাওয়া পাখিরা এখনও ফিরে আসে।

সেদিনের পর
আমি আর পরীর গল্প পড়ি না।
কারণ বইয়ের সব পুঁথির কাহিনি
শেষ পর্যন্ত কালি আর কাগজেই বেঁচে থাকে;
কিন্তু তুমি—
আমার ভেতরে
একটি অসমাপ্ত ভূমিকম্পের মতো,
আজও থামোনি।

সেদিনই বুঝেছিলাম—
পৌরাণিক পরীরা আকাশে থাকে না;
তারা হঠাৎ
মানুষের রূপ নিয়ে
এক দুপুরে সামনে এসে দাঁড়ায়,
তারপর
সন্ধ্যার অস্পষ্ট আলো হয়ে
নিঃশব্দে মিলিয়ে যায়।

এখনও যখন
কোনো নিঃসঙ্গ দুপুর
গাছের ছায়া দীর্ঘ করে,
আমি থেমে যাই।
মনে হয়—
ঈশ্বর যদি কোনোদিন
তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির প্রদর্শনী করতেন,
তবে তিনি কোনো স্বর্গদূত পাঠাতেন না।
তিনি শুধু
একটি দুপুর পাঠাতেন—
আর সেই দুপুরের মধ্যে
তোমাকে।

হয়তো কেয়াও
তেমনই এক পুঁথির কাহিনি—
যাকে ছুঁয়ে দেখা যায় না,
অধিকার করা যায় না,
শুধু সময়ের দীর্ঘ নদী পেরিয়ে
নিঃশব্দে বহন করে নিয়ে যেতে হয়।

হয়তো একদিন
আমার সমস্ত স্মৃতি ঝরে যাবে,
নদীরা আবার নাম বদলাবে,
পাখিরা আর কোনো আকাশ চিনবে না।

তবু এক অলস দুপুর
পৃথিবীর ইতিহাসে থেকে যাবে—
কারণ সেদিনই
আমি জেনেছিলাম,
সব পুরাকথা
পুঁথিতে লেখা থাকে না;
কিছু পুরাকথা
মানুষের চোখ নিয়ে
একবার পৃথিবীতে আসে,
তারপর চিরকাল
স্মৃতির ভেতর বেঁচে থাকে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.