| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দানবিক রাক্ষস
অন্ধদের রাজ্যতে এক চোখা মানুষটি রাজা এবং আমি সেই রাজা। না ঈশ্বর, না পিশাচ—আমি তৃতীয় বিশ্বাস।
আমার পৃথিবী,
যেখানে সূর্য ওঠে, অথচ সকাল আসে না।
যেখানে আলোর প্রতিটি কণা বয়ে বেড়ায় মৃত নক্ষত্রের দীর্ঘশ্বাস,
আর সময়—
নিজের অস্তিত্ব ভুলে অনন্ত শূন্যতার বুকে ঘুমায়।
হে সূর্যদেব!
থামাও তোমার সপ্তাশ্ববাহিত অগ্নিরথ,
তোমার প্রখর তেজেও আমার আত্মা জমে যায় বরফে।
আমি দেখেছি—
দীপ্তিমান নক্ষত্রেরও মৃত্যু হয়,
মহাশূন্যের বুকেও জন্ম নেয় হাহাকার,
অথচ মানুষের অশ্রু কখনো পৌঁছায় না ঈশ্বরের সিংহাসনে।
আমি হেঁটেছি এক সমুদ্রের তীরে,
যার বুকে এক ফোঁটা জল নেই।
দেখেছি মরুভূমির আকাশে অবিরাম বৃষ্টির শোকযাত্রা।
সেখানে মৃত ফুলেরা সুবাস ছড়ায়,
আর
জীবিত মানুষেরা নিজেদের কবর খুঁড়ে অমরত্বের নেশায়।
তুমি কি শুনতে পাও আমার বুকের ভেতর নক্ষত্রের বিস্ফোরণ?
তুমি কি দেখতে পাও আমার চোখে জমে থাকা সহস্র আলোকবর্ষের অন্ধকার?
আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
যেভাবে অন্ধকার ভালোবাসে শেষ প্রদীপটিকে,
যেভাবে মৃত্যুপথযাত্রী নক্ষত্র আঁকড়ে ধরে তার শেষ আলোকরশ্মি।
আর তুমি বলেছিলে—
এসবই অবাস্তব, অলীক কল্পনা।
অথচ আমার ভালোবাসা —
মহাশূন্যের মতোই অসীম,
অস্তগামী সূর্যের মতোই সত্য।
কী করে তুমি অস্বীকার করো আমার চোখের এই অশ্রু?
এ তো তোমারই জন্য নিবেদিত অর্ঘ্য।
কী করে তুমি বন্দি করে রাখো এমন এক হৃদয়,
যে শুধু তোমার কাছেই মুক্তি চেয়েছিল?
কী করে তুমি বিশ্বাস করো না আমার ভালোবাসার সত্যতাকে?
তাই আজ আমি নিজের হৃদয়কে দিয়েছি নির্বাসন,
এক নামহীন নীহারিকার গভীরে।
সেখানে কোনো বসন্ত নেই, নেই কোনো পুনর্জন্ম,
আছে শুধু অভিষাপের শৃঙ্খলে বন্দি এক অনাগত আত্মার আর্তনাদ।
আমি আর মুক্তি চাই না।
চাই না স্বর্গের প্রতিশ্রুতি,
চাই না অমরত্বের অভিশাপ।
শুধু একবার তোমার হাত ধরে হাঁটতে চাই মৃত নক্ষত্রের ধুলোর ওপর,
যেখানে সময়ের কোনো অধিকার নেই,
যেখানে ঈশ্বরও নীরব দর্শক।
তারপর—
নিঃশেষিত গ্রীষ্মের হৃদয়ে
আমি ঘামি এক অদৃশ্য শীতে।
জীবনের সমস্ত দীপ্তি ম্লান হয়ে আসে,
শুকিয়ে যায় সুন্দরতম অশ্রুরাও।
আমি যেন জলহীন এক সমুদ্র,
বৃষ্টিস্নাত এক মরুভূমি।
আমার সমস্ত অস্তিত্ব এক অসম্ভব বৈপরীত্যের নাম।
এসো, এই নিঃসঙ্গতার গভীরে,
আমার সঙ্গে ডুবে যাও অনুভূতির অতলে,
তারপর ভান করো— যেন কিছুই ঘটেনি,
যেন কোনো হৃদয় ভাঙেনি, যেন কোনো অশ্রু ঝরেনি।
তোমার চিন্তার ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের সমস্ত সত্য হারিয়ে যাক।
আমার আত্মা আজ পাথরের মতো নিশ্চল,
চোখের দৃষ্টি বিস্ফারিত,
তবু আমি ভেঙে চলেছি আমাকে ঘিরে থাকা শিকল।
তোমার নীহারিকার চারপাশে কে যেন বেঁধে রেখেছে আমার অস্তিত্ব।
আমি যেন নিজের কাছেও অপরিচিত, নিজের ভেতরেই প্রবেশ করতে অনিচ্ছুক এক আত্মা।
তবু তোমার দিকে হাত বাড়াই।
তুমি কি আমার হাত ধরবে?
আমার সঙ্গে পাড়ি দেবে এই অনন্ত মহাশূন্যের পথ?
তুমি কি শীতের ফুল ফোটার দিনে আমার সঙ্গে নাচবে?
তুমি কি অনুভব করবে সেই উত্তাপ, যা বরফের নিচেও বেঁচে থাকে?
এসো, আমার এই অসম্ভব অবাস্তব, অলীক পৃথিবীতে ।
আমার সঙ্গে হারিয়ে যাও তোমারই চিন্তার ঘূর্ণিঝড়ে।
তারপর ভান করো— যেন কিছুই ঘটেনি।
অথচ তুমি জানবে,
এই অনন্ত মহাশূন্যের কোথাও একটি হৃদয় এখনো তোমার জন্য অপেক্ষা করে।
যেখানে সূর্য প্রতিদিন উদয় হয়, অথচ অন্ধকার কখনো শেষ হয় না।
যেখানে ভালোবাসা সত্য, অথচ সেই সত্য তোমার কাছে অবাস্তব , আলীক কল্পনা ।
যেখানে দিবালোকও কাঁদে।
©somewhere in net ltd.