নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাংলা আমার স্বপ্ন

মানুষগুলো সব ডিমের মতো। বাইরের খোসা শক্ত কিন্তু ভেতরে আছে কুসুম নরম মন।

ডিমলু

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র। নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র।

ডিমলু › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক দফা এক দাবি, বাঁচাও দেশ বাঁচাও রাবি

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:০১

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উচ্চতর শিক্ষার এমন এক প্রতিষ্ঠান যেটি কিনা দেশের মেধাবী সন্তানদের স্বাধীনভাবে জ্ঞান চর্চার একমাত্র প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে এ দেশেরই শ্রমিক-কৃষকের ঘামের টাকা দিয়ে! ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছেলে মেয়েদের সাথে এ দেশের আপামর জনগনের একটা আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে দেশের এই জনগনের সাথে অন্যায় করতে যেয়ে শাসকশ্রেণী সবার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্র ছাত্রীদের বাধার সম্মুখীন হয়। এরা কস্মীনকালেও কোন অন্যায় মেনে নেয় নি; নিবেও না যতদিন পাবে স্বাধীনভাবে জ্ঞান চর্চার অধিকার। তাই এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতেই শাসক নিয়ন্ত্রিত ইউ জি সি করল মহাপ্ল্যান- ২০২৬ সাল নাগাদ দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নাকি নিজের খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে! পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রসাসনযন্ত্রে বাণিজ্যকরনের মহাপ্ল্যান পুশ ইন করে দিতে হবে। মানে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হবে একই মুদ্রার দুইটা পীঠ। বস্তুত নাম ছাড়া কামে তাদের আর কোন পার্থক্য থাকবে না! তবুও এমন না যে তখন জনগণকে ট্যাক্স দেয়া বন্ধ রাখতে হবে। গরীবের ঘামের টাকায় ঠিকই পড়বে বড়লোকের সন্তানেরা। তখন শিক্ষা চলে যাবে গরীব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগালের বাইরে বড়লোকদের হাতে। ভার্সিটি কাম্পাসে চলবে সার্টিফিকেটের নীল চাষ। শিক্ষা হয়ে পড়বে বাজারের নীল পণ্য। টাকা থাকলে পাবেন আর না থাকলে চেয়ে চেয়ে দেখবেন। দেশ হয়ে পড়বে মেধাহীন। শাসকদের হবে পোয়াবারো অবস্থা।







আর এই নীলপ্ল্যানের প্রথম ধাক্কা এসে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে! এর ফাঁদে পা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী! তাদের সামনে ঝুলিয়ে দেয়া হল টাকার কাল্পনিক মুলা। ন্যায়-নীতির ধারক শিক্ষকমণ্ডলী ভুলে গেলেন তাদের অতীত; তাদের এই পর্যায়ে আসার সংগ্রামী ইতিহাস। তাদের সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের কথা ভুলে গেলেন বেমালুম। ভুলে গেলেন তাদেরই নিষ্পাপ আর নিরীহ প্রতিচ্ছবিগুলোকে! ভুলে গেলেন তাদের অধিকারের জন্যই একদিন জোহা স্যারও প্রাণ দিয়েছিলেন। অথচ তারা অবস্থান নিলেন জোহা স্যারের নীতির বিরুদ্ধে; ছাত্রছাত্রীদের অধিকারের বিরুদ্ধে।



এর সাথে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ আবার মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ব্যয়ভারও বহন করতে হবে নিরীহ এই ছাত্র-ছাত্রীদের।



তাই রাতারাতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়া হল সব ধরনের ফী আর চালু করা হল সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক মাস্টার্স কোর্স।





সান্ধ্যকালীন কোর্সের ব্যানারগুলো পাল্লা দিচ্ছে শহরের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারের সাথে। এর চাইতে খারাপ আর কি হতে পারে? তার উপরে সান্ধ্যকালীন কোর্স করাতে হবে নিয়মিত শিক্ষকদেরই। ফলে তারা বাণিজ্যিক ক্লাসেই থাকবেন ব্যাস্ত। গবেষণার আর সময় থাকবে না তাদের। উপরন্তু ক্লাস,পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশ আরও অনিয়মিত হয়ে পড়বে। হালকা হয়ে পড়বে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক।



সবকিছু মিলিয়ে হয়তো শিক্ষকেরা অতিরিক্ত কিছু টাকা পাবেন কিন্তু আত্মিক শান্তি পাবেন কি? হয়তো বাড়ি কিনবেন,গাড়ি কিনবেন। কিন্তু সেই গাড়ি পরিণত হবে অন্যায়ের ষ্টীম রোলারে! তারা হারাবেন সমাজের শ্রদ্ধা। ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসা। এসব ফী যদি যৌক্তিকভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হত তাহলেও ছাত্র ছাত্রীদের কোন আপত্তি ছিল না।



তারা এমনিতেই নানা সমস্যাই জর্জরিত। তাদের এসব সমস্যা তুলে ধরার কোন প্লাটফর্ম নেই। নেই রাকসু-টি এস সি। তাই তাদের এই সন্তানতুল্য ছাত্র ছাত্রীদের সামনে আর কোন পথ খোলা ছিল না। তারা তাদের নিজেদের ও ছোট ভাই-বোনদের কথা চিন্তা করে; দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে নেমে আসলো প্যারিস রোডের পিচঢালা রাজপথে।







বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে। বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্য কোর্স বিরোধী আন্দোলন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী মিলিত হচ্ছে সাবাশ বাংলাদেশের পাদদেশে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করছে পুরো ক্যাম্পাস। ন্যায়ভ্রষ্ট কিছু শিক্ষকদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে 'সান্ধ্যকোর্স এবং বর্ধিত ফি বিরোধী ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ' । ভার্সিটির সবচেয়ে চুপচাপ মেয়েটি পর্যন্ত আজ গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিচ্ছে-এক দফা এক দাবি- বাঁচাও দেশ,বাঁচাও রাবি!









কিন্তু দুঃখের বিষয় এত বড় অহিংস এবং প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ গিয়ে পড়ে নি কোন খবরের পাতায়; পড়ে নি কোন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। দুই গজ ব্যানার নিয়ে চার পাঁচ জনের রাজনৈতিক মিছিলের খবর এরা প্রচার করবে; এদের ককটেল ফোটার দৃশ্য ধারনের জন্য ঘণ্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করবে। কিন্তু পাঁচ- ছয় হাজার অহিংস ছাত্র ছাত্রীদের এই বিশাল আন্দোলনের খবর তারা প্রচার করবে না। অথবা করতে দেয়া হচ্ছে না। কারণ এই আন্দোলনের রেশ যাতে অন্যান্য ক্যাম্পাসে গিয়ে না পৌঁছে। অথচ এই মহাপ্ল্যানের ছোবলের শিকার হতে হবে কিন্তু দেশের অন্যান্য পাবলিক ভার্সিটিগুলোকেও। তাই এই আন্দোলন শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে না; দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই এই আন্দোলনের সুফল আসবে। নতুবা সাময়িক মিথ্যা আশ্বাসেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই আন্দোলন।



তবে আন্দোলনকারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেন এই আন্দোলনে পলিটিকাল কোন পার্টি কোনভাবেই যেন প্রবেশ করতে না পারে। একটা দল চাইবে এই আন্দোলনের সুবিধা নিতে; আরেকটা দল চাইবে এই আন্দোলনকে ভুন্ডুল করতে। যোগ্য নেতৃত্ব দিতে না পারলে এই ছাত্র আন্দোলন ভেস্তে যেতে পারে। তাই আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষ থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।



ভাষা আন্দোলনের মাসে ভাষার দাবি ছিনিয়ে এনেছিল বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র-ছাত্রীরা। এই ভাষার মাসে তারাও তাদের ন্যায্য দাবি ছিনিয়ে আনবে দেশের সবগুলা পাবলিক ভার্সিটি এক হয়। তাদের বিজয় আসন্ন। তাদের জন্য রইল বিজয়ের অগ্রীম শুভেচ্ছা। আসুন আমরা একসাথে আওয়াজ তুলি-

"এক দফা এক দাবি- বাঁচাও দেশ বাঁচাও রাবি"

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৫:১৩

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:১৪

ডিমলু বলেছেন: এবার সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। রাবির পাশে দাঁড়াতে হবে

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.