নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলে যাব- তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।

হাবিব স্যার

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।

হাবিব স্যার › বিস্তারিত পোস্টঃ

পেট নয়, মনটা বড় করে দেশকে ভালোবাসুন

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:১০



"পেট নয়, মনটা বড় করে দেশকে ভালোবাসুন।" ধামরাই উপজেলার ইসলামপুর আর সাভার উপজেলার নয়ারহাটকে পৃথককারী নদীর পাশে একটা সাইনবোর্ডে কথাটা লেখা আছে। প্রথমে লেখাটা দেখে হেসেছিলাম সত্যি কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই এর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পেরে লজ্জিতও হয়েছিলাম। যে নদীর পাশে কথাটা লেখা আছে সেই নদীর কথাই ধরি, কি কুৎসিত এই নদীর পানি! নদীর পাশে বসে বুক ভরে নি:শ্বাস নেয়া তো দূরের কথা, নাক না ধরে দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর! শুধু এই নদী কেন, দেশের সব নদীরই প্রায় একই দশা! কোনটি দখলের কবলের পড়ে মরা খাল আবার কোনটির পানি কয়লার চেয়েও কালো। কিছুদিন ধরে নদী রক্ষার জন্য বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু যে সমস্ত কারখানার কারনে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে সেগুলোও কি ধ্বংস করা হবে? তাই যদি না হয়, তাহলে নদীর পরিধি বাড়িয়ে আর কি লাভ? নদী হয়তো বাঁচবে তবে তা ক্যান্সার বুকে নিয়ে!
গাবতলীর নদীর কথায় ধরুন, কি হাল এর! শিল্পায়নের ফলে আমরা উন্নত হচ্ছি ঠিকই তবে তা পরিকল্পিত নয়। আমাদের উন্নয়নের ভিত্তিটা মজবুত নয়।

দেশের অধিকাংশ নদীর পানি পোশাক কারখানার বর্জ্যের কারনেই দূষিত হচ্ছে। আমরা পোশাক খাতের উন্নতির কথা বলছি, এর থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্সের কথা বলে পত্রিকা গরম করছি, লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলে পোশাক শিল্পের প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলে ফেলছি, কিন্তু এর মাধ্যমে যে ক্ষতি হচ্ছে তাকে আমরা খুব সামান্যই সামনে নিয়ে আসছি! শুধু পোশাক কারখানার কথা কেন বলবো, সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানই তো একই কাজ করছে। শুধু নিজেরটাই বুঝছে। দেশের পেছনে বড় বড় বাঁশ দিয়ে কর প্রদানের প্রথম সাড়িতে থাকার সুবাধে তারাই আবার পদকও হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব দেখার দায়িত্ব কার? সরকারের, সাধারণ মানুষের নাকি কারখানা মালিকদের?

ছোট বেলায় পড়েছিলাম "মাছে-ভাতে বাঙ্গালী"। প্রবাদটা ভালো করে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন, এর প্রথমে কিন্তু আছে মাছের কথা। তার মানে আগে ভাতের তুলনায় নদীতে বেশি পরিমান মাছ পাওয়া যেতো। বাপ-দাদাদের কাছ থেকেও সেই গল্পই শুনেছি। কিন্তু এখন? নদীতে এখন কি আগের মতো মাছের দেখা পাওয়া যায়? প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীও হুমকির মুখে! এমন চলতে থাকলে আর কিছুদিন পর পদ্মার ইলিশও থাকবেনা। মাছে-ভাতে বাঙ্গালী কথার মতো পান্তা-ইলিশও হয়তো বই পুস্তকেই থাকবে। ইলিশের দাম হবে স্বর্ণসম। শুধু মাছের প্রসঙ্গই বা আনছি কেন! আমাদের স্বাস্থের উপর যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে তাও কি কম? পেটের ক্ষিদায় আমরা খাল-বিল খেয়েছি অনেক আগেই। এখন নদী খাচ্ছি! বাকি রইলো সমূদ্র। নজর এখন সেদিকেও। সব মিলিয়ে পেট বড় হচ্ছে, মনের পরিধি কমছে। বাংলা নববর্ষের এই দিনে সবার প্রতি আহবান, আসুন আমরা মনটাকে বড় করে দেশকে ভালোবাসি।

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:১৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বিষয়টা অত্যন্ত উদ্বেগের। আমি জানিনা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এতটা হাত গুটিয়ে থাকে কি করে। ইন্ডাস্ট্রি নিঃসন্দেহ কাম্য কিন্তু আধুনিক সমাজে বর্জ্য নিষ্কাশনের একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে ।। নদীর জলের এমন ভয়ানক রং দেখে তো শিউরে উঠলাম। নববর্ষের দিনে আপনার এই সার্থক আহ্বান হৃদয়াঙ্গম করলাম। যথার্থই তুলে ধরেছেন , "আমরা মনটাকে বড় করে দেশকে ভালোবাসি ।"


শুভকামনা ও ভালোবাসা প্রিয় হাবিব ভাইয়ের গোটা পরিবারবর্গকে।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২৪

হাবিব স্যার বলেছেন:




ভাইরে, কি বলবো...... কিছু কিছু নদীর পানি দেখলে কান্না আসে। মনটা চায় মিল মালিকদের ধরে এনে পানি গুলো পেটে ঢুকিয়ে দেই। ছবিতে তো ভালো দেখাচ্ছে...... বাস্তবতা যে এর চেয়েও ভয়াবহ। আমি আপনি সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি কারখানা মালিকদের সচেতনতা জরুরী।

আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক।

২| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২০

তাজেরুল ইসলাম স্বাধীন বলেছেন: দেশের প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশনা ! হা হা হা...... সিরিয়াসলি নিবেন না।
অন্যের মাথা দিয়ে চলতে চলতে নিজেদের অস্তিত্ব ফেলেছে হারিয়ে নেতৃত্বাধীন মানুষেরা।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২৫

হাবিব স্যার বলেছেন: আপনি যথার্থই বলেছেন। এর দায়ভার নিবে কে?

৩| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: হাবিব স্যার,




মনটাকে যে নদীর মতো কালো আবর্জনায় দুষিত করে করে এই এতোটুকুন করে ফেলেছি! সেটাকে বড় করার সাধ্যি আমাদের নিজেদেরও নেই। পেটের জন্যেই তো বেঁচে থাকা- সেটা গলা পর্য্যন্ত ভরাতে পারলেই আর চাই কি ! এটাই তো মোক্ষ!

"নদী মরে মরুক , মানুষ মরে মরুক শুধু আমি আর আমার সন্তানেরা যেন থাকে দুধে-ভাতে" - এটাই যখন সংস্কৃতি হয়ে গেছে তখন আপনার-আমার কথা অরণ্যে রোদন মাত্র.....................

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৪

হাবিব স্যার বলেছেন: আহমেদ জী এস, যারা এমন অবিবেচকের মতো কাজ করে করে নদীগুলোকে খাচ্ছে তাদের সমস্ত শরীরটাই পেট। ওটা মাটি ছাড়া কিছুতেই বড়বে না। অরণ্যে রোদন জেনেই যে বলা...... কারন খুবই কষ্ট লাগে নদীগুলোকে দেখলে।

৪| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৪২

নাহিদ০৯ বলেছেন: সর্বোচ্চ করদাতা পদক এর পাশাপাশি সর্বোত্তম রিসাইকেল করা প্রতিষ্ঠানকে পদক দেয়া দরকার। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কৃতিত্ব নিয়ে পুরস্কার দেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে উৎসাহিত করার দায়ীত্ব টা বানিজ্য মন্ত্রনালয় করবে এমনটা আশা করি।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫১

হাবিব স্যার বলেছেন: প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার মামলা হয় পরিবেশ অধিদপ্তরে.... কারখানাগুলো ধার্যকৃত জরিমানার টাকা আদায়ও করে। কিন্তু তারা তো জরিমানা করেই খালাস। আর তাইতো মিলমালিকেরা শুধরোই না। আপনার কথাটাও ঠিক আছে। এমন ব্যবস্থা থাকলে অনেকেই উৎসাহিত হবে, কিন্তু দূষণ দূর হবে বলে মনে হয় না।

৫| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৪

জুন বলেছেন: আমাদের রাক্ষুসে পেট সহজে ভরার নয় হাবিব স্যার। মন থাকলেতো বড় করবো। আর মন যদি থাকেও তা নিজ পরিবার আত্নীয় চৌদ্দগোষ্ঠির প্রতি ১০০% নিবেদিত।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৩

হাবিব স্যার বলেছেন: জুন আপু, স্বজনপ্রীতি বাংলাদেশের জন্য এক বিষফোঁড়া। মুখে আমরা দেশপ্রেমের বুলি আওড়াই ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে আমারই পরিবেশের বারোটা বাজাই।

৬| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: শুভকামনা নিরন্ত।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

হাবিব স্যার বলেছেন: নববর্ষের শুভেচ্ছা.....।

৭| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৩

সায়ন্তন রফিক বলেছেন: যাদের পেট বড় হয়ে গেছে, তাদের মন বড় হওয়ার জায়গা নেই। তবুও আহবান চলতে থাক।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৯

হাবিব স্যার বলেছেন: তাহলে দেশের কি হবে?

৮| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: হিংস্র হায়েনাদের আক্রমনে দেশ আজ ধুলিস্যাত প্রায়।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪২

হাবিব স্যার বলেছেন: আমরা যারা সহ্য করছি তারাও যে সমান অপরাধী.........

৯| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪৭

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: লেখক বলেছেন: আমরা যারা সহ্য করছি তারাও যে সমান অপরাধী.........

এখন উপায়?

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৩

হাবিব স্যার বলেছেন: সরকারকে কঠোর হতে হবে।

১০| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: A good post indeed

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: ধন্যবাদ সাজ্জাদ ভাই।

১১| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৬

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: আসলেই। পেটা না মন বড় করে আমাদের দেশের সেবা করা উচিত।

শিল্পায়ন এর ফলে দেশ উন্নত হচ্ছে, তবে তা সুপরিকল্পিত ভাবে নয়। যথার্থ বলেছেন।

ইলিশের দাম এখনই তো স্বর্নসম। ১ টা ইলিশ কিনতে ৩-৫০০০ লাগে। স্বর্নের চেয়ে কম কই...?

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৫

হাবিব স্যার বলেছেন: ঠিকই বলেছেন। স্বর্ণের চেয়ে দাম কোন অংশে কম নয়। এখনতো বছরে একবার দাম বাড়ে, আর কয়েকদিন পর সব সময় এমন দাম থাকবে।

১২| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৩

আরোগ্য বলেছেন: নদীর পানির গন্ধই বলে দেয় কতটা পরিস্কার। দিনে দিনে এদেশের সবকিছুই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

হাবিব স্যার ও তার গোটা পরিবারকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৭

হাবিব স্যার বলেছেন: শিল্পকারখানার নিয়ন্ত্রণ জরুরী। আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে।

আপনি ও আপনার পরিবারের উপর শান্তি বর্ষিত হোক আরোগ্য।

১৩| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:০৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
টেমস নদীর পানিও শিল্পদুষনে একসময় বুড়ীগংগার চেয়েও খারাপ ছিল।
পরে প্রতিটি কারখানাকে বাধ্য করা হয়েছিল ড্রেনের মুখে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করতে। এরপর টেমসের পানি এখনো টলটলে

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৮

হাবিব স্যার বলেছেন: আমাদের দেশেও সে ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু যারা এ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করবে তাদেরই তো নিয়ন্ত্রণ নাই! করবে কে?

১৪| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৬:২৩

বলেছেন: সহমত প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নাই।


বললেও কেউ দেখার নাই।

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯

হাবিব স্যার বলেছেন: চুপ থাকাই কি সমাধান? আবার কথা বললেই বা কে শুনবে?

১৫| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫৭

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: সবই তো সিস্টেমেটিক। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক যায় পরিদর্শন করতে। তারপর বিরিয়ানী, আপেল, কমলা, ঘুষ খেয়ে সব কিছু ঠিক আছে সার্টিফিকেট দিয়ে চলে আসে...

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৫

হাবিব স্যার বলেছেন: পকেট গরম করে দিয়েই তো খাইলো দেশটারে....... পেট নীতিতে দেশ চলে। আপনার কথা একদমই ঠিক.......

১৬| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১০

অন্তরা রহমান বলেছেন: আমার স্বামী এই পরিবেশ সংক্রান্ত কাজই করে থাকে। প্রায়ই এসব জিনিস নিয়ে বাসায় এসে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে। যেই প্রতিষ্ঠান কাজ করায়, সেই প্রতিষ্ঠান শুধু একটা সার্টিফিকেট চায়। ঐ পরিবেশের আসলে ভালো হোক বা মন্দ তাতে কিছু আসে যায় না। প্রখ্যাত একটি গ্রুপ প্রতি বছর এলাকায় তিনবার তাদের ফ্যাক্টরির বিষাক্ত রাসায়নিক অবাধে বের করে দেয়। এখন ঐ ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এলাকায় কোন জেলে নেই কারন মাছই তো নেই, চর্মরোগ ঘরে ঘরে। এগুলো আসলেই দেখার কেউ নেই।

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হাবিব স্যার বলেছেন: মরলে পাবলিক মরুক...... ওরা তো সব এসি গাড়িতে চড়বে। আপনার স্বামী কি পরিবেশ অধিদপ্তরে জব করে নাকি?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.