নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলে যাব- তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।

হাবিব স্যার

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।

হাবিব স্যার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছড়া:- কেমন করে বদলে গেলো?

১১ ই জুন, ২০২১ দুপুর ১২:৩১



বর্ষা এলো সবুজ ঘাসে বৃষ্টি পরে ঝুম ঝুমিয়ে
বন্ধুরা সব খেলার মাঠে থাকছি না তো আর ঘুমিয়ে।
মায়ের বাঁধা শুনছে কে আর চলছে খেলা সকাল দুপুর
বৃষ্টি এসে দস্যি পায়ে দেয় পরিয়ে সোনার নুপুর।
সর্দি কাশি আসবে পিছে ওসব থুরাই কেয়ার করি
দলবেঁধে যাই গায়ের শেষে ছোট্ট নদী সাঁতরে পাড়ি।
আম পেরে খাই জাম পেরে খাই উঁচু গাছের শাখায় উঠি
ইচ্ছে হলে আনন্দকে আনছি ডেকে নিচ্ছি লুটি।

রঙ বেরঙের নানান ফলে সুবাস ছাড়ে জৈষ্ঠ্য মাসে
রাঙিয়ে তুলি মন মিতালি মিষ্টি পাকা ফলের রসে।
কদম বকুল শিউলিমালা হাসনাহেনা ফুল কুড়িয়ে
গাঁথছি মালা চিকন সুতোয় পুতুল সোনার দিচ্ছি বিয়ে।
বাজছে সানাই তাল পাতাতে বর আসছে পালকি নিয়ে
কেউবা আবার গীত বানছে মনের সুখে ইনবিনিয়ে।
ইচিং বিচিং হলুদটোকা ডাংগুলি আর লুকোচুরি
গোল্লাছুটে কি আনন্দ কেউবা আবার সাজছে পরি!
বাঁশের গাড়ি চড়ছি কেহ টানছি আবার মনের সুখে
নিজের মনে নিজেই রাজা আনন্দ সব থাকছে বুকে।
সন্ধ্যা হলে অন্ধকারে ছনের ঘরের উঠোন জুরে
গ্রামগুলো সব উঠতো সেজে জোনাক পোকার আলোয় ভরে।
প্রজাপতি মেলতো পাখা মৌমাছিরা ফুলের বুকে
আনতো মধু পড়তো রেনু সাজতো তারা আপন সুখে।

বন্ধুরা সব কে কোথা আর আনন্দ সব কই পালালো
কোথা গেল বৃষ্টি খেলা সুখগুলো সব কই হারালো?
প্রাচীন খেলা জায়গা পেল পাঠ্য বইয়ের পৃষ্ঠা জুড়ে
সুখ হারালো ফেসবুকে আর ফ্রি ফায়ারে দেশটা পুড়ে!
টিকটকে আর পাবজি খেলে ধ্বংস হলো তরুণ কিশোর
যুবক যদি যায় বিপথে এমন জাতীর আসবে কি ভোর?

এখনো তো আগের মতোই বৃষ্টি নামে শ্যামল দেশে
বৃষ্টি আছে নদীও ঠিক আনন্দ কি তেমনি আছে?
কেমন করে বদলে গেল জলবায়ুর মতিগতি
মিথেন গ্যাসে ভরলো কেন এটাই কি হায় অগ্রগতি?
বাদল এলেই মেঘ গুড়গুড় শক্ত কঠিন বজ্রপাতে
নিত্যদিনই যাচ্ছে মারা দেখছি যে লাশ মাঠে ঘাটে!

মধুমাসে ফলের রসে মুখ রাঙাবো জো কি আছে
ধ্যাৎতেরি ছাই ভীষণ গরম কেমন করে জীবন বাঁচে?
কেমন করে বদলে গেল শ্রী হারালো সোনার এ দেশ
নদীর পানি কুচকুচে ক্যান দেখতে কেন লাগছে না বেশ?
সাঁতরে যাবো গাঁয়ের নদী উপায় কি তার একটু আছে
মৎস ভাতে বাঙালী সব এখনো কি আস্ত আছে?
জিডিপি আর রেমিটেন্সে কৃষি জমি নিচ্ছে কেড়ে
দালান কোঠা উঠছে সবি বৃক্ষগুলো ধ্বংস করে!

দে ফিরিয়ে সোনার স্বদেশ দে ফিরিয়ে ধানের জমি
বৃক্ষ লাগা নইলে পরে রোদের চোটে হচ্ছি মমি!
দে ফিরিয়ে গায়ের নদী শান্ত জলে সাতার কাটি
মৎস কোথায় দে ফিরিয়ে বিষাক্ত ক্যান জমির মাটি?
টাকা কড়ি যায়না খাওয়া এসব কথা বুঝবি কবে
হাওয়া খাবি জো আছে তার ছটফটিয়ে মরতে হবে!


ছবি: অন্তর্জাল

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুন, ২০২১ দুপুর ১২:৫৯

জগতারন বলেছেন:
"এতোদিন কোথায় ছিলেন?"
অনেক দিন পরে ব্লগে আপনার কবিতায় মুগ্ধ৷
আশা করি এখন থেকে আবার নিয়মিত হবেন৷

১২ ই জুন, ২০২১ ভোর ৫:৫২

হাবিব স্যার বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ জগতারন!
একটু ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম। আস্তে আস্তে ঠিক হচ্ছে।

২| ১১ ই জুন, ২০২১ দুপুর ১:৫৮

ইসিয়াক বলেছেন:


আস সালামু আলাইকুম।
ছড়া দারুণ হয়েছে প্রিয় হাবিব স্যার।

১২ ই জুন, ২০২১ ভোর ৫:৫৩

হাবিব স্যার বলেছেন: ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ। আশাকরি ভাল আছেন!

৩| ১১ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৪:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:



পদ্যে বলেছেন, আমাডের জীবনের ছন্দ বদলে যাচ্ছে, এবং তা ভালোর দিকে নয়; মানুষের জীবন খারাপের দিকে কেন মোড় নিয়েছে?

১২ ই জুন, ২০২১ ভোর ৫:৫৪

হাবিব স্যার বলেছেন: আবার পড়লে বুঝতে পারবেন আশা করি

৪| ১১ ই জুন, ২০২১ রাত ৮:০৫

বিবাগী শাকিল বলেছেন: দারুণ লাগলো। পড়তে বেশ আরাম লেগেছে। সবই হক কথা।

১২ ই জুন, ২০২১ ভোর ৫:৫৪

হাবিব স্যার বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য। ভালো থাকবেন।

৫| ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ১২:৪৪

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: দারুন হয়েছে ভাইয়া জি

১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৫০

হাবিব স্যার বলেছেন: অনেক অনেক থ্যাঙ্কস আপুজি

৬| ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

হাবিব স্যার এই কবিতাটি কোন ক্যাটাগরীর
চতুস্পদী, পঞ্চপদী, অষ্টপদী, সনেট বহু কবিতার
নাম শুনেছি, এটার গঠন ধরনে এই কবিতাটিকে
কোন ক্যাটাগরীতে ফেলবো বুঝতে পারছিনা।

তবে কাব্যের কথাগুলো জুৎসই মনে হয়েছে
সে জন্য ধন্যবাদ।

১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৭

হাবিব স্যার বলেছেন: জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা পড়েছেন নিশ্চয়? সেইটা কোন ছন্দে রচিত বলুন তো।

কবিতা কাকে বলে? কবিতার ছন্দ কত প্রকার কি কি ?

কবিতার কথা: তিন প্রকার ছন্দ

দেখতে পারেন। দেখে বলুন তো আমার লেখা কোন ক্যাটাগরিতে পড়বে।

আমি আসলে কবিতার প্রকারভেদ অত ভালো জানিনা। কবিতা লেখার সময় মাথায় থাকে পাঠ্য বইয়ে পড়া ছন্দময় কবিতাগুলো।

যেমন: কবর কবিতা মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রতিটি লাইন তিন মাত্রায় ভাগ করা যায় এভাবে:

ঐ খানে তোর / দাদীর কবর / ডালিম গাছের তলে (৬+৬+৮)
তিরিশ বছর / ভিজিয়ে রেখেছি / দুই নয়নের জলে (৬+৬+৮)

এই কবর কবিতাটি কোন ক্যাটাগরীর? চতুস্পদী (চতুর্দশপদী), পঞ্চপদী, অষ্টপদী, সনেট?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.