নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চতুর্বর্গ

হেস্পারাস প্রবল

রক্তাক্ত বুকে এখনো লাশের মিছিল, অন্যায় অনিয়মের ধুরন্ধর পদাঘাত।

হেস্পারাস প্রবল › বিস্তারিত পোস্টঃ

যন্ত্রসভ্যতা দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৫ ভোর ৪:০৯

দেশের সবকিছুই এগিয়ে চলেছে সেখানে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলী এগিয়ে যাবে না/ পরিবর্তন হবে না একি হয়! আগে মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম ছিলো নৌকা। পরে বাই সাইকেল, মটর বাইকে না থেমে প্রাইভেট কারে গিয়ে ঠেকেছে। বাস, ট্রাক, হেলিকপ্টার, প্লেন, রকেট প্রভৃতি যান পথের দূরত্বকে করেছে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর। দেশের মিডিয়াগুলোও আগের তুলনায় ডিজিটাল হয়েছে। তবে কী কারণে বিটিভি আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে সে কারণের উত্তর শুধু আমি নই, দেশের ষোল কোটি মানুষের কাছেও অজানা রয়ে গেছে। সম্প্রতি অন্যগুলো মিডিয়া চ্যানেলগুলোও বর্তমানে বিটিভির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করেছে। হয়তো ডিজিটাল পদ্ধতি তাদের গলার কাটা হয়ে উঠেছে তাই উপায় না দেখে অবশেষে পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে। এনালগই ভালো। যাক বাঁচা গেল অন্তত 'বোবার শত্রু কম থাকে' এ নীতিই মিডিয়াগুলো গ্রহণ করেছে। কারণ কেউ দিগন্ত, ইসলামি, একুশে টিভি কিংবা আমার দেশ হতে চায় না।



যন্ত্র সভ্যতা মানুষকে মহান করেছে কিনা বলতে পারবো না তবে উন্নত যে করেছে তা নির্দ্বধায় বলতে পারি। এ কারণে পোশাক-পরিচ্ছদ ,কৃষ্টি-কালচার, আচার-আচারণ, খাদ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। হয়তো এজন্যই, মানুষ আগে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতো আর এখন করে ঘরে বসে। অফিস আদালতের অনেক কাজ এখন বাসায় বসে সফলভাবে শেষ করা যায়। অনেকে করছেনও। প্রাইভেট কার থেকে শুরু করে প্লেন পর্যন্ত ঘরে বসে কম্পিউটার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিদেশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে কম্পিউটার। যদিও আমাদের দেশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। অবশ্য বক্তিমানুষ না থাকলে চালকদের কাছ থেকে টাকা নিবে কে? অবৈধ পন্থায় টাকা উপার্জন করবে কে /কারা? সরি! ভুল বলেছি। এগুলো কোনো উপরি কিংবা অবৈধ উপার্জন নয় এগুলো "স্পিড মানি" কারণ এগুলো "কাজের গতি আনে।" যে টাকা কাজের গতি বাড়ায় সে টাকা কখনই অবৈধ নয়।



আমার প্রিয় জন্মভূমিতে সবকিছুই পরিপূর্ণভাবে রয়েছে। এখানে মেধার অবমূল্যায়ন, ঘুষ, দুর্নীতি, কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, খুন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, দমন পীড়ন, নির্যাতন, সীমান্তে গুলি করে মানুষ হত্যা, জনগনের মূল্যহীনতা, নির্বাক স্বাধীনতা ইত্যাদি যা গ্রাম থেকে শহরের অলিতে গলিতে খুঁজলে হরহামেশা পাওয়া যাবে। এতো কিছুর মধ্যেও একটি জিনিসের বড় অভাব। কোথাও খুঁজে সেটি পাওয়া যায় না। মনে করছেন এগুলো বলার পর আর কী বা বাকি থাকতে পারে! হ্যাঁ! অবশ্যই বাকি আছে। যার জন্য এ জাতি একাত্তরে তাজা রক্ত ঝরিয়েছে এখনও ঝরিয়ে চলেছে সেটির বড় অভাব। ঠিকই ধরেছেন আমি "গণতন্ত্র"র কথা বলছি। সরকারি কিংবা বিরোধি দলের সঙ্গায় এ অমূল্য জিনিসটিকে সঙ্গায়িত করবো না। যদিও আমাদের দেশের শাসক(বর্তমান ও বিগত) শ্রেণির কাছে এটিই একমাত্র মূল্যহীন বাকিগুলো গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য এটি পুনরুদ্ধারের জন্য হরতাল অবরোধ করছে বিরধি দল আর জীবন দিয়ে এদেশে জন্মের ঋণ শোধ করে দেশেপ্রেমিকের পরিচয় দিচ্ছে দেশের জনগণ। অসাধারণ আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পদ্ধতি। দেশ এগিয়েছে বটে কিন্তু মানুষ মারার পদ্ধতি কিংবা চিন্তা চেতনার পরিবর্তন এখনো হয়নি। রাষ্ট্রও এগুলো নিয়ে চিন্তিত নয়, চিন্তিত ক্ষমতা ধরে রাখার উন্নত পদ্ধতি আবিষ্কার নিয়ে। যদি তা না হয় তবে আমরা সীমান্তে শত শত লাশ পড়ার পরেও কীভাবে বলি "সীমান্ত হত্যা নিয়ে রাষ্ট্র উদ্বিগ্ন নয়।" আজ রাস্তায় লাশ, ঘরে লাশ, বাইরে লাশ, বাসে লাশ, ট্রাকে লাশ, স্কুলে লাশ, সীমান্তে লাশ তবু রাষ্ট্র উদ্বিগ্ন নয়। কারণ এসব লাশে ক্ষমতা থাকে না। ক্ষমতা থাকে পল্টনে পড়ে থাকা লাশের সংখ্যার ভিত্তির ওপরে। এখানে যে দল লাশের সংখ্যা গুণে গুণে বেশি দেখাতে পারবে সে দলের ক্ষমতা ততই পাকা পোক্ত ও টেকসই হবে। তা-ই সাধারণ জনগণ কখন কোথায় কীভাবে মরছে, মরেছে তা দেখার সময় রাষ্ট্রের নেই। গণতন্ত্র আজ পল্টন মোড়ে আটকে আছে, থমকে আছে দুদলের (বিএনপি, আওয়ামী লীগ) বাকবিতণ্ডায়, ক্ষমতা লড়াইয়ের মিছিলে, লাশের পাহাড়ে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও এদেশে গণতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক সরকার ও তার সহযোগীদের হাতে ন্যস্ত। প্রকৃত মালিক এখানে মূল্যহীন, চরমভাবে লাঞ্চিত একইসাথে নির্যাতিতও।



প্রথমে মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছি। আমি কখনো কারো বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যায়নি। অবশ্য যাওয়ার আশা থাকলেও পূরণ হয়নি। তবে যারা গেছে তাদের কাছ থেকে শোনা। আগে মেয়ে দেখতে গিয়ে মুরুব্বিরা যেসব প্রশ্ন করতেন: মেয়েকে উদ্দেশ্য করে, তোমার নাম কী? তোমার বাবার নাম কী? দাদার নাম কী? তোমার বাবা কী করেন? তোমরা কয় ভাই-বোন? তুমি কোন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছ? কুরআন পড়তে পারো কি না? পারলে একটি সূরা পড়ে শোনাও। নামাজ পড় কি না? কয় ওয়াক্ত পড়? রান্না করতে পারো কি না? পারলে কী কী রান্না পারো? স্বামীর সাথে কখনো ঝগড়া হলে কীভাবে কী করবে? একটি কাগজ দিয়ে বলতো ঠিকানা লেখ! চুল দেখা ও হেটে দেখানো ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু যুগের সাথে আমাদের চিন্তা-চেতনাগত পরিবর্তন এসেছে। প্রশ্ন ও মেয়ে দেখার ধরণও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন মেয়ে দেখতে গিয়ে যুবকরা যেসব প্রশ্ন করেন: তোমার নাম কী? তুমি কোন কলেজে/বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়? কোন ইয়ারে পড়? ব্যাকগ্রাউন্ড কোন গ্রুপ ছিলো? প্রিন্সিপালের নাম কী? ডিপার্টমেন্টের প্রধানের নাম কী? Translation করো 'সে চা খায়।' পড়া শেষে চাকরি করতে আগ্রহী কি না? বাবার কী কী আছে? (মনে মনে বিয়ের সময় কী কী দেবে? মটর বাইক দেবে কি না? প্রভৃতি) এখানে মেয়ে দেখতে যাওয়া দুই প্রজন্মের প্রশ্ন দু ধরণের। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখন মেয়ে দেখতে গিয়ে ভাইবা নেয়া হয়। মনে হয় মেয়ে চাকরির ভাইবা দিতে বসছে। যন্ত্র সভ্যতা আমাদের চিন্তাজগতকে উন্নত করেছে বটে তবে মহৎ করিনি। প্রকৃতপক্ষে যন্ত্রসভ্যতার নিচে পড়ে আমরা মনুষ্যত্বের জগত থেকে দূর থেকে বহুদূরে চলে যাচ্ছি।



যন্ত্রসভ্যতা মানুষের জীবন যাত্রার মানকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে যেমন সত্য, তেমনই এও সত্য যে মানবিকতা থেকেও বহুদূরে সরিয়ে দিয়েছে। আগের তুলনায় মানুষ নির্মম, নিষ্ঠুর হয়েছে তা-ই দিনে দিনে মানুষের মূল্যায়নও কমে যাচ্ছে। কেউ কেউ কারো সম্মান দেয় না মূল্যায়নও করে না। ছোটকালে বয়সের বড় হলেই তাঁকে সম্মান দিতাম কিন্তু এখনকার ছেলে-মেয়েরা সম্মান তো করেই না বরং এমন ভাব করে যে সে-ই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। পূর্বে একজনের বিপদে আর একজন এগিয়ে আসত আর এখন! এখন রাস্তায় কেউ মরে পড়ে থাকলেও দেখার লোক পাওয়া যায় না। অসাধারণ আমাদের আধুনিক সভ্যতা, ধন্য আমাদের যন্ত্রসভ্যতা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.