নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Ifti Khan Fahmi

Ifti Khan Fahmi › বিস্তারিত পোস্টঃ

★★★চন্দ্রাবতী★★★

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৩


সন ২০১০, নতুন ফেসবুক ইউজার ৷ সব
কিছুই অচেনা ৷ নতুন সব কিছুই
ভাল্লাগে, তেমনি এখানেও
ভাললাগাটা কাজ করে গেলো ৷ তার
মাঝে ভালো লাগলো একটা আইডি ৷
আর সেটা যথারিতি ফিমেইল আইডি
৷ আর তখনকার সময় ফেইক আইডিগুলার
সংখ্যা খুবই কম ছিল, এখনকার মত না ৷
-
তো আইডিতে দেওয়া মেয়েটির ছবি
ছিল অত্যন্ত সুন্দর ৷ যে কারোরই ভাল
লাগবে ৷ তো মেয়েটার আইডি মেইন
ছিল "নিশি রাতের কাব্যকথা" ৷
নামটা কেমন অদ্ভুদ লাগলো, আর
কিছুটা আগ্রহও বাড়লো সাথে কিছুটা
সন্দেহও বাড়লো ৷
-
তো সন্দেহের দিকে না গিয়ে,
ইচ্ছেটা আগ্রহের দিকেই গেল ৷
তারপর আস্তে আস্তে চ্যাট করার
পরিমান বেড়ে গেলো ৷ ১৭ তম দিনে
ফোন নম্বর আদান-প্রদান ঘটলো ৷
তারপর যখন সময় পাওয়া যায়, তখনই
ফোনে কথা হতো ৷ প্রাইভেসির জন্য
কোথায় পড়তো + রিয়েল নেইম
উল্লেখ না করি ৷ তবে আমি
চন্দ্রাবতী বলে ডাকতাম ৷ মেয়েটার
বাড়ি ছিল রাজশাহী বিভাগে,
ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থেকে
পড়াশুনা করতো ৷
-
অনেক কথা হতো ওর সাথে ৷ তাদের
ফ্যামিলি সম্পর্কেও অনেক কিছু
বলেছিল ৷ মেয়েটার বাবা-মা ছিল
না ৷ যখন তারা মারা যায় তার বয়স
ছিল ৮ বছর ৷ দুই ভাই ছিল তার ৷ দুই
ভাই ই তার থেকে বয়সে অনেক বড়
ছিল ৷ তাদের খেয়াল তাদের চাচা-
চাচী রাখত ৷ তো সব কিছুই ঠিক ছিল ৷
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই দুই ভাই বদলে
যেতে লাগলো ৷ এক সময় তাকে বাধ্য
হয়ে চলে আসতে হলো তাদের ছেড়ে ৷
তার ভাবীরা অনেক জ্বালাতন করত ৷
আর শেষ পর্যায়ে তো চুরির অপবাদও
দিল ৷ ওখান থেকে চলে আসার পর আর
কোথাও জায়গা হয় নি ৷
-
এরপর ঢাকায় চলে আসে ৷ তার কিছু
জমানো টাকা ছিল, কিছু গহনা ছিল,
আর যখন বাড়ি থেকে তাকে মিথ্যা
অপবাদে বেড় করে দেয়, তখন সে ১
লাখ টাকা সাথে করে নিয়ে চলে
আসে ৷
-
তারপর ঢাকায় এসে পরিচয় হয় তার
স্কুল লাইফের এক বান্ধবীর সাথে ৷
এরপর, তার সাথেই থাকা শুরু করে ৷
আর ছোটখাটো একটা জব নেয় ৷ আর
তার বান্ধবীর সাথেই পড়াশুনা করা
শুরু করে (কলেজের নামটা হাইড
রইলো ) তবে তার জবের ব্যাপারে
কখনোও কিচু বলতো না ৷ জিঞ্জেস
করলে এড়িয়ে যেতো ৷
-
তারপর,
৩৩ তম দিনের দিন আমরা দেখা
করার সিদ্ধান্ত নেই ৷ মেয়েটার জন্য
অনেক মায়া লাগতো ৷ তো সে
জানালো আগামী তিনদিন একটু ব্যস্ত
থাকবে ৷ তাই, তিনদিন পর দেখা
করবে ৷ সে কথাই ঠিক হলো ৷
-
তিনদিন পর,
তার পছন্দ অনুযায়ী আমরা একটা
রেষ্টুরেন্ট এ সন্ধায় দেখা করতে যাই ৷
যেহেতু আগেই ওর ছবি দেখেছিলাম
তাই দূর থেকে দেখেই চিনতে
পারলাম ৷ সে আমার আগেই চলে
এসেছিল ৷ সে তার ছবি থেকেও সুন্দর
ছিল ৷
-
আমি তার সামনে যাওয়ার পর সে
মুচকি হাসি দিয়ে তার হাত বাড়িয়ে
দিল আমার দিকে ৷ তারপর আমরা
বসলাম ৷ আর সে দুইটা অরেন্জ জুস
অডার দিল ৷ আরো অনেক কথাই হলো ৷
তারপর, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম
ডিনারটা কি এখানেই করবে নাকি
অন্য কোথাও ? সে কেমনভাবে যেনো
হাসলো, আর বললো চল উঠি ৷ সময় নষ্ট
না করে যা করতে আসছিলে তা কর ৷
-
আমি : মানে ঠিক বুঝলাম না ?
চন্দ্রা : আমার বাসায় চলতে পারো
নিরাপদ হবে ৷ আর ভয় লাগলে তোমার
সেইফমত কোনো হোটেলেও চলতে
পারো ৷
আমি : চন্দ্রা .......... !
চন্দ্রা : অবাক হয়ো না, তুমি জানতে
চাইতে না আমার জব কি ? এটাই
আমার পেশা ৷ তো দেরী না করে
চলো ৷ আর আমার রেইট একটু বেশি
১০০০০ টাকা ৷
আমি : কি বলছো এইসব ?
চন্দ্রা : এটাই সত্য ৷
আমি : এটা কিভাবে সত্য হতে
পারে !?!
চন্দ্রা : এটাই সত্য ৷ আর জীবন অনেক
কঠিন ৷
আমি : জীবন কঠিন হলেও, এই পর্যায়ে
কি ?
চন্দ্রা : তুমি বুঝবেনা ৷ তাই চল ৷ আর
টাকা নিয়ে আসছো তো ? আগেই
দিয়ে নিবে ৷
আমি : এমন কিছুই আমি করতে পারবো
না ৷ আর এখানে পনের হাজার টাকা
আছে , রাখ ৷ আর আসি, ভালো থেকো

-
তারপর,
আমি চলে আসতে যাবো চন্দ্রা ডেকে
থামালো ৷ বলল আরেকটু সময় বস ৷ কি
মনে করে বসলাম ৷ তারপর, তারপর সে
আমার হাতটা ধরলো, আমিও সরালাম
না ৷ তারপর সে বলা শুরু করলো,
-
চন্দ্রা : দেখো, তোমার ভালবাসায়
সততা দেখেছি, আমার জন্য তোমার
মাঝে সম্মান দেখেছি, আর তোমার
চোখে আমার পবিত্রতাও দেখেছি ৷
কিন্তু এখন হয়তো নেই ৷ আর তোমাকে
আমার করে পাওয়ার ক্ষমতা নেই ৷
নয়তো তোমাকে আমার করে রেখে
দিতাম ৷ কিন্তু এটা সম্ভব না,
নিশিকন্যাদের যে ভালবাসার
অধিকার নেই ৷ বিগত দিনগুলোতে
আমার প্রতি তোমার ভালবাসা
বুঝতে পেরেছি ৷ কিন্তু তুমি আমার
নও তো সুখ ৷ আমি জানতাম তুমি এমন
কিছুই আমার সাথে করবে না ৷ তবুও
বলা ৷
-
তারপর, মেয়েটা কাঁদতে শুরু করলো ৷
আমার মায়া লাগলো অনেক ৷ কিন্তু
পারিনি নিজেকে মহান করে তুলে,
তার হাত ধরে বলতে- আজ থেকে তুমি
সব ভুলে যাও ৷ চল বিয়ে করে নিই ৷
কিন্তু পারিনি মহান হতে ৷ শুধু
বললাম, ভাল থেকো ৷ চলে আসলাম ৷
আসার সময় দেখলাম মেয়েটার কান্না
৷ ইচ্ছে করছিল চন্দ্রাকে জড়িয়ে ধরি ৷
চলে আসার সময় পিছন ফিরে
তাকাচ্ছিলাম ৷
-
কিন্তু ছুটে যেতে পারি নি ৷ বাসায়
ফিরে আইডিটা ডিএক্টিভ করে
দিলাম ৷ ফোন নম্বরটাও পরিবর্তন
করে ফেললাম ৷ আর কখনও দেখা হয় নি
৷ তবে জানি না কখনও দেখা হবেও
কিনা ৷ হয়তো মেয়েটি হারিয়ে
যাবে কোনো এক সময় ৷ তবে খারাপ
লেগেছিল ছেড়ে আসতে কিন্তু
পারিনি মেয়েটার কাছে নিজেকে
মহান করে তুলতে ৷

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.