নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পেশা ব্যবসা ও চাকুরি। জ্ঞানভিত্তিক জীবনদর্শনে বিশ্বাসী। নির্জনে ও নীরবে প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে ভালোবাসি। বই পড়তে, ভ্রমণ করতে, একলা চলতে এবং জটিল চরিত্রের মানুষ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি। –এম. জেড. ফারুক

এমজেডএফ

কথায় নয় কাজে বিশ্বাস

এমজেডএফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কালিদাস রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতার কিছু পংক্তি

২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৮


কালিদাস রায় (২২ জুন ১৮৮৯ – ২৫ অক্টোবর ১৯৭৫) ছিলেন রবীন্দ্রযুগের বিশিষ্ট রবীন্দ্রানুসারী কবি, প্রাবন্ধিক ও পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা। তিনি রবীন্দ্র-ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে কাব্যচর্চা করেছিলেন। আজ কবির ১৩০তম জন্মদিনে তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর কিছু পংক্তি এখানে তুলে ধরলাম।

পরিণতি
ইঁদুর বলে বয়স হলে
আমি-ই হব হাতি,
দূর্বা বলে বংশ হব
আমি তো তার নাতি।
রুই কাতলা যা হোক হব
কয় পুঁঠি মাছ হেঁকে,
গুগলি বলে শঙ্খ হব
হুগলী গাঙেই থেকে।

ছাত্রধারা
এ জীবন ভেঙে-গড়ে শ্যামল-সরস করে
ছাত্রধারা বয়ে চলে যায়,
ফেনিলতা-উচ্ছলতা হয়ে যায় তুচ্ছ কথা,
উত্তালতা সকলি মিলায়
স্বচ্ছতায় শুধু হেরি আমার জীবন ঘেরি
ভাসে শুধু ম্লান মুখগুলি ;
ভুলে যাই হট্টগোল অট্টহাসি-কলরোল,
ম্লান মুখ কখনো না ভুলি।
আর সবি গেছি ভুলি, ভুলিনি এ মুখগুলি,
একবার মুদিলে নয়ন
আঁখিপাতা ভারি-ভারি, ম্লান মুখ সারি-সারি
আকুল করিয়া তোলে মন।

দিদিমার বিদায় আশীর্বাদ
এমনি করে সবার ভবলীলার অবসান
দুদিন আগে দুদিন পিছে থোবাই ব্যবধান।
এমনি করে বিদায় নিয়ে যায় দুনিয়ায় সবে
অমর হয়ে রয়েছে আর কেবা কোথায় কবে?
কাঁদিসনাকো উঠে বসার শক্তি আমার নাই
আয় বাছাধন কাছে সরে একটা চুমো খাই।

বিলাস
মানুষে মানুষে কোন ছিল না তফাৎ
হাসিমুখে পরষ্পরে মিলাইত হাত।
বিলাস আসিয়া ভেদ করিল সৃজন
পর হয়ে গেল হায় যে ছিল আপন।

মরণের পরে
জীবনের দিন শেষ হয়ে এল, আজও নাহি জানিলাম,
মরণের পরে কোথা যায় লোক, কি তাহার পরিণাম!
একটিও লোক পরলোক হতে আজও আসিলানা ফিরে,
কারে জিজ্ঞাসি? বৃথাই শুধাই সাধু দরবেশ পীরে।

নেশাখোরের অভিধান
গাঁজা খেলে 'গেঁজেল' যদি, মদ খেলে হয় 'মাতাল',
নস্যি নিলে 'নেসেল' তবে,–চা-খোরেরা 'চাতাল'।
ফুরুক-ফুরুক গুডুক তবে, টানলে পরে 'গুরখা' হবে,
চুরুট খেলে 'চোরঠা' বুঝি গুলি খেলে 'গুলাল'।

প্রশান্তি
ফুলের মধ্যে শিমুল তুমি, ফলের মধ্যে মাকাল,
গাছের মধ্যে ভুতো শেওড়া মাছের মধ্যে পাঁকাল।
চালের মধ্যে আউশ তুমি ডালের মধ্যে খেসারি,
পাড়ার লোকের কানের জ্বালা জাতের মধ্যে খাঁসারি।

চারিটি উপমা
হাসিহীন মুখ যেন শশিহীন স-ঘন গগন,
গানহীন কন্ঠ যেন মুক-ম্লান কারার জীবন।
অশ্রুহীন দৃষ্টি যেন বৃষ্টিহীন ধুসব নিদাঘ,
দীর্ঘশ্বাসশূন্য হৃদি চিররুদ্ধ পঙ্কিল তড়াগ।

অপূর্ব প্রতিশোধ
তারপর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল - "বাপ
শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ।
এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ,
খুনের নেশায় আর করিব না আখেরের পথরোধ।"

কবিতার দিন
সেই দেহ নাই, সেই গেহ নাই, সেই প্রিয়া নাই আর,
সেই হিয়া নাই–থেমে গেছে গান, শুনি শুধু হাহাকার।
প্রকৃতির ধন সবি পুরাতন আর নাহি মন হরে,
অন্নদা ধরা জরতীর বেশে শুধুই ছলনা করে।
সেই আঁখি নাই, সৃষ্টি মলিন, দৃষ্টি হয়েছে ক্ষীণ,
ফুরায়ে গিয়েছে মোর কবিতার দিন।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: কহেন কবি কালিদাস - - - -

ধন্যবাদ, কবি কালিদাস বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধি করেছেন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা অনন্তকাল থাকবে।

২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮

এমজেডএফ বলেছেন: ' কহেন কবি কালিদাস' হুমায়ুন আহমেদের এই উপন্যাসটি পড়িনি। তবে তিনি কোন কালিদাসকে বুঝিয়েছেন বলতে পারবো না। প্রসঙ্গত, বাংলা সাহিত্যে কালিদাস নামে দুজন কবি আছেন। একজন কালিদাস রায় - যার কবিতার পংক্তি এখানে দিয়েছি। আরেক জন 'মেঘদূত' কাব্যের কবি কালিদাস - যিনি মূলত সংস্কৃত ভাষার বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার।
ধন্যবাদ, আপনার প্রতিও শ্রদ্ধা রইলো।

২| ২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: কালিদাস মূল্যবান কথা বার্তা বলেছেন।

২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯

এমজেডএফ বলেছেন: তাইতো কথাগুলো এখনো বেঁচে আছে।

৩| ২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:২৪

মুক্তা নীল বলেছেন:
কবি কালিদাস রায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলির কিছু পংক্তিমালা পড়ে
ভালোলাগা ও কবি কে অশেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে গেলাম।

২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৫২

এমজেডএফ বলেছেন: ভালোলাগা ও কবি কে অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবির পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৪| ২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৩৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সবগুলোই ভাল। তার মধ্যে কতগুলো ভীষণ ভালো লেগেছে। ++++
শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবেন।

২২ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:১১

এমজেডএফ বলেছেন: চৌধুরি সাহেবের ভীষণ ভালো লেগেছে জেনে আনন্দে আপ্লুত হলাম। আপনার দিনগুলো ভালো কাটুক। +++++

৫| ২২ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:০০

ইব্‌রাহীম আই কে বলেছেন: দাদার কাছ থেকে কালিদাসের কবিতাগুলো খুব শুনতাম, আজ সেগুলোতে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিলাম।

ধন্যবাদ, পোস্টের জন্য।

২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:০৬

এমজেডএফ বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
পুরানো ভালো কবিতাগুলো মাঝে মাঝে শুনলে বা শুনার ব্যবস্থা করলে এগুলো কালের প্রবাহে হারিয়ে যাবে না।

৬| ২২ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:৩১

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: মন্তব্যকারীরা দুই কালিদাসের মাঝে পার্থক্য করতে পারছেন না।

২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:১৬

এমজেডএফ বলেছেন: কিছুক্ষেত্রে আমারও তাই মনে হচ্ছে! বিষয়টি লক্ষ্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অসুবিধা নেই, আরেকদিন প্রাচীন যুগের ভারতীয় কবি কালিদাস সম্পর্কে আরেকটি পোস্ট দিলে সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

৭| ২২ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৫

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর।+

২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:১৭

এমজেডএফ বলেছেন: ধন্যবাদ। +

৮| ২২ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৭

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: চমৎকার সব পঙক্তি ।

২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:৪৫

এমজেডএফ বলেছেন: "চমৎকার সব পঙক্তি"!
আপনার মন্তব্যে "পঙক্তি" দেখে - এটি নিয়ে অনেক অভিধান চেক করলাম। বাংলা একাডেমির অভিধানে "পংক্তি" থাকলেও সাংসদ অভিধানে আছে "পঙ্‌ক্তি "। আবার "বাংলা লেখার নিয়মকানুন - হায়াৎ মামুদ" গ্রন্থে আছে "পঙ্‌ক্তি " গ্রহনীয়, "পংক্তি" বর্জনীয়। সুতরাং সর্বশেষ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে আগামীতে সবসময় "পঙ্‌ক্তি " লিখবো।
আপনার এই ছোট্ট মন্তব্যটি আমাকে একটি শুদ্ধ শব্দ শিখতে যে সাহায্য করেছে তার জন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

৯| ২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: তাইতো কথাগুলো এখনো বেঁচে আছে।

ধন্যবাদ মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য।

২২ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:৫০

এমজেডএফ বলেছেন: আপনার ধন্যবাদ দেওয়ার মতো কিছু করি নাই। আপনার মন্তব্যের উত্তর দেওয়া আমার ঈমানী দায়িত্ব! শুধু সেই দায়িত্বটুকুই পালন করেছিলাম। ভালো থাকুন।

১০| ২৩ শে জুন, ২০১৯ ভোর ৫:৪৪

বলেছেন: মরণের পরে,,,, অসাধারণ,,,,
খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।।


প্রকৃত দাতা
কালিদাস রায়

দাতার প্রধান জাফর নিত্য দান করে দুঃখী জনে,
তাহার তুল্য নাহি বদান্য বিশ্বাস মনে মনে |
একদা সহসা উদ্যানমাঝে সান্ধ্যভ্রমণ কালে,
হেরে তার দাস ক্ষুধায় কাতর বসে আছে আলবালে |
দিবস শেষের তিনখানি রুটি প্রাপ্য আহার তার
একে একে দিল কুকুরের মুখে,–বিচিত্র এ ব্যবহার !
কহিল জাফর, ‘ওরে কিঙ্কর, সারাদিন উপবাসী,
দিবস শেষের খাদ্য তাও কুক্কুরে দিলি হাসি ?’
চমকি বান্দা জোড় হাতে কয়,– ‘মানুষ হয়েছি ভবে,
আজিকে ভাগ্যে না হয় আহার, কালি পুনরায় হবে |
খোদার এ জীবে আহার কে দিবে ? ক্ষুধায় বাঁচাবে কেবা ?
মোরা যে ধরাতে এসেছি করিতে নিখিল জীবের সেবা |’
কহিল জাফর আঁখি ছল ছল– ‘ আবিসিনিয়ার দাস,
আজিকে দর্প করিলি চূর্ণ, ছিঁড়ে দিলি মোহ-পাশ |
গুরুর মন্ত্র কানে দিলি তুই, দে রে কোল, বুকে আয় ;
দুর্দিনে ধীর সেরা দানবীর তুই দীন-দুনিয়ায় |
রাজকোষ যে বা মুক্ত করেছে দাতা নাহি কই তারে,
সেই ত্যাগ-বীর বুকের রুধির হেলায় যে দিতে পারে |
রে চির বান্দা, নহিস বনদী– দিলাম মুক্তি প্রাণ,
এই বাগিচার মালিক হইয়া প্রাণ ভরে কর দান |’

২৩ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:০৪

এমজেডএফ বলেছেন: প্রকৃত দাতা কবিতাটি যোগ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ - কালিদাস রায়ের সংগ্রহের পোস্টটি পরিপূর্ণতা পেল। পোস্টটি লেখার সময় এই কবিতাটিও সিলেক্ট করেছিলাম, পরে ভুলে বাদ পড়েছে। ভালো থাকুন।

১১| ২৩ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১০:৩৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: চমৎকার পোস্ট

২৩ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:০৬

এমজেডএফ বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.