নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পেশা ব্যবসা ও চাকুরি। জ্ঞানভিত্তিক জীবনদর্শনে বিশ্বাসী। নির্জনে ও নীরবে প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে ভালোবাসি। বই পড়তে, ভ্রমণ করতে, একলা চলতে এবং জটিল চরিত্রের মানুষ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি। –এম. জেড. ফারুক

এমজেডএফ

কথায় নয় কাজে বিশ্বাস

এমজেডএফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম

২৭ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩


“যে কণ্ঠ হইতে কাতরের জন্য কাতরোক্তি নিঃসৃত না হইল, সে কণ্ঠ রুদ্ধ হউক। যে লেখনি আর্তের উপকারার্থে না-লিখিল, সে লেখনি নিষ্ফলা হউক।” – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আজ (২৭ জুন ২০১৯) বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (২৭ জুন ১৮৩৮ - ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) ১৮১তম জন্মবার্ষিকী। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে, "সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে। বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) তাঁর লেখা। সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম নিম্নে প্রদত্ত হলো:

১। Rajmohans Wife (১৮৬৪)
বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস। এটি 'Indian Field' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম দিকের বাংলা ও ইংরেজি রচনা (ললিতা, মানস, Adventures of a Young Hindu এবং Rajmohan’s Wife) পাঠক ও সাহিত্যমহলের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি।
Rajmohans Wife - ডাউনলোড

২। দুর্গেশনন্দিনী - (১৮৬৫)
দুর্গেশনন্দিনী সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ১৮৬৫ সালের মার্চ মাসে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের প্রকৃত স্বাদ বাঙালি পাঠক উপলব্ধি করতে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশ হওয়ার পর। দুর্গেশনন্দিনী বঙ্কিমচন্দ্রের চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ বছর বয়সের রচনা। এই উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না। প্রেম-রোমাঞ্চ-সংঘাত-অভিযান-রহস্য সবকিছুরই মিশেল ঘটে এতে। ফলে পাঠক একাধিক ঐতিহাসিক চরিত্রকে ইতিহাসের নিরস পাঠের বাইরে এসে কিছুটা ভিন্নভাবে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়। আর দুর্গেশনন্দিনী বাংলা সাহিত্যের ‘প্রথম সার্থক উপন্যাস’ হিসেবে স্থান করে নেয়।
দুর্গেশনন্দিনী - ডাউনলোড

৩। কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)
কপালকুণ্ডলা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। সম্ভবত এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে নবকুমার এক জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে আটকা পড়েন। সেখানে এক কাপালিক তাকে বলি দিতে উদ্যত হয়। তখন কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা তার প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। স্থানীয় মন্দিরের অধিকারীর সহায়তায় নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে বিয়ে করে নিজের বাড়ি সপ্তগ্রামে ফিরে আসেন। কপালকুণ্ডলা বাল্যকাল থেকে জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে কাপালিকের কাছে বড় হওয়ায় স্বাভাবিক সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে অপরিচিত ছিলেন। নবকুমারের বাড়িতে তিনি ধীরে ধীরে সমাজের মানুষজন ও তাদের আচারআচরণ সম্পর্কে ধারণা পেলেন। কপালাকুণ্ডলা নাম বদলে তার নাম রাখা হল মৃন্ময়ী। নবকুমার আর কপালকুণ্ডলার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের মধ্য দিয়ে উভয়েই জীবনের চরম উপসংহারে উপনীত হয়।
কপালকুণ্ডলা - ডাউনলোড

৪। মৃণালিনী (১৮৬৯)
মৃণালিনী সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস। প্রকাশকাল ১৮৬৯। এই উপন্যাসেই প্রথম স্বদেশপ্রেমকে বিষয়বস্তু করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। এই উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র আলিপুরে থাকাকালীন রচনা করেছিলেন। বইটি উৎসর্গ করেছিলেন বন্ধু তথা বিশিষ্ট নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রকে। মৃণালিনী একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস, তুর্কী সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের পটভূমিতে রচিত। রাজপুত্র হেমচন্দ্র এবং মৃণালিনীর প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে।
মৃণালিনী - ডাউনলোড

৫। বিষবৃক্ষ (১৮৭৩)
এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস এবং তাঁর বিষবৃক্ষ-কৃষ্ণকান্তের উইল-রজনী গার্হস্থ্যধর্মী উপন্যাসত্রয়ীর অন্যতম। এই উপন্যাসটি আধুনিক বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের আদিযুগের একখানি উপন্যাস। বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা - বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা। এই উপন্যাসের পটভূমি বিধবাবিবাহ আইন পাশ হওয়ার সমসাময়িক কাল। এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।
গোবিন্দপুরের জমিদার নগেন্দ্রনাথ দত্ত কলকাতা যাত্রার পথে অনাথা বালিকা কুন্দনন্দিনীর সন্ধান পান। কুন্দকে তিনি কলকাতায় তাঁর ভগিনী কমলমণির কাছে রেখে এসেছিলেন। সূর্যমুখীর দূরসম্পর্কীয় ভাই তারাচরণের সঙ্গে কুন্দের বিবাহ হয়। কিন্তু বিবাহের কিছুকাল পরেই তারাচরণের মৃত্যু হলে কুন্দ বিধবা হয়। এরপর নগেন্দ্রনাথ কুন্দের রূপলাবণ্য দর্শনে তার প্রতি আকৃষ্ট হন, কুন্দও নগেন্দ্রের প্রতি অনুরক্তা হয়ে পড়েন। অন্যদিকে দেবীপুরের দুশ্চরিত্র জমিদার দেবেন্দ্রও তারাচরণের গৃহে কুন্দকে দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হন। সূর্যমুখী কমলমণিকে চিঠিতে নগেন্দ্রনাথের কুন্দর প্রতি অনুরাগের কথা জানালে, কমলমণি কুন্দকে কলকাতায় নিয়ে আসতে চায়। কুন্দ আত্মহত্যা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। হরিদাসী বৈষ্ণবীর ঘটনায় সূর্যমুখী কর্তৃক অপমানিতা হয়ে কুন্দ গৃহত্যাগ করেন। তার অদর্শনে নগেন্দ্র অস্থির এবং সূর্যমুখীর প্রতি রুষ্ট হন। তিনি গৃহত্যাগের সংকল্প করেন। এমতাবস্থায় কুন্দ ফিরে এলে সূর্যমুখী নিজের উদ্যোগে স্বামীর সঙ্গে কুন্দের বিবাহ দেন। তারপর নিজে গৃহত্যাগ করেন।
বিষবৃক্ষ - ডাউনলোড

৬। ইন্দিরা - (১৮৭৩)
অনু-উপন্যাস। ১৮৭৩ সালে ৪৫ পৃষ্ঠার ক্ষুদ্র গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। ১৮৯৩ সালে ১৭৭ পৃষ্ঠার একটি অনু-উপন্যাসের আকারে এই গ্রন্থের পঞ্চম সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
ইন্দিরার কাহিনিটি ও বঙ্কিমের অন্যান্য উপন্যাসের মতো বেশ পরিকল্পিত বুননে তৈরি। বেশ স্পষ্ট একটা প্যাটার্ন আছে এই আখ্যানে। খানিকটা কি আমাদের রূপকথার ধরণ? উচ্চ বংশীয় কন্যা, শিক্ষিতা বুদ্ধিমতী মেয়ে ইন্দিরা। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে তার। কালাদীঘির ডাকাতদের হাতে পড়ে তার ভাগ্যের দিক নির্দেশ বিভ্রান্ত হয়ে যায়। উল্লেখ্য, বঙ্কিম খুব স্পষ্ট করে তাঁর পাঠকদের বুঝিয়ে দেন ডাকাতদের হাতে পড়ে ইন্দিরা তার গহনা-সম্পদ হারায়, কিন্তু নারীত্ব হারায় না। এই না-হারানোটুকু চরিত্র হিসেবে ইন্দিরাকে যেমন সাহস যোগায়, তেমনই তার স্রষ্টারও নৈতিক জোর বাড়িয়ে তোলে। এরপর ধনীবংশের আদুরে মেয়ে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হয়ে কলকাতায় রাঁধুনিগিরিতে নিযুক্ত হয়। অপরের বাড়ির রাঁধুনি হওয়ার মনোকষ্ট থেকে ইন্দিরা বাঁচে সুভাষিনীর মতো মনিবকে পেয়ে।
ইন্দিরা - ডাউনলোড

৭। চন্দ্রশেখর (১৮৬৬)
রোম্যান্সধর্মী উপন্যাস। আপাতদৃষ্টিতে উপন্যাসটি ইতিহাসের আধারে রচিত নর-নারীর জটিল প্রণয় সমস্যা ও ব্যক্তিসম্পর্কের নিগুঢ় রহস্যময়তার কাহিনী। এই উপন্যাসে যে ঐতিহাসিক অংশ রয়েছে সেই অংশের নায়ক অবিসম্বাদিতভাবে সুবে বাংলার নবাব মীর কাসিম।
চন্দ্রশেখর - ডাউনলোড

৮। রজনী (১৮৭৭)
বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রজনী একটি জনপ্রিয় উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত। রজনী বাংলা ভাষায় প্রথম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।
কোলকাতা শহরে রজনী নামের এক হতদরিদ্র ও জন্মান্ধ অবিবাহিতা কায়স্থের কন্যা প্রতিদিন রামসদয় মিত্রের বাড়ীতে ফুল বিক্রী করতো। রামসদয়ের ২য় পক্ষের স্ত্রী লবঙ্গলতা তাকে খুবই স্নেহ করতেন। কোন একদিন রামসদয়ের ১ম পক্ষের পুত্র শচীন্দ্রনাথ রজনী’র চক্ষু পরীক্ষা করে। শচীন্দ্রের হাতের স্পর্শে ও কথা শুনে মুগ্ধ হয় রজনী। লবঙ্গ নিজ কর্মচারীর পুত্র গোপাল বসু’র সাথে রজনীর সম্বন্ধ স্থির করেন ও বিয়ের যাবতীয় ব্যয়বহন করতে রাজী হন। গোপন পরামর্শ করে চাঁপা’র ভাই হীরালালের সাথে রজনী পালিয়ে যায়। নৌকায় হীরালাল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে রজনী রাজী না হলে একটি জনহীন চরে হীরালাল তাকে নামিয়ে দেয় ও নৌকা নিয়ে চলে যায়। অসহায় অবস্থায় অন্ধ যুবতী রজনী জীবনের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গঙ্গায় ঝাঁপ দেয়। এক ইতর নৌকারোহী তাকে উদ্ধার করে ও কিছুদূরে নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচারের চেষ্টা চালায়।
রজনী - ডাউনলোড

৯। কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮)
রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে। কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের অন্যতম আলোচিত চরিত্র রোহিনী। রোহিনী একজন অসাধারণ সুন্দরী, সর্ব কাজে পটু, বাল্য বিধবা। বঙ্কিমচন্দ্র উনিশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে রক্ষণশীল হিন্দুপ্রধান সমাজবাস্তবতার আলোকে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের নায়িকা রোহিণীকে প্রথানুগ সমাজের রীতিনীতি ভেঙে আধুনিক জীবনতৃষ্ণা দিয়েছিলেন বটে, তবে তিনি নিজেও বোধহয় শেষাবধি নারীর আধুনিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য মেনে নিতে পারেননি। ফলে সামাজিক নিয়মভঙ্গের অপরাধে রোহিণীর জীবনতৃষ্ণা ঔপন্যাসিক বঙ্কিমের হাতে শুকিয়ে গেছে তার করুণ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
কৃষ্ণকান্তের উইল - ডাউনলোড

১০। রাজসিংহ (১৮৮২)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “রাজসিংহ” একটি রাজনৈতিক ঐতিহাসিক উপন্যাস। মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব ও রাজপুত রাজা রাণা রাজসিংহের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল, সেটাই এই উপন্যাসের মূল বিষয়। রাজসিংহ উপন্যাস নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে৷ অনেকে মনে করেন, এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিফুষ্ট হয়ে উঠে।
রাজসিংহ - ডাউনলোড

১১। আনন্দমঠ (১৮৮২ )
আনন্দমঠ ঊনবিংশ শতাব্দীর ঔপন্যাসিকবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিরচিত একটি বাংলা উপন্যাস। এর প্রকাশকাল ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দ। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে এর একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। এই উপন্যাসটি ছাপার বিরূদ্ধে ব্রিটিশ সরকার আইন পাশ কৱে, তবে এর হস্তলিখিত গুপ্ত সংস্করণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। উপন্যাসটি মুসলমান-বিরোধী মতধারার জন্য কিছুটা বিতর্কিত। এই উপন্যাসের কাহিনী ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত উত্তর বঙ্গের সন্ন্যাসী আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এই উপন্যাসেই বঙ্কিমচন্দ্র বন্দে মাতরম গানটি লেখেন। পরবর্তীতে ভারতীয় স্বদেশপ্রেমীরা "বন্দে মাতরম" বাক্যটি জাতীয়তাবাদী শ্লোগান হিসাবে গ্রহণ করে।
আনন্দমঠ - ডাউনলোড

১২। দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪)
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস দেবী চৌধুরাণী। এটি বঙ্কিমের ‘ত্রয়ী’ — যথা আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম উপন্যাসের দ্বিতীয়টি৷ এই উপন্যাস ত্রয়ীর নায়িকারা হচ্ছে শান্তি, প্রফুল্ল ও শ্রী।
গ্রামের নিরক্ষরা মেয়ে প্রফুল্ল, বিধবার অনিন্দ্যসুন্দরী কন্যা। তার রূপের জন্যই ভূতপুরের জমিদার হরবল্লভ তাঁর পুতত্র ব্রজেশ্বরের সঙ্গে প্রফুল্লের বিবাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অদৃষ্টে সুখ ছিল না। বড়ঘরে বিবাহ হচ্ছে বলে তার মা যথাযথ মর্যাদা রাখবার জন্য নিজের যাবতীয় সম্পত্তি বিক্রয় করে বিবাহের রাত্রে বরযাত্রীদের যথোচিত সমাদরের সঙ্গে উপযুক্ত আহারের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু কন্যাপক্ষীয়দের জন্য ব্যবস্থিত আহারের নিকৃষ্টতা দেখে, কন্যাপক্ষীরা তাঁর বাড়িতে সমাগত হয়েও আহার গ্রহণ করল না।
দেবী চৌধুরাণী - ডাউনলোড

১৩। সীতারাম (১৮৮৭)
সীতারাম বঙ্কিমচন্দ্রের শেষ উপন্যাস। ঐতিহাসিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত উপন্যাসটি প্রচার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮৭ সালের মার্চে, পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল ৪১৯। শেষ উপন্যাস ‘সীতারাম’-এ এসে তিনি (বঙ্কিমচন্দ্র) উপন্যাসকে নিজেই বলেছেন অলীক কাহিনী। মানুষের কাজ সেখানে চাপা পড়ে সাধু-সন্ন্যাসীর তৎপরতার নিচে। মানুষের মধ্যে নায়ক খোঁজা ছেড়ে দিয়ে নায়ক করে আনলেন শ্রীকৃষ্ণকে।
সীতারাম - ডাউনলোড

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের কিছু অবিস্মরণীয় উক্তি/বক্তব্য

“যাকে ভালবাস তাকে চোখের আড়াল করোনা।”

“যে কখনো রোদন করে নাই, সে মনুষ্য মধ্যে অধম। তাহাকে কখনও বিশ্বাস করিও না। নিশ্চিত জানিও সে পৃথিবীর সুখ কখনো ভোগ করে নাই। এর সুখও তাহার সহ্য হয় না।”

“আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জন করা তাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে–কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে। তুমি অধম–তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?” – কপালকুণ্ডলা

“পাহাড় যত নিকট দেখায়, তত নিকট নয়।” – রাজসিংহ

“কতকগুলি লোক আছে, এদেশের লোক তাহাদের বর্ণনার সময় বলে, “ইহারা কুকুর মারে, কিন্তু হাঁড়ি ফেলে না৷”

“ওপারে যে যন্ত্রণার কথা শুনিতে পাও, সে আমরা এই পার হইতে সঙ্গে করিয়া লইয়া যাই। আমাদের এ জন্মের সঞ্চিত পাপগুলি আমরা গাঁটরি বাঁধিয়া, বৈতরিণীর সেই ক্ষেয়ারীর ক্ষেয়ায় বোঝাই দিয়া, বিনা কড়িতে পার করিয়া লইয়া যাই। পরে যমালয়ে গিয়া গাঁটরি খুলিয়া ধীরে সুস্থে সেই ঐশ্বর্য্য একা একা ভোগ করি।” – সীতারাম

“আত্মোপকারীকে বনবাসে বিসর্জন করা তাহাদিগের প্রকৃতি, তাহারা চিরকাল আত্মোপকারীকে বনবাস দিবে–কিন্তু যত বার বনবাসিত করুক না কেন, পরের কাষ্ঠাহরণ করা যাহার স্বভাব, সে পুনর্বার পরের কাষ্ঠাহরণে যাইবে। তুমি অধম–তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?” – কপালকুণ্ডলা

“মরিলে যদি রণজয় হইত,তবে মরিতাম। বৃথা মৃত্যু বীরের ধর্ম নহে।”

“সে প্রফুল্লতা, সে সুখ ,আর নাই কেন ? সুখের সামগ্রী কি কমিয়াছে? অর্জন এবং ক্ষতি উভয়েই সংসারের নিয়ম। কিন্তু ক্ষতি অপেক্ষা অর্জন অধিক ,ইহাও নিয়ম। তুমি জীবনের পথ যতই অতিবাহিত করিবে ,ততই সুখদ সামগ্রী সঞ্চয় করিবে ।তবে বয়সে স্ফূর্ত্তি কমে কেন?” – কমলাকান্তের দপ্তর

“মীরজাফর গুলি খায় ও ঘুমায়। ইংরেজ টাকা আদায় করে ও ডেসপাচ লেখে। বাঙ্গালি কাঁদে আর উৎসন্ন যায়।” – আনন্দমঠ

“স্ত্রীলোকদিগের উপর যেমন কঠিন শাসন, পুরুষের উপর তেমন কিছু নেই। কথায় কিছু হয় না, ভ্রষ্ট পুরুষের কোন সামাজিক দণ্ড নেই। একজন স্ত্রী সতীত্ব সম্বন্ধে কোন দোষ করিলে সে আর মুখ দেখাইতে পারে না। হয়তো আত্মীয় স্বজন তাকে বিষ প্রদান করেন, আর একজন পুরুষ প্রকাশ্যে সেই সব কাজ করিয়া রোশনাই করিয়া জুড়ি হাকাইয়া রাত্রিশেষে পত্নীকে চরণরেণু স্পর্শ করাইয়া আসেন, পত্নী পুলকিত হয়েন।”

“মনুষ্যের সুখ মনুষ্যত্বে, এই মনুষ্যত্ব সকল বৃত্তিগুলির উপযুক্ত স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্যের সাপেক্ষ। মনুষ্যের সমুদয় শক্তিগুলিকে চারি শ্রেণীতে বিভক্ত করা গেল: ১. শারীরিকী, ২. জ্ঞানার্জনী, ৩. কার্যকারিনী, ৪. চিত্তরঞ্জিনী। এই চতুর্বিদ বৃত্তির উপযুক্ত স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্যই মনুষ্যত্ব।”

“যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।”

“যাহাতে সাধারণের উন্নতি নাই, তাহাতে কাহারই উন্নতি সিদ্ধ হইতে পারে না।…অনেকে বিবেচনা করেন যে, বালকের পাঠোপযোগী অতি সরল কথা ভিন্ন কিছুই সাধারণের বোধগম্য বা পাঠ্য হয় না। এই বিশ্বাসের উপর নির্ভর করিয়া যাঁহারা লিখিতে প্রবৃত্ত হয়েন, তাহাদিগের রচনা কেহই পড়ে না। যাহা সুশিক্ষিত ব্যক্তির পাঠোপযোগী নহে, তাহা কেহই পড়িবে না, যাহা উত্তম তাহা সকলেই পড়িতে চাহে, যে না-বুঝিতে পারে, সে বুঝিতে যত্ন করে।”

“জ্ঞানে মনুষ্য মাত্রেরই তুল্যাধিকার। যদি সে সর্বজনের প্রাপ্য ধনকে তুমি এমত দুরূহ ভাষায় নিবদ্ধ রাখ যে, কেবল যে কয়জন পরিশ্রম করিয়া সেই ভাষা শিখিয়াছে তাহারা ভিন্ন আর কেহ তাহা পাইতে পারিবে না, তবে তুমি অধিকাংশ মানুষকে তাহাদিগের স্বত্ব হইতে বঞ্চিত করিলে। তুমি সেখানে বঞ্চক মাত্র।”

“কাব্যগ্রন্থ মনুষ্যজীবনের কঠিন সমস্যা সকলের ব্যাখ্যা মাত্র, যিনি একথা না বুঝিয়া, একথা বিস্মৃত হইয়া, কেবল গল্পের অনুরোধে উপন্যাস পাঠে নিযুক্ত হয়েন, তিনি উপন্যাস পাঠ না করিলেই বাধিত হই।”

যে কণ্ঠ হইতে কাতরের জন্য কাতরোক্তি নিঃসৃত না হইল, সে কণ্ঠ রুদ্ধ হউক। যে লেখনি আর্তের উপকারার্থে না-লিখিল, সে লেখনি নিষ্ফলা হউক।

“তুমি সাহিত্য পাঠে অনুরক্ত এবং তাহাতে আনন্দ লাভ কর, তাহার কারণ এই যে, যে সকল বৃত্তির অনুশীলন করিলে সাহিত্যের মর্ম গ্রহণ করা যায়, তুমি চিরকাল সেই সকল বৃত্তির অনুশীলন করিয়াছ, কাজেই তাহাতে আনন্দ লাভ কর। যে সকল বৃত্তির অনুশীলনে ধর্মের মর্ম গ্রহণ করা যায়, তুমি সেগুলির অনুশীলন কর নাই, এজন্য তাহার আলোচনায় তুমি আনন্দ লাভ কর না।”

“সাহিত্যের আলোচনায় সুখ আছে বটে, কিন্তু যে সুখ তোমার উদ্দেশ্য এবং প্রাপ্য হওয়া উচিত, সাহিত্যের সুখ তাহার ক্ষুদ্রাংশ মাত্র।”

“সাহিত্যও ধর্ম ছাড়া নহে। কেননা, সাহিত্য সত্যমূলক। যাহা সত্য, তাহা ধর্ম। যদি এমন কুসাহিত্য থাকে যে তাহা অসত্যমূলক ও অধর্মময়, তবে তাহার পাঠে দুরাত্মা বা বিকৃতরুচি পাঠক ভিন্ন কেহ সুখী হয় না।”

“সাহিত্যে যে সত্য ও যে ধর্ম, সমস্ত ধর্মের তাহা এক অংশ মাত্র। অতএব, কেবল সাহিত্য নহে, যে মহত্ত্বের অংশ এই সাহিত্য, সেই ধর্মই এইরূপ আলোচনীয় হওয়া উচিত। সাহিত্য ত্যাগ করিও না, কিন্তু সাহিত্যকে নিম্নে সোপান করিয়া ধর্মের মঞ্চে আরোহণ কর।”

“মনুষ্যের সুখ মনুষ্যত্বে, এই মনুষ্যত্ব সকল বৃত্তিগুলির উপযুক্ত স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্যের সাপেক্ষ। মনুষ্যের সমুদয় শক্তিগুলিকে চারি শ্রেণীতে বিভক্ত করা গেল: ১. শারীরিকী, ২. জ্ঞানার্জনী, ৩. কার্যকারিনী, ৪. চিত্তরঞ্জিনী। এই চতুর্বিদ বৃত্তির উপযুক্ত স্ফূর্তি, পরিণতি ও সামঞ্জস্যই মনুষ্যত্ব।”

“কুকাব্যও আছে। সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। যাহারা কুকাব্য প্রণয়ন করিয়া পরের চিত্ত কলুষিত করিতে চেষ্টা করে, তাহারা তস্করদিগের ন্যায় মনুষ্যজাতির শত্রু এবং তাহাদিগকে তস্করাদির ন্যায় শারীরিক দণ্ডের দ্বারা দণ্ডিত করা উচিত।”

“সকল বিষয়েই প্রকৃত অবস্থার অপেক্ষা উত্কৃষ্ট আমরা কামনা করি। সেই উত্কর্ষের আদর্শস্থল আমাদের হূদয়ে অস্ফুট রকমে থাকে। সেই আদর্শ এবং সেই কামনা কবির সামগ্রী। যিনি তাহা হূদয়ঙ্গম করিয়াছেন, তাহাকে গঠন দিয়া শরীরী করিয়া আমাদের হূদয়গ্রাহী করিয়াছেন, সচরাচর তাঁহাকেই আমরা কবি বলি।”

“গ্রন্থ পাঠ করিয়া পাঠক যে সুখ লাভ বা জ্ঞান লাভ করিবেন, তাহা অধিকতর স্পষ্টীকৃত বা তাহার বৃদ্ধি করা, গ্রন্থকার যেখানে ভ্রান্ত হইয়াছেন সেখানে ভ্রম সংশোধন করা, যে গ্রন্থে সাধারণের অনিষ্ট হইতে পারে সেই গ্রন্থের অনিষ্টকারিতা সাধারণের নিকট প্রতীয়মান করা—এইগুলি সমালোচনার উদ্দেশ্য।”

“এক একখানি প্রস্তর পৃথক করিয়া দেখিলে তাজমহলের গৌরব বুঝিতে পারা যায় না। এক একটি বৃক্ষ পৃথক পৃথক করিয়া দেখিলে উদ্যানের শোভা অনুভব করা যায় না। এক একটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বর্ণনা করিয়া মনুষ্যমূর্তির অনির্বচনীয় শোভা বর্ণনা করা যায় না। কোটি কলস জলের আলোচনায় সাগর-মাহাত্ম্য অনুভব করা যায় না। সেইরূপ কাব্যগ্রন্থের।”

বন্দে মাতরম্‌


বন্দে মাতরম্ ("বন্দনা করি মায়") বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ১৮৮২ সালে রচিত আনন্দমঠ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি গান। সংস্কৃত-বাংলা মিশ্রভাষায় লিখিত এই গানটি দেবী ভারত মাতা বন্দনাগীতি এবং বাংলা মা তথা বঙ্গদেশের একটি জাতীয় মূর্তিকল্প। শ্রীঅরবিন্দ বন্দে মাতরম্ গানটিকে "বঙ্গদেশের জাতীয় সংগীত"বলে উল্লেখ করেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই গানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাওয়া হয় বন্দে মাতরম গানটি। উক্ত অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৫০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা লাভ করলে বন্দে মাতরম্ গানটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে একাধিক ভারতীয় মুসলিম সংগঠন বন্দে মাতরম্ গাওয়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। তাদের মতে, ভারতমাতার বন্দনাগীতি এই গানটির মূলভাবনা ইসলাম-নিষিদ্ধ পৌত্তলিকতার অনুসরণ করে। সমগ্র বিংশ শতাব্দীতে গানটি প্রায় একশোটি ভিন্ন সুরে রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০০২ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দশটি জনপ্রিয় গান নির্বাচনের একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা চালায়। এই সমীক্ষায় ৭০০০ গানের মধ্যে থেকে এ আর রহমান সুরারোপিত বন্দে মাতরম্ গানটি বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয়তম গান নির্বাচিত হয়।


সূত্র:
উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, সাহিত্য পত্রিকা, আত্মপ্রকাশ (http://attoprokash.com/)

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: উনার আসল বইটা নিয়ে কিছু বললেন না???!!!!
দত্তা। অসাধারন একটা বই।

২৭ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫০

এমজেডএফ বলেছেন: দত্তা শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের মধুরতম প্রেমের উপন্যাস! আপনি হয়তো খেয়াল করেননি, এখানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের উপন্যাস নিয়ে আলাপ করা হয়েছে।

২| ২৭ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:০৩

বলেছেন: দারুন --


বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই লেখা।
বাংলা সাহিত্যের পাঠক ও সমালোচকদের মধ্যে তাকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই।
কেউ কেউ তাঁকে অভিষিক্ত করেছেন সাহিত্য সম্রাটের শিরোপায়, আবার অনেকেই তার কপালে এঁকে দিয়েছেন সাম্প্রদায়িকের কলঙ্ক-তিলক। তবুও তার সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্যই যথাৰ্থ বলে বিবেচিত হবার দাবি রাখে। তিনি তাকে অভিহিত করেছেন “সাহিত্যে কর্মযোগী” এবং “সব্যসাচী” হিসেবে

২৮ শে জুন, ২০১৯ রাত ৩:০০

এমজেডএফ বলেছেন: আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
সাধারণ কিছু পাঠক বঙ্কিমচন্দ্রকে সাম্প্রদায়িক মনে করলেও সাহিত্যিক-সমালোচকরা কেউ তা মনে করেন না। আমাদের দেশের অনেকে রবীন্দ্রনাথকেও সাম্প্রদায়িক মনে করেন। পাকিস্তান আমলে এদেশে রবীন্দ্রসঙ্গীতও নিষিদ্ধ ছিল! এখন তাঁর গান আমাদের জাতীয় সঙ্গীত।

৩| ২৮ শে জুন, ২০১৯ রাত ২:২৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে অসীম অবদানের জন্যে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমরত্ব লাভকারী বক্মিমচন্দ্রের জন্ম জয়ন্তি উপলক্ষে তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী । তাঁকে সাধারণত প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে গীতার ব্যাখ্যাদাতা হিসাবে, সাহিত্য সমালোচক হিসাবেও তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকও ছিলেন। সাহিত্যিক হিসেবে কমলাকান্ত ছদ্মনামটি বেছে নিয়েছিলেন । তার সাহিত্য সম্ভার বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে ।

তার রচিত উপন্যাস সমগ্রের মধ্যে দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা,মৃণালিনী,বিষবৃক্ষ,ইন্দিরা,যুগলাঙ্গুরীয়,চন্দ্রশেখর,রাধারানী,রজনী,কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ,আনন্দমঠ,দেবী চৌধুরানী,সীতারাম,উপকথা,(ইন্দিরা,যুগলাঙ্গুরীয় ও রাধারানী ত্রয়ী সংগ্রহ)Rajmohan's Wife (ইংরেজি উপন্যাস) পাঠক সমাজে সর্বকালেই সারা জুগিয়েছে । তার দেবী চৌধুরানী নিয়ে রচিত টিভি সিরিয়াল এখনো চলছে এবং তা বেশ জনপ্রিয় দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে । প্রবন্ধ সাহিত্যেও তার ছিল বিশাল পান্ডিত্য । প্রবন্ধ গ্রন্থের মধ্যে কমলাকান্তের দপ্তর , লোকরহস্য, কৃষ্ণ চরিত্র, বিজ্ঞানরহস্য, সাম্য, কৃষ্ণ চরিত্র,মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ) উল্লেখযোগ্য।

বিবিধ বিষয়ে লেখাও তার কম নয় , বিবিধ বিষয়ের মধ্যে ললিতা (পুরাকালিক গল্প),ধর্ম্মতত্ত্ব,সহজ রচনা শিক্ষা,শ্রীমদ্ভগবদগীতা,কবিতাপুস্তক (কিছু কবিতা, ললিতা ও মানস ইত্যাদি) উল্লেখযোগ্য।

নীজের লেখা ছাড়াও তাঁর সম্পাদিত বেশ কিছু মুল্যবান গ্রন্থ রয়েছে । সম্পাদিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে দীনবন্ধু মিত্রের জীবনী,বাঙ্গলা সাহিত্যে প্যারীচাঁদ মিত্রের স্থান, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী উল্লেখযোগ্য ।

তিনি যদিউ জীবিকাসূত্রে ব্রিটিশ রাজের কর্মকর্তা ছিলেন তার পরেও সরকারি কর্মকর্তা নয় বরং লেখক এবং হিন্দু পুনর্জাগরণের দার্শনিক হিসেবেই অধিক প্রখ্যাতি লাভ করেন।

শুভেচ্ছা রইল , পোষ্টটি প্রিয়তে গেল

২৮ শে জুন, ২০১৯ রাত ৩:৩৬

এমজেডএফ বলেছেন: বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যকর্মে আমি শুধু ঊপন্যাস নিয়ে আলাপ করেছি এবং তরুণ প্রজন্মের পড়ার সুবিধার্থে উপন্যাসগুলোর অনলাইন ভার্সনের লিঙ্ক দিয়েছি। প্রবন্ধ গ্রন্থের ব্যাপারেও কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পোস্ট বড় হয়ে যাওয়ার কারণে আর লিখি নাই।

যাই-হোক, আমার লেখায় যেই বিষয়গুলো বাদ পড়েছে সেগুলো দীর্ঘ মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে আপনি সংযোজন করে দেওয়ায় আমার লেখাটি পরিপূর্ণতা লাভ করলো। এজন্যে আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সহস্র ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকাল যেনতেন প্রকারে সবাই সাহিত্যিক হওয়ার চেষ্টা করলেও বাংলা সাহিত্য নিয়ে জানার বা পড়ার উৎসাহ তেমন কারো নেই। পোস্টটি আপনার মত বাংলা সাহিত্যের বিদগ্ধ একজন ব্লগারের প্রিয়তে স্থান পাওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রইলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.