নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পেশা ব্যবসা ও চাকুরি। জ্ঞানভিত্তিক জীবনদর্শনে বিশ্বাসী। নির্জনে ও নীরবে প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে ভালোবাসি। বই পড়তে, ভ্রমণ করতে, একলা চলতে এবং জটিল চরিত্রের মানুষ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি। –এম. জেড. ফারুক

এমজেডএফ

কথায় নয় কাজে বিশ্বাস

এমজেডএফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাহিত্যকর্ম

১৯ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮


দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৯ জুলাই, ১৮৬৩ - ১৭ মে, ১৯১৩) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা। তিনি ডি. এল. রায় নামেও পরিচিত ছিলেন। আজ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী। তিনি প্রায় ৫০০ গান রচনা করেন।এই গানগুলি বাংলা সংগীত জগতে দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত গান "ধনধান্যে পুষ্পে ভরা", "বঙ্গ আমার! জননী আমার! ধাত্রী আমার! আমার দেশ" ইত্যাদি আজও সমান জনপ্রিয়। তিনি অনেকগুলি নাটক রচনা করেন। তাঁর নাটকগুলি চার শ্রেণীতে বিন্যস্ত - প্রহসন, কাব্যনাট্য, ঐতিহাসিক নাটক ও সামাজিক নাটক। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একঘরে, কল্কি-অবতার, বিরহ, সীতা, তারাবাঈ, দুর্গাদাস, রাণা প্রতাপসিংহ, মেবার-পতন, নূরজাহান, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল-বিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত কবিতা

নন্দলাল
নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ –
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল, ‘আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?’
নন্দ বলিল, ‘বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?’
তখন সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।’
... ... ...
... ... ...
নন্দ বাড়ির হ’ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে ‘কলিসন’ হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
সকলে বলিল- ‘ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।’

দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় গান


ধন্যধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা;
তাহার মাঝে আছে দেশ এক- সকল দেশের সেরা;
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি তিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।

চন্দ্র-সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় উজল এমন ধারা!
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে!
তারা পাখির ডাকে ঘুমিয়ে, ওঠে পাখির ডাকে জেগে,
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।

এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়;
কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে।
এমন ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।

পুষ্পে পুষ্পে ভরা শাখী; কুঞ্জে কুঞ্জে গাহে পাখি
গুঞ্জরিয়া আসে অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ধেয়ে-
তারা ফুলের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে।

ভায়ের মায়ের এমন স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ?
– ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি,
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি-
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।

বঙ্গ আমার জননী
বঙ্গ আমার জননী আমার
ধাত্রী আমার, আমার দেশ
কেন গো মা তোর শুষ্ক নয়ন?
কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ?
কেন গো মা তোর ধূলায় আসন?
কেন গো মা তোর মলিন বেশ?
শত কোটি সন্তান যার
ডাকে উপচে আমার দেশ।
কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ?
শত কোটি মিলিত কন্ঠে
ডাকে যখন আমার দেশ।।
উদিল যেখানে বৌদ্ধ আত্মা
মুক্ত করিতে মোক্ষ দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ
ভক্তি প্রণতঃ চরণে যার।
অশোক যাহার কীর্তি ছায়িল
গান্ধার হতে জলধি শেষ
তুই কিনা মা গো তাদের জননী?
তুই কিনা মা গো তাদের দেশ।।
একদা যাহার বিজয় সেনানী
হেলায় লঙ্কা করিল জয়
একদা যাহার অর্ণবপোত
ভ্রমিল ভারত সাগরময়।
সন্তান যার ত্বিব্বততীর
জাপানে গঠিল উপনীদেশ
তার কি না ধুলায় আসন,
তার কি না এই চ্ছিন বেশ?
উদিল যেখানে মোরজ মন্ত্রে
নিমাই কন্ঠে মধুর ও তান
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমনি,
চন্ডীদাস ও গাইল গান
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য
তুই কিনা সেই ধন্য দেশ,
ধন্য আমরা যদি এ শিরায়
রহে যদি তাদের রক্ত লেশ।।
যদিও মা তোর দিব্য আলোকে
ঘিরে আছে আজ আঁধার ঘোর
কেটে যাবে মেঘ নবীন গরিমা
মাতিবে আবার ললাটে তোর।
আমরা ঘুচাবো মা তোর কালিমা
মানুষ আমরা, নহি তো মেষ
দেবী আমার, সাধনা আমার
স্বর্গ আমার, আমার দেশ।।

ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে
কন্ঠঃ কৃষ্ণচন্দ্র দে
গীতিকারঃ দ্বিজেন্দ্র লাল রায়
গানের লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=6Hq0Plth-Eg

ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে
ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে

কে ডাকে কাতর প্রাণে, মধুর তানে
আয় চলে আয়
ওরে আয় চলে আয় আমার পাশে
মহা সিন্ধুর ওপার থেকে
কি সঙ্গীত ভেসে আসে।

বলে আয়রে ছুটে, আয়রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু, নাইকো জরা
বলে আয়রে ছুটে, আয়রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু, নাইকো জরা

হেথা বাতাস গীতি-গন্ধভরা
চির- স্নিগ্ধ মধুমাসে
হেথা চির-শ্যামল বসুন্ধরা
চির- জ্যোৎস্না নীল আকাশে
মহা সিন্ধুর ওপার থেকে
কি সঙ্গীত ভেসে আসে।

কেন ভূতের বোঝা বহিস পিছে
ভূতের বেগার খেটে মরিস মিছে
দেখ ঐ সুধাসিন্ধু উথলিছে
পূর্ণ ইন্দু পরকাশে
ভূতের বোঝা ফেলে
ঘরের ছেলে আয় চলে আয় আমার পাশে
ঐ মহা সিন্ধুর ওপার থেকে
কি সঙ্গীত ভেসে আসে।

কেন কারা গৃহে আছিস বন্ধ
ওরে, ওরে মূঢ়, ওরে অন্ধ
কেন কারা গৃহে আছিস বন্ধ
ওরে, ওরে মূঢ়, ওরে অন্ধ

ভবে সেই সে পরমানন্দ, যে আমারে ভালবাসে
কেন ঘরের ছেলে পরের কাছে পড়ে আছিস পরবাসে
মহাসিন্ধুর ওপার থেকে
কি সঙ্গীত ভেসে আসে।
ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৫০

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।

এই মহান সাহিত্যিকের ১৫৬তম জন্মদিনে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। যারা বাংলা সাহিত্য নিয়ে অধ্যায়ন করবে তাদেরকে দ্বিজেন্দ্রলাল সম্পর্কে জানতেই হবে। তিনি অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য পর্যায়ের একজন সুসাহিত্যিক ছিলেন।

১৯ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:১৭

এমজেডএফ বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ডি এল রায়ের নাটক এবং অনেক কালজয়ী গান ও কবিতা বাংলা সাহিত্যকে সবদিকে সমৃদ্ধ করেছে।

২| ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:০৭

বলেছেন: ডি,এল রায়ের জন্মদিনে এই মহান প্রতিভাবান কবি,নাট্যকার কে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা।।

তার কর্ম বেঁচে থাক যুগ যুগ।।।।


MENU
বাংলা গানের কথা
বাংলা গানের সংগ্রহশালা



গানের নাম লিখুন...
হৃদয় আমার গোপন করে
গীতিকারঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

আর ত লো সই রৈতে নারি,
ভরা গাঙে ঝড় উঠেছে –
থর থর কাঁপছে বারি।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে নৃত্য তুলে
ছাপিয়ে উঠে কূলে কূলে
বাঁধ দিয়ে এ মত্ত তুফান
আর কি ধরে’ রাখতে পারি।
মানের মানা শুনবো না আর
মান-অভিমান আর কি সাজে,
মানের তরী ভাসিয়ে দিয়ে
ঝাঁপ দেবো এই তুফানমাঝে।

১৯ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:২৪

এমজেডএফ বলেছেন: ডি,এল রায়ের জন্মদিনের এই পোস্টটি সময়ের অভাবে বড় করে লিখতে পারি নাই। পরে আরও কিছু কবিতা, গান এবং নাটকের অংশবিশেষ যোগ করে দেব। আজ থেকে ১০০ বছর পূর্বেও ডি,এল রায় ছিলেন চিন্তায়-চলনে একজন আধুনিক মানুষ। তার কর্মকে বেঁচে রাখতে এই ছোট লেখা দিয়ে সবাইকে মনে করিয়ে দিলাম।

৩| ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: একজন খাঁটি কবি।

১৯ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:২০

এমজেডএফ বলেছেন: একমত, ১০০% খাঁটি।

৪| ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:২৪

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ধন্যধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা;
তাহার মাঝে আছে দেশ এক- সকল দেশের সেরা;
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে- আমার জন্মভূমি।

কথা, সূর.......সবমিলিয়ে আমাদের দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে এই গানটিকেই আমার অধিকতর উপযুক্ত মনে হয় সবসময়। ক্ষমতা থাকলে বদলে দিতাম!

১৯ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫০

এমজেডএফ বলেছেন: আমিও আপনার সাথে একমত।

"আমার সোনার বাংলা" গানটি ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন। তখন বেশিরভাগ বাঙালি মনীষী বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করেছিলেন। গানটির অর্থ ও ভাব দুই বাংলার জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু রাজনীতিকে ধর্মীয়করণ করতে গিয়ে ইতিহাসের ভিন্নতর বাঁকে সময়ের দাবীতে সৃষ্ট আজকের বাংলাদেশ। তাই ডি এল রায়ের "ধন্যধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা" গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৪৫ বৎসর পরে জার্মানী আবার পুনঃএকত্রীকরণ হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আবার যদি কোনোদিন দুই বাংলা এক হয়, সকল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বাঙালি সবকিছুর উপরে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিয়ে একে আরেকজনকে বুকে টেনে নেয়, ইংরেজি আর হিন্দির পরিবর্তে বাংলায় আমাদের আদি ও অকৃত্রিম কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ধারণ করে তখনই "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" গানটি অখন্ড বাংলার জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে সার্থকতা অর্জন করবে।

৫| ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৮

মা.হাসান বলেছেন: দ্বিজেন্দ্রলাল রায় সম্ভবত যত বড় গীতিকার ছিলেন তার চেয়ে বড় নাট্যকার ছিলেন। আমার জানামতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ওনার গান গুলো ১৯৭১ সালে বারে বারে বাজানো হতো। ওই সময় ধনধান্য পুষ্পে ভরা গানটি কে জাতীয় সংগীত করার জন্য কিছু দাবি উঠেছিল বলে পড়েছি বলে মনে হয়। শ্রদ্ধেয় ব্লগার জনাব খায়রুল আহসান দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের একটি গান সম্পর্কে পোস্ট দিয়েছিলেন। প্রথম জীবনে প্রেমের অনেক গান লিখলেও বিরহের এই গানটি স্ত্রী বিয়োগের পরে তিনি লিখেছিলেন (https://m.youtube.com/watch?v=WevLV0ieP6Q ) । শ্রদ্ধেয় ব্লগার খাইরুল আহসান সাহেব অদিতি মহসিন এর কন্ঠে গাওয়া ভারশন বেশি বেশি পছন্দ করেন,। আমার বেশি ভালো লাগে নিলুফার ইয়াসমিনের গাওয়া ভারশনটি।

২০ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৪:১৩

এমজেডএফ বলেছেন: আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

জীবনের শেষ দশ বছর দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রধানত নাটক রচনা করেছিলেন। পৌরাণিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক সব ধরনের নাটক রচনায়ই তিনি অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি ষোলোটি নাটক রচনা করেন। ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন। তাঁর অধিকাংশ নাটক এক সময় খুবই জনপ্রিয় ছিল। তাঁর লেখা সামাজিক নাটক পরপারে (১৯১২), বঙ্গনারী (১৯১৬); ঐতিহাসিক নাটক তারাবাই (১৯০৩), রানা প্রতাপসিংহ (১৯০৫), মেবার-পতন (১৯০৮), নূরজাহান (১৯০৮), সাজাহান (১৯০৯), চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১)। এখন পুরানো ধাচের রাজা-বাদশার নাটক মানুষ খুব একটা দেখে না। তারপরেও সাহিত্যকর্ম হিসেবে তাঁর অনেক নাটক উচ্চশিক্ষার পাঠ্যতালিকাভুক্ত হয়েছে।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জনপ্রিয় কিছু গান আছে যেগুলো একাধিক শিল্পী কন্ঠ দিয়েছেন। সময়ের অভাবে সবগুলো গান পোস্টে দিতে পারি নাই, দুঃখিত!
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা' ও 'আমার সোনার বাংলা' গান দুটিই উভয় বঙ্গের জন্য (পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ) প্রযোজ্য। বৃটিশ আমলে ১৯০৫ হতে ১৯১১ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গের ফলশ্রুতিতে পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠিত হয়েছিল, যার রাজধানী ছিল ঢাকায়। তখন এই বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করে রবি ঠাকুর 'আমার সোনার বাংলা' গানটি লিখেছিলেন। তাই অনেকে 'আমার সোনার বাংলা' গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করাকে 'স্ববিরোধীতা' মনে করে 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা' গানটিকে জাতীয় সংগীত করার জন্য দাবি করেছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.